কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৯)

আমার সঙ্গে ফাজলামী করবি না। তােকে যা বলেছি কর । বৌমাকে ডেকে নিয়ে আয়।কিছুক্ষণ 

মা তুমি কি সত্যি ভাবছ সে তােমার বৌমা? না-কি ইচ্ছা করে একটা নাটক করছ? 

সাজেদা বললেন, তাের এতবড় সাহস? তুই এইভাবে আমার সঙ্গে কথা বলছিস? আমি আমার বৌমাকে চিনব না। 

মা তােমাকে দু’টা ট্যাবলেট দিচ্ছি। ট্যাবলেট খেয়ে শুয়ে পড়। তােমার ঘুম দরকার। 

আমার সঙ্গে ডাক্তারী ফলাচ্ছিস? ফেল করা ডাক্তার। ফেল করা ডাক্তার মানে? নকল করে ধরা পড়লি মনে নাই। প্রিন্সিপ্যাল তােকে বের করে দিল। মা তুমি এসব কি বলছ? 

তুই আমাকে দিয়ে প্রিন্সিপ্যালের পায়ে ধরালি। একজন মানুষের সামনে কতটা নিচু তুই আমাকে করলি। বদমাশ ছেলে। 

মা তােমার অবস্থাতাে খুবই কাহিল। কি গল্প ফাঁদছ। এরকম গল্প তােমার মাথায় আসছে কেন? আমি দু’টা সাবজেক্টে হাইয়েস্ট পাওয়া । গােল্ড মেডেল তােমার গলায় পরিয়ে দিয়েছিলাম। মনে নাই? 

মনে আছে। 

তাহলে এইসব কি বলছ? আর বলব না। মাথা কি ঠিক হয়েছে? হুঁ। হা কর মুখে ভাত দিয়ে দেই। 

আশহাব হা করল। সাজেদা ছেলের মুখে ভাত তুলে দিতে দিতে বললেন, আজ তুই আমার হাতে খাবি। তাের হাত নােংরা করার দরকার নেই। 

আশহাব কিছু বলল না। সাজেদা বললেন, তুই মাঝে মাঝে এমন গাধার মতাে কাজ করিস। 

গাধার মতাে কাজ কি করলাম? 

কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ

বৌমাকে নিয়ে প্রথম যাচ্ছিস তােরা দু’জন যাবি এক কামরায় আমি যাব আলাদা। তা-না তিনজন এক সঙ্গে যাচ্ছি। বেচারী মনটাতাে এই জন্যেই খারাপ করেছে। একটু পর পর তাের খুঁজে যাচ্ছে। ওর মনের ভাব আমি পরিস্কার বুঝতে পারছি। 

বুঝতে পারলে তাে ভালাে। মা আমাকে আর খাইয়ে দিতে হবে না। যথেষ্ট হয়েছে। এখন তুমি খাও। 

তাের কি মাথাটা খারাপ হয়ে গেল। বৌমাকে রেখে আমি খেয়ে ফেললে সে কি মনে করবে। বাপ নেই, মা নেই একটা মেয়ে। স্নেহের কাঙ্গাল । 

আশহাব বিড় বিড় করে বলল, মহা বিপদ। সাজেদা বললেন, খাওয়া শেষ করে তুই বৌমাকে খুঁজে আনবি। আমি কামরা ছেড়ে দেব তােরা দুই জন এখানে ঘুমাবি। আদর ভালবাসা করতে চাইলে করবি। হুট করে আমি তােদের কামরায় ঢুকব এরকম ভুলেও মনে করবি না। এই বুদ্ধি আমার আছে।। 

অবশ্যই সেই বুদ্ধি তােমার আছে। ভাত চাবাচ্ছিস না কেন? মুখে দিচ্ছি আর কোৎ করে গিলে ফেলছিস। ভাল করে চাবাতে হবে না। আচার খাবি? একটু আচার দেই

আশহাব বিড় বিড় করে বলল, Oh God, oh God. 

চিত্রা রশীদ সাহেবের পাশে বসে আছে। তার চোখ উজ্জ্বল। সে আগ্রহ নিয়ে কথা শুনছে। বিজ্ঞানের অতি জটিল সব বিষয় এই মানুষ এত সহজে কিভাবে বলছে সে বুঝতে পারছে না। তার কাছে এখন মনে হচ্ছে পৃথিবীতে জটিল বলে কিছু নেই। 

 রশীদ সাহেব বললেন, মা আমাকে তুমি বল একটা আপেল থ্রি ডাইমেনশনাল বডি না? এর দৈর্ঘ্য প্রস্থ এবং উচ্চতা আছে না? 

কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ

চিত্রা বলল, জি। অবশ্যই। 

রশীদ সাহেব বললেন, আপেলের খােসাটা কিন্তু টু ডাইমেনশনাল । আপেলের খােসার আছে শুধু দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ। 

চিত্রা বলল, জি চাচা। 

রশীদ সাহেব বললেন, তুমি কি এখন বুঝতে পারছ একটি থ্রি ডাইমেনশনাল বস্তুকে একটি টু ডাইমেনশনাল বস্তু ঘিরে রেখেছে। 

জি। 

এটা যে সম্ভব তা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ।। পারছি। 

রশীদ সাহেব সামান্য ঝুঁকে এসে বললেন, একই লজিকে আমি যদি বলি থ্রিডাইমেনশনাল কোনাে বস্তু দিয়ে ফোর ডাইমেনশনাল জগৎ আটকে রাখা সম্ভব তাহলে কি বিশ্বাস করবে? 

চিত্রা চিন্তিত গলায় বলল, বিশ্বাস করাইতাে উচিত। 

রশীদ সাহেব বললেন, তােমার কাছে কোনাে কিছু যদি অস্পষ্ট মনে হয় আমাকে বলবে। বিজ্ঞান অস্পষ্টতা পছন্দ করে না যদিও হায়ার সায়েন্স পুরােটাই অস্পষ্ট। 

কেন? হায়ার সায়েন্স Big Bang আগে কি হচ্ছে বলতে পারছে না। সময় কি সুষ্ঠু ভাবে বলতে পারছে না, অতীত এবং ভবিষ্যত কি বলতে পারছে না। হায়ার সায়েন্স হঠাৎ বলছে হলগ্রাফিক ইউনিভার্সের কথা। হলােগ্রাফিক ইউনিভার্সের কথা শুনেছ? 

 বলব? অবশ্যই বলবেন। মূল ডিসকাশান থেকে আমি কিন্তু সরে যাব। মূল ডিসকাশনে পরে যাবেন—হলােগ্রাফিক ইউনিভার্সটা কি আগে বলুন।

 

Read more

কিছুক্ষণ- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২০)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *