সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৪)

আনিস চুপ করে রইলােএডারসন আবার বললাে, তুমি প্রসটিটিউটের সঙ্গে ঘুরলেও কিছু যায় আসে নাকিন্তু মাঝে মাঝে বড় রকমের ঝামেলা হয়হঠাৎ একদিন হয়ত মেয়েটি তােমাকে এসে বলবে আমার পেটে তােমার বাচ্চাএবরশনের জন্যে হাজার দশেক ডলার দরকার

সবাই গেছে বনে আনিস গম্ভীর মুখে বললাে, জানলে কী করে মেয়েটি একটি প্রসটিটিউট ? আমি জানিমেয়েটির নাম নিশ্চয়ই মালিশাঠিক না ? আনিস জবাব দিল না। 

জোসেফাইন পঞ্চমবারের মত সফিকের চাকরি নট করে দিলাে| তােমার মত মিনমিনে শয়তান, ফাজিল আর অকর্মাকে ছাড়াও আমার চলবেশুক্রবার এসে পাওনা গণ্ডা বুঝে নেবে। 

বুড়ির রেগে যাওয়ার কারণ সফিক একজন কাস্টমারের নাকে গদাম করে ঘুসি মেরেছেবেচারার দোষ হচ্ছে সে নাকি সফিকের দেশ বাংলাদেশ শুনে কোমরে হাত দিয়ে হায়নার মত হেসেছেজোসেফাইন চোখ লাল করে বলেছে, হেসেছে বলেই ঘুসি মারবে

খুশি হয়ে বেচারা হেসেছে। 

খুশি হয়ে হেসেছে মানে ? এই হাসি খুশি হওয়ার হাসি ? কীসের হাসি সেটা ? বল তুমি কীসের হাসি ? কীসের যে হাসি তা অবশ্যি সফিকও জানে নাহয়তাে বিনা কারণে হেসেছেকিন্তু সফিকের মেজাজ সকাল থেকেই খারাপ যাচ্ছিলসকাল বেলাতেই খবর পাওয়া গেছে জেমসটাউনের রকিবউদ্দিন একটি রেস্টুরেন্ট দিচ্ছে

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ

মন খারাপ করার মত খবর নয়কিন্তু রেস্টুরেন্টের নাম দিয়েছে ইন্ডিয়া হাউসসফিককে টেলিফোন করে বললাে, বাংলাদেশের নামতাে কেউ জানে নাকিন্তু ইন্ডিয়ান ফুডের নাম জগৎ জোড়া, কাজেই নাম দিলাম ইন্ডিয়া হাউসআপনি ভাই ফার্গোর সব বাঙালিদের খবর দেবেনইনশাআল্লাহ্ আগামী মাসেই খুলবাে। 

সফিক মেঘস্বরে বললাে, ইন্ডিয়া হাউসনাম দিয়েছেন ? এখনাে ফাইনাল করি নাইইন্ডিয়া ফুডদিতে পারিঅর্থাৎ ইন্ডিয়া থাকবেই? হ্যা তা তাে থাকতেই হবে । 

শুনেন ভাই আপনাকে যদি আমি ফার্গোতে দেখি তাহেল আপনাকে আমি খুন করে ইলেট্রিক চেয়ারে বসবাে বুঝেছেন। 

আপনি কী বলছেন বুঝতে পারছি নাচুপ শালা

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ 

সফিক টেলিফোন রেখে নিক্স প্লেসে এসেই কাস্টমারের নাকে ঘুসি বসালােজোসেফাইন এবার সত্যি সত্যি রেগেছেপর্যন্ত তিনবার বলেছে। 

সফিক তােমাকে যেন আর না দেখিযথেষ্ট হয়েছে। 

সফিক নিজের ঘরে ফিরে এসে দেখে ইমিগ্রেশন থেকে চিঠি এসেছে, সে যেন চিঠি পাওয়ার সাত দিনের ভেতর ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাচারাইলেজেশন অফিসার টি রবার্টসনের সঙ্গে দেখা করে। 

সফিককে নিয়ে চিন্তিত মনে হলাে নাতার মাথায় ঘুরছে কী করে হারামজাদা রহমানকে একটা উচিত শিক্ষা দেয়া যায়একটা বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট দিয়ে ফেললে কেমন হয়? খুব কি কঠিন ব্যাপার? নাম দেয়া যেতে পারে দি মেঘনাপ্লেস ফর এক্সোটিক বাংলাদেশী ফুড কিন্তু ফুড কি এক্সোটিক হবে ? শব্দটা ঠিক আছে নাকি ? এইসব ব্যাপারে রুনকি একজন ছােট খাটো বিশেষজ্ঞসফিক টেলিফোন করলাে তৎক্ষণাৎটেলিফোন ধরলেন রাহেলী। 

আমি সফিকবুঝতে পারছিকী ব্যাপার ? খালা আমরা একটা রেস্টুরেন্ট দিচ্ছিনাম হচ্ছে আপনার দি মেঘনা। 

কী দিচ্ছ

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ

রেস্টুরেন্টবাংলাদেশী সব খাবার টাবার পাওয়া যাবেআজ সন্ধ্যায় বাসায় এসে সব আলাপ করব। 

রাহেলা গম্ভীর গলায় বললেন, সন্ধ্যাবেলা আমরা থাকব নাআচ্ছা রুনকিকে একটু দেনওর সঙ্গে কথা বলিরুনকি তাে নেইনেই মানে ? রাহেলা থেমে থেমে বললেন, তুমি কি কিছু জান না

নব ? রুনকি এখন আর আমাদের সঙ্গে থাকে না কোথায় থাকে তাহলে ? রাহেলা ঠাণ্ডা স্বরে বললেন, আমি জানি না কোথায় থাকেসফিক অনেকক্ষণ চুপচাপ থেকে বললাে, কই আমাকেতাে কিছুই বলেন নাইতােমাকে বলতে হবে কেন? তুমি কে

রাহেলা টেলিফোন নামিয়ে রেখে ছেলেমানুষের মত কেঁদে উঠলেনএই শহরে আর থাকতে পারবেন নাঅনেক দূরে চলে যেতে হবেযত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরে যেতে হবে আড়ালে যাতে কেউ কখনাে রুনকির খোঁজে টেলিফোন করতে না পারে। 

রুনকি গিয়ে উঠেছে টমের ওখানেদুটি অবিবাহিত ছেলেমেয়ের এক সঙ্গে বাস করা এমন কিছু অবাক হওয়ার মত ঘটনা নয়বিয়ের মত এমন একটি প্রাচীন ব্যবস্থা কী আর এত সময় পর্যন্ত ধরে রাখা যায়এখন হচ্ছে লিভিং টুগেদারযতদিন ইচ্ছে একসঙ্গে থাকাযখন আর ভাল লাগছে না তখন দূরে সরে যাওয়াকারাে কোনাে দায়িত্ব নেইদায়িত্ব থাকলেই ভালােবাসা শিকলে আটকে যায়

 

Read more

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৫)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *