সত্যজিৎ রায় এর নয়ন রহস্য (পর্ব-১৪)

নয়ন রহস্য

আমি কিন্তু বুঝেছিলাম ফেলুদার অ্যাপয়েন্টমেন্ট হয়েছে আজ বিকেল পাঁচটায় । সেটা লালমােহনবাবুকে বলতে উনি বেশ রেগে গিয়ে বললেন, কানের কাছে অন্য টেলিফোন করলে আমি অন প্রিনসিপল তার কথা শুনি না। কোথায় থাকেন ভদ্রলােক ? ‘আলিপুর পার্ক রােড। ‘বনেদি পাড়া ।—আমরাও যাচ্ছি তা আপনার সঙ্গে? ‘সেটা কবে যাননি বলতে পারেন ? “ঠিক কথা। ইয়ে—“আনি” দিয়ে পদবী শেষ হলে ত সিন্ধি বােঝায়, তাই না ?  ‘তা বটেই ।

দেখুন না—দু আনি ছ আনি কেরানি কাঁপানি হাঁপানি চাকরানি মেথরানি…’ ‘রক্ষে করুন, রক্ষে করুন ! দু হাত তুলে বললেন জটায়ু। ‘বাপরে এ হচ্ছে আপনার সজারু মজারু মুড়। আমার খুব চেনা। কিছু জিজ্ঞেস করলেই টিটকিরির খোঁচা। যাই হােক—যেটা বলতে চাইছিলাম ভাবছি আজ দ্বিপ্রহরের আহারটা এখানেই সারব। খিচুড়ির আইডিয়াটা কেমন লাগে ? বেশ ঠাণ্ডা-ঠাণ্ডা পড়েছে ত ? 

‘উত্তম প্রস্তাব’, বলল ফেলুদা । দুপুরে খাবার পর ফেলুদা দু’ঘণ্টা ধরে জটায়ুকে স্ক্র্যা খেলা শেখালাে। ভদ্রলােক কোনােদিন ক্রসওয়ার্ডই করেননি। তাই ওকে—সিন্ধি নামের ঢং-এই বলি—বেশ নাকানি-চোবানি খেতে হল। ফেলুদা শব্দের খেলাতে একেবারে মাস্টার, যেমন হেঁয়ালির জট ছাড়াতেও মাস্টার–যার অনেক উদাহরণ এর আগে দিয়েছি। 

আলিপুর পার্ক রােড় অবশ্যই হরিপদবাবুর চেনা। পাঁচটা বাজতে পাঁচ মিনিটে আমাদের গাড়ি সাঁইত্রিশ নম্বরের গেট দিয়ে ঢুকে পােটিকোর নীচে এসে থামল। সামনেই ডাইনে গ্যারেজ, তার বাইরে একটা লম্বা সাদা গাড়ি দাড়িয়ে আছে । বিদেশী বলে মনে হচ্ছে ? লালমােহনবাবু মন্তব্য করলেন। ফেলুদা সদর দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল, না। ওটার নাম কনটেসা। এখানেই তৈরি। 

নয়ন রহস্য (পর্ব-১৪)

সদর দরজায় দারােয়ান দাঁড়িয়ে, ফেলুদা তাকে বলল, আমাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। ইতিমধ্যে বােধহয় গাড়ির শব্দ পেয়েই একটি বেয়ারা এসে হাজির হয়েছে ; সে লালমােহনবাবুর দিকে চেয়ে বলল, “মিত্তর সাব ? | ‘হাম নেহী—ইনি’, ফেলুদার দিকে দেখিয়ে বললেন জটায়ু। ‘আইয়ে আপ লােগ।’ বেয়ারার পিছন পিছন আমরা একটা ড্রইং রুমে গিয়ে হাজির হলাম। ‘বৈঠিয়ে ।। 

আমি আর জটায়ু একটা সােফায় বসলাম। ফেলুদা তৎক্ষণাৎ না বসে একটু এদিক ওদিক ঘুরে দেখে একটা বুক সেলফের সামনে গিয়ে দাঁড়াল । দেয়ালে আর টেবিলে শােভা পাচ্ছে এমন খুঁটিনাটির মধ্যে অনেক নেপালী জিনিস রয়েছে। লালমােহনবাবুও দেখেছেন, কারণ বিড়বিড় করে বলতে শুনলাম, ‘দার্জিলিং। 

‘কেন, দার্জিলিং কেন ? ফিরে এসে আরেকটা সােফায় বসে বলল ফেলুদা। নেপালি জিনিস কি নেপালে পাওয়া যায় না ? তরফদাররা গেলেন পৌনে দশটায়, তারপর ঠিক পাঁচ মিনিট বাদেই ফেলুদার একটা ফোন এল যেটা যাকে বলে একেবারে অপ্রত্যাশিতকথাটথা বলে সােফায় বসে শ্রীনাথের সদ্য আনা চায়ে একটা চুমুক দিয়ে ফেলুদা বলল, ‘কাল ডিরেক্টরি খুলে দেখেছি, এই নামে শুধু দুটো ফোন আছে। 

এইসব সামান্য ব্যাপারে আপনার সাসপেন্স তৈরি করার প্রবণতাটা আমার মােটই ভালাে লাগে না, মশাই, বললেন জটায়ুকার ফোন সেটা হেঁয়ালি না করে বলবেন ‘হিঙ্গায়ানি। ‘যার কথা কাগজে বেরিয়েছে ? ‘ইয়েস স্যার তেওয়ারির পার্টনার। এই ব্যক্তির কী দরকার আপনার সঙ্গে

নয়ন রহস্য (পর্ব-১৪)

‘সেটা ওর ওখানে গেলে বােঝা যাবে। ভদ্রলােক বললেন কর্নেল সালালের কাছে আমার প্রশংসা শুনেছেন। ‘ও, গতবছরের সেই জালিয়াতির মামলাটা ? হ্যা‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট হয়েছে? সেটা আমার কথা থেকেই আপনার বােঝা উচিত ছিল ; আপনি মনােযােগ দেননিআমি কিন্তু বুঝেছিলাম ফেলুদার অ্যাপয়েন্টমেন্ট হয়েছে আজ বিকেল পাঁচটায়সেটা লালমােহনবাবুকে বলতে উনি বেশ রেগে গিয়ে বললেন, কানের কাছে অন্যে টেলিফোন করলে আমি অন প্রিনসিপল তার কথা শুনি না

কোথায় থাকেন ভদ্রলােক ? ‘আলিপুর পার্ক রােড। বনেদি পাড়া—আমরাও যাচ্ছি আপনার সঙ্গে? ‘সেটা কবে যাননি বলতে পারেন ? ‘ঠিক কথাইয়ে—আনিদিয়ে পদবী শেষ হলে ত সিন্ধি বােঝায়তাই না ? | ‘তা বটেই। দেখুন না—দু আনি ছ আনি কেরানি কাঁপানি হাঁপানি চাকরানি মেথরানি…’। | ‘রক্ষে করুন, রক্ষে করুন ! দু হাত তুলে বললেন জটায়ু।

‘বাপরে!—এ হচ্ছে আপনার সঙ্গারু মজারু মুড । আমার খুব চেনা। কিছু জিজ্ঞেস করলেই টিটকিরির খোঁচা । যাই হােক—যেটা বলতে চাইছিলাম ভাবছি আজ দ্বিপ্রহরের আহারটা এখানেই সারব। খিচুড়ির আইডিয়াটা কেমন লাগে ? বেশ ঠাণ্ডা-ঠাণ্ডা পড়েছে ত ? ‘উত্তম প্রস্তাব’, বলল ফেলুদা ।

 

Read More

সত্যজিৎ রায় এর নয়ন রহস্য (পর্ব-১৫)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *