আম কুড়োতে সাবধান – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

ফুটবলম্যাচ দেখতে যাব বলে সেজেগুজে তৈরি হচ্ছিলুম। হঠাৎ কোত্থেকে এসে বাধা দিল প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি। মুহুর্মুহু বিদ্যুতের ঝিলিক আর মেঘের গর্জন অবস্থাটা আরও সাংঘাতিক করে ফেলল। মনমরা হয়ে বসে রইলুম।….সন্ধ্যার দিকে ঝড়বৃষ্টির দাপট যখন কমে গেল, তখন দেখলুম ছোটমামা কাকভেজা হয়ে বাড়ি ফিরছেন। একটু পরে পোশাক বদলে একটা লণ্ঠন জ্বেলে ছোটমামা ঘরে ঢুকলেন। আমাকে দেখে বললেন,–এ… Continue reading আম কুড়োতে সাবধান – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

নসুমামা ও আমি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

ছেলেমানুষ তখন আমি। আট বছর বয়স। দিদিমা বলতেন, তোর বিয়ে দেব ওই অতুলের সঙ্গে।..মামারবাড়িতে মানুষ, বাবা ছিলেন ঘরজামাই—এসব কথা অবিশ্যি আরও বড়ো হয়ে বুঝেছিলাম।..অতুল আমার দিদিমার সইয়ের ছেলে, কোথায় পড়ে, বেশ লম্বামত আধফর্সা গোছের ছেলেটা। আমাদের রান্নাঘরে বসে দিদিমার সঙ্গে আড্ডা দিত। অতুলকে আমার পছন্দ হত না, কেমনধারা যেন কথাবার্তা। আমায় বলত—এই পাঁচী, যা—এখানে কী?… Continue reading নসুমামা ও আমি – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দারোগা, ভূত ও চোর – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কৈলাসপুর থানার দারোগাবাবু ভূতনাথ পাত্রের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল নেহাত দৈবদুর্বিপাকে। পাড়াগাঁয়ের এক রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে গিয়েছিলুম। সবে উদ্বোধন সঙ্গীত শেষ হয়েছে, হইহই-রইরই করে তেড়ে এসে গেল কালবৈশাখি। যেমন ঝড়, তেমনি বৃষ্টি। সে এক ধুন্ধুমার অবস্থা। মঞ্চের তেরপল উড়ে গিয়ে কোন তেপান্তরের মাঠে পড়ল কে জানে! গাঁয়ের লোকজন আর কাচ্চাবাচ্চা যে যার বাড়ি গিয়ে… Continue reading দারোগা, ভূত ও চোর – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কেকরাডিহির দণ্ডীবাবা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

কেবলরাম বলল, যখন-তখন গেলেই হল না মাঠান! বারবেলা তিথি নক্ষত্র বলে কথা আছে না? ঠিক সময় গেলে তবে দর্শন পাবেন।..রাঙা পিসিমা মুখ ভার করে বললেন,–যখনই বলি, তোর খালি ওই এক কথা। এদিকে রোগ বাড়তে বাড়তে মাথায় ঠেকেছে। কখন একটা কিছু সর্বনাশ হয়ে গেলেই হল। বাড়ির লোকের আর কী? আমার মরার পথ তাকিয়েই আছে সবাই। হাড়… Continue reading কেকরাডিহির দণ্ডীবাবা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

পি-থ্রি বুড়ো – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

আমার ভাগ্নে ডন মহা ধড়িবাজ বিচ্ছু ছেলে। একেকসময় তার মাথায় একেকটা খেয়াল গজিয়ে ওঠে আর তার ধাক্কায় আমাকেই ভুগতে হয় শেষপর্যন্ত। দুদিন থেকে দেখছি, শ্রীমানের মাথায় ঘুড়ি ওড়ানোর খেয়াল চেপেছে। ভয় হল ছাদে ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে দৈবাৎ কিছু বিপদ না বাধিয়ে ফেলে। কিন্তু ডনকে বারণ করা বৃথা। বারণ করলে তো আরও বেশি করেই তা করবে… Continue reading পি-থ্রি বুড়ো – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

সমান-সমান – তারাপদ রায়

পৃথিবীতে কোনও দুটো জিনিস সমান-সমান নয়। হাতের দুটো আঙুল এক সমান নয়। দুটো মানুষ, এমনকী যমজ দুই ভাইও কখনও একরকম হয় না। কোথাও কিছু পার্থক্য থাকেই।….শুধু মানুষ কেন একই গাছের একই ডালের দুটি পাতা যারা একই মুহূর্তে বিকশিত হয়েছে, একই রোদে হাওয়ায় একইরকম সবুজ হয়েছে, একটু খুঁটিয়ে দেখলেই দেখা যাবে সেই পাতা দুটির মধ্যেও বিস্তর… Continue reading সমান-সমান – তারাপদ রায়

ভেজা চপ্পল – তারাপদ রায়

এই বর্ষায় সর্বানন্দ খুব সর্দিকাশিতে ভুগল। একটু জ্বর জ্বরও হয়েছিল। মুঠো মুঠো প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খেয়ে, বোতলের পর বোতল ব্রান্ডি গরম জল দিয়ে পান করে কোনও উপশম হল না।..কথায় বলে সর্দি চিকিৎসা করলে, ওষুধ খেলে সাতদিনে সারে; চিকিৎসা না করলে, ওষুধ-বিষুধ না খেলে সারতে এক সপ্তাহ লাগে কিন্তু পরিতাপের বিষয় এক সপ্তাহে বা সাতদিনে সর্বানন্দের সর্দি,… Continue reading ভেজা চপ্পল – তারাপদ রায়

ছুটির ঘণ্টা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

আমাদের ছেলেবেলায় পাড়াগাঁয়ের প্রাইমারি স্কুলকে বলা হতো পাঠশালা আর ক্লাসকে বলা হতো শ্ৰেণী। সব পাঠশালায় ক্লাস ফোর পর্যন্ত থাকবে তার মানে নেই। আমি যে পাঠশালায় পড়তুম সেখানে ছিল শিশুশ্রেণী, প্রথম শ্রেণী আর দ্বিতীয় শ্রেণী। শিক্ষক মোটে একজন। তাকে বয়স্করা বলতেন নিসিং পণ্ডিত। আমরা বলতুম পণ্ডিতমশাই। নিসিং পণ্ডিতের এক দাদা ছিলেন। তাঁর নাম গিরিজাবাবু, আড়ালে আমরা… Continue reading ছুটির ঘণ্টা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

চোর-পুলিশ – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

এ যেন সুকুমার রায়ের ছিল রুমাল, হয়ে গেল বেড়াল, সেইরকম। ছিল তাল গাছ, হয়ে গেল বেড়াল। দুদে দারোগা বঙ্কুবাবু তো তাজ্জব। শুধু তাজ্জব নন, রীতিমতো হতবাক। থমকে দাঁড়িয়ে গেলেন কেষ্টনগরের পুতুলটি হয়ে। আসছিলেন কেকরাডিহি থেকে একটা তদন্ত সেরে। দুদিন আগে সেখানে দুদলে খুব মারপিট-রক্তারক্তি হয়ে গেছে। তদন্ত সারতে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। সঙ্গের দুজন বন্দুকধারী সেপাইকে… Continue reading চোর-পুলিশ – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

মধুসুন্দরী দেবীর আবির্ভাব – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সেদিন হাতে কোন কাজকর্ম ছিল না, সন্ধ্যার পর্বে মাঠ হইতে ফুটবল খেলা দেখিয়া ধর্মতলা দিয়া ফিরিতেছিলাম। মোহনবাগান হারিয়া যাওয়াতে মনও প্রফুল্ল ছিল না—কি আর করি, ধর্মতলার মোড়ের কাছেই মট্‌ লেনে (নম্বরটা মনে নাই তবে কাড়িটা চিনি) তারানাথ জ্যোতিষীর বাড়ি গেলাম। তারানাথ একাই ছিল। আমায় বলিল—এস, এস হে, দেখা নেই বহুকাল, কি ব্যাপার? কিছুক্ষণ গল্পগুজবের পরে… Continue reading মধুসুন্দরী দেবীর আবির্ভাব – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়