এক প্রধানের গল্প-তারাপদ রায়

শ্রীযুক্ত বটেশ্বর প্রধানের উপাধিই শুধু প্রধান নয়, তিনি গ্রাম প্রধানও বটেন। খলিলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনিই প্রধান। এত জায়গা থাকতে কেন খলিলপুর নামক একটি সাধারণ গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধানকে নিয়ে এই গল্প লিখছি। সে প্রশ্ন যেকোনও পাঠক করতে পারেন। আশা করি এই গল্পটি পাঠ করার পরে তাঁদের কারও মনে আর এরকম কোনও প্রশ্ন থাকবে। তার কারণ বটেশ্বরবাবু… Continue reading এক প্রধানের গল্প-তারাপদ রায়

নিজের সঙ্গে খেলা- সমরেশ মজুমদার

কাল সারারাত ওরা বৃষ্টিতে ভিজেছে। এই ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চিরুনির দাঁতের মতো হাওয়া বইছিল সন্ধে থেকে। বৃষ্টি শুরু হলে তার চেহারা গেল বদলে। জলো বাতাসের তীব্র শাসানি আর কনে বউ-এর সিঁদুর-টিপের মতো বৃষ্টির ফোঁটা মাথার ওপরে বড়-বড় গাছের পাতা গলে ওদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছিল। গঙ্গাচরণের বুকের ওপর লেপটে মোহিনী দাঁতে দাঁত চেপে বসেছিল। দিনের… Continue reading নিজের সঙ্গে খেলা- সমরেশ মজুমদার

পাদুকার বদলে -তারাপদ রায়

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে বেড়াতে বেরোনোর অভ্যেস আমার অনেক দিনের। কাছাকাছি রাস্তায় কিংবা পার্কে হাঁটতে চলে যাই, ঘণ্টাখানেক হাঁটাহাঁটি করে ফিরে আসি। যত রাতেই ঘুমোই না কেন, প্রথম পাখি ডাকার সঙ্গে সঙ্গে আমার ঘুম ভেঙে যায়। তারপর তাড়াতাড়ি হাতমুখ ধুয়ে একটা জামা গায়ে দিয়ে পায়ের কাছে চটি বা জুতো যা পাই পরে নিয়ে চটাস চটাস… Continue reading পাদুকার বদলে -তারাপদ রায়

আঙরাভাসা-সমরেশ মজুমদার

তারপরে এক সময় দিনটাও ফুরিয়ে গেল। আমাদের বাড়ির সামনে পাতাবাহারের গাছগুলোর ওপর নেতিয়া পড়া হলদে রোদটা টুক করে কোথায় যেন হারিয়ে গেল। আরও দূরে, আঙরাভাসা নদীর শরীর ছুঁয়ে যে বিরাট খুঁটিমারির জঙ্গলটা দিনরাত গুম হয়ে বসে থাকে তার মাথা ছুঁয়ে লাল বলের মতো সূর্যটা, যাকে আমি আজ সকাল থেকে বুকের ভেতরে জিইয়ে রাখতে চেয়েছিলাম, কেমন… Continue reading আঙরাভাসা-সমরেশ মজুমদার

কাণ্ড-কারখানা -তারাপদ রায়

০১. বর্তমান এখন যাঁরা বর্তমানে আছেন মর্ত্যলোকে – রবীন্দ্রনাথ পার্ক স্ট্রিটের পাশের একটি গলির মধ্যে অফিস। একটা পুরনো বাড়ির দোতলায়, সিঁড়িটা কাঠের। ঘরের দরজা জানলাগুলো অতিকায় আকারের, নয় ফুট বাই পাঁচ ফুট, ছাদের সিলিং প্রায় চৌদ্দ ফুট উঁচুতে। এসব বাড়িতে এককালে সাহেবসুবোরা, সিভিলিয়ান বা ব্যারিস্টাররা থাকতেন। তাঁরা প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে বিদায় নিয়েছেন। তারপরে বেহাত,… Continue reading কাণ্ড-কারখানা -তারাপদ রায়

হ্যাঁ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

অধ্যাপক ঢোলাকিয়া অবশেষে এক জানুয়ারির শীতার্ত রাতে তার টেবিল ছেড়ে উঠল। টেবিলের ওপর অজস্র কাগজপত্র ছড়ানো, তাতে বিস্তর আঁকিবুকি এবং অসংখ্য অঙ্ক। এত অঙ্ক ও আঁকিবুকির সমুদ্র থেকে একটি মাত্র কাগজ তুলে নিল ঢোলাকিয়া, ভাঁজ করে কোটের বুক-পকেটে রাখল। গত সাতদিন ঢোলাকিয়া জীবন রক্ষার্থে সামান্য আহার্য গ্রহণ করা ছাড়া ভালো করে খায়নি, ভালো করে ঘুমোয়নি,… Continue reading হ্যাঁ-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ঘণ্টাধ্বনি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

সাঁঝবেলাতে গোয়ালঘরে ধুনো দিতে গিয়ে কালিদাসী শুনতে পেল, রামমন্দিরে খুব তেজালো কাঁসি বাজছে। কাঁইনানা, কাঁইনানা। গুন্টু দুপুর থেকে বাড়ি নেই। আলায় বালায় সারাদিন ঘোরে। মাথাগরম ছেলে। যখন তখন হাফ-পেন্টুল খুলে পুকুরে ঝাঁপায়। চৌপর দিন জলে দাপাদাপি করে। কবে জলের ঠাকুর টেনে নেয় ছেলেটাকে! তবে ভরসা এই, গুন্টুর প্রাণে ভক্তি আছে। সন্ধে হলেই রামমন্দিরে গিয়ে বুড়ো… Continue reading ঘণ্টাধ্বনি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

অদৃশ্য পাখি -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

জোনাকিরা অদৃশ্য হতে পারে না। জোনাকির আলো জ্বলে-নেভে। আলোটা না ৫ থাকলে ওদের দেখা যায় না। আবার চেষ্টা করলে দেখাও যায়। আর জোনাকিদের অদৃশ্য হওয়ার ক্ষমতা নেই। মশারা কি সত্যি-সত্যি অদৃশ্য হয়? এই একটা মশা গায়ের ওপর বসল, মারতে গেলেই কোথায় মিলিয়ে গেল। আর দেখা যায় না। কিন্তু অদৃশ্য হয় না বোধহয়। অত ছোট একটা… Continue reading অদৃশ্য পাখি -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ভোলার বাবা – রজত বন্দ্যোপাধ্যায়

০৫/০৩/২০২২ আমি মনে করি আজকের লেখাটি পড়ার আগে ছোট্ট একটা ভূমিকা দেওয়া প্রয়োজন। অনেকরকম অভ্যেসের সঙ্গে সঙ্গে আমার আরও অনেক বেশিরকম বদভ‍্যেস আছে। তার মধ‍্যে একটি হল বাড়ির বাইরে বেরোলে নিজের শ্রবণশক্তিকে একটু বেশিরকম তীক্ষ্ণ করে রাখা। ভালো মন্দ সবই কানে ঢোকাতে ইচ্ছে করে, একেবারে নির্ভেজাল ফর্মে। এই বদভ্যেসটি পালন করতে গিয়ে কদাচিৎ এমন কিছুকিছু… Continue reading ভোলার বাবা – রজত বন্দ্যোপাধ্যায়

রঙিন জামা এবং সাদা গেঞ্জি-সমরেশ মজুমদার

সুধা বলেছিল, পুরুষজাতটাকে বাপু কোনওদিন বিশ্বাস করতে পারব না। সুধাময় জানে, তবু শুধিয়েছিল, কেন? তোমাকে তো দেখছি। সুধার মুখে কিছু আটকায় না। সুধার সব ভালো, শুধু মাঝে-মাঝে এই কথাগুলো বেলকাঁটার মতো ফোঁটে। টেনে বের করলেও দপদপানি কমে না। খুব অন্তরঙ্গ মুহূর্তেও সুধা একই স্বভাবের। বুকে মুখ রেখে বলে, আমি জানি এটা ঠিক করছি না আবার… Continue reading রঙিন জামা এবং সাদা গেঞ্জি-সমরেশ মজুমদার