ফোর্টি সিক্স ত্রূমোজমে মানুষের ভবিষৎ লেখা থাকে । সে কেমন হবে কী হবে, সব কিন্ত্ত প্রিডিটারমিন্ড । জিন সব নিয়ন্ত্রণ করেছে ।
ফুপা আর নেবেন না ।
আরে এখনি বন্ধ করব কী ? নেশাটা মাত্র ধরেছে । তুমি মানুষ খারাপ না । i like you. তুমি পাগল ঠিকই, তবে ভালো পাগল । তোমার বাবা ছিল খারাপ ধরনের পাগল । বাবা সম্পর্কে কথাবার্তা থাক ।
ফুপা নিচু গলায় বললেন, কাউকে যদি না বল তাহলে তোমার বাবার সম্পর্কে আমার একটি ধারণার কথা বলতে পারি । আমি আর কাউকে বলিনি । শুধু তোমাকেই বলছি ।
বাদ দিন । কিছু বলতে হবে না ।
জাস্ট আমার একটা ধারণা । ভুলও হতে পারে । আমার বেশিরভাগ ধারণাই ভুল প্রমাণিত হয় । হা-হা-হা । আমার বোধহয় আর খাওয়া উচিত হবে না । শুধু লাস্ট ওয়ান হয়ে যাক । ওয়ান ফর দি রোড । হিমু ।
জি ।
তোমার যদি ইচ্ছা করে খানিকটা খেয়ে দেখতে পার । উল্টোদিকে ফিরে খেয়ে ফেল । আমি কিছুই মনে করব না । আমার মধ্যে কোনো প্রিজুডিস নেই । তুমি হচ্ছ বন্ধুর মতো ।
আমি খাব না । আপনিও বন্ধ করুন ।
নটা কি হয়ে গেছে ?
হ্যাঁ ।
হুমায়ূন আহমেদের লেখা ময়ূরাক্ষী
দশে শেষ করা যাক । জোড় সংখ্যা- তারপর তোমার বাবা সম্পর্কে কী যেন বলছিলাম ?
কিছু বলছিলেন না ।
বলছিলাম । মনে পড়েছে- আমার কি ধারণা জানো ? আমার ধারণা তোমার বাবা তোমার মাকে খুন করেছিল ।
আমি সহজ গলায় বললাম , এ রকম ধারণা হবার কারণ কী ?
যখন তোমার বাবার সঙ্গে অনেকদিন পর দেখা হলো তখন সে অনেক কথাই বলল, কিন্ত্ত দেখা গেল নিজের স্ত্রীর সম্পর্কে কিছু বলছে না । সে কীভাবে মারা গেল জিজ্ঞেস করেছিলাম । প্রশ্ন শুনে রেগে গিয়ে বলেছিল, অন্য দশটা মানুষ যেভাবে মারা যায় সেইভাবে মারা গিয়েছিল ।
আমি দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললাম, এটা শুনেই আপনি ধরে নিলেন বাবা মাকে খুন করেছেন ?
হ্যাঁ । অবশ্যি আমার অনুমান ভুলও হতে পারে । আমার অধিকাংশ অনুমানই ভুল হয় ।
আমি চুপ করে বসে রইলাম । ফুপার অধিকাংশ অনুমান ভুল হলেও এই অনুমানটি ভুল নয় । এটা সত্যি । আমি এটা জানি । আমি ছাড়াও অন্যকেউ এটা অনুমান করতে পারে, এটা আমার ধারণার বাইরে ছিল ।
ফুপা মদের ঘোরে ঝিম মেরে বসে আছেন । আমি আকাশের তারা দেখছি ।
হিমু !
জি ।
তোমার বন্ধুকে কাল নিয়ে এসো । চাকরি দিয়ে দেব ।
আচ্ছা ।
হুমায়ূন আহমেদের লেখা ময়ূরাক্ষী
বড় ঘুম পাচ্ছে । এখানেই শুয়ে পড়ি কেমন ?
শুয়ে পড়ুন ।
ফুপা কুণ্ডুলি পাকিয়ে শুয়ে পড়লেন । আমি আকাশের তারার দিকে তাকিয়ে রইলাম । অনেক দিন আগে বাবা আমাকে ছাদে এনে আকাশের তারা দেখিয়ে বলেছিলেন, যখনই সময় পাবি ছাদে এসে আকাশের তারার দিকে তাকাবি, এতে মন বড় হবে । মনটাকে বড় করতে হবে । ক্ষুদ্র শরীরে আকাশের মতো বিশাল মন ধারণ করতে হবে । বুঝলি ? বুঝে থাকলে বল- হ্যাঁ ।
বাবা হৃষ্টগলায় বললেন, তোর ওপর আমার অনেক আশা । অনেক আশা নিয়ে তোকে বড় করছি । তোর মা বেঁচে না থাকায় খুব সুবিধা হয়েছে । ও বেঁচে থাকলে আদর দিয়ে তোকে নষ্ট করত । আমি যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি তার কিছুই করতে দিত না । পদে পদে বাধা দিত । দিত কিনা বল ? হ্যাঁ দিত । তোর মা না থাকায় তাহলে একদিক দিয়ে ভালোই হয়েছে, তাই না ?
হ্যাঁ ।
বাবা হঠাৎ গলা নিচু করে বললেন, তোর মা যে নেই এর জন্যে আমার ওপর কোনো রাগ নেই তো ?
তোমার ওপর রাগ হবে কেন ?
বাবা অপ্রস্ত্ততের হাসি হাসলেন । সেই হাসি আমার বুকে বিঁধল । চট করে মনে পড়ল, অনেক অনেক কাল আগে সুন্দর একটা টিয়া পাখিকে বাবা গলা টিপে মেরে ফেলেছিলেন ।
