মনে মনে – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

দ্বিজেনের কথা আজ অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে বড্ড দেরি হয়ে গেল।…..মীনা দেরি হওয়া ভালবাসে না—তার মুখ একটু ভার হয়, চোখে গাম্ভীর্য ঘনিয়ে ওঠে। কিন্তু মুখ ফুটে তো কিছু বলবে না—কেবল ভেতরে ভেতরে জট পাকাবে। আশ্চর্য মেয়েমানুষের স্বভাব। এই পাঁচ বছর বিয়ে হয়েছে, এর মধ্যে একদিনও মীনা ঝগড়া করলে না; রাগ হলেই মুখ টিপে থাকে, শুধু… Continue reading মনে মনে – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

যুধিষ্ঠিরের স্বর্গ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

দশ বৎসর আগে আমি যখন কটকে বাস করিতাম তখন যুধিষ্ঠির দাস আমার ভৃত্য ছিল। কুড়ি বছরের নিকষকান্তি যুবক, পান ও গুণ্ডির রসে মুখের অভ্যন্তর ঘোর রক্তবর্ণ; মাড়ির প্রান্তে ক্ষুদ্র দাঁতগুলি তণ্ডুলকণার মতো লাগিয়া আছে; মোটের উপর যুধিষ্ঠিরকে সুপুরুষ বলা চলে না। সে মাঝে মাঝে আমার জামার পকেট হইতে টাকা-পয়সা চুরি করিত; বোধ করি নবপরিণীতা বধূ… Continue reading যুধিষ্ঠিরের স্বর্গ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

ভুলোমন স্বামী – তারাপদ রায়

ভুলোমন অধ্যাপক নিয়ে অনেকরকম গল্প আছে। সেই অধ্যাপকদের মধ্যে নিশ্চয়ই অনেকেই বিবাহিত এবং তাঁদের স্ত্রী বিদ্যমান।।..স্বামীদেবতা যদি ভুলোমন হন, সেটা পত্নীঠাকরানির পক্ষে সুবিধেজনক হয় না অসুবিধেজনক হয় এ রকম জটিল প্রশ্নের মধ্যে না গিয়ে প্রথমে একটি নিরতিশয় সরল প্রকৃতির ভুলোমন স্বামীর গল্প বলি। একদিন এই ভুলোমন স্বামী বাড়ি থেকে হনহন করে বেরিয়েছেন, একটা বিশেষ জরুরি… Continue reading ভুলোমন স্বামী – তারাপদ রায়

মানুষ-ভূতের গল্প – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

আলোরানি হেরিকেনের দম কমিয়ে শুয়ে পড়তেই ঘুমের ফাঁদে আটকে যাচ্ছিল প্রায়, এমন সময়ে বাড়ির পেছনে খিড়কির দিকে কঁপা-কঁপা গলায় সন্দেহজনক ডাকাডাকি,–ঘনশ্যাম, ঘনশ্যাম। ঘনা রে।…এক ঝটকায় ফাঁদ ছিঁড়ে উঠে বসল আলোরানি। বাইরে বারান্দার খানিকটা দরমা ঘেরা কুঠুরি। শাশুড়ি তারাদাসীর ডেরা সেখানে। তার ভয়কাতুরে চাপা ধমক শোনা যাচ্ছিল,–যা। যা। ধুসধুস। বয়স বাড়লে ঘুম কমে। কানও খর হয়।… Continue reading মানুষ-ভূতের গল্প – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

ছক্কামিয়ার টমটম – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

এমুলুকে রাতবিরেতে বাস ফেল করলে ছক্কামিয়ার টমটম ছাড়া আর উপায় ছিল নো। ঝড়-বৃষ্টি হোক, মহাপ্রলয় হোক, রাতের বেলা ভীমপুর গদাইতলা দশমাইল পিচের সড়কে যদি কষ্ট করে একটু দাঁড়িয়ে থাকা যায়, ছক্কামিয়ার টমটমের দেখা মিলবেই মিলবে। অন্ধকারে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে প্রথমে ঠাহর হবে এক চিলতে টিমটিমে আলো। তারপর আলোটা এগিয়ে আসবে আর মেমের ডাকাডাকি যতই থাক, কানে… Continue reading ছক্কামিয়ার টমটম – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

ঝড়ে-জলে-অন্ধকারে – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

সেবার ঝাঁপুইহাটি গ্রামে ২৫শে বৈশাখ রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়েছিলুম। উদ্যোক্তা তরুণ সংঘ নামক ক্লাবের ছেলেগুলি খুব ভদ্র। তাই তাদের অনুরোধ অগ্রাহ্য করতে পারিনি। কথামতো তারা গাড়ি এনেছিল। কলকাতা থেকে গাড়িতে চেপে ঝাঁপুইহাটি পৌঁছতে ঘণ্টা তিনেক লেগেছিল। সভা শুরু হওয়ার কথা পাঁচটায়। ঠিক সময়েই পৌঁছেছিলুম। গ্রামটি বনেদি, তা গাছপালার ফাঁকে অনেক পুরোনো একতলা-দোতলা বাড়ি দেখেই… Continue reading ঝড়ে-জলে-অন্ধকারে – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

রজনী হলো উতলা – বুদ্ধদেব বসু

মেঘনার ঘোলা জল চিরে স্টিমার সামনের দিকে চলছে তার দু-পাশের জল উঠচে, পড়চে, দুলচে—তারপর ফেনা হয়ে গড়িয়ে পড়ে যাচ্চে, জলকন্যার নগ্নদেহের মতো শুভ্র, দ্রাক্ষারসের মতো স্বচ্ছ। একদিকে তরুপল্লবের নিবিড় শ্যামলিমা, অন্যদিকে দূর দিগন্তরেখার অস্পষ্ট নীলিমা! খুব জোরে বাতাস বইছে কোন দিক থেকে, ঠিক করতে পারছিনো এখানে-ওখানে ছোটো ছোটো নৌকাগুলি তীরবেগে ছুটে চলেছে ওরা সব পাল… Continue reading রজনী হলো উতলা – বুদ্ধদেব বসু

চোর বনাম ভূত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

আগের দিনে চোরেরা ছিল বেজায় ভিতু। যেমন আমাদের গ্রামের পাঁচু-চোর। সে নাকি চুরি করতে গিয়ে নিজের পায়ের শব্দে নিজেই ভয় পেয়ে দিশেহারা হয়ে পালাত। দাদুর কাছে শুনেছি, একবার সে আমাদের বাড়ি চুরি করতে এসেছিল। পাঁচিল ডিঙিয়ে উঠোনে নামবার সময় হঠাৎ তার পা পিছলে যায়। তারপর সে ধপাস করে পড়েছে এবং তাতেই যা একটু শব্দ হয়েছে।… Continue reading চোর বনাম ভূত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

ডাক্তারবাবু নমস্কার – তারাপদ রায়

ডাক্তারবাবুদের কথা বলতে গেলে সাতকাহন। ছয়কাহন আগেই বলা হয়ে গেছে, এবার শেষকাহন। এরপরেও যদি কিছু বাকি থাকে থাকবে, আমার কিছু করার নেই।…ডাক্তার নিয়ে এবারের প্রথম গল্পটা নিতান্তই গোলমেলে কিন্তু এটা যে সত্যি গল্প সেটা নিশ্চয় হলফ করে বলতে হবে না। এক রোগী গেছেন ডাক্তারের কাছে। ডাক্তারবাবু তাঁকে খুবই যত্ন করে দেখলেন। অনেক দেখেশুনে ডাক্তারবাবুর কেমন… Continue reading ডাক্তারবাবু নমস্কার – তারাপদ রায়

দন্তরুচি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রেমের জন্য পাগল হইয়া যাইতে বড় কাহাকেও দেখা যায় না। ইতিহাসে একটিমাত্র পাকা নজির আছে : পারস্য দেশে মজনু লয়লার জন্য দেওয়ানা হইয়া গিয়াছিল। আমি আর একটি দৃষ্টান্ত জানি; তিনি বাংলাদেশের নীরদবাবু। বর্তমানে তিনি কাঁকেতে আছেন। নীরদবাবুর বয়স কত হইয়াছিল আমরা ঠিক জানি না, কিন্তু তাঁহাকে দেখিলে মনে হইত–বড় জোর চল্লিশ-বিয়াল্লিশ। বেশ মজবুত দেহ, মাথায়… Continue reading দন্তরুচি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়