শিবু -রজত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়   

Rajat Bandyopadhyay

বছর তিরিশ-বত্রিশ আগেকার এক সন্ধ‍্যেবেলা। ঘড়িতে সাড়েসাতটা কি আটটা হবে অর্থাৎ সন্ধ্যে তখন বেশ গভীর হবার মুখে। তিনতলা বাড়ির ঠিক  উল্টোদিকের শিবমন্দিরে সন্ধ‍্যের আরতি যখন শেষ হব হব করছে, ঠিক সেইসময় দোতলায় ওর দাদার ঘরে রাখা ওর বাবার ব‍্যবহার করা পালঙ্কে শুয়ে শিবু মারা গেল। দুপুর গড়াতেই টানাপোড়ন্ শুরু হয়ে গিয়েছিল; ও কিছুতেই যাবে না আর এক অদৃশ্য নাছোড়বান্দা শক্তি ওকে নিয়ে যাবেই। রক্ত-সম্পর্কিতেরা, মানে শিবুর ছোড়দাদা যাকে ও চিরকাল দাদা বলেই সম্বোধন করে এসেছে, বিধবা বড়গিন্নী যাকে ও কোনোকালে বড়বৌদি বলে সম্বোধন করেনি, কয়েকজন  ভাইপো ভাইঝি এবং সেই ছোট শহরের বেশ কিছু পরিচিত এবং অপরিচিতরা মিলে গোটাতিনেক বালিশের ওপর হেল‍ান দেওয়ানো ওর আধশোয়া শরীরটাকে চক্রব‍্যূহের মতো করে ঘিরে ধরে ওকে আগলে রাখার চেষ্টা করছিল। তবে অমোঘ সত‍্যের মতো সেই রাত্তিরে ঐসব চক্রব‍্যূহ-ট‍্যুহ কোনো কাজে দেয়নি। শিবুকে যেতেই হয়েছিল।

 

প্রধানত দুটো কারণে শিবুকে যেতে হলো। প্রথমটাতো অবশ্যই অসম প্রতিপক্ষ আর দ্বিতীয়ত সেই অর্থে শিবুর থেকে যাওয়ার যুৎসই কোনো কারণও ছিল না।

 

এরপরের ঘটনাক্রম খুবই ছোট। পরেরদিন সূর্য্য ওঠার আগেই শিবুর অস্থি জঙ্গীপুরের গঙ্গায় বিসর্জন হয়ে গেল। তারপর কয়েক বছর পরে ওর দাদা, বৌদি গত হবার সাথে সাথে শিবুর মারা যাবার দিন, ক্ষণ, মাস, বছর, অভ‍্যেস, বদভ‍্যাস ইত্যাদি ইত্যাদি সবকিছু পুরনো ক‍্যালেণ্ডারের মত সবাই ভুলেও গেল।

 

ছয় ভাইবোনের মধ‍্যে সবচেয়ে ছোট ছিল শিবু। এখানে বলে রাখা দরকার শিবু জ্ঞান হয়ে থেকে যেকোনো কারণেই হোক ওর বড়দাদাকে এড়িয়ে চলত; এমনকি আড়ালে আবডালে নাম ধরেই উদ্দেশ্য করতো। এইকারণে বড়বৌদি হয়েছিল বড়গিন্নী। অবশ্য একইভাবে এও বলা যায় যে যেকোনো কারণেই হোক বড়দাদাও তার আচারে ব্যবহারে শিবুকে মানুষের চেয়ে একটি সংখ্যা হিসেবেই গণ্য করত। শিবু তার ছোড়দাদাকে দাদা বলে ডাকতো। ওর সেই দাদার বিয়ের সময় শিবু তখন সবে হাঁটতে শিখেছে অথবা শেখার চেষ্টা করছে এইরকম কিছু একটা। প্রথম থেকেই নতুন বৌদির খুব ন‍্যাওটা হয়ে গিয়েছিল, মোটামুটি দ্বিতীয় মা বলা যায়, যদিও বৌদি বলেই ডাকত। বাড়িতে লেখাপড়ার পরিবেশ ছিল বেশ হাল্কা ধরনের। শিবুও সেই স্রোতে গা ভাসিয়েছিল। এখানে একটা জিনিস, কাকতালীয় হলেও সত্যি, বলে রাখা দরকার যে শেষসময় পর্যন্ত শত্রুমিত্র নির্বিশেষে লেখাপড়ায় শিক্ষিত মানুষজনের প্রতি শিবু অগাধ শ্রদ্ধা পোষণ করত এবং জনসমক্ষে তাদের আন্তরিক প্রশংসা করত।

 

বাবা-মায়েদের বেশি বয়সের সন্তানদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় যা হয় শিবুরও তাই হয়েছিল। খুব অল্পবয়সে, তখন ইস্কুলের নীচের দিকেই পড়ে, বাবা এবং মা দুজনকেই হারিয়েছিল; মা আগে, বাবা পরে। বাবার শ্রাদ্ধশান্তি চুকে যাবার পর কাছের, দূরের, সবরকমের এবং সবধরণের আত্মীয়পরিজনেরা যে যার নিজের নিজের জায়গায় একে একে ফিরে গেল। যাবার সময় সবাই ছোট্ট শিবুকে জড়িয়ে ধরে কাাঁদতে কাঁদতে বলে গেল ‘সাবধানে থাকিস’; কিন্তু কোথায় থাকতে হবে সেটা কেউ বলে গেল না। তবে ‘দাদা-বৌদির’ কাছে শিবু ছিল তাদের সন্তানপ্রতিম – ভাই এবং দেওর। যাইহোক্, এইসব দেখেশুনে শিবুরও ইচ্ছে হয়েছিল কোথাও চলে যাওয়ার। কিন্তু কোথায় যাবে, কেমন করে যাবে, পয়সাকড়ি কোথায় পাবে এসব কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না। অবশেষে একদিন মরিয়া হয়ে অগতির গতি বৌদির কাছে পয়সা চেয়ে বসল। উত্তরে, কিছুটা সময় নিয়ে, শ্বাস চেপে ধরে, খুব শান্ত ভাবে বৌদি বলেছিল দাদাকে জানাবে, এবং সেদিন রাতে শুতে গিয়ে বৌদি সেটা দাদাকে জানিয়েও ছিল। দাদা অবশ্য নিজের বৌকে কোনো উত্তর দেয়নি। শুধু পরেরদিন সকালে দাদার অফিসঘর থেকে আচমকা একটি বিরাশিসিক্কা ওজনের থাপ্পড়ের আওয়াজ অনেকে শুনতে পেয়েছিল এবং সেই আওয়াজের ধ্বনি মিলিয়ে যাওয়ার আগেই শিবুকে ঐ ঘর থেকে বেড়িয়ে যেতেও দেখেছিল। শোনা যায়, পরের কয়েকদিন ধরে শিবুর দাদা কাছারিতে বেরিয়ে যাওয়ার পরে সুখদা-ঝি হাল্কা করে চূণ-হলুদ লাগিয়ে লাগিয়ে শিবুর বাঁ গাল থেকে ওর দাদার পাঁচ আঙুলের ছাপ তুলেছিল। বয়েসের অপরিপক্কতার কারণে শিবু আসলে ধারণা করে উঠতে পারেনি ওর প্রতি ওর দাদা-বৌদির সন্তানসম স্নেহের গভীরতার মাপ। যাইহোক্, সেটাই ছিল শিবুর নিজেকে স্বাধীন করার প্রথম এবং শেষ প্রচেষ্টা। অবশ্য সেই কবেকার কোনো এক সকালের প্রতিষ্ঠিত পাঁচ আঙুলের ছাপটা শিবুর পঁয়ষট্টি বছরের জীবনকালের জন্য ভালো হয়েছিল নাকি খারাপ হয়েছিল সে বিষয়ে তার উত্তরসূরীরা আজও কখনোসখনো চা-কফির পেয়ালা হাতে তার স্মৃতিচারণের সময় তর্ক করে, আলোচনা করে।

 

শিবুর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সমস্তরকম প্রচেষ্টার কোনোটাই কোন না কোন কারণে সফল হয়নি। তিতিবিরক্ত হয়ে একসময় সম্পৃর্ণ নিজস্ব সিদ্ধান্ত মোতাবেক চেষ্টা করাটাই শিবু ছেড়ে দিয়েছিল এবং তার জন‍্য শেষ মূহুর্ত পযর্ন্ত মনের মধ্যে কোনোরকম আক্ষেপের আঁচ পড়তে দেয়নি। যৌবন শুরুর সেই সময় থেকে মন্দিরের আরতির সেই শেষ সন্ধ্যা পর্যন্ত শিবু সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবেই এপারের সময়টা কাটিয়ে গেছে। জীবনের কাছ থেকে অথবা কারুর কাছ থেকে কোনো আশা বা চাহিদা ছিল না, দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রয়োজনগুলো একেবারে নিতান্ত ছিল,  মাথার ওপর ছাদ ছিল, জমিতে ধান ছিল, পুকুরে মাছ ছিল, এসবের চেয়েও বড় কথা মাথার ওপর দাদা বৌদির বটগাছের ছায়া ছিল। সেই অর্থে শিবু ছিল একজন নির্ভেজাল স্বাধীন পুরুষ এবং সেই স্বাধীনতা সে বেশ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতো। সঠিক বয়সে আত্মীয়স্বজনেরা মিলে শিবুর বিয়ে দেওয়ার প্রবল চেষ্টা করেছিল। শিবুরও আপত্তি ছিল না। কিন্তু কোন না কোন কারণে  কোন সম্বন্ধেই শেষপর্যন্ত ছাতনাতলার মোহর পড়েনি। সে অবিবাহিত এবং স্বাধীন থেকে গেল। শিবুর অবশ্য তাতে কিছু এসে যায়নি।

 

নিত‍্যদিনের বাঁধাধরা জীবনযাত্রায় সকলেরই মাঝেমধ‍্যে একঘেয়েমি আসে। আমাদের শিবুরও আসত। সেইরকম পরিস্থিতি যখনই আসত সেটা কাটাতে কাঁধে একটা ঝোলা ব‍্যাগ নিয়ে রাত এগারোটার ডাউন গয়া প‍্যাসেঞ্জার ধরে সোজা কলকাতা চলে যেত। কলকাতায় পৌঁছে হ‍্যারিসন্ রোডের বহুদিনের পরিচিত একটা মেসবাড়িতে উঠত। শিবুর কলকাতা ছিল সূর্য‍্য সেন ষ্ট্রীট, হ‍্যারিসন রোড আর শিয়ালদহ অঞ্চলের মধ‍্যে সীমাবদ্ধ। সারাদিন ঐসব রাস্তায় ফুটপাত ধরে হাঁটাহাঁটি করত আর সবকিছু দেখে বেড়াত। ক্লান্তি দূর করতে মেসে ফিরে এসে ধুতি ছেড়ে লুঙ্গি পরে, সঙ্গে এক বাণ্ডিল বিড়ি নিয়ে মেসের রকে গিয়ে বসে থাকত আর চারপাশের সবকিছু চেয়ে চেয়ে দেখত। তবে প্রতিবার কলকাতার শেষ বিকেলটা বাঁচিয়ে রাখত হাওড়া ময়দানের জন্য। ঐসময়টা অনেকের তাদের পোষ‍্য কুকুরদের নিয়ে সান্ধ‍্যভ্রমণে আসার সময়। শিবু ওখানে গিয়ে বসে বসে শুধু বিভিন্ন ধরণের কুকুর, তাদের আচার-আচরণ, দৌড়দৌড়ি, ট্রেণিং, খেলাধুলো এইসব কিছু খুব নিবিষ্টমনে খুঁটয়ে খুঁটিয়ে লক্ষ্য করত। এই তাগিদের কোনো কারণ ছিল না; এটা একটা নেশা ছিল। তারপর সন্ধ‍্যে নামলে মালিকরা যখন পোষ‍্যদের নিয়ে নিজের নিজের বাড়ির দিকে রওনা দিতে শুরু করত, শিবু তখন হাঁটা শুরু করত হাওড়া ষ্টেশনে দিকে। ষ্টেশনের বাইরের যেকোন একটা পাইস্ হোটেলে ঢুকে রুটি আর মাংস খেয়ে সোজা গিয়ে চার নম্বর প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা আপ্ গয়া প‍্যাসেঞ্জারে উঠে পড়ত। জানলার ধারে বসে তাড়িয়ে তাড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে একটা অথবা শীতের সময় হলে পরপর দুটো বিড়ি খেয়ে ওপরের বাঙ্কে উঠে ঘুমিয়ে পড়ত। পরেরদিন কাকভোরে বাড়ি পৌঁছে যেত, পরবর্তী বেশ কয়েক মাসের জন্য একেবারে চাঙ্গা হয়ে।

 

শিবুর ঘরটা ছিল তিনতলায়। অবশ্য ঘর না বলে মিউজিয়াম বলাই ভালো। ঢুকতেই বাঁদিকে দেয়াল বরাবর একটা লম্বা কাঠের বেঞ্চি আর সামনের দেয়ালে গা লাগিয়ে, দরজার দিকে মুখ করে রাখা বাপ্ ঠাকুর্দার আমলের দুটো কাঠের ভাঙা হাতওয়ালা চেয়ার। ডানদিকের দেয়াল ঘেসে শিবুর মেহগনি কাঠের তৈরি পালঙ্ক, যেটা এসেছিল বোধহয় ওর মা-বাবার বিয়েতে যৌতুক হিসেবে।

 

বেঞ্চি আর চেয়ারদুটোর ওপর ডাঁই করে রাখা থাকত বিভিন্ন ধরনের পুঁথিপত্রের একটা খিচুড়ি। উদাহরণস্বরূপ, সেখানে থাকত ছোটদের কিছু পুরনো খাতা, প্রাচীন থেকে প্রাচীনতর কয়েকটি ক‍্যালেণ্ডার, চল্লিশ থেকে ষাটের দশকের সময়ের তিন-চারটে ক‍্যালেণ্ডার, কয়েকজন সাধক এবং দীক্ষা নেওয়ার ওপর লেখা দুএকটা বই, কোর্টকাছারি সংক্রান্ত কিছু হলদেটে মুড়মুড়ে কাগজপত্র, পঞ্চাশ-ষাট দশকের একটা শুকতারা পত্রিকা, গোটা দুয়েক করে নবকল্লোল, রিডার্স  ডাইজেস্ট আর ঊল্টোরথ। এসবগুলো ওপর ওপর দেখতে পাওয়া যেত; নীচের দিকে আর সব কি ছিল ভগবানই জানেন।

 

মেহগনির পালঙ্কে স্বাভাবিকভাবেই পাতা নারকেল ছোবড়ার গদি আর তার ওপর তোষক এবং চাদর। গদি আর তোষক যদি ওর মায়ের বিয়ের সময়কার হয় তাহলেও অবাক হবার কিছু নেই। পায়ের কাছে গুটিয়ে থাকত শীতের লেপ। মশারি নিয়ে শিবুর মত ছিল যে মশার কাছে মাথা নীচু করা অর্থহীন। শিবুর পারিবারিক ইতিহাস বলে একমাত্র ও ছাড়া বাড়ির সবার নাকি মশারি ব‍্যবহার করা সত্বেও অন্তত একবার করে ম‍্যালেরিয়া হয়েছিল। তোষকের নীচে রাখত চোখ ছানাবড়া করে দেওয়ার মতো সব জিনিপত্র। ট্রেনের টিকিট খান দশেক, গোটা পাঁচেক বিড়ি, দুএকটা দেশলাইয়ের বাক্স, একটা  চ‍্যাপ্টা অকেজো লাইটার আর একটা দমবন্ধ হয়ে মৃত হাতঘড়ি, বিড়ির আগুনে ফুটো হওয়া একটা রুমাল, সিমেন্ট বিক্রির ক‍্যাশমেমোর একটা কার্বনকপি, নিজের কম বয়সের গাঢ় বাদামি হয়ে যাওয়া আলপিনর ফুটো সমেত পাসপোর্ট সাইজের একটা ছবি,  ক‍্যাপস্টান সিগারেটের চেপ্টে যাওয়া খালি প‍্যাকেট এবং আরও অগুন্তি কত কীসব। পুরো ঘরটাতে সেই অর্থে দুটোমাত্র শৌখিন জিনিস ছিল, একটা হচ্ছে বেড্ সুইচ আর অন্যটা শিশিতে রাখা সুগন্ধি জবাকুসুম তেল।

 

খাওয়াদাওয়ার ব‍্যাপারে আমাদের শিবু অত‍্যন্ত উদার মানসিকতার মানুষ ছিল। যে নিষ্ঠার সাথে বেগুনি দিয়ে মুড়ি খেত সেই একইরকম নিষ্ঠার সাথে পোলাও মাংসও খেত। যখন যেটা খেত সেটা মন দিয়ে তাড়িয়ে তাড়িয়ে খেত; আবার কিছু পদ খুব ভালো লাগলে মাঝেমধ‍্যে মাত্রতিরিক্ত পরিমাণে খেয়ে ফেলত। অবশ‍্য শিবুর সবচেয়ে পছন্দের খাবার ছিল সরস্বতী পূজোর পরের দিন গোটাসেদ্ধ। অস্বাভাবিক পরিমাণে খেয়ে তারপর দুদিন ধরে মুড়ি মুড়কির মত জেলুসিল ট‍্যাবলেট খেয়ে বেড়াত। তাতে শিবুর বিন্দুমাত্র কিছু এসে যেতে না। কেউ সাবধান করলে উত্তর দিত “বছরে তো একটাই দিন গোটাসেদ্ধ হয়”। এই একই ঘটনা কিন্তু প্রতি বছর ঘটত। শুধুমাত্র অনুষ্ঠান বাড়ির রান্না খুব একটা পছন্দ করত না। কারণ ওর রসনায় সেইসব জায়গাগুলোতে রান্নার স্বাদ হতো “আখার ছাই”, অর্থাৎ বাজে।

 

জ্ঞানী মানুষদের মতে সাধারণ মানুষের মৃত‍্যু দুবার হয়। প্রথমবার হয় পার্থিব শরীরের, আর দ্বিতীয়বার হয় যখন পৃথিবীর লোকজন আক্ষরিক অর্থে তার নাম ভুলে যায়। দ্বিতীয়টার ক্ষেত্রে সাধারণত  পঞ্চাশ ষাট বছর সময় লেগে যায়। সেই অর্থে শিবুর দ্বিতীয় মৃত্যু হতে এখনো বেশ কিছু বছর বাকি। এতোসবে অবশ‍্য শিবুর কিছুই এসে যায় না। ওর জীবদ্দশায় সবাই জানত শিবু বেঁচে আছে। আর বছর তিরিশ আগের সেই সন্ধ‍্যের শেষে সবাই জেনেছিল শিবু মরে গেছে। ব‍্যাস ঐ পযর্ন্তই। সরলরেখার দুপারেই আমাদের শিবু একইরকম থেকে গেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *