সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৮)

টাকার গন্ধপেয়েছে বুঝলে না ? দুজনে ফট করে বিয়েও করে বসতে পারে। তাহলে বড়ই ঝামেলা হবেহয়ত দেখা যাবে কিছুই পেলাম নাআমার যা ভাগ্যসবাই গেছে বনেকোথায় যাচ্ছেন তােমার মা

কে জানে কোথায় ? আমি লিখেছিযাও মা ঘুরে আসতােমার ভাল লাগাই আমার ভালএবং ডগলাস সাহেব যখন যাচ্ছেন তখনতাে তােমার খুব ফান হবেমনের কথা নয় বুঝতেই পারছ সবই বানানাে। 

মালিশা খাবার কিছুই স্পর্শ করলাে নাঢকঢক করে এক গ্লাস বারগুড়ি খেয়ে ফেললােতার মনে হয় নেশা হয়েছেচোখের কোণ লালাভ। 

শােন আনিস, আমার মনে হয় আমি তােমাকে ভালােবাসিহাসছ কেন ? তােমার কি ধারণা আমার নেশা হয়েছে? মােটেই নয়। 

আনিস বললাে, কফি খাবে

শােন আনিসআমার মিলিওনিয়ার হবার সম্ভাবনা খুব বেশিতুমি কি আমাকে বিয়ে করবে ? ভালই হবে তােমার। 

আনিস হাসতে হাসতে বললাে, টাকার জন্যে তােমাকে বিয়ে করতে হবে কেন ? তােমার নিজের দাম তাে কিছু কম নয়। 

আমাকে খুশি করার জন্যে বলছ

 নিশানাথ বাবুর কথা মনে নেই, তিনি বলেছিলেন তােমাকে দেখতে ইন্ডিয়ান গডেসের মত লাগে। 

আমার মনে আছে আনিসআমার যখন টাকা হবে তখন আমি ইন্ডিয়ান ভদ্রলােককে একটি বুইক স্কাইলার্ক গাড়ি কিনে দেবওর কি বুইক স্কাইলার্ক গাড়ি আছে

ওর সে সবের বালাই নেইম্যাকের স্কাইলার্ক গাড়ি ছিল। ম্যাক ছিল দারুণ বড় লােকওর সঙ্গে আমি অনেকবার ভেটে গিয়েছিআমাকে একটা ড্রেস কিনে দিয়েছিল যার দাম দুপঁচাত্তর ডলারআমি তােমাকে দেখাব। 

 আনিস চুপ করে রইলােমালিশা মনে হল একটু টলছেআনিস বললাে, আর খেয়ে 

মালিশা। 

কেন খাব না কেন? বেশি হয়ে যাচ্ছেতােমার হাত কাপছেহাত কাঁপছে কারণ আমার জ্বর আসছেআমার শরীর বেশি ভাল না। 

ডাক্তার দেখিয়েছ

সবাই গেছে বনে -(পর্ব-১৮)

ডাক্তার দেখাবার মত কিছু নয়, তাছাড়া আমার হেলথ ইনস্যুরেন্স নেইডাক্তারের কাছে গেলেই গাদা খানিক ডলার লাগবেসেটা কে আমাকে দেবে? তুমি নিশ্চয়ই দেবে 

 হা হা হা। 

কেক চলে আসলাে দশটার দিকেসিলােফেন কাগজে মােড়া দশটি লাল টুকটুকে গােলাপমালিশা অনেকক্ষণ অবাক হয়ে দেখলাে ফুলগুলিআনিস হাসি মুখে বললাে, শুভ 

জন্মদিন মালিশা| মালিশা জবাব দিল নাতার চোখে জল আসছেসে তা গােপন করবার জন্যে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলাে। 

বত্সর প্রচণ্ড শীত পড়েছে। 

ফার্গোতে যারা বসবাস করে তারা পর্যন্ত বলছেনেস্টি ওয়েদারফেব্রুয়ারি মাসেই চার ফুটের মত বরফ জমেগেল শহরেসন্ধ্যার পর লােজন আর ঘর ছেড়ে বের হয় নাকেউ সে শপিংগিয়ে ঘুরে ফিরে মন তাজা করবে সে উপায় নেইঘণ্টা খানিক গাড়ি ঠাণ্ডায় পড়ে থাকলেই আর স্টার্ট নেবে নাবড় বড় উইন্টার সল হচ্ছে সেখানে পর্যন্ত লােকজন নেই। 

টমের দিনকাল বেশ খারাপ হয়ে গেলকাজ নেইগােটা ফেব্রুয়ারি মাসে বাচ্চাদের বইয়ের একটি ইলাশট্রেশন ছাড়া আর কোনাে কাজ জুটলাে নারাস্তায় দাঁড়িয়ে ছবি বিক্রিও বন্ধএই প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় পায়ে হেঁটে কেউ চলাফেরা করে নাসবাই বের হয় গাড়ি নিয়ে কার দায় পড়েছে গাড়ি থামিয়ে ছবি কিনবে ? সবচে বড় অসুবিধা হচ্ছে বাড়িটি ছেড়ে শহরতলির একটা অ্যাপার্টমেন্ট নিতে হয়েছেসেখানে রান্নাঘর এবং বাথরুম শেয়ার করতে হয়টম বেশ কয়েকবার বলেছে এই শহর ছেড়ে অন্য কোথাও যাবে কিন্তু বলা পর্যন্তইসে নাকি বরফে ঢাকা শহরের কয়েকটি ছবি এঁকেই বিদায় হবেছবি এঁকে ফেললেই হয়কিন্তু এখনাে তার মনমত বরফ জমা হয় নি। 

সবাই গেছে বনে -(পর্ব-১৮)

প্রকৃতির কাছে সম্পূর্ণ পরাজিত একটি শহরের ছবি আঁকব তারপর বিদায় বুঝলে #নকি এখনাে সময় হয় নি। 

পরাজিত হবার আর বাকি কোথায় ? অনেক বাকিএখনাে বাকি আছে। 

এই অ্যাপার্টমেন্টটিতে রুনকির গা ঘিনঘিন করেযে মেয়েটির সঙ্গে রান্নাঘর বাথরুম শেয়ার করতে হয় সে সবকিছু বড় ময়লা করে রাখেগভীর রাত পর্যন্ত হাই ভুলুমে গান শুনেসময়ে অসময়ে টমের কাছে সিগারেট চায়ভাল লাগে না রুনকিরঅস্বাস্থ্যকর পরিবেশপ্রায়ই অ্যাপার্টমেন্টের সিঁড়িতে মদ খেয়ে লােকজন গলা ফাটিয়ে চেঁচায়

 

Read more

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-১৯)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *