মবিন কথা বলছে না। একা একা কথা চালিয়ে যাওয়া যায় না। ই হা বলার জন্যে একজনকে দরকার । শনীর কথা বলতে ইচ্ছে করছে। এ রকম তা কখনাে হয় না । কথা বলতে ইচ্ছা করে না ।
মবিন সাহেব।
আমার ছােট বােনের নামটা আপনার কাছে কেমন লাগল তা তাে বললেন না।”
শ্রাবণ মাসে জলছে বলে শ্রাবণী । ও কি বলে জানেন? ও বলে–ভাগ্যিস আমার গুদ মাসে জন্ম হয়নি । ভাদ্র মাসে জল হলে নাম হত ভার্সী।‘
ননী হাসছে । আনন্দিত ভঙ্গিতে হাসছে।
তারা বড় রাস্তায় উঠে এল । এখন আর পথ হারানাের ভয় নেই। সােজা পথ । চোখ বন্ধ করেও চলে যাওয়া যাবে। নমনী বলল, মেনি থ্যাংকস । আপনাকে আর আসতে হবে লা । এখন আমি যেতে পাব।
মনি কিছু বলল না।
নবনী বলল, আপনাকে ডাকবাংলােয় নিয়ে চা খাইয়ে দিতে পারতাম । তা করতে শারছি না। আজ আমাকে বাবার কাছ থেকে বকা দিতে হবে। আপনাকে নিয়ে গেলে আপনিও বকা খাবেন । লেগে গেলে বা সবাইকে বকেন । টমিকে ও বকেল । টমি হল আমাদের কুকুর । আচ্ছা তাহলে আই। ভাল থা, গাছের নিচে বসে কি করছিলেন তা তাে বললেন না?
জোসুনা শেখার জন্যে বসেছিলাম । “কি বললেন?
জোছনা দেখার জন্যে আমি মাঝে মাঝে গাছের গুড়িতে গিয়ে বসি। এখান থেকে জোছনা সম্পূর্ণ অনাকুম লাগে।‘
”তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে ”খন্ড-৩
“তাই নাকি? ‘জি। দেখার মত দৃশ্য। একবার সারারাত ছিলাম।’ “সাল্লাল্লাত কি আর জানা দেখতে ভাল লাগে?”
“জি লাগে । জোছনা তো এক রকম থাকে না। মাত্র এডুর সঙ্গে সঙ্গে বদলাম । আপনি কি দেখবেন?
ননী শিক্ষিত হয়ে বলল, কি বললেন মবিন নিচু গলায় বলল, আপনি যদি জোছনা দেখতে চান তাহলে...
তাহলে কি?
মবিন ইতস্তুত করে বলল, পহুকাল পূর্ণিমা ছিল । আজ কিছুক্ষণের মধ্যেই চাঁদ উঠবে। গাছের গুড়িটা বাধানাে। সুন্দর বসার জায়গা। | নবনী শ্রী গলায় বলল, আপনি কি আমাকে নিমন্ত্রণ জানাচ্ছেন আপনার সঙ্গে অন্ধকার গাছের নিচে সারারাত বসে থাকার জন্যে | মবিন চুপ করে রইল। নানী বলল, ভ্ৰাপনার সাহস ঔ =ধা দেখে অবাক হচ্ছি । এমন অস্বাভাবিক প্রস্তাব আপনি নিলেন কিভাবে আপনার মাথা ঠিক আছে তাে? কমনসেন্স বলে একটি ব্যাপার আছে। কমবেশি সবাই খাকে। আপনার মনে হয় তা নেই।
‘আমি ভেবেছিলাম...
কি ভেবেছিলেন আপনি আপনার প্রস্তাবে আমি কি আশ্চর্য কি সুন্দর প্রৱাৰ” বলে কাফিয়ে উঠল তারপর গাছের নিচে রান্না বসে থাকব? আপনার কি যেন নাম বলেছিলেন।
”তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে ”খন্ড-৩
‘মব্রিনউদ্দিন।
“শুনুন মবিনউদ্দিন সাহেব । আপনি আমাকে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছেন। আপনাকে ধন্যবাদ। জোছনা দেখার নিমন্ত্রণের জন্যে ধন্যবাদ। নিমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পারছি না ।
আমি বয়সে আপনার ছােট। তবু আপনাকে একটা উপদেশ দিচ্ছি— এ জাতীয় নিমন্ত্রণ চট করে দেয়া যায় না। আচ্ছা, আমি যাচ্ছি।’
নবনী হনহন করে এগুচ্ছে। অনেক দূর এসে সে একবার পেছনে ফিরল। মবিনউদ্দিন রাস্তার এক পাশে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে ।
নবনী ভেবেছিল ডাকবাংলােয় পৌছানাে মাত্র সে বকা খাবে। তার বাবা বন ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী জামিল চৌধুরী নিশ্চয়ই থমথমে মুখে বারান্দায় বেতের চেয়ারে বসে আছেন। তাঁর সামনে একটা হ্যাজাক লাইট। একটু দূরে ওসি সাহেব শুকনাে মুখে দাড়িয়ে। ওসি সাহেবের পেছনে মাধবদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুরুজ মিয়া। সুরুজ মিয়া হাত কচলাচ্ছেন এবং তেলতেলে মুখে হাসছেন। এই মানুষটা ননস্টপ হাসতে পারেন। বকা খেলেও হাসেন। পান খাওয়া লাল দাঁত সর্বক্ষণ বের হয়ে থাকে। তবে তাতে তাঁকে খারাপ লাগে না।
মনে হয়, ধবধবে সাদা দাঁতে এই মানুষটাকে মানাতাে না। | নবনীর ঘেঁজে নিশ্চয়ই লােকজন বের হয়ে গেছে। ডাকবাংলার সামনে পুলিশের দু’জন সেন্ট্রি থাকে। তারা নবনীর খোজে গেছে। ঝােপ-ঝাড়ে পাঁচ ব্যাটারির টর্চের আলাে ফেলছে। চারজন আনসারের একটা দল আছে, তারাও নিশ্চয়ই বের হয়েছে। নবনীর মা জাহানারা অস্থির হয়ে পড়েছেন। তার বুক ধড়ফড় করছে। সামান্য উত্তেজনাতেই তার বুক ধড়ফড় করে।
”তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে ”খন্ড-৩
নবনী যা ভেবে রেখেছে তার কিছুই হল না। আজ দিনটা বােধহয় তার জন্যে শুভ। জামিল সাহেব বারান্দায় বসা। তাঁর মুখ গম্ভীর নয়, হাসি। ওসি সাহেব এ্যাটেনশন হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। সুরুজ মিয়ার পান—খাওয়া লাল দাঁত দেখা যাচ্ছে ।
গেট দিয়ে ঢােকার সময় সেন্ট্রির পুলিশ দু’জন একসঙ্গে স্যালুট দিল । নবনীর অস্বস্তি লাগছে। এরা সব সময় তাকে স্যালুট দেয় কেন? সে তাে কেউ না। তারচেয়ে বড় কথা স্যালুট দিলে নবনীর কি করণীয়। সে কি হাত তুলে সালাম নেবে? না মাথা ঝুকিয়ে হাসবে? বাবাকে জিজ্ঞেস করা দরকার । কখনাে মনে থাকে না ।।
জামিল সাহেব মেয়েকে দেখে উঁচু গলায় বললেন, কাণ্ড দেখে যা।
নবনী কাছে এসে কাণ্ড দেখল। জামিল সাহেবের পায়ের কাছে প্রকাণ্ড এক চিতল মাছ ধড়ফড় করছে। নবনী বলল, কি সর্বনাশ, এতবড় মাছ হয়!
সুরুজ মিয়া হাসি মুখে বললেন, হয় আম্মা, কচিৎ হয় । এরে বলে রাজ-চিতল। গলাটা লাল। স্যারের ভাগ্যে মাছটা ছিল।
নবনী বলল, আপনি এনেছেন এই মাছ?
Read more