সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৩)

বাস ডাউন টাউনে আসতেই মালিশা নেমে গেলএখানে বাস বদল করতে হবেবাস থেকেই মালিশা লক্ষ করলাে তার হাত পা শিরশির করছেনির্ঘাৎ আবার জ্বর আসছেরকম হচ্ছে কেন? বারবার শরীর খারাপ হচ্ছেমালিশা মাথা নিচু করে দ্রুত হাঁটতে লাগলােশরীর বেশি খারাপ হবার আগেই এ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যাওয়া দরকার

সবাই গেছে বনে বাস স্ট্যান্ডটি ফার্স্ট এ্যাভিতেমালিশার ইচ্ছে হল বাসের জন্যে না হেঁটে একটি ক্যাব ডাকেসে ভােলা একটি ট্যাভার্নে ঢুকে পড়লােক্যাব কোম্পানিকে টেলিফোন করতে হবেজন ট্রিভলটার রেকর্ড বাজছে উচ্চ স্বরেকোমর জড়াজড়ি করে ডায়াসের কাছে দুতিনটা ছেলে মেয়ে নাচছেসেদিকে তাকিয়ে মালিশার কেমন যেন মাথা ঘুরতে লাগলাে। 

হলাে মালিশা গা গরম করবে নাকি? নাচবে এক পাক? মালিশা তাকালাে কিন্তু ছেলেটিকে চিনতে পারলাে নামালিশা এসােনাহ্। 

কেন ? আমার শরীর ভাল লাগছে না। 

মালিশা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালাে চিনতে পারছে না কেন? ছেলেটি এসে পরিচিত ভঙ্গিতে হাত ধরলােগলার স্বর নামিয়ে বললাে, যাবে না কি আমার সঙ্গে

কোথায় ? আমার এ্যাপার্টমেন্টেদুজনের ছােটখাট একটি পার্টি হয়ে যাবে কি বল

না কেন ? আসআমি তাে অপরিচিত কেউ নই ? আগেওতাে আমার সঙ্গে ডেটে গিয়েছেএসাে এসাে খুব ফান হবে। 

রাহেলা দরজা খুলে দেখতে পেলেন ফুট লম্বা টম দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছেতার সারা মুখে দাড়িগোঁফের জঙ্গলখালি গাপরনে জিনসের একটি হাফপ্যান্টপায়ে জুতা টুতা কিছুই নেই। 

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ

আমি রুনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিকার সঙ্গে ? রুন, রুনকি। 

রাহেলা একবার ভাবলেন বলেন রুনকি বাড়ি নেইকোথায় গেছে জানি নাকিন্তু বলতে পারলেন নাটম ভারি গলায় বললাে, তুমি বােধহয় আমাকে চিনতে পারছ নাআমার নাম টমাস গ্রে আমি রুনের বন্ধুভেতরে এসে বস আমি ডেকে দিচ্ছি। 

আমি ভেতরে এসে তােমার কার্পেট নােংরা করব নাপায়ে আমার প্রচুর ময়লারাহেলা রুনকির ঘরে উঁকি দিলেনরুনকি চুল ছেড়ে চুপচাপ বসে আছেহালকা সুরে পােলকা মিউজিক বাজছেরুনকির সামনে গাদা খানিক বইপত্র ছড়ানােরাহেলা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে মৃদুস্বরে ডাকলেন, রুনকি

ভেতরে সাে মারুনকি তােমার সঙ্গে কিছু কথা বলতে চাইরুনকি হাসি মুখে বললাে, কথা বলতে চাইলে বল। এত গম্ভীর হয়ে আছাে কেন

রাহেলা থেমে থেমে বললেন, আমরা তােমাকে ভালােবাসি এবং তােমার মঙ্গল চাই এই সম্পর্কে তােমার কোনাে সন্দেহ আছে

আছেরাহেলা মুখ কালাে করে বললেন, আমি তা জানতাম নাঠাট্টা করছিলাম মাতুমি ঠাট্টা বুঝতে পার না এত বড় মুশকিলরাহেলা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, আমি চাই না তুমি টমের সঙ্গে মেলামেশা কর। 

রুনকি খানিকক্ষণ চুপ থেকে বললাে, টম কি এসেছে ? | রাহেলা উত্তর দিলেন নারুনকি ঝড়ের বেগে নিচে নেমে গেলরাহেলারও ইচ্ছা হল নিচে নামারকিন্তু নামলেন নানামলেই হয়ত দেখবেন দুজন জড়াজড়ি করে দাঁড়িয়ে আছেদীর্ঘদিন আমেরিকায় বাস করার পরও এই দৃশ্য তাঁর ভাল লাগে নারাহেলা মন্থর পায়ে নিজ ঘরের দিকে এগুলেনতার কিছুক্ষণ পর রুনকি আবার উপরে উঠে আসলােনিজের ঘরে বসেই রাহেলা বুঝতে পারলেন রুনকি সাজগােজ করছেহালকা সুরে শিস দিচ্ছেমেয়েদের শিস দেয়া একটা কুৎসিত ব্যাপার। 

সেই রাতে রুনকি আর বাড়ি ফিরলাে না। 

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ

ক্লাস থেকে বেরুনােমাত্র এন্ডারসনের সঙ্গে দেখাএন্ডারসন লােকটি ফুর্তিবাজদেখা হলেই একটা মজাদার কথা বলবে কিংবা জিভ বের করে ভেংচে দেবেকে বলবে সে হেটারােসাইক্লিক কম্পাউন্ডের একজন বিশেষজ্ঞ একজন ফুল প্রফেসরআনিস বললাে, হ্যালাে এন্ডারসন| এন্ডারসন একটি চোখ বন্ধ করে অন্য চোখ পিটপিট করতে লাগলােআনিস হেসে ফেলতেই সে বললাে, তােমার সঙ্গে কথা আছে আনিসএসাে কফি খেতে খেতে বলব। 

কফি হাউসে তিল ধারণের জায়গা নেইফাইনাল এগিয়ে আসছেছেলেমেয়েরা বই খাতা নিয়ে ভিড় জমাচ্ছে কফি হাউসে কেউ টেবিল ছাড়ছে নাখুপরি ঘরগুলির একটিতে জায়গা পাওয়া গেল মিনিট দশেক দাঁড়িয়ে থাকার পরআনিস বললাে, কী বলবে বল

ইদানীং কি তুমি অল্প বয়সী একটি সুন্দরী মেয়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছি? আনিস অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বললাে, কী জন্যে জিজ্ঞেস করছ

কারণ আছেআমেরিকা একটা ফ্রি কান্ট্রিতুমি কোনাে মেয়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়ালে কিছুই যায় আসে নাকিন্তু এই ক্ষেত্রে একটি প্রবলেম হয়েছে। 

কী প্রবলেম ? এন্ডারসন গম্ভীর মুখে বললাে, মেয়েটি একটি প্রসটিটিউট

 

Read more

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৪)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *