তিনি পঞ্চাশ দশকের অন্যতম একজন মৌলিক কবি। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন একজন সরকারি আমলা। কাব্যের আঙ্গিক গঠনে এবং শব্দ যোজনার বিশিষ্ট কৌশল তাঁর স্বাতন্ত্র্য চিহ্নিত করে। তিনি লোকজ ঐতিহ্যের ব্যবহার করে ছড়ার আঙ্গিকে কবিতা লিখেছেন। প্রকৃতির রূপ ও রঙের বিচিত্রিত ছবিগুলো তাঁর কবিতাকে মাধুর্যমন্ডিত করেছে।
আশির দশক থেকে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ মহাকাব্যিক কাব্যরীতিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। এ পর্যায়ে তাঁর কবিতার বিষয় হিসেবে উঠে আসা মা-মাটি ও সংগ্রামী মানুসেল চিত্র পরিচিত দেশ-কালের সীমানা অতিক্রম করে স্পর্শ করে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল।
- বিশিষ্ট এই কবি জন্মগ্রহণ করেন – ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৪ সালে।
- অন্যতম এই কবির পৈত্রিক নিবাস – বরিশাল এর বাবুগঞ্জের বাহেরচর এর ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে।
- অন্যতম এই কবির পিতার নাম – আব্দুল জব্বার খান।
- তাঁর পিতা আব্দুল জব্বার খান ছিলেন – পাকিস্তানের আইন পরিষদের স্পিকার।
- বিশিষ্ট এই কবির শিক্ষাজীবন – তিনি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৪৮ সালে মাধ্যমিক, ১৯৫০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ হতে এম.এ. পাস করেন।
- বিশিষ্ট এই কবির পূর্ণ নাম – আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তিনি ১৯৫৮ সালে Later Poems of Yeats: The Influence of Upanishads বিষয়ে গবেষণা করেন – যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে।
- তিনি উন্নয়ন অর্থনীতি বিষয়ে ডিপ্লোমা অর্জন করেন – যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে লেকচারার হিসেবে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন – ১৯৫৪ সালে।
- পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন – ১৯৫৭ সালে।
- তিনি বাংলাদেশ সরকারের কৃষি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে যোগদান করেন – ১৯৮২ সালে।
- তিনি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন – ১৯৮৪ সালে।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ্ এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম
- তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যাংককস্থ FAO কার্যালয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন – ১৯৯১ সালে।
- FAO থেকে অবসর গ্রহণের সময় তিনি এ প্রতিষ্ঠনের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মহাপরিচালক ছিলেন – ১৯৯৭ সালে।
- তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন – ১৯৯৮ সালে।
- তিনি তাঁর কাব্যরীতিতে মূলত দুটি প্রবণতাকে অনুসরণ করেছেন – একটি তাঁর প্রথম জীবনের প্রিয় গীতিমুখ্য কাব্যরীতি আর অন্যটি মহাকাব্যিক।
- ’সাতনরী হার’ কোন জাতীয় রচনা – কাব্যগ্রন্থ।
- ’সাতনরীর হার’ কাব্যখানি লিখেছেন – আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ্।
- তাঁর রচিত ‘সাতনরী হার’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় – ১৯৫৫ সালে।
- পঞ্চাশের দশকে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ – ‘সাতনরী হার’।
- ’কখনো রং কখনো সুর’ কোন জাতীয় রচনা – কাব্যগ্রন্থ।
- ’কখনো রং কখনো সুর’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা – আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ্।
- তাঁর রচিত ‘কখনো রং কখনো সুর’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় – ১৯৭০ সালে।
- ’আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ একটি – কাব্যগ্রন্থ।
- ’আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা – আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ্।
- তাঁর রচিত ’আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় – ১৯৮১ সালে।
- তাঁর সর্বাধিক জননন্দিত কাব্যগ্রন্থ – ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’।
- ’কমলের চোখ’ কোন জাতীয় রচনা – কাব্যগ্রন্থ।
- ’কমলের চোখ’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা – আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ্।
- তাঁর রচিত ‘কমলের চোখ’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় – ১৯৭৪ সালে।
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ্ এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম
- তাঁর মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনা লক্ষ করা যায় – ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ (১৯৮১), ‘সহিষ্ণু প্রতীক্ষা’ (১৯৮২), ‘বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা’ (১৯৮৩), কাব্যগ্রন্থে।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে – ‘আমার সময়’ (১৯৮৭), ‘নির্বাচিত কবিতা’ (১৯৯১), ‘আমার সকল কথা’ (১৯৯৩), ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, এবং ‘মসৃণ কৃষ্ণগোলাপ’ (২০০২) প্রভৃতি।
- তাঁর জীবিত অবস্থার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ – ‘মসৃণ কৃষ্ণগোলাপ’।
- তাঁর গবেষণাধর্মী গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে – চীনের কমিউন সম্পর্কে Yellow Sands’ Hills: China through Chinese Eyes’, বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন সম্পর্কে Rural Development: Problems and Prospects’, (Tom Hexner-এর সঙ্গে যৌথভাবে); Creative Development; Food and Faith।
- কাব্য রচনার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ’একুশে পদক’ লাভ করেন – ১৯৮৫ সালে।
- তিনি কবিদের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠ করেন যার নাম – ‘পদাবলি’।
- আশির দশকে দর্শনীর বিনিময়ে কবিতা সন্ধ্যার আয়োজন করত – ‘পদাবলি’ সংগঠন।
- তিনি ‘বাংলা একাডেমী পুরস্কার’ লাভ করেন – ১৯৭৯ সালে।
- বিশিষ্ট এই কবি মৃত্যুবরণ করেন – ১৯ মার্চ, ২০০১ সালে ঢাকায়।
