অনীশ-পর্ব-(১১)-হুমায়ূন আহমেদ

মা, ও মা। কি খােকা? ‘তুমি কী কর? ‘চা খাচ্ছি।’ ‘তুমি কোথায়?  তুই কোথায় খােকা? তুই কোথায়? এইখানে। “কী করছিস?  খেলছি।’  ও খােকা। খােকা। কি? ‘খােকা। খােকা। কাছে আয়।  আমার ছেলে কাঁদতে শুরু করল। তারপর সব আবার চুপচাপ হয়ে গেল। আমি ঘর থেকে বের হয়ে ডিরেক্টরকে বললাম, আজ আর কাজ করব না। আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিন,… Continue reading অনীশ-পর্ব-(১১)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(১০)-হুমায়ূন আহমেদ

আমার স্বামী বিরক্ত গলায় বললেন, ‘কী হল? এ–রকম করছ কেন?  আমি নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করি। তিনি তিক্ত গলায় বলেন, ‘এইসব ঢং কবে বন্ধ করবে ? আর তাে সহ্য হয় না। মানুষের সহ্যের একটা সীমা আছে।  জ্বিলা, সবুজ দেখা যায়। সবুজ জিনিস, চলন্ত অবস্থায় যেমন সবুজ, ধামন্ত অবস্থায়ও সবুজ! এইটা হইল আপনার সাধারণ কথা।  মিসির আলি… Continue reading অনীশ-পর্ব-(১০)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৯)-হুমায়ূন আহমেদ

আমি বললাম, ‘না।’  আমার গায়ে হাত দিয়ে স্পষ্ট করে বল।  আমি মায়ের গায়ে হাত দিয়ে স্পষ্ট করে বললাম, তােমার বিরুদ্ধে আমার। কোনাে অভিযােগ নেই।’  “সত্যি ! ‘হ্যা—সত্যি। শুধু খানিকটা অভিমান আছে। ‘অভিমান কেন?  ‘তােমার জামাই যেমন মনে করে, আমার ছেলের বাবা সে নয় তুমিও তাই মনে কর।’  মা চমকে উঠে বললেন, ‘এই কথা কেন বলছিস? … Continue reading অনীশ-পর্ব-(৯)-হুমায়ূন আহমেদ

দীর্ঘদিন আচার ছত্রাকমুক্ত রাখার পদ্ধতি নিয়ে কিছু টিপস

আচার এমন একটি জিনিস যার নাম শুনলেই জিভে জল চলে আসার মতো পরিস্থিতি হয়। খাবারে স্বাদ বাড়াতে আচারের কোন জুড়ি নেই। বছরের প্রায় সব সময় নানা রকম খাবারের সাথে আচার খেতে মজাই লাগে। তবে অনেকেই আছেন যারা দীর্ঘসময় আচার সংরক্ষণ করতে পারেন না। অনেকের আচারে আক্রমন ঘটে ছত্রাকের, আবার গন্ধ হয়ে যায় অনেকের আচার। আচার… Continue reading দীর্ঘদিন আচার ছত্রাকমুক্ত রাখার পদ্ধতি নিয়ে কিছু টিপস

অনীশ-পর্ব-(৮)-হুমায়ূন আহমেদ

আমার ধারণা শরীর থেকেই ভালবাসার জন্ম হতে পারে। আমি আমার স্বামীকে ‘ভালবাসলাম। আমার ধারণা, এই ভালবাসার উৎস শরীর। মানুষের মন যেমন বিচিত্র, তার শরীরও তেমনি।  আমি এবং আমার মা, আমরা দুজনই ছিলাম নিঃসঙ্গ। তৃতীয় ব্যক্তি এসে আমাদের এই নিঃসঙ্গতা দূর করল। বাড়ির একতালাটা মা আমাদের দুজনকে ছেড়ে  দিলেন। মা’র সঙ্গে থেকেও তাঁর কাছ থেকে আলাদা থাকার… Continue reading অনীশ-পর্ব-(৮)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৭)-হুমায়ূন আহমেদ

মা আমাকে বিস্মিত করে দিয়ে বললেন, ‘হ্যা, দেব।” ‘সত্যি? ‘হ্যা, সত্যি। কীভাবে যেতে হয়, টাকাপয়সা কত্ত লাগে খোঁজখবর আন্। ‘তুমি সত্যি–সত্যি বলছ তাে মা? ‘বললাম তাে হা।’ ‘আমার এখনাে বিশ্বাস হচ্ছে না।’  ‘বিশ্বাস না হবার কী আছে? এই দেশে কি আর পড়াশােনা আছে? টাকা থাক তােকে বিলেতে রেখে পড়াতাম।’ | আমার আনন্দের সীমা রইল না।… Continue reading অনীশ-পর্ব-(৭)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৬)-হুমায়ূন আহমেদ

তাহলে চল অন্য কোথাও যাই। ‘ঢাকার বাইরে যেতে আমার ইচ্ছা করে না।  ঢাকার ভেতরেই কোথাও যাই চল।’  কোথায় যেতে চাস? মামাদের বাড়ি!  ‘না।”  ‘বাবার দেশের বাড়িতে যাবে মা? বড়চাচা তাে লিখেছেন যেতে।  সেই চিঠি তুমি পড়েছ? হা।।  কেন পড়লে? আমি বলি নি—আমার কাছে লেখা কোনাে চিঠি তুমি পড়বে না? বলেছি, না বলি নি?  ‘বলেছ।”  তাহলে… Continue reading অনীশ-পর্ব-(৬)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৫)-হুমায়ূন আহমেদ

‘আমি যদি বলি মানুষ হিসেবে আপনাকে আমার পছন্দ হয়েছে, তাহলে কি আপনার বিশ্বাস হবে?  ‘বিশ্বাস হবে না। যে–সব গুণাবলী একজন মানুষকে সবার কাছে প্রিয় করে তার কিছুই আমার নেই। আমি শুকনাে ধরনের মানুষ। গল্প করতে পারি না। গল্প শুনতেও ভালাে লাগে না।’   ডাক্তার সাহেব উঠে দাঁড়াতে–দাঁড়াতে বললেন, “আমার বড় মেয়েটি আপনার ছাত্রী। তার ধারণা, আপনি… Continue reading অনীশ-পর্ব-(৫)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৪)-হুমায়ূন আহমেদ

তিনি তার পরেও বললেন, ‘আসুন, আসুন।  বুড়ি ঘরে ঢুকল না। দরজার ওপাশ থেকেই বলল, ‘আপনার কি মাথা ধরা আছে?  ‘এখন নেই। রােজই সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়। আজ এখনাে কেন যে শুরু হচ্ছে না বুঝতে পারছি না।’   বুড়ি হাসতে হাসতে বলল, “মনে হচ্ছে মাথা না–ধরায় আপনার মন খারাপ হয়ে গেছে। স্যার, আমি কি বসব?  ‘বসুন, বসুন।… Continue reading অনীশ-পর্ব-(৪)-হুমায়ূন আহমেদ

অনীশ-পর্ব-(৩)-হুমায়ূন আহমেদ

চার শ ন নম্বর কেবিনের তােল পুরােপুরি পাল্টে গেছে। দেয়াল ঝকঝক করছে, কারণ প্লাস্টিক পেইন্ট করা হয়েছে। এ্যাটাচড় বাথরুমের দরজায় ঝুলছে হাল্কা নীল পর্দা। বাথরুমের কমােডের ফ্ল্যাশ ঠিক করা হয়েছে। পানির ট্যাপও সারানাে হয়েছে। মেঝেতে পানি জমে থাকত—এখন পানি নেই। কেবিনের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। বুড়ি বিছানায় শুয়ে শুয়ে গভীর মনােযােগে খাতায় কী—সব লিখছে। লেখার… Continue reading অনীশ-পর্ব-(৩)-হুমায়ূন আহমেদ