গােটা দশেক বাঁদর, কয়েকটি কুকুর আর প্রায় শ‘দুয়েক গিনিপিগের দেখাশােনা। সময়মত বাবার দাবার দেয়া। খাঁচা পরিষ্কার করা। পশুগুলিকে পুরােপুরি জীবাণুমুক্ত রাখা।
কাজ অনেক সেই তুলনায় বেতন অল্প। নব্বই ডলার প্রতি সপ্তায়। নব্বই ডলারই সই। মহা উৎসাহে কাজে লেগে গেল সফিক।
কাজটা যত খারাপ মনে হয়েছিল তত নয়। বাঁদরের খাঁচায় একটিকে পাওয়া গেল একেবারে শিশু। সফিককে দেখেই সে দাঁত বের করে ভেংচে দিল। সফিক অবাক, আরে তুই এইসব ফাজলামি কোথেকে শিখলি ? | বানরের বাচ্চাটি কথা শুনে উৎসাহিত হয়েই বােধহয় থু করে একদলা থুথু ছিটিয়ে দিল সফিকের দিকে।
মহা মুশিত হলাে তাে শালাকে নিয়ে। মারব থাপ্পড়।
বাচ্চাটা গালি শুনে উৎসাহিত হয়ে খুব লাফালাফি শুরু করলাে। তার আনন্দের সীমা নেই।
সন্ধ্যা সাতটা বাজে।
আনিস সবেমাত্র ফিরেছে ইউনিভার্সিটি থেকে। হাত মুখও ধােয়া হয় নি, সফিক এসে হাজির এক্ষুণি যেতে হবে তার সঙ্গে।
কী ব্যাপার আগে বল। আগে বললে আপনি আর যাবেন না। যাব। ঘরে তেমন কিছু নেই। এখন বল ব্যাপারটা কী ?
জং বাহাদুরের শয়তানিটা দেখাব আপনাকে। নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করবেন শালা ওয়ান নাম্বার হারামি।
জং বাহাদুরটা কে?
সবাই গেছে বনে -পর্ব-২২
ও আপনাকে তাে বলা হয় নাই। বাচ্চা একটা বাঁদর। বাচ্চা হলে কী হবে শয়তানের হাডিড। দেখবেন নিজের চোখে।
নিজের চোখে কিছু দেখা গেল না। জং বাহাদুর ঘুমিয়ে পড়েছে। সফিক খুব মনমরা হয়ে পড়লাে। আনিস হাসি মুখে বললাে, কালকে এসে দেখব।
সকাল সকাল আসবেন। খাবার দেয়ার সময় হলে কী করে দেখবেন। বিকাল বেলা একটা কলা, একটা আপেল আর একটা ডিমসিদ্ধ দেয়া হয়েছে। শালা কলা আর ডিমটা খেয়ে আপেলটা আমাকে সাধছে দেখেন কাণ্ড।
তুমি না বললে শয়তানের হাড়িড়। আমার কাছে তাে বেশ ভালাে মানুষই মনে হচ্ছে।
আরে না না তার বজ্জাতির কথা তাে কিছুই বললাম না।
আনিস হঠাৎ গম্ভীর স্বরে বললাে, তােমার কি কোনাে কাজ আছে সফিক ? তােমার গাড়িতে আমাকে এক জায়গায় নিয়ে যেতে পারবে ?
কোথায় ?
আনিস খানিক ইতস্তত করে বললাে, একটি মেয়ের সঙ্গে আমার কিছু পরিচয় হয়েছে। অনেকদিন তার খোঁজ নেই। ভাবছিলাম একটু খোঁজ নেব।
সফিক বেশ অবাক হলাে। আনিস থেমে থেমে বললাে, আমি দেশে ফিরে যাব সফিক। আমার ভালাে লাগছে না। আমি ঐ মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চাই।
সে কোথায় থাকে ? সাউথ ফার্গো। চলুন যাই। ফুলের দোকান হয়ে যাবেন ? ফুল নেবেন? ফুল কেন ? | সফিক হাসি মুখে বললাে, আমেরিকান মেয়েকে বিয়ের কথা কি ফুল ছাড়া বলা যায় ? এক গাদা গােলাপ নিয়ে যান। ডাউন টাউনে ফুলের দোকান সারারাত খােলা থাকে।
আনিস দীর্ঘ সময় চুপ করে থেকে বললাে, র্যা নিশ্চয়ই ফুলতাে কিনতেই হবে।
মালিশাকে পাওয়া গেল না। বাড়িওয়ালি সরু গলায় বললাে, ওর মা মারা গেছে। ও গেছে টাকা পয়সা কিছু দিয়ে গেছে কিনা দেখতে।
কবে গিয়েছে ?
সবাই গেছে বনে -পর্ব-২২
এক সপ্তাহ হলাে। আনিস বললাে, ওকি টাকা পয়সা কিছু পেয়েছে ?
আমি কী করে জানবাে ? একশাে ডলার রেন্ট বাকি রেখে গেছে সে। আমি চিন্তায় অস্থির টাকাটা মার গেল কি না।
আমি কি এই গােলাপগুলি তার ঘরে রেখে যেতে পারি ? পারবে না কেন? রেখে যাও। তুমি কি ওর বন্ধু ?
হ্যা।
ভালাে। আমার ধারণা ছিল ওর কোনাে বন্ধু নেই। আমার দু’জন ভাড়াটে আছে যাদের কোনাে ছেলে বন্ধু নেই একজন হচ্ছে মালিশা অন্যজন এমিলি জোহান।
এমিলি জোহান ? হা কবি এমিলি জোহান, নাম শুনেছ? খুব বড় কবি ? রাইটার্স গিল্ড এওয়ার্ড পাওয়া। আমি কি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারি ? না পার না সে এখন মদ খেয়ে বুদ হয়ে আছে। ফেরার পথে আনিস একটি কথাও বললাে না।
১৪ সকাল বেলা একটা পার্কা গায়ে দিয়ে আমিন সাহেব শােভেল নিয়ে বেরুলেন। বরফে ড্রাইভওয়ে ঢাকা পড়েছে। পরিষ্কার না করলে গাড়ি বের করা যাবে না। অসম্ভব ঠাণ্ডা পড়েছে। চোখ জ্বালা করছে। কনকনে হাওয়া। নাক মুখ সমস্তই ঢাকা তবু সেই হাওয়া কী করে যেন শরীরের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে। অল্পক্ষণ শােভেল চালাবার পর তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। বয়স হয়েছে। এখন আর আগের মত পরিশ্রম করতে পারেন না।
দিন ফুরিয়ে আসছে। ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। চলে যাবার সময় হয়ে এলাে। এবারের যাত্রা অনেক দূরে। গন্তব্যও জানা নেই। আমিন সাহেব ছােট্ট একটি নিঃশ্বাস ফেললেন। রুনকি থাকলে এতটা পরিশ্রম হতাে না। নিমিষের মধ্যে বরফ কেটে গাড়ি বের করে ফেলতাে। তারপর ছুটাছুটি শুরু করত বরফের উপর। তুষার বল বানিয়ে চেঁচাতে মারব তােমার গায়ে বাবা ? দেখবে আমার হাতের টিপ? মেয়েটা একেবারে ছেলেমানুষ রয়ে গেল।
কথাটা ঠিক হলাে না। রুনকি এখন আর ছেলেমানুষ নয়। আমিন সাহেব বিশ্রাম নেবার জন্যে গ্যারেজের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন।
Read more