সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২)

ধার নিতে পারি

আনিস সিগারেট বের করলােমেয়েটি ফস করে লাইটার জ্বালিয়ে সিগারেট ধরালােবাদামি রঙের ঢেউ খেলানাে চুল মেয়েটিরটানা টানা চোখলাইটারের আলাের জন্যেই হােক বা অন্য যে কোনাে কারণেই হােক আনিসের মনে হলাে মেয়েটির মুখ যেন এইমাত্র কেউ তুলি দিয়ে একেছেসিগারেটের জন্যে তােমাকে ধন্যবাদ। 

সবাই গেছে বনে

ছেলেমেয়ে দুটি পিয়ানাের আড়ালে চলে গেলমেয়েটি অনবরত হাসছে খিলখিল করেহাসির ধরন কেমন অসংলগ্ননিশ্চয়ই প্রচুর বিয়ার খেয়েছেআনিস লম্বা হয়ে সােফায় শুয়ে পড়লােইলেকট্রিসিটি এখনাে আসছে নাট্রান্সমিশন লাইন কোথাও পুড়ে টুড়ে গেছে বােধহয়মেয়েটির চাপা গলার স্বর শােনা যাচ্ছে। 

আহ কী অসভ্যতা করছাে! হাত সরাও প্লিজ। 

আবার খিলখিল হাসিতারপর দীর্ঘ সময় আর কিছুই শােনা গেল নাবাইরে ঝড়ের বেগ বাড়ছেঘনঘন বিজলী চমকাচ্ছেআনিস শুয়ে থাকতে থাকতে এক সময় ঘুমিয়ে পড়লাে। 

ঘুম যখন ভাঙলাে তখন ঝড় থেমে গিয়েছেইলেকট্রিসিটি এসেছেমেমােরিয়াল ইউনিয়ন আলােয় ঝলমল করছেছেলেটি নেই মেয়েটি টেবিলে পা তুলে বসে আছে একা 

একা। 

তােমার কাছ থেকে কি আমি আরেকটি সিগারেট নিতে পারি

আনিস একটি সিগারেট দিলমেয়েটি সিগারেট ধরিয়ে ক্লান্ত স্বরে বললাে, তােমার সঙ্গে গাড়ি আছে

নাকেন বলতাে ? গাড়ি থাকলে তােমাকে একটা লিফটের জন্যে অনুরােধ করতামসরি, গাড়ি নেই আমারতুমি থাক কোথায়? টুয়েলভ অ্যাভিতােমার সঙ্গে আমি টুয়েলভ অ্যাভিন্যু পর্যন্ত হেঁটে হেঁটে যেতে পারি, কী বল

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ 

তা পার আমার ড় মাথা ধরেছে। 

মেয়েটি বাঁ হাতে তার কপাল টিপে ধরলােআনিস বললাে, তােমার ছেলে বন্ধুটি কোথায়

আমার বন্ধু হবে কেন ? কোথায় গেছে কে জানে? ওর সঙ্গে বকবক করেই তাে আমার মাথা ধরেছে। 

বৃষ্টি নেই কিন্তু ঠাণ্ডা হাওয়া বইছেরাস্তায় নেমেই মেয়েটি খুব সহজ ভঙ্গিতে আনিসের হাত ধরলাে। 

তােমার অ্যাপার্টমেন্টে কি টাইলানল আছে ? আছেমনে হয় আমার জ্বর আসছেদুটি টাইলানল এবং গরম কফি খেতে পারলে হতআনিস কথা বললাে নামেয়েটির সত্যি সত্যি জ্বর আসছেহাত বেশ গরম। 

আমি কি তােমার অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে এক কাপ গরম কফি খেতে পারি ? রাত বেশিহয় নি তাই জিজ্ঞেস করছি। 

হ্যা খেতে পারআমাকে আরেকটা সিগারেট দাওমাথা ধরা তাতে আরাে বাড়বে। 

আমি তাতে কেয়ার করি নাআমি কোনাে কিছুতেই কেয়ার করি নাতা ভালভাল হােক মন্দ হােক আমি কেয়ার করি না। 

বাসার সামনে এসে মেয়েটি থমকে দাঁড়ালােঅবাক হয়ে বললাে, এত বড় বাড়ি! এটা তােমার

ভাড়া দিয়ে থাকিনিজের নয়আমি ভেবেছিলাম তুমি স্টুডেন্ট। 

আমি স্টুডেন্ট নই। 

আনিস টাইলানল নিয়ে আসলােপানির বােতল আনলােমেয়েটি ক্ষীণ স্বরে বললাে, আমার জ্বর আসছেতােমার কাছে থার্মোমিটার আছে

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ 

না থার্মোমিটার নেই। 

তােমার গাড়ি থাকলে ভাল হত, আমাকে পৌছে দিতে পারতেআমি আমার এক বন্ধুকে টেলিফোন করছিসে তােমাকে পৌছে দেবে। 

আমি কি তােমার এখানে এক রাত থাকতে পারি ? ঘরে ফিরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না আমার। 

আনিস চুপ করে রইলােমেয়েটি থেমে থেমে বললাে, কি থাকতে পারি ? তা পার । 

আমাকে শােবার ঘর দেখিয়ে দাওআমার বড্ড খারাপ লাগছে। 

শােবার এই ঘরটি চমৎকার করে সাজানােমেয়েটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাে অনেকক্ষণতারপর খানিক ইতস্তত করে বললাে, তুমিও কি শােবে আমার সঙ্গে

আরাে শােবার ঘর আছে  ?

মেয়েটি পায়ের জুতা খুললােমাথায় স্কার্ফ বাধা ছিলস্কার্ফ খুলে মুখ মুছলাে তারপর খুব সহজভাবে বললাে, তােমাকে অনেক ধন্যবাদঅবশ্যি তােমার ইচ্ছা হলে আমার সঙ্গে শুতে পারআমি কিছুই কেয়ার করি না। 

নাম কী তােমার ? মালিশাশুভরাত্রি মালিশা । 

মালিশা কোনাে জবাব দিল নাআনিস কুঞ্চিত করে ভাবলাে কাজটা বােধহয় ঠিক হলাে নাএইসব হােবােশ্রেণীর মেয়েদের ঘরে থাকতে দিতে নেইহয়তাে একটি প্রস্টিটিউটশহরের নষ্ট মেয়েদের একজনকিন্তু বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় নামন খারাপ হয় শুধু। 

 

Read more

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-৩)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *