কৌতুকগুলাে উড়ােজাহাজ নিয়ে এই কৌতুকটা কি আপনাদের আগে শুনিয়েছি? একটা বিমান ছাড়বে সন্ধ্যার সময়। যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে আসন গ্রহণ করলেন। বিমানও হাঁটতে শুরু করল। হঠাৎ বৈমানিক টের পেলেন, পেছনের ইঞ্জিনে একটা বিশ্রী অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছে। তিনি যাত্রা স্থগিত করলেন। যাত্রীরা বিরক্ত। অনিশ্চয়তা গ্রাস করছে তাদের। ঘণ্টা তিনেক পরে আবার বিমান যাত্রা শুরু করল। একজন যাত্রী বিমানসেবককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘দেরি হলাে কেন?
‘পাইলট ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক শব্দ পাচ্ছিলেন। ‘ইঞ্জিন কি সারানাে হয়েছে?
‘জি না। একজন নতুন পাইলট খুঁজে বের করা হয়েছে। ইনি কানে কম শােনেন।
বাংলাদেশ সম্পর্কে এই কৌতুকটা খুব খাটে। আমরা সিস্টেম বদল করিনি, বারবার কেবল শাসক বদল করেছি। ফলে বারবার আমাদের প্রত্যাশা ভঙ্গ হয়েছে। দুর্নীতি আকাশ ছুঁয়েছে, সন্ত্রাস আমাদের নামিয়েছে অতল গহিনে।
এবার দরকার ব্যবস্থা বদল। তাহলে আবার সেই পুরােনাে কৌতুকটাই বলি।
বিমান বলতে বাংলাদেশ বিমান মনে হয়। তাই বিমানের বদলে উড়ােজাহাজ বলি । | একটা উড়ােজাহাজ দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। যাত্রী, চালক, ক্রু-সবাই মারা গেছেন। ব্লাকবক্সও পাওয়া যায়নি। শুধু একটা বাঁদর বেঁচে আছে। বাঁদরটাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলাে, যাতে সে মানুষের ভাষা বুঝতে পারে। আর জিজ্ঞাসার জবাব সে দেয় হাত-পা নেড়ে, সাংকেতিক ভাষায়।
রম্য কথা-পর্ব-(১০)
বাদরকে জিজ্ঞেস করা হলাে, ‘বিমান যখন দুর্ঘটনায় পড়ে, তখন যাত্রীরা কী করছিল?
বাঁদর দুই হাত কানের কাছে ধরে চোখ বন্ধ করে মাথা হেলিয়ে ঘুমের ভান করল। ঘুমাচ্ছিল’-সবাই বুঝে ফেলল।
‘বিমানসেবকেরা কী করছিল? ‘ঘুমিয়ে পড়েছিল’-বাঁদর দেখাল। ‘চালকেরা কী করছিল? ‘ঘুমিয়ে পড়েছিল’-একই কায়দায় দেখাল বাদরটি। ‘তাহলে তুই বান্দর কী করছিলি?
বাঁদর তখন ককপিটে বসে যন্ত্রপাতি নাড়ার ভঙ্গি করল, অর্থাৎ সে-ই বিমানটা চালাচ্ছিল ।
বাঁদর যদি বিমান চালায়, তাহলে সেই বিমান ভূপাতিত হতে বাধ্য। অযােগ্য লােকেরা যদি দেশ চালায়, সেই দেশও সুন্দরভাবে চলতে পারে না। প্রবাদ আছে, সম্ভবত খনার বচন, রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, প্রজার কষ্ট । রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, তােমার পতাকা যারে দাও তারে বহিবারে দাও শকতি। আবার ইংরাজিতে একটা কথা আছে, যে জাতি যে রকম, সে জাতি সেই রকম নেতৃত্বই পায়। আসলে এই সব লালু-ভুলু-লালু-ফুলুদের তাে আমরাই নির্বাচিত করি।
সত্য বটে, আমাদের বিকল্প থাকে না। আমরা ভােট না দিলেও তাঁরাই নির্বাচিত হবেন।
বিকল্পের ব্যবস্থা বা ব্যবস্থার বি ল্প খােজার কথা আমাদের মনে আসছে, এতদিনে। তবে আবার আসি গােড়ার কৌতুকটাতে, ব্যবস্থা বদল না করে শুধু লােক বদলালে লাভ নেই।আমাদের বর্তমান ব্যবস্থাটা আগাগােড়া খারাপ।
রম্য কথা-পর্ব-(১০)
বঙ্গবন্ধু নাকি বলেছিলেন, সব দেশ পায় সােনার খনি, রুপার খনি, আমি পাইছি চোরের খনি।
আচ্ছা উড়ােজাহাজ নিয়েই আরেকটা কৌতুক বলি । এইটা নতুন।
একজন প্রকৌশলী আর একজন কম্পিউটারবিদ যাচ্ছেন পাশাপাশি আসনে বসে, উড়ােজাহাজে। কম্পিউটারবিদ বললেন, আসেন, একটা খেলা খেলি। প্রকৌশলী বললেন, না, আমি ঘুমাব। কম্পিউটারবিদ খানিকক্ষণ পরে আবার বললেন, ‘খেলাটা কী খেলব, শােনেন তাহলে আর আপনি না করতে পারবে না। আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন করব, উত্তর না পারলে আপনি দেবেন পাঁচ ডলার। তারপর আপনি আমাকে একটা প্রশ্ন করবেন, আমি না পারলে আপনাকে দেব পাঁচ ডলার।
“ভাই আমি ঘুমাব’-প্রকৌশলী বিরক্ত।
“আচ্ছা, আপনি না পারলে দেবেন পাঁচ ডলার, আর আমি না পারলে দেব ১০০ ডলার।’ এইবার প্রকৌশলী রাজি হলেন ।
কম্পিউটারবিদ প্রথম প্রশ্ন করলেন, ‘চাঁদ থেকে পৃথিবীর দূরত্ব কত?’ প্রকৌশলী উত্তর খোঁজার চেষ্টা না করে পাঁচ ডলার বের করে দিলেন।
এবার প্রকৌশলীর প্রশ্ন করার পালা। তিনি বললেন, বলেন তাে, কোন জিনিসের তিন পা, পাহাড়ে গেল, ফিরে এল চার পা নিয়ে?
কম্পিউটারবিদ তাঁর ল্যাপটপ খুলে বসলেন, নানা ধরনের এনসাইক্লোপিডিয়া ঘাঁটলেন, ইন্টারনেট অন করে জ্ঞানী বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ করলেন, শেষে উত্তর না পেয়ে ১০০ ডলার দিতে বাধ্য হলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, “আসলে আপনিই বলুন তাে, জিনিসটা কী?
প্রকৌশলী আবার পাঁচ ডলার বের করে হাতে ধরিয়ে দিলেন কম্পিউটারবিদের। তারপর ঘুমিয়ে পড়লেন।
এই গল্প কেন করলাম? কারণ, আমিও তাে একসময় প্রকৌশলীই ছিলাম। আপনি যদি আমাকে বলেন, এই যে প্রশাসন, এই যে পুলিশ, এই যে প্রকৌশলী, এই যে কাস্টমস, এই যে জমি রেজিস্ট্রি অফিস, এই যে…তালিকা অনেক দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু সব ক্ষেত্রেই বলা যায়, অন্তত আশি ভাগ দুর্নীতিবাজ (কম বা বেশি), এদের নিয়ে একটা দুর্নীতিমুক্ত দেশ কি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব?
রম্য কথা-পর্ব-(১০)
আমি তখন আপনাকে পাঁচ ডলার দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ব। এই প্রশ্নের উত্তর তাে আমার জানা নাই।
আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ একটা কথা বলেন। তিনি বলেন, এর আগে আমরা অত্যাচারী রাজা দেখেছি, কিন্তু রাজা নিজে চোর, সেটা এর আগে দেখিনি, যা আমাদের কালে দেখা গেল। সেইটা ভয়ঙ্কর।
হয়তাে একটা জিনিস চাওয়া যেতে পারে, রাজা যেন নিজে চোর না হন।
বিমানসংক্রান্ত আরেকটা কৌতুক বলে এবার শেষ করব। উড়ােজাহাজটি ছিল ছােট্ট । ভেঙে পড়েছিল একটা কবরস্থানে। সন্ধ্যার সময় পুলিশ বলল, এ পর্যন্ত ২৮০টা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের আশঙ্কা, আরও দেহাবশেষ পাওয়া যাবে। কারণ খননকাজ অব্যাহত আছে।
খুঁড়তে থাকলে আরও অনেক কেচো ও কেউটে সাপও পাওয়া যাবে। প্রশ্ন হলাে, আপনি খুঁড়বেন কোথায়। কাগজে দেখলাম, বাংলাদেশের কোথায় নাকি মাটিতে স্বর্ণরেণ মিলছে। সােনার খনি আছে কি না, জানি না; এই মাটিতে চোরের খনি আছে বলে জাতির পিতা বলে গেছেন।
৩ এপ্রিল ২০০৭
কোটি টাকা কে পাবে, আসেন ঠিক করি
বহুদিন আগে একটা গদ্যকার্টুন লিখেছিলাম: ‘ভাগ্যিস মনের কথাটি পড়ার যন্ত্র আবিষ্কৃত হয়নি আজও।
তাতে দেখিয়েছিলাম, এ ধরনের একটা যন্ত্র আবিষ্কৃত হলে কী সর্বনাশটা হতাে! মানুষ মুখে বলত এক কথা, আর যন্ত্রে পঠিত হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। সংসারে তুমুল হট্টগােল লেগে যেত।
ধরা যাক, এরকম একটা যন্ত্র এখন আবিষ্কৃত হয়েছে। আর আমাদের জনসভায় এক সমর্থক তার সমর্থিত সাংসদ পদপ্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন এভাবে: ভাইসব। আমাদের এলাকা থেকে একজন নিঃস্বার্থ সমাজসেবককে নির্বাচিত করতে হবে। যাকে-তাকে নির্বাচিত করলে চলবে না। নির্বাচিত করতে হবে একজন দেশপ্রেমিক জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিকে। তিনি হবেন আমাদের এলাকার সংসদ সদস্য। জনপ্রতিনিধি। তিনি সংসদে গিয়ে আমাদের পক্ষে কথা বলবেন। আমাদের হয়ে কোনাে প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে ভােট দেবেন। দেশের জন্য ভালাে হয়, এ রকম আইন তিনি প্রণয়ন করতে সহায়তা করবেন। সব আইনকানুন থাকবে তাঁর নখদর্পণে।
Read more
