দিনের শেষে পর্ব:৪ হুমায়ূন আহমেদ

দিনের শেষে পর্ব:৪ জহিরের হয়ত আরো অনেক কথা বলার ছিল। বলা হল না। করিম সাহেব সময় দিতে পারলেন না। তাঁর হাতে অনেক কাজ। জহিরের শার্টের পকেটে আসমানীর একটা পাসপোর্ট সাইজ ছবি। তার খুব ইচ্ছা স্যারকে ছবিটা দেখায়। সেই সুযোগ হল না। করিম সাহেব বললেন, দেখ তো জহির ইদ্রিস এসেছে কি-না? ওকে ক্যালকুলেটারের ব্যাটারি আনতে পাঠালাম।… Continue reading দিনের শেষে পর্ব:৪ হুমায়ূন আহমেদ

দিনের শেষে পর্ব:৩ হুমায়ূন আহমেদ

অরু এখন ঢাকাতেই আছে। তার ডাক্তারী পড়া বন্ধ। সে একটা কিন্ডারগার্টেনে মাস্টারি করে এবং আজাহার হোসেনের সঙ্গে জীবনযাপন করে। সেই জীবন কেমন এ বাড়ির কেউ জানে না। অরুর সঙ্গে এদের কোনো যোগাযোগ নেই। এ বাড়িতে অরুর ব্যবহারী প্রতিটি জিনিস নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। শাহানাকে কেউ যদি জিজ্ঞেস করেন, আপনার ছেলেমেয়ে কি? তিনি নির্বিকার ভঙ্গিতে বলেন,… Continue reading দিনের শেষে পর্ব:৩ হুমায়ূন আহমেদ

দিনের শেষে পর্ব:২ হুমায়ূন আহমেদ

আদরে-আদরে মীরুর অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে বলে তরুর ধারণা। মীরু অসম্ভব জেদী এবং রাগী হয়েছে। একবার রাগ করে দুদিন ভাত না খেয়ে ছিল। তারচেয়েও সমস্যার কথা ইদানীং তার বোধহয় কোনো একটা ছেলের সঙ্গে ভাব হয়েছে। সেই ছেলের লেখা একটা কাঁচা প্রেমপত্র তরু উদ্ধার করেছিল। মাকে তা দেখাতেই তিনি বললেন, ওর দোষ কী বল? জোর করে… Continue reading দিনের শেষে পর্ব:২ হুমায়ূন আহমেদ

দিনের শেষে পর্ব:১ হুমায়ূন আহমেদ

জহির লাজুক মুখে বলল, স্যার আজ একটু সকাল-সকাল বাড়ি যাব, একটা জরুরি কাজ।বলতে গিয়ে কথা জড়িয়ে গেল, গলার স্বর অন্যরকম শোনাল। কথার মাঝখানে খুখুক করে কয়েকবার কাশল, নাকের ডগা ঈষৎ লালচে হয়ে গেল। হেডক্যাশিয়ার করিম সাহেব অবাক হয়ে তাকালেন, ব্যাপারটা কি? জহির মাথা নিচু করে। অস্পষ্ট গলায় দ্বিতীয়বার বলল, একটা জরুরি কাজ।করিম সাহেবের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ… Continue reading দিনের শেষে পর্ব:১ হুমায়ূন আহমেদ

এই শুভ্র এই শেষ : পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

এই শুভ্র এই শেষ : পর্ব আমি পড়াশোনা করব। আজ সারারাত পড়ব। দিনে বেড়াতে গিয়ে যে সময়টা নষ্ট করেছি, সেটা কাভার করব।ভোরে উঠে পড়াশোনা করা ভালো। রাতের ঘুমের পর ব্রেইন রেষ্টে থাকে। সকালবেলার পড়াটা মনে থাকে। আমি সারাজীবন এইভাবে পড়েছি।রুনু বিরক্ত গলায় বলল, তুমি সারাজীবন এইভাবে পড়ে তেমন কিছু করতে পার নি বাবা। মেট্রিকে সেকেন্ড… Continue reading এই শুভ্র এই শেষ : পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

এই শুভ্র এই পর্ব:৯ হুমায়ূন আহমেদ

মানুষটা শুয়ে আছে নৌকার পাটাতনে। শোয়ার ভঙ্গিটাও কী সুন্দর। এত মন দিয়ে দেখার মতো কী আছে আকাশে? রুনুর এখন খুব একটা বাজে ইচ্ছা হচ্ছে। তার ইচ্ছা করছে মানুষটার পাশে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে। সে নিশ্চয়ই খুব খারাপ একটা মেয়ে। এরকম চিন্তা খারাপ মেয়ে ছাড়া কারোর মাথায় আসবে না। সে অবশ্যই খারাপ মেয়ে। ভয়ঙ্কর খারাপ… Continue reading এই শুভ্র এই পর্ব:৯ হুমায়ূন আহমেদ

এই শুভ্র এই পর্ব:৮ হুমায়ূন আহমেদ

রুনু সঙ্গে সঙ্গে বলল, তা ঠিক। তাছাড়া আমার ভাগ্য এরকম যখন যেটা চেয়েছি তার উল্টোটা হয়েছে। আমি জানি আমার বিয়ে আপনার মতো একজন কারোর সঙ্গে হবে। কে জানে হয়তো আপনার সঙ্গেই হবে।রুনু খোলা জানালার দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হাসছে। মনজুর শরীর ঝিমঝিম করছে। মাথা সামান্য দুলছে। তার মনে হচ্ছে- সে যা দেখছে সেটা স্বপ্ন। সে… Continue reading এই শুভ্র এই পর্ব:৮ হুমায়ূন আহমেদ

এই শুভ্র এই পর্ব:৭ হুমায়ূন আহমেদ

এগারোটার পর শুরু হয় ড্রাইভারদের ক্যারাম খেলা। ঘণ্টা দুই ক্যারাম খেলা দেখা। সবচে ভালো খেলে চশমা পরা দারোয়ান। সে আবার সিঙ্গেল খেলে না। বাজি ছাড়াও খেলে না। দশ টাকা বাজি রেখে তার সাথে খেলতে হয়। দুপুরের খাওয়ার পর ঘুম। ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সামনের চায়ের দোকানে ঘণ্টা দুএক বসে থাকা। রাত দশটা থেকে শুরু হয়… Continue reading এই শুভ্র এই পর্ব:৭ হুমায়ূন আহমেদ

এই শুভ্র এই পর্ব:৬ হুমায়ূন আহমেদ

জাহানারা মাইগ্রেনের ব্যথায় কাতর হয়েছিলেন। ব্যথা প্ৰবল হলে তিনি দরজাজানালা বন্ধ করে শুয়ে থাকেন। ঘর থাকে অন্ধকার। এই সময় তার ঘরে কারোরই আসার হুকুম নেই। শুধু সকিনা আসতে পারে। সে বাটি ভর্তি বরফ মেশানো পানি নিয়ে আসে। সেই হিমশীতল পানি দিয়ে তার পায়ের তালু মুছিয়ে দেয়। এতে মাইগ্রেনের ব্যথা সামান্য আরাম হয়।সকিনা বাটি ভর্তি পানি… Continue reading এই শুভ্র এই পর্ব:৬ হুমায়ূন আহমেদ

এই শুভ্র এই পর্ব:৫ হুমায়ূন আহমেদ

ড্রাইভার আছে তিনজন, দারোয়ান চারজন। তারা পাশাপাশি ঘরে থাকে এবং সারাক্ষণই ক্যারাম খেলে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যারামের ঘুটির খটাস খটাস শব্দ হতে থাকে। সন্ধ্যার পর থেকে তাদের ঘরে টিভি চালু হয়। তখন শুরু হয় তাস খেলা। তাস খেলা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। একদিকে তাস খেলা চলছে। অন্যদিকে চলছে টিভি। মনজুর মনে হয়। এরাই এ… Continue reading এই শুভ্র এই পর্ব:৫ হুমায়ূন আহমেদ