পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন বড় অফিসারকে ধরে দিল্লির বঙ্গভবনে থাকার সুপারিশপত্র জোগাড় কর ফেলল সুদীপ্ত। রাজধানী এক্সপ্রেসে টিকিট কাটা হয়েছে। তিনটে দিন দিল্লিতে থাকলে একটা ব্যবস্থা ঠিক হয়ে যাবে বলে তার ধারণা। ল্যান্সডাউনে পিনাকী মিত্রের বাড়ি। মিনিবাস ধরে সেখানে চলে এল সুদীপ্ত। পিনাকী বড় ব্যাবসায়ী, বছর তিনেক হল সিরিয়াল ব্যাবসায় নেমেছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর অভিজ্ঞতা সুখের… Continue reading পুতুলের খেলা-সমরেশ মজুমদার
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
দেখা না দেখা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
কোথাও বেড়াতে গেলে অনেক কিছুই দেখা হয়, কিন্তু একটা কিছু বাকি থেকে যায়। সেই না দেখা একটা কিছুর জন্য মন কেমন করে। শেষরাত্রে নেমেছিলাম জলগাঁও স্টেশনে। ভোর পর্যন্ত বাসে সেখানেই কাটিয়ে তারপর চলে এলাম ঔরঙ্গাবাদ। আগে থেকে হোটেল ঠিক করা ছিল না, বাসেই কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করে সস্তা গোছের হোটেলের নাম জেনে নিয়েছিলাম। দু-জায়গা ঘুরে… Continue reading দেখা না দেখা-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
দৃশ্যাবলী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
একদিন রুচি তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। তার বারো বছরের জীবনের প্রথম বিদ্রোহ। উপলক্ষ্যটা অতি সামান্য। এমনিতেই সবাই জানে। রুচি বাচ্চা বয়েস থেকেই শান্ত ধরনের মেয়ে, একটুও জেদি নয়, গুরুজনদের কথার অবাধ্য নয়, সে আপনমনে থাকে। সে মন দিয়ে পড়াশুনো করে, ছবি আঁকে। অন্য বাচ্চা মেয়েদের তুলনায় তার একটাই বৈশিষ্ট্য, সে প্রায়ই আপনমনে কথা বলে।… Continue reading দৃশ্যাবলী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
দুটি চরিত্র- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
গড়িয়াহাট বাজারে একটি গেটের এক পাশে এক বৃদ্ধ দোকানী বসেন। পাকা মাথা, ছোটখাটো চেহারা। তিনি বিক্রি করেন শুধু নানারকম বড়ি, আর মাঝে-মাঝে বকফুল। তাঁর কথায় একটা টান আছে, যা নিশ্চিত পূর্ববঙ্গের, ঠিক কোন জেলার তা আমি ধরতে পারি না, তবে ফরিদপুর হওয়াই সম্ভব। উচ্চারণভঙ্গি বেশ চেনা লাগে। চেনা লাগে চেহারাটিও। মনে হয় যেন আমাদের মাইঝপাড়ার… Continue reading দুটি চরিত্র- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
শান্তিজল-সমরেশ মজুমদার
তার সুটকেসটা নেওয়ার জন্যে হাত বাড়িয়ে অনুপ বলল, দে। না-না ঠিক আছে। কুড়ি বছরের ছোটভাই দাদার সুটকেস বইতে চাইবে এটা স্বাভাবিক, কিন্তু পিতৃবিয়োগের বিজ্ঞাপন শরীরে ধারণ করে থাকলে তাকে কাজটা করতে দেওয়া যায় না। মা কেমন আছে? অমিতাভ জিজ্ঞাসা করল। এই সময় যেরকম থাকা উচিত। অনুপ নিচুগলায় বলল। রিকশা স্ট্যান্ডের দিকে যাওয়ার সময় অমিতাভ লক্ষ… Continue reading শান্তিজল-সমরেশ মজুমদার
ললাট লিখন-সমরেশ মজুমদার
গ্রামের নাম ত্রিশূল। মোটামুটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম। কিন্তু জমিদার মানুষটা বড্ড খরচে। দুহাতে টাকা খরচ করেন। তাঁর নানান রকমের শখের মধ্যে একটি হল জ্যোতিষীর কাছে যাওয়া। ভারতবর্ষের বড়-বড় জ্যোতিষীর কাছে যান আর নিজের ভাগ্য জেনে আসেন। অবশ্য খুঁটিনাটি ব্যাপারে ওঁদের ভবিষ্যদ্বাণীর মিল হয় না কিন্তু মূল ব্যাপারটি অভিন্ন থেকে গেছে। যে কথাটা সবাই বলেছেন তা হল… Continue reading ললাট লিখন-সমরেশ মজুমদার
এক প্রধানের গল্প-তারাপদ রায়
শ্রীযুক্ত বটেশ্বর প্রধানের উপাধিই শুধু প্রধান নয়, তিনি গ্রাম প্রধানও বটেন। খলিলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনিই প্রধান। এত জায়গা থাকতে কেন খলিলপুর নামক একটি সাধারণ গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধানকে নিয়ে এই গল্প লিখছি। সে প্রশ্ন যেকোনও পাঠক করতে পারেন। আশা করি এই গল্পটি পাঠ করার পরে তাঁদের কারও মনে আর এরকম কোনও প্রশ্ন থাকবে। তার কারণ বটেশ্বরবাবু… Continue reading এক প্রধানের গল্প-তারাপদ রায়
নিজের সঙ্গে খেলা- সমরেশ মজুমদার
কাল সারারাত ওরা বৃষ্টিতে ভিজেছে। এই ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চিরুনির দাঁতের মতো হাওয়া বইছিল সন্ধে থেকে। বৃষ্টি শুরু হলে তার চেহারা গেল বদলে। জলো বাতাসের তীব্র শাসানি আর কনে বউ-এর সিঁদুর-টিপের মতো বৃষ্টির ফোঁটা মাথার ওপরে বড়-বড় গাছের পাতা গলে ওদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছিল। গঙ্গাচরণের বুকের ওপর লেপটে মোহিনী দাঁতে দাঁত চেপে বসেছিল। দিনের… Continue reading নিজের সঙ্গে খেলা- সমরেশ মজুমদার
পাদুকার বদলে -তারাপদ রায়
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে বেড়াতে বেরোনোর অভ্যেস আমার অনেক দিনের। কাছাকাছি রাস্তায় কিংবা পার্কে হাঁটতে চলে যাই, ঘণ্টাখানেক হাঁটাহাঁটি করে ফিরে আসি। যত রাতেই ঘুমোই না কেন, প্রথম পাখি ডাকার সঙ্গে সঙ্গে আমার ঘুম ভেঙে যায়। তারপর তাড়াতাড়ি হাতমুখ ধুয়ে একটা জামা গায়ে দিয়ে পায়ের কাছে চটি বা জুতো যা পাই পরে নিয়ে চটাস চটাস… Continue reading পাদুকার বদলে -তারাপদ রায়
আঙরাভাসা-সমরেশ মজুমদার
তারপরে এক সময় দিনটাও ফুরিয়ে গেল। আমাদের বাড়ির সামনে পাতাবাহারের গাছগুলোর ওপর নেতিয়া পড়া হলদে রোদটা টুক করে কোথায় যেন হারিয়ে গেল। আরও দূরে, আঙরাভাসা নদীর শরীর ছুঁয়ে যে বিরাট খুঁটিমারির জঙ্গলটা দিনরাত গুম হয়ে বসে থাকে তার মাথা ছুঁয়ে লাল বলের মতো সূর্যটা, যাকে আমি আজ সকাল থেকে বুকের ভেতরে জিইয়ে রাখতে চেয়েছিলাম, কেমন… Continue reading আঙরাভাসা-সমরেশ মজুমদার