রশীদ সাহেব ধাক্কার মতাে খেয়েছেন। ডাক্তার ছেলেটা যে এত ওস্তাদ তিনি কল্পনাও করে নি। তাঁর মতাে সজাগ চোখের একজন মানুষকে বােকা বানানাে সম্পূর্ণ অসম্ভব। অথচ এই ছেলে তাই করেছে। চোখের সামনে পাঁচ টাকার একটা কয়েন অদৃশ্য করেছে। কোটের হাতায় লুকিয়ে রাখার প্রশ্নই ওঠে না। কোটের হাতা সে গুটিয়ে নিয়েছে। একটা বস্তু হঠাৎ অদৃশ্য হতে পারে… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১০)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৯)
জি, মনে হচ্ছে। এই বুড়াের প্রতি কিছুক্ষণ আগেও বাজে ধারণা পােষণ করছিলে এই ভেবে খারাপ লাগছে না? লাগছে। তুমি কি আমার সঙ্গে জয়েন করবে? ট্রেনের ঝাকুনির সঙ্গে প্রথম শ্রেণীর ব্লন্ডেড হুইস্কি ভালাে লাগার কথা। তােমাদের ওমর খৈয়ম কি বলেছেন— এই খানে এই তরুর তলে তােমায় আমায় কৌতূহলে যে ক’টিদিন কাটিয়ে যাব প্রিয়ে, সঙ্গে রবে সূরার… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৯)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৮)
আশহাব কামরা থেকে বের হল। মা’র একটানা কথা শুনতে অসহ্য লাগছে। মা কথা বলতেই থাকবেন, বলতেই থাকবেন। এক সময় কাঁদতে শুরু করবেন। আশহাব করিডােরে এসেই সিগারেট ধরাল। সিগারেটে টান দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনে হল মা’র সঙ্গে এতটা বাড়াবাড়ি না করলেও চলত। সমস্যার সমাধান অবশ্যি দ্রুত করা যাবে। মার সামনে বসে বললেই হবে, মা! মুখে ভাত… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৮)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৭)
মা কিন্তু অনেক বিরক্ত করবে। রাতে ঘুমুতে দেবে না। উদ্ভট সব ভূতের গল্প শুরু করবেন। সব ভূত উনি নিজেই দেখেছেন। চিত্রা বলল, মায়ের উপর আপনার কি কোনাে রাগ আছে? আশহাব বলল, আছে। মা হচ্ছে এমন একজন মানুষ যার কাছে অন্যের মতামতের কোনাে মূল্য নেই। আমার ডাক্তার হবার কোনাে ইচ্ছা ছিল না । অন্যের রােগের উপর… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৭)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৬)
তাঁর ইচ্ছা করছে এখনি তাকে কিছু বখশিস দেন। পাঁচশ টাকা দিয়ে দিলে কেমন হয়? পাঁচশ টাকা এমন কিছু টাকা না। সাত ডলারেরও কম। বিশ ডলার বখশিস তাঁকে প্রায়ই দিতে হয় । টাকাটা এখনি দিয়ে দেয়া দরকার। নামার সময় তড়িঘড়ি করে নামবেন। বখশিস দিতে ভুলে যাবেন। চেয়ারে বসতে বসতে রশীদ সাহেব বললেন, বাবা, তােমার নাম কি?… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৬)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৫)
হার্টের অসুখ, দিনাজপুরে বসে আছেন কেন? আমি উনাকে ঢাকায় আনার জন্যে যাচ্ছি। বাবা কি করেন? বাবা বেঁচে নেই। যখন বেঁচে ছিলেন তখন কি করতেন? ব্যাংকে চাকরি করতেন। মা বেঁচে আছেন? জি না। সাজেদা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। মেয়েটার এখনাে বিয়ে হয়নি কেন তা পরিস্কার হয়েছে। এই মেয়ে কঠিন এতিম। বাবা মা দুজনই নেই। কার দায় পড়েছে… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৫)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৪)
অচেনা পুরুষদের সঙ্গে হড়বড় করে কথা লিলি বলতে পারে। সে পারে না। সে খানিকটা আড়ষ্ট বােধ করে। তার জায়গায় লিলি থাকলে বলতাে-অবশ্যই বসতে পারেন। হঠাৎ আমার সামনে বসতে চাচ্ছেন কেন? নিশ্চয়ই কোনাে কারণ আছে। কারণটা ব্যাখ্যা করুন। প্রথমবারেই সুন্দর করে ব্যাখ্যা করবেন যাতে আমাকে দ্বিতীয় বার কোনাে প্রশ্ন না করতে হয়, সহজ বাংলায় ঝেড়ে কাশুন।… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৪)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৩)
অভিভাকের মতাে গলা, যেন কৈফিয়ত তলব করছে । চিত্রার যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাবে । বুড়াের কৈফিয়ত তলবের কিছু নেই । চিত্রা, তুমি উপরের সিটে থাকবে । আমার পক্ষে উপরে উঠা সম্ভব না। তাছাড়া আমাকে ঘন ঘন সিগারেট খেতে হবে। চিত্রা জবাব দিল না। জবাব দেবার কিছু নেই। বুড়াের সঙ্গে খেজুরে আলাপেরও কিছু নেই। বুড়াে সিগারেটে… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৩)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২)
ভালাে সমস্যা হল । আমি সিগারেটে টান না দিয়ে থাকতে পারি না। করিডােরে গিয়ে খাবেন। বুড়াে বলল, আমার শরীর ভালাে না। আর্থরাইটিসের ব্যথা। হাঁটাহাঁটি করতে পারি না। প্রতিবার সিগারেটের জন্যে করিডােরে যাওয়া আমার জন্যে সমস্যা। যাই হােক তােমার নাম কি? চিত্রা। চিত্রা নামের অর্থ কি? জানি না । (চিত্রা তার নামের অর্থ জানে। বুড়ােটাকে অর্থ… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২)
কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১)
ভূ মি কা ট্রেন দেখলেই আমার ট্রেনে চড়তে ইচ্ছা করে। ঢাকা শহরে অনেকগুলি রেল ক্রসিং। গাড়ি নিয়ে প্রায়ই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। চোখের সামনে দিয়ে ট্রেন যায় আর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ভাবি ট্রেনের যাত্রীরা কি সুখেই না আছে। আমার এই উপন্যাসটা ট্রেনের কামরায় শুরু, সেখানেই শেষ। কাহিনী শেষ হয়ে গেছে-ট্রেন চলছেই। মনে হচ্ছে এই ট্রেনের শেষ… Continue reading কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১)