জলপদ্ম পর্ব:০৫ হুমায়ূন আহমেদ

আমাকে এসব বলে লাভ নেই। আমি আমার ডিসিশান জানিয়ে দিলাম। কাল ট্রাক নিয়ে এসে ফার্নিচার তুলে নিয়ে যাবেন। আমি আলসারের রোগী। আমাকে টাইমলি খেতে হয়। আপনারা এখন দয়া করে যান, আমি খেতে বসব।আমরা স্যার বাইরে অপেক্ষা করি।অপেক্ষা করে লাভ কিছু নেই। যা বলার বলে দিয়েছি।আমাদের কিছু বলার ছিল স্যার।আমার মনে হয় না আপনাদের কিছু বলার… Continue reading জলপদ্ম পর্ব:০৫ হুমায়ূন আহমেদ

জলপদ্ম পর্ব:০৪ হুমায়ূন আহমেদ

রুবা বোধহয় কিছু শুনেছে। সে ঘরে ঢুকল মুখ কালো করে। লজ্জিত মুখে জামানের দিকে একবার তাকিয়েই নিচু গলায় বলল, আপা আরো দুটাকা দিতে হবে। পাঁচ টাকা ভাড়া ঠিক করে এসেছি। এখন চাহে সাত টাকা। আমার কাছে একটা পাঁচ টাকার সেটি আছে, ওটা নিতে চাচ্ছে না। একটু ছেঁড়া।জামান বিশ্রী ভঙ্গিতে হাসল। লজ্জায় রুবার মরে যেতে ইচ্ছা… Continue reading জলপদ্ম পর্ব:০৪ হুমায়ূন আহমেদ

জলপদ্ম পর্ব:০৩ হুমায়ূন আহমেদ

রুবা আটটার আগে ঘুম থেকে উঠে না। যত্ন সকাল সকালই ঘুমুতে যাক, উঠতে উঠতে সেই আটটা। তাও নিজ থেকে উঠবে না, কাউকে এসে ডাকতে হবে, পা ঘরে ধরে ঝাঁকুনি দিতে হবে। ইদানিং ঘুম ভেঙে প্রথম যে কথাটি সে বলছে তা হচ্ছে–আজ কলেজে যাব না, মা। শরীর ভাল না।রুবার কথা শুনে তাঁর মা সুরমা এমন ভঙ্গিতে… Continue reading জলপদ্ম পর্ব:০৩ হুমায়ূন আহমেদ

জলপদ্ম পর্ব:০২ হুমায়ূন আহমেদ

পাঁচশ টাকার নোট মোট কতগুলি আছে? ইলার গুনে দেখতে ইচ্ছা করছে। টাকা দেখলেই সব মানুষেরই বোধহয় গুনতে ইচ্ছা করে। ইলার যা ভাগ্য, গুনার সময়ই হয়ত জামান এসে উপস্থিত হবে। থাক, গোনার দরকার নেই। আন্দাজে মনে হচ্ছে একশটার মত হবে। তার মানে পঞ্চাশ হাজার টাকা। কি সর্বনাশ! গা ঝিম ঝিম করে। এতগুলি টাকা একটা মানুষ পকেটে… Continue reading জলপদ্ম পর্ব:০২ হুমায়ূন আহমেদ

জলপদ্ম পর্ব:০১ হুমায়ূন আহমেদ

রিকশা থেকে নামার সময় ইলা লক্ষ্য করল তার হাত-পা কাঁপছে। বুক ধকধক করছে। হাতের তালু ঘামছে। এত ভয় লাগছে কেন তার? ভয় কাটানোর জন্যে কিছু একটা করা দরকার, কি করবে বুঝতে পারছে না। বাড়িওয়ালার ভাগ্নে হাসান একতলার গেটের কাছে দাঁড়িয়ে। ইলা তার দিকে তাকিয়ে ফ্যাকাসে ভঙ্গিতে হাসল। কারো দিকে তাকিয়ে হাসলে খুসির জবাব দিতে হয়,… Continue reading জলপদ্ম পর্ব:০১ হুমায়ূন আহমেদ

রজনী শেষ:পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

বাবা আবার ঘুমিয়ে পড়লেন। আমি পা টিপে-টিপে আমার নিজের ঘরে চলে এলাম। পারুল কিছুক্ষণ পর চা নিয়ে ঢুকল। সে খুব ভয় পেয়েছে। মুখ শুকিয়ে এতটুকু হয়ে আছে। সে টেবিলে চা নামিয়ে রেখে বলল, ভাইয়া ঐ মেয়েটা বলে গেছে আজ সন্ধ্যাবেলা নিউমার্কেটে বইয়ের দোকানগুলোর সামনে তুমি যেন যাও। খুব নাকি দরকার।কী দরকার কিছু বলে নি? না।… Continue reading রজনী শেষ:পর্ব হুমায়ূন আহমেদ

রজনী পর্ব-০৭ -হুমায়ূন আহমেদ

আমি দ্রুত বাসে উঠে পড়লাম। মাসুম চোখমুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে। বোঝাই যাচ্ছে কাণ্ড কিছু একটা করবে। আমার বাস চলে না-যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে কি না কে জানে। আমি বাসের জানালা গলে হাত নাড়লাম। মাসুম দেখল কি না বুঝলাম না, মুখ শক্ত করে আগের মতোই দাঁড়িয়ে রইল। বাস ছেড়ে দিল। দেখতে দেখতে ঝড়ের গতি। প্রতিটি… Continue reading রজনী পর্ব-০৭ -হুমায়ূন আহমেদ

রজনী পর্ব:০৬ হুমায়ূন আহমেদ

রোজ রিহার্সেল। বিকেলে শুরু হয়, শেষ হতে হতে সন্ধ্যা। একদিন রিহার্সেলে কী হয়েছে কে জানে, পারুল কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরল। নাটক করবে না। নাট্য নির্দেশক, রোজ বাসায় এসে বসে থাকে। পারুল নিজে তার সঙ্গে কথা বলে না, মাকে পাঠায়। মা চিকন গলায় বলেন, ওর তো বাবা, গায়ে জ্বর। হামের মত গুটি-গুটি বের হয়েছে। ধীরেন বাবু… Continue reading রজনী পর্ব:০৬ হুমায়ূন আহমেদ

রজনী পর্ব:০৫ হুমায়ূন আহমেদ

এই বাড়িতে ঢাকা এবং বের হওয়া দুইই বিরক্তিকর। নানান ঘর-দুয়ার পার হতে হয়। অপরিচিত সব মহিলারা সামনে পড়ে যায়। তারা এমনভাবে তাকায়…. বিশেষ করে দুলাভাইয়ের এক বোন মলিনা না ফলিনা কী যেন নাম। আমার সঙ্গে তার অনেক বারই দেখা হয়েছে। দেখা হওয়ামাত্র সে মুখ ঘুরিয়ে নেয়,ভূ কোঁচকায়। সামনে থেকে বিশ্রী ভঙ্গিতে উঠে চলে যায়। এ… Continue reading রজনী পর্ব:০৫ হুমায়ূন আহমেদ

রজনী পর্ব:০৪ হুমায়ূন আহমেদ

বাড়িতে অপেক্ষা করাও যন্ত্ৰণা। বসার ঘরটা খুপরির মতো ছোট। ভাদ্র মাসের অসহ্য গরম। ঘরের আধখানা জুড়ে এক চৌকি। সেই চৌকিতে আশ্রয় নিয়েছেন লোমশ শরীরের এক ভদ্রলোক। ঘুমিয়ে পড়েছেন কি না। বোঝা যাচ্ছে না। নাকের ডাক শোনা যাচ্ছে। আবার এদিকে দেখি হাত পাখাও চলছে। ভদ্রলোকের পাশে এশার সবচে ছোট বোনটি। তার মাথার নিচে বালিশ নেই। কাঁথা… Continue reading রজনী পর্ব:০৪ হুমায়ূন আহমেদ