সত্যজিৎ রায় এর নয়ন রহস্য (পর্ব-৭)

নয়ন রহস্য

তরফদার বাংলায় নয়নকে প্রশ্নটা করাতে সে বলল, কোন ব্যাঙ্ক ? ওর ত তিনটে ব্যাঙ্কে টাকা আছে। কেলারম্যানের মুখ থেকে লাল ভাবটা চলে গিয়ে একটা ফ্যাকাসে ভাব দেখা দিল। সে ঢােক গিলে আগের মতােই ধরা গলায় মার্কিনী নাকী উচ্চারণে বলল, “সিটি ব্যাঙ্ক অফ নিউইয়র্ক ।নয়ন গড়গড় করে বলে দিল, ‘ওয়ান্ টু ওয়ান টু এইট ড্যাশ সেন ফোর। ‘জীসাস ক্রাইস্ট। কেলারম্যানের চোখ দুটো যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসছে।

“আই অ্যাম অফারিং ইউ টোয়েন্টি থাউজ্যান্ড ডলারস রাইট নাউ । তরফদারের দিকে ফিরে বললেন কেলারম্যান। “তােমার ম্যাজিক শাে থেকে ও কোনােদিন এত রােজগার করতে পারবে ? ‘এ তাে সবে শুরু, মিঃ কেলারম্যান’, বললেন তরফদার । এখনাে ভারতবর্ষের কত শহর পড়ে আছে ; তারপর সারা পৃথিবীর বড় বড় শহর। ম্যাজিক দেখতে ছেলে বুড়াে সকলেই ভালােবাসে।

আর এই ছেলেটি যে ম্যাজিক দেখায় তার নমুনা ত দেখলেন আপনি। এর কোনাে তুলনা আছে কি ? বিশ হাজার কেন–তারও ঢের বেশি যে এ ছেলে আমার শাে থেকে আনবে না, সেটা কেউ জোর দিয়ে বলতে পারে ? ‘ওর বাবা আছেন ? জিজ্ঞেস করলেন কেলারম্যান। ধরে নিন এখন আমিই ওর বাবা।

নয়ন রহস্য (পর্ব-৭) 

এর মধ্যে লালমােহনবাবু হঠাৎ বলে উঠলেন, ‘স্যার, ইন আওয়ার ফিলজফি, ত্যাগ ইজ মাের ইম্পর্ট্যান্ট দ্যান ভােগ। কথাটা বসাক কেলারম্যানকে অনুবাদ করে বুঝিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে উঠে বললেন, ‘মিস্টার তরফদার, আপনি কিন্তু একটা সুবর্ণ সুযােগের সদ্ব্যবহার করছেন না। এমন সুযােগ আপনি আর পাবেন না। ভেবে দেখুন। 

বুঝতে পারলাম ভদ্রলােক যদি নয়নকে কেলারম্যানের হাতে তুলে দিতে পারেন তাহলে তাঁর নিজেরও নির্ঘাৎ মােটারকম প্রাপ্তি আছে। ‘আমার ভাবা হয়ে গেছে, সহজ ভাবে বললেন তরফদার। অগত্যা কেলারম্যানও উঠে দাঁড়ালেন। বসাক এবার পকেট থেকে একটা ভিজিটিং কার্ড বার করে তরফদারকে দিয়ে বললেন, এতে আমার নাম ঠিকানা ফোন নম্বর সবই আছে। যদি মাইন্ড চেঞ্জ করেন ত আমার সঙ্গে যােগাযােগ করবেন। 

দুই ভদ্রলােককে দরজা অবধি পৌছে দিলেন তরফদার । বসাক ঘুঘু পােক। তরফদার ফেরার পরে বলল ফেলুদা, নইলে মার্কিন ইমপ্রেসারিওর এজেন্ট সে হতে পারে না। পয়সার দিক দিয়েও সলিড, হয়ত কেলারম্যানের দৌলতেই। দামী ফরাসী আফটার-শেভ লাশন মেয়ে এসেছে—যদিও থুতনির নীচে এক চিলতে শেভিং সােপ এখনাে লেগে আছে। বােঝাই যাচ্ছে ঘুম ভাঙে দেরিতে, তাই নটায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট রাখতে তাড়াহুড়াে করতে হয়েছে। ‘একজনকে ত বিদায় করা গেল,

নয়ন রহস্য (পর্ব-৭)

ললেন তরফদার, এবার দ্বিতীয় ব্যক্তির জন্য অপেক্ষাপাংচুয়াল হলে ত আর দু-তিন মিনিটের মধ্যেই আসা উচিত| দু মিনিট অপেক্ষা করতে হল নানয়নকে ফেরত পাঠিয়ে দেবার সঙ্গে সঙ্গেই চাকরকে যেতে হল সদর দরজায়সে ফিরে এল সঙ্গে একটি কালাে স্যুট পরা ভদ্রলােককে নিয়েতরফদার উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, গুড মর্নিং । আপনার নামটা টেলিফোনে ঠিক ধরতে পারিনি। আপনি 

যদি. তেওয়ারি’, সােফায় বসে বললেন ভদ্রলােক, দেবকীনন্দন তেওয়ারি ফি এইচ সিন্ডিকেটের নাম শুনেছেন ? তরফদার, জটায়ু দুজনেই চুপ দেখে ফেলুদাকেই মুখ খুলতে হল আপনাদের ইমপাের্ট-এক্সপাের্টের কারবার কি ? পােলক স্ট্রিটে অপিস ইয়েস স্যার ভদ্রলােক ফেলুদার দিকে সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে দেখছিলেন বলে তরফদার আমাদের বিষয় ওঁকে বলে দিলেন। 

এরা আমার তিনজন বিশিষ্ট বন্ধু আশা করি এদের সামনে কথা বলতে আপনার কোনাে আপত্তি হবে না। নাে, নাে তবে কথা মানে শুধু একটি প্রশ্ন। ওই ছেলেটিকে যদি একবার আমার সামনে উপস্থিত করেন, তা হলে আমি তাকে কেবলমাত্র একটি প্রশ্ন করব জবাব পেলে আমার অশেষ উপকার হবে, আর আমার কাজও শেষ হবে। 

নয়নকে আবার আনতে হল । তরফদার নয়নের পিঠে হাত রেখে তেওয়ারির দিকে দেখিয়ে বললেন, ‘ইনি তােমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস কবেন দেখ তার উত্তর দিতে পার কি নাতারপর তেওয়ারির দিকে ফিরে বললেন, আপনার প্রশ্নের উত্তর সংখ্যায় হবে ত ? অন্য কোনাে প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এ দিতে পারবে না‘ ‘আই নাে, আই নােআমি জেনেশুনেই এসেছি।‘ 

তারপরলালমােহনবাবুর ভাষায়নয়নের দিকে তীক্ষ দৃষ্টি নিবদ্ধ করে ভদ্রলােক বললেন, আমার সিন্দুকের কম্বিনেশনটা কী সেটা বলতে পার ?  নয়ন ফ্যাল ফ্যাল করে ভদ্রলােকের দিকে চেয়ে আছে দেখে ফেলুদা বলল, “শােন জ্যোতিষ্ক–কম্বিনেশন জিনিসটা কী সেটা বােধহয় তুমি জান আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি। একরকম সিন্দুক হয় যাতে তালাচাবি থাকে 

 

Read More

সত্যজিৎ রায় এর নয়ন রহস্য (পর্ব-৮)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *