এমনি। কী করবি শুনে ? ‘জানতে ইচ্ছে হয় না? “বলব তােকে একদিন। সময় হােক। সেই সময়ও হয় নি। জানাও যায় নি কিছু। অথচ খুব জানতে ইচ্ছে করে। ফাস্ট ইয়ারের ছেলেদের সঙ্গে দুপুর বারােটায় একটা ক্লাস ছিল। একটার দিকে শেষ হল। দুপুরে রিকশা পাওয়ার আশা কম। সব রিকশাওয়ালা একসঙ্গে খেতে যায় কি না কে জানে? অল্প… Continue reading শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(৭)-হুমায়ুন আহমেদ
শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(৬)-হুমায়ুন আহমেদ
কিটকির কথা প্রাণপণে ভাবতে চেষ্টা করি তখন। যেন সে এসে বসেছে আমার পাশে। আমি বলছি, ‘কি কিটকি, এত রাতে আমার ঘরে ভয় করে না? ‘কিসের ভয়, ভূতের? আমি বুঝি আগের মতাে ছেলেমানুষ আছি? ‘না, তুই কত বড়াে হয়েছিস, সবাই বড়াে হচ্ছি আমরা। ‘হ্যাঁ, দেখেছেন আমার চুল কত লম্বা হয়েছে ? তােকে বব চুলে এর চেয়ে… Continue reading শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(৬)-হুমায়ুন আহমেদ
শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(৫)-হুমায়ুন আহমেদ
রাবেয়া হাসতে হাসতে ভেঙে পড়ল। রুনু এসে ঢুকল খুব ব্যস্তভাবে, হাতে একটা লুডুবাের্ড। কিরে রুন? ‘কিটকি আপার কী হয়েছে? ‘কেন?’ ‘চুপচাপ বসে আছে। আগে বলেছিল লুডু খেলবে, এখন বলছে খেলবে না।’ রাবেয়া উচু গলায় হাসল আবার। রুনুকে বললাম, রুনু, মন্টু কোথায়? মন্টুকে দেখছি না তাে। মন্টু হাসপাতালে গেছে। হাসপাতালে কার সঙ্গে গেল, খালার সঙ্গে? ‘না,… Continue reading শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(৫)-হুমায়ুন আহমেদ
শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(৪)-হুমায়ুন আহমেদ
দেখে আসুন না গিয়ে। ‘এই যাচ্ছি বলে তিনি অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরটা দেখতে চেষ্টা করতে লাগলেন। হেড ক্লার্কের বউও এসেছেন, তাঁর সঙ্গে একটি সুন্দর মতাে মেয়ে। কমবয়সী কয়েক জন ছেলেমেয়ে দেখি হৃষ্টচিত্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মন্টু ভীষণ ভয় পেয়েছে, আমার একটা হাত শক্ত করে ধরে রেখেছে। মাঝে মাঝে সে যে কাঁপছে, তা বুঝতে পারছি। রুনু আর ঝুনুকে দেখছি… Continue reading শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(৪)-হুমায়ুন আহমেদ
শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(৩)-হুমায়ুন আহমেদ
‘তাহলে পাঁচ কাপ দি। বাবাকে এক কাপ, আমার নিজের দু কাপ। রাবেয়া চায়ের সরঞ্জাম সাজাতে লাগল। অভ্যস্ত নিপুণ হাত, দেখতে ভালাে লাগে। আমি বললাম, ‘মাসির বয়স কত রে ? ‘অনেক। আমি ছাড়া সবাই তাে তাঁর হাতে। দেখলে মনে হয় না, তাই না? ‘। মার ব্যথাটা একটু কম মনে হয়। ‘ছ’ বার মা এমন কষ্ট পেলেন!… Continue reading শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(৩)-হুমায়ুন আহমেদ
শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(২)-হুমায়ুন আহমেদ
রাবেয়ার প্রতি একটি গাঢ় মমতা ছাড়া আমাদের কারাে প্রতি তার কোনাে আকর্ষণ নেই। মার অনাদর খুব অল্প বয়সে টের পাওয়া যায়, যেমন আমি পেয়েছিলাম। রুনু ঝুনুও নিশ্চয়ই পেয়েছে। অথচ আমরা সবাই মিলে মাকে কী ভালােই না বাসি। উকিল সাহেবের বাসায় টেলিফোন আছে। সেখান থেকে ছােট খালার বাসায় টেলিফোন করলাম। ছােট খালা বাসায় ছিলেন না, ফোন… Continue reading শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(২)-হুমায়ুন আহমেদ
শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(১)-হুমায়ুন আহমেদ
বাস থেকে নেমে হকচকিয়ে গেলাম। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে সব। রাস্তায় পানির ধারাস্রোত। লােকজন চলাচল করছে না, লাইটপােস্টের বাতি নিভে আছে। অথচ দশ মিনিট আগেও যেখানে ছিলাম, সেখানে বৃষ্টির নামগন্ধ নেই। শুকনাে খটখট করছে চারদিক। কেমন অবাক লাগে ভাবতে, বৃষ্টি এসেছে, ঝুপ ঝুপ করে একটা ছােট্ট জায়গা ভিজিয়ে চলে গেছে। আর এতেই আশৈশব পরিচিত এ অঞ্চল… Continue reading শঙ্খনীল কারাগার-পর্ব-(১)-হুমায়ুন আহমেদ
মাছ ধরার আপদ-বিপদ – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
কথাটা উঠেছিল খবরের কাগজের একটা বিজ্ঞাপন নিয়ে। সাঁতরাগাছিতে রেল লাইনের ধারে একটা পুকুর আছে। খুব মাছ আছে সেখানে। পুকুরের মালিক সরকারি রেল-দপ্তরের লোক। ছিপ ফেলে মাছ ধরার এমন সুযোগ নাকি আর কোথাও মিলবে না। অতএব রেলের অফিসে দশটা টাকা জমা দিয়ে সেই পুকুরে ছিপ হাতে বসে পড়া যায়। ভাদ্র মাসের শেষ। কদিন বৃষ্টির পর আকাশ… Continue reading মাছ ধরার আপদ-বিপদ – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
বৃক্ষকথা-(শেষ)-পর্ব-হুমায়ুন আহমেদ
বাংলার কবি-সাহিত্যিকরা অবশ্যি কাঁঠাল নিয়ে মুগ্ধ। জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত লাইন— তােমার যেখানে সাধ চলে যাও,আমি এই বাংলার পারে রয়ে যাব; দেখিব কাঁঠাল পাতা ঝরিতেছে অবিরল ভােরের বাতাসে। রবীন্দ্র–সাহিত্যে ছায়াদায়িনী বৃক্ষ হিসেবে কাঁঠাল গাছের উল্লেখ আছে। তবে কাঁঠাল ফলের কোনাে বর্ণনা পড়েছি বলে মনে পড়ছে না। কবি মাইকেল মধুসূদনই কাঁঠাল ফলের চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন— কাঠাল, যার ফলে স্বর্ণকণা… Continue reading বৃক্ষকথা-(শেষ)-পর্ব-হুমায়ুন আহমেদ
বৃক্ষকথা-পর্ব-(১৬)-হুমায়ুন আহমেদ
এই গাছ সম্পর্কে একটাই তথ্য দিতে পারছি। এর পােড় এবং কলা পাহাড়িরা সবজি হিসেবে আগ্রহ করে খায়। আকাশমুখী এই থোড় দেখতে অপূর্ব এক ফুলের মতো। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে দেখার মতো।আমার শৈশবের একটি বছর কেটেছে আমবাগানের ভেতর। বাবার পােস্টিং হয়েছে দিনাজপুরের জগদ্দলে। আমরা থাকি জগদ্দলের এক পরিত্যক্ত জমিদার বাড়িতে। সেই বাড়ি আমবাগানের ভেতর। কী প্রকাণ্ড সব… Continue reading বৃক্ষকথা-পর্ব-(১৬)-হুমায়ুন আহমেদ