সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৭)

কফি পটে কফি গরম হচ্ছেটিভিতে দেখাচ্ছে ডেভিড কপার ফিল্ডের ম্যাজিকহাতের কাছে দুটি রগরগে ভূতের বইএকটি স্টিফেন কিংয়ের সাইনিংনিউইয়র্ক টাইমসএর মতে কোনাে সুস্থ লােক এই বই একা একা পড়তে পারে নাঅন্যটি ডিমস কিলেনের দি আদারনুনপিশাচ নিয়ে লেখা রক্ত জল করা উপন্যাসব্লিজার্ডের রাতের জন্যে এর চেয়ে ভাল প্রস্তুতি কল্পনাও করা যায় নাসবাই গেছে বনেআনিস জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরে তাকালােবরফে সমস্ত ঢেকে গেছেবাতাসের সঙ্গে উড়ছে বরফের কণাগাছের পাতায় মাখনের মত থরে থরে তুষার জমতে শুরু করেছে। একটি ধবধবে সাদা রঙের প্রকাণ্ড চাদর যেন ঢেকে ফেলেছে শহরটিকেহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সাদা চাদর নৌকার পালের মত কাঁপছে তিরতির করেঅপূর্ব দৃশ্যচোখ ফেরানাে যায় নাআনিস মন্ত্রমুগ্ধের মত জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রইলােমালিশা গিলবার্ড এসে উপস্থিত হলাে এই সময়

 প্রচণ্ড ঠাণ্ডাতেও তার গায়ে পাতলা একটা উইন্ড ব্রেকার ছাড়া আর কিছুই নেইকালাে একটা স্কার্ফে কান দুটি ঢাকাহাতে খাবারের একটি প্যাকেটমালিশা বললাে, আমি ভাবলাম কেউ নেই, অনেকক্ষণ ধরে কড়া নাড়ছি ঘরে তােমার বান্ধবীরা কেউ আছে বুঝি

আনিস বললাে, ভেতরে এসােএরকম দিনে বেরুলে কী জন্যে ? মালিশা বললাে, তুমি কথার জবাব দাও নিঘরে কী তােমার বান্ধবীরা কেউ আছে ? না তা নেইযাক আমি শুধু দুজনের জন্যে খাবার এনেছিমালিশা খানিকটা কুণ্ঠিত ভঙ্গিতে প্যাকেট খুলতে শুরু করলােআনিস বললাে, স্কার্ফটা খুলে মাথা মুছে নাওএত তাড়া কীসের মালিশা

সবাই গেছে বনে -পর্ব-১৭

তাড়া আছেদুপুরে খাই নি কিছুখাবার সব ঠাণ্ডা হয়ে আছেগরম করতে দিয়ে তারপর হাতমুখ ধােব। 

খাবার বিশেষ কিছু নয়বড় একটি প্যান পিজা, কয়েকটি মেক্সিকান টেকো এবং এক বােতল সস্তা বারগুডিআনিস বললাে, কোনাে বিশেষ উপলক্ষ আছে কি মালিশা

আজ আমার জন্মদিন। 

আনিস হাসি মুখে বললাে, দুমাস আগে একবার তুমি জন্মদিনের খাবার খাইয়েছ| দিন মিথ্যা বলেছিলামতােমাকে কোথাও নিয়ে যেতে ইচ্ছা হচ্ছিলজন্মদিনের অজুহাত দিয়ে নিয়ে গেলাম। 

এমি বললে বুঝি যেতাম না

আমি ভাল মেয়ে নাআমার সঙ্গে বেরুতে হয়তাে তােমার সংকোচ হবেমালিশা দ্রুত হাতে খাবার ওভেনে ঢুকিয়ে মাথার চুল মুছতে শুরু করলাে। 

হঠাৎ করে এসেছি বলে রাগ করনি তাে ? টেলিফোন করবাে ভেবেছিলামপরে ভাবলাম টেলিফোনে তুমি বলে বসতে পারআমি ব্যস্তসামনাসামনি কেউ এমন কথা বলতে পারবে না আনিস তুমি কি বিরক্ত হচ্ছ। 

বিরক্ত হব কেন ? কিন্তু জন্মদিনের কেক কোথায় ? কেক কেনা গেল নাটাকা কম পড়ে গেলতাছাড়া কেক আমার ভালও লাগে নাআনিস লক্ষ করলাে মালিশার চোখ ঈষৎ রক্তাভএকটু যেন ঢুলছেতুমি কি প্রচুর ড্রিংক করেছ মালিশ ? প্রচুর নয় তবে করেছিএকা একা ভাল লাগছিলাে না। 

সবাই গেছে বনে -পর্ব-১৭

টেলিফোন করলেই একটা কেকের ব্যবস্থা করা যায়কিন্তু আবহাওয়ার যা ধরনধারণ কেউ কি অর্ডার নেবে ? চেষ্টা করে দেখা যেতে পারেআনিস বসবার ঘরে চলে আসলােগলা উঁচু করে বললাে তুমি খাবার সাজাও মালিশাআমি একটা টেলিফোন সেরে আসছিঅর্ডার ওরা নিলবললাে এক ঘণ্টার মধ্যে দিয়ে যাবেশুধু কেক নয় দশটি লাল গােলাপের একটি গােড়াও আসবে সেই সঙ্গেআনিসের মনে হলাে সে নিজেও খুব নিঃসঙ্গমালিশা হঠাৎ করে আসায় তার খুবই ভাল লাগছেএকটা কেমন যেন অন্য ধরনের আনন্দ। 

আনিস, পিজা তােমার ভাল লাগেতাে ? খুব লাগেসস্তার মধ্যে খুব ভাল খাবার তাই না

মালিশা হাসি মুখে বললাে, আমার বয়স একুশএকুশ বছরের একটি মেয়ের জন্মদিনে কোনাে লােকজন নেই কেউ বিশ্বাস করবে কথা ? জন আসবে বলেছিলাে, আমি এইসব কিনেছিলাম জন এবং আমার জন্যেতার নাকি হঠাৎ মাইগ্রেন পেইন শুরু হয়েছে। 

আনিস বললাে, জন কে

আমার একজন বন্ধু সিয়ারসে কাজ করেতােমার কি মনে হয় ওর সত্যি সত্যি মাইগ্রেন পেইন

আনিস উত্তর দিল না। 

মালিশা বললাে, জনের একজন নতুন বান্ধবী হয়েছেএকটি মেক্সিকান মেয়েনির্ঘাত ওর সঙ্গে ঝুলাঝুলি করছেতােমার কী মনে হয়

সবাই গেছে বনে -পর্ব-১৭

আমার পক্ষে বলা মুশকিলনির্ভর করে জনের সঙ্গে তােমার পরিচয় কী রকম তার ওপর। 

পর পর চার শনিবার ডেট করেছিজন নিজেই ডেট চেয়েছেদুরাত ঘুমিয়েছি ওরসঙ্গেওটা ঠিক হয় নিওতে দাম কমে যায়তাছাড়া মেক্সিকান মেয়েটিকে তাে তুমি দেখ নিদারুণ ফিগারপুরুষের কাছে ফিগারটাই আসল। 

আনিস প্রসঙ্গ পাল্টাবার জন্যে বললাে, তােমার মা কেমন আছে

ভালইগত সপ্তাহে চিঠি পেয়েছিবুড়ির শখ হয়েছে বিশ্ব ভ্রমণের একজন সঙ্গীও পেয়েছে জিম ডগলাসমনে হয় বুড়াে ফুসলে ফাঁসলে নিয়ে যাচ্ছে

 

Read more

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৮)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *