তা তাে দিই।’ ‘তােমার আসতে অসুবিধা হয়নি।
হয়েছে। অনেক ঝামেলা করে আসতে হল। ‘এলে কেন ঝামেলা করে?’
শাহেদ হাসল । নবনী চোখ ফিরিয়ে নিতে গিয়েও নিতে পারল না। মনে মনে ভাবল, এত সুন্দর করে মানুষ হাসে কি ভাবে?
‘আমি হঠাৎ উপস্থিত হওয়ায় খুশি হয়েছ তাে?’
নবনী জবাব দিল না। সে প্রচণ্ড খুশি হয়ে গেছে। তার এত আনন্দ হচ্ছে। ভাগ্যিস কেউ তা বুঝতে পারছে না। নবণী চায় না কেউ বুঝে ফেলুক।
আমি আসব—এটা নিশ্চয়ই আশা করনি’।’ ‘খুশি হয়েছ কিনা তা তাে বললে না।’ | নবনী হালকা গলায় বলল, প্রচণ্ড রাগ করেছি। রাগে অন্ধ হয়ে গেছি। কেন এলো বলেই হেসে ফেলল।
তারা ডাকবাংলাের দিকে এগুচ্ছে। নবনী কেয়ারটেকারের হাত থেকে হারিকেন নিয়ে নিয়েছে । সে যাচ্ছে আগে, শাহেদ পেছনে পেছনে আসছে।
নবনী।
‘আমি যে হঠাৎ এখানে এসে তােমাকে চমকে দেব তা আগে থেকে ঠিক করা। সব প্রি-প্লেনড । প্রচণ্ড রকম ঝগড়া তােমার সঙ্গে হল, সেই ঝগড়াও কিন্তু প্ল্যানের একটা অংশ। যাতে তুমি ধারণা কর আমি আসব না। অবশ্যি পুরাে ব্যাপারটা আমি যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে হয়নি।’
তুমি কিভাবে চেয়েছিলে?
‘আমি ঠিক করে রেখেছিলাম গভীর রাতে উপস্থিত হব । তুমি তখন ঘুমিয়ে পড়ে। আমি তােমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে খুব ক্যাজুয়েল ভঙ্গিতে বল, এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি দাও তাে ননী। হা হা হা।
নবনী বলল, আমি তােমার সঙ্গে অকারণে ঝগড়া করেছি। তুমি কিছু মনে করাে না। আমি লজ্জিত, খুব লজ্জিত। আমি ক্ষমা প্রার্থনা করে তােমার কাছে একটা দীর্ঘ চিঠি লিখেছি।
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে -খন্ড-৬
‘আমি কিন্তু কোন চিঠি পাইনি।’ “তুমি পাওনি। কারণ আমি চিঠি পাঠইনি। চিঠি এখানেই আছে।‘
পড়তে পারব দেখতে পারবে। কিন্তু পড়তে পারবে না।’ ‘পড়তেই যদি না পারি তাহলে দেখে কি লাভ।
‘আমি আঠারাে পাতার একটা চিঠি লিখেছি। এটা জানবে । চিঠি না দেখলে কি করে বুঝবে।
সত্যি আঠারাে পাতার চিঠি
বল কি। আমিতাে শুদ্ধ বাংলায় আঠারােটা লাইন লিখতে পারি না। বাংলায় চিঠি পত্র লিখতে গিয়ে যা সমস্যা হচ্ছে। একজন সেক্রেটারি রেখেছি। সে না-কি বাংলায় অনার্স করেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে সে আমার চেয়েও কম বাংলা জানে; সেদিন আমাকে এসে জিজ্ঞেস করল—স্যার (Accepatance এর সুন্দর বাংলা কি হবে?’
তুমি কি বললে?
‘আমি কিছুই বললাম না। ওর দিকে রাগী রাগী চোখে তাকিয়ে রইলাম। Acceptance এর সুন্দর বাংলা যদি আমি জানতাম তাহলে ওকে পাঁচ হাজার টাকা মাইনে দিয়ে রাখতাম?
‘সেটাও একটা কথা।’
জাহানারা নাশতার অনেক আয়ােজন করেছেন। পনীরের সমুছা ছাড়াও লুচি ডেজেছেন। মুরগির কোরমা করেছেন। আলুর চপ তৈরি হয়েছে। ডাকবাংলাের খাবার ঘরে খাবার দেয়া হয়েছে। সবাই গােল হয়ে বসেছে। টেবিলটা বেশি বড়। মনে হচ্ছে কনফারেন্স রুম। তারা যেন খেতে বসেনি, জরুরি আলােচনায় বসেছে । শ্রাবণীর গলায় মাফলার নেই। মনে হয় গলাব্যথা কমেছে। এখন ইলেকট্রিসিটি নেই। হ্যাজাক জ্বলছে।
জাহানারা স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললেন, আচ্ছা, তােমাদের ইলেকট্রিসিটি এত ঘন যন যায় কেন?
আমাদের বলছ কেন? বিদ্যুৎ তাে আমার দপ্তর না । আমার হল বন এবং খনিজ সশদ। বনের ব্যাপারে কোন প্রশ্ন থাকলে বল।‘
একশী বলল, আমার একটা প্রশ্ন আছে?
কি প্রশ্ন মা?‘ বাংলাদেশের বনে মােট কতগুলি ময়ুর আছে বাবা?‘
কতগুলি ময়ুর আছে তা তাে বলতে পারব না। তবে রয়েল বেঙ্গল টাইগার কতগুলি আছে তা বলা যাবে। গত বৎসর সেনসাস হয়েছে।‘
রয়েল বেঙ্গল টাইগার কতগুলি আছে অফ হ্যান্ড বলতে পারব না মা। সেক্রেটারীকে জিজ্ঞেস করে জানতে হবে।‘ উনাকে কি করে জিজ্ঞেস করবে। এখানে তাে টেলিফোন নেই।‘
তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে -খন্ড-৬
‘ওয়ারলেসে ম্যাসেজ পাঠিয়ে দেব। সব থানায় ওয়ারল্যাস আছে। শাহেদ বলল, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা জানা কি খুব দরকার শ্রাবণী?
শাবণী বলল, হঁা দরকার। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সঠিক সংখ্যা না জানলে আমি আজ রাতে ঘুমুতে পারব না। জামিল সাহেব হাে হাে করে হেসে উঠলেন।
সুরুজ মিয়া মাছ নিয়ে ফিরে এসেছেন। মাছের ওজন হয়েছে একচল্লিশ কেজি । জামিল সাহেব বললেন, বাহ্ বাহ্ এক মণের বেশি । খুবই আশ্চর্য ব্যাপার!
সুরুজ মিয়া বললেন, পাল্লা–পাথর নিয়ে এসেছি। আপনার সামনে একবার মাপব ? ‘কোন দরকার নেই।
স্যার, শখ করে এনেছি। আপনার সামনে একটু মাপি। মাপা হল। একচল্লিশ কেজি দু‘শ গ্রাম। শ্ৰবণী বলল, আপনি তাে বললেন, একচল্লিশ কেজি। দুশ গ্রাম বেশি হল কেন?
যখন প্রথম ওজন নিয়েছিলাম, মাছটা জিন্দা ছিল। এখন মাছটা মারা গেছে। মৃত্যুর পর ওজন বেড়ে যায় মা।
‘কেন?‘
মৃত্যুর পর মাটির টানে বাড়ে।
Read More