সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২১)

উহু রিটায়ার করবার টাইম হয়ে আসছেবছর দুই আছে মাত্রনিশানাথ বাবু জার্মান সিলভারের ফুলদানি ছাড়াও একটা বড় আয়না কিনে ফেললেনআয়নাটির দাম পড়লাে তিন ডলার

সবাই গেছে বনেস্ট্যানলি বারবার বললাে, আয়নাটায় খুব জিতে গেলে আমার স্ত্রী ইতালি থেকে ছ’লিরা দিয়ে কিনেছিল। 

তিনি বাড়ি ফিরলেন এগারােটার দিকেকী আশ্চর্য রুনকি বসে আছে বারান্দার ইজিচেয়ারে। রুনকি হাসি মুখে বললাে, গ্যারাজ সেলে গিয়েছিলেন চাচা

ইস কী যে এক রােগ বাধিয়েছেনভেতরে আয় রুনকিআজ কী কিনলেন ? জার্মান সিলভারের একটা ফুলদানি আর একটা আয়নাতুই নিবি

আয়নাটা নিয়ে যা ভাল জিনিস দু’লিরা দাম পড়েছে ইটালিতেপড়ুকচাচা আপনার কাছে বিদায় নিতে আসলাম। 

নিশানাথ বাবু কিছু বললেন নাচায়ের পানি চড়ালেনব্রুনকি সােফায় বসতে বসতে বললাে, আমরা মন্টানায় চলে যাচ্ছি। 

মন্টানা খুব সুন্দর জায়গাআপনার সঙ্গে হয়তাে আর দেখা হবে না । 

নিশানাথ বাবু বললেন, অল্প বয়সী মেয়ে নিরাশ ভঙ্গিতে কথা বললে ভালাে লাগে নাতাদের বলা উচিত আবার হয়তাে দেখা হবেঅর্থ একইআনসারটিনিটিকিন্তু বলার ভঙ্গিটা অপটিমিস্টিকচায়ের সঙ্গে আর কিছু খাবি

সবাই গেছে বনে-পর্ব-২১

চাচাআপনাকে একটা খবর দেই আমরা বিয়ে করছিজানিসফিক বলেছেবাঙালি কায়দায় নাকি বিয়ে হবে

সে রকম কিছু নানিশানাথ বাবু চা বানিয়ে এনে দেখেন রুনকি কাঁদছেতিনি শান্ত স্বরে বললেন, কাঁদছিস কেন মা

চাচা আমি কি ভুল করছি

কোনটা ভুল আর কোনটা না তা বােঝা মানুষের সাধ্যের বাইরেনিয়ে চিন্তা করিস চা খা| রুনকি চায়ে চুমুক দিলনিশানাথ বাবু গাঢ় স্বরে বললেন, খিদিরপুরের এক কলেজে অংক পড়াতাম বুঝলি রুনকিকী নিদারুণ অভাব গেছে আমারআর এখন পাশ বই দেখলে তুই চমকে উঠবিআমি যদি খিদিরপুরে পড়ে থাকতাম সেটা ভুল হতআবার আমেরিকা আসাটাও ভুল হয়েছেতাহলে ঠিক কোনটা

রুনকি চুপ করে রইলনিশানাথ বাবু বললেন, বেঁচে থাকার আনন্দটাই একমাত্র সত্যিঐটি থাকলেই হলআয়নাটা একটা কাগজ দিয়ে বেঁধে দেই মা

সবাই গেছে বনে-পর্ব-২১

দিন। 

নিশানাথ বাবু আয়নাটি গিফট র্যাপ করবার জন্যে পাশের ঘরে চলে গেলেনরুনকি একটু হাসলােসে জানে নিশানাথ বাবু শুধু আয়না কাগজ দিয়ে বাঁধবেন নাসেই সঙ্গে একটা খামের মধ্যে মােটা অংকের একটা চেক থাকবেএটি নিশানাথ বাবুর একটি পুরনাে অভ্যাসরুনকির সব জন্মদিনে তিনি রুনকিকে গল্পের বই দেনসেই বইয়ের ভেতর একটা খাম থাকবেই। যা দেয়ার তা সরাসরি দিয়ে দিলেই হয় কিন্তু তা তিনি দেবেন নাকত রকম 

অদ্ভুত মানুষ দুনিয়াতে আছে। 

জোসেফাইনের মন ভেজানাের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছেবুড়ি পরিষ্কার বলে দিয়েছে। 

কাজ তােমাকে দেব নামাথা বেঠিক লােক আমি রাখি নালুনাটিকদের বিষয়ে আমার এলার্জি আছে। 

আমাকেতাে তাহলে না খেয়ে থাকতে হয় জোসেফাইনতুমি ছাড়া কে আমাকে কাজ দেবে ? উপােস দিতে হবে আমাকে। 

একেবারে কিছুই না জুটলে এখানে এসে হামবার্গার খেয়ে যাবে চার্জ লাগবে নাকিন্তু চাকরি তােমাকে দিচ্ছি না। 

ফার্গোতে বিদেশীদের কাজ পাওয়া ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছেএড দেখে টেলিফোন 

করলেই জিজ্ঞেস করে গ্রিন কার্ড আছে ? নেই শুনলেই খট করে টেলিফোন নামিয়ে রাখেযারা কিছুটা দ্র তারা মিষ্টি সুরে বলে, এখানে ওপেনিং নেইতুমি ঠিকানা রেখে যাও আমরা ওপেনিং হলে খবর দেব। 

ওপেনিং নেইতাে এড দিলে কেন ? কয়েকটি ওপেনিং ছিল সেগুলি ফিল্ড আপ। 

দি মেঘনা রেস্টুরেন্টের জন্যে যে টাকা পয়সা উঠেছে (সর্বমােট সাতশএগারাে ডলার) সেখানে হাত পড়েছেরেস্টুরেন্টের চিন্তা এখন আর তেমন নেইকারণ রহমান তার ইন্ডিয়া হাউসনিয়ে পিছিয়ে পড়েছেতার ধারণা এত ছােট শহরে বিদেশী রেস্তোরাঁ চলবে

সবাই গেছে বনে-পর্ব-২১

সে খোঁজ নিয়ে দেখেছে এখানে যে টি চীনা রেস্তোরা আছে সেখানে শুক্রশনি এই দুদিনই যা লােকজন হয়অন্যদিন রেস্তোরা খা খা করেতাছাড়া এই প্রচণ্ড শীতে কার এমন মাথা ব্যথা যে কাঁপতে কাঁপতে বাইরে খেতে আসবে

এদিকে ইমিগ্রেশনের লােকজনও বেশ ঝামেলা করছেতিন চারটা চিঠি এসেছেকোনােদিন হুট করে হয়তাে পুলিশ এসে হাজির হবেঠিকানা বদলাতে হলাে সেই কারণেইনিক্স প্রেসের উল্টোদিকে ছােট একটা ঘরশুধু শােয়ার ব্যবস্থাখাওয়াদাওয়া নিক্স প্লেসেবুড়ি তার কথা রেখেছে খাওয়ার পর বিল দিতে গেলে গম্ভীর মুখে জিজ্ঞেস করে, কাজ পেয়েছ

নাে চার্জবেশ খাতায় লিখে রাখ চাকরি পেলে সব এক সঙ্গে দেববাকির কারবার আমি করি না ভাগাে। 

কাজ শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেলফার্মেসি ডিপার্টমেন্টের সেই চাকরি। 

 

Read more

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২২)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *