মতির মা কান্নাকটি করল। আপনার হুকুমে মতির মার ট্রাংঙ্ক খােলা হল। পঞ্চাশ টাকার একটা নােট সেখানে পাওয়া গেল। এত ফেনাচ্ছ কেন মা? যা বলতে চাও সহজ কথায় বল। ‘বেশ, সহজভাবেই বলছি। মতির মা সেই অপমানের প্রতিশােধ নিয়েছে, আর কিছুই না। বাহান্ন বছরের এক বুড়ির শরীর দেখার জন্যে কেউ বাথরুমের ফুটোয় চোখ রাখে না।” কেউ রূপার… Continue reading পাখি আমার একলা পাখি-পর্ব-(৪)-হুমায়ুন আহমেদ
পাখি আমার একলা পাখি-পর্ব-(৩)-হুমায়ুন আহমেদ
‘তাহলে দয়া করে একটা গান দাও তাে। গান শুনতে ইচ্ছা করছে। এলপিটা দেখে টেবিলের ওপর — ‘চরণ ধরিতে দিয়াে গাে আমারে’, ঐটা দাও। ই আমি তাই করলাম। ও রূপা হাসতে হাসতে বলল, গানটা শুনতে শুনতে তােমার পা একটু ধরতে চাই। কাছে এসো তাে। ঠাট্টা না, সত্যি। কাছে এসাে। আমি রূপার দিকে তাকিয়ে রইলাম। রূপ৷ হাসছে।… Continue reading পাখি আমার একলা পাখি-পর্ব-(৩)-হুমায়ুন আহমেদ
পাখি আমার একলা পাখি-পর্ব-(২)-হুমায়ুন আহমেদ
ভদ্রলােকের নাম রইসুদ্দিন। আমাদের অতি দূর সম্পর্কের আত্মীয়। কিন্তু কথাবার্তা শুনে মনে হয় আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তাঁকে যে আমরা বারান্দায় ফেলে রেখে অপমান করার চেষ্টা করছি, এটা তিনি বুঝেও না বােঝার ভান করেন। রইসুদ্দিন চাচা আমাকে দেখেই উঠে বসলেন। ছােট–খাটো মানুষ। মামলা মােকদ্দমা করে যেন আরাে ছােট হয়ে গেছেন। গালভর্তি কাঁচা–পাকা দাড়ি না থাকলে তাঁকে… Continue reading পাখি আমার একলা পাখি-পর্ব-(২)-হুমায়ুন আহমেদ
পাখি আমার একলা পাখি-পর্ব-(১)-হুমায়ুন আহমেদ
আমি একটা খুন করব এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নিয়ে ফেললাম। ক‘দিন খুব অস্থির–– অস্থির লাগছিল। সিদ্ধান্তটা নেয়ার পর অস্থির ভাব পুরােপুরি কেটে গেল। এক ধরনের আরামদায়ক আলস্যে মন ভরে গেল। ঘাড় ঘুরিয়ে টেবিল ঘড়ির দিকে তাকালাম। ভাের নটা পঁয়ত্রিশ মিনিটের লাল কাঁটা সাতের ঘরে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত যে মুহূর্তে নেয়া হল, সেই মুহূর্তটা জানা… Continue reading পাখি আমার একলা পাখি-পর্ব-(১)-হুমায়ুন আহমেদ
দুই দুয়ারী-পর্ব-(শেষ)-হুমায়ুন আহমেদ
সাবের খানিক্ষণ চোখ বন্ধ করে রইল। এক সময় চোখ মেলে বলল, ওরা বলেছে ওরা অসম্ভব কষ্ট পাবে। ‘তাহলে ওদের আপনি বলুন না – আপনাকে মুক্তি দিতে। ওদের তাে ক্ষণস্থায়ী জীবন। সেই জীবন তাে ওরা ভােগ করল – আর কত। ‘বলব?” ‘হ্যা বলুন?” ‘এটা বলতে লজ্জা করছে।” ‘লজ্জার কিছু নেই, আপনি বলুন। সাবের চোখ বন্ধ করল।… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(শেষ)-হুমায়ুন আহমেদ
দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৭)-হুমায়ুন আহমেদ
আগস্ট বলল, আপনি কি কিছু বলতে চাচ্ছেন? বলতে চাইলে বলে ফেলুন। আর সুযােগ পাবেন না। এষা নীচু গলায় বলল, আপনি কে আমি জানি না। জানতেও চাই না – হয়ত আপনি কেউ না, সাধারণ একজন মানুষ – কিংবা হয়ত বিশেষ ধরনের একজন মানুষ … আপনি যেই হােন, আমি হাত জোর করে আপনার কাছে একটা অনুরােধ করব। … Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৭)-হুমায়ুন আহমেদ
দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৬)-হুমায়ুন আহমেদ
‘পারছি – কিন্তু আমি যা বলছি তা সত্য। জীবাণুরা যে কোন ভাবেই হােক আমার সঙ্গে কম্যুনিকেট করতে পারছে। তােমাদের ব্যাপারটা আমি বােঝাতে পারছি না, কারণ কোন অস্বাভাবিক ব্যাপার গ্রহণ করার মত মানসিক প্রস্তুতি তােমাদের নেই। ‘তুমি তাে আমাদেরই একজন। তােমার ভেতর সেই মানসিক প্রস্তুতি কি করে হয়ে গেল?” ‘মিস্টার আগস্ট আমাকে সাহায্য করেছেন। মতিন সাহেব… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৬)-হুমায়ুন আহমেদ
দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৫)-হুমায়ুন আহমেদ
‘আমাদের এখানে একজন আছেন তার নাম মিঃ আগস্ট। তাঁর সঙ্গে কি কথা বলেছেন ?” ‘কথা বলে দেখবেন। চমৎকার মানুষ। “জ্বি – আচ্ছা, কথা বলব। নিন, অষুধটা খান। ‘আমি অষুধ খাব না বলে ঠিক করেছি। ‘কখন ঠিক করলেন? ‘কিছুক্ষণ আগে। চোখ বন্ধ করে এই ব্যাপারটাই ভাবছিলাম। আমি ভেবে দেখলাম কি জানেন? আমি চিন্তা করে দেখলাম –… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৫)-হুমায়ুন আহমেদ
দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৪)-হুমায়ুন আহমেদ
কোন কিছুতেই তার মন বসছে না। সাবেরের অসুখের এতটা যে বাড়াবাড়ি তা তিনি বুঝতেই পারেননি। ছেলের সঙ্গে ইদানীং তার যােগাযােগ নেই বললেই হয়। সাবের তাঁর ভয়ে অস্থির হয়ে থাকে। এটা জানেন বলেই তিনি নিজেকে দূরে দূরে রাখেন। তার মানে এটা না যে সাবের অসুস্থ হলেও তিনি জানবেন না। ডাক্তারের কথা শুনে তিনি বেশ বিচলিত বােধ… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৪)-হুমায়ুন আহমেদ
দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৩)-হুমায়ুন আহমেদ
যা–ই হােক, গাছ হবার জন্যে আমি একটা ফাঁকা জায়গায় দু‘হাত উপরে তুলে দাঁড়ালাম। একটু ভয় ভয় করতে লাগল। কি গাছ হব তা জানি না। ব্যাটা কিছু বলে যায়নি। একটু দুঃশ্চিন্তাও হচ্ছে। আমার ইচ্ছা বটগাছ হওয়া। যা–ই হােক, দাড়াতে না দাঁড়াতেই বৃষ্টি। ঝুম বৃষ্টি।দাড়িয়ে আছি, পঁড়িয়ে আছি। কেমন অন্য রকম লাগছে। তারপর হঠাৎ লক্ষ্য করলাম পায়ের… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(১৩)-হুমায়ুন আহমেদ