বুঝতে পারছি। আপনার কি শরীর খারাপ ? এভাবে কথা বলছেন কেন? আমার শরীর ভাল না। আপনাকে একটি জরুরি ব্যাপারে টেলিফোন করছি। বলুন। আপনিতাে জানেন আমার এই বাড়ি এবং টাকা পয়সা সব আমি আমার মেয়ের নামে
উইল করে রেখেছি। আপনি একজন উইটনেস।
আমি জানি। নিশানাথ বাবু নানান কারণে আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমার মনের মিল হয় নি।
এই বয়সে সেটা তােলার কোনাে যুক্তি নেই আমিন সাহেব।
আমিন সাহেব খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে থেমে থেমে বললেন, আমি আমার স্ত্রীর উপর একটা বড় অন্যায় করেছি নিশানাথ বাবু। আজ আমি যদি মারা যাই সে পথের ভিখেরি হবে।
আমিন সাহেব আপনার শরীর কি বেশি খারাপ? হ্যা। আপনি কি একটু আসবেন আমি নতুন করে উইল করতে চাই। আমি এক্ষুণি আসছি। সব কাগজপত্র নিয়ে আসব। নিশানাথ বাবু।
বলুন। আজ রুনকির জন্মদিন। আমি জানি। সকালেই মনে হয়েছে।
আমিন সাহেব শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, আরেকটি কথা জিজ্ঞেস করি আপনাকে আনিস ছেলেটিকে কেমন মনে হয় আপনার ?
খুব ভাল ছেলে। অত্যন্ত রিলায়েবল।
আমিন সাহেব টেলিফোন করলেন আনিসকে। আনিস বেশ অবাক হলাে। আমিন সাহেব তাকে কখনাে টেলিফোন করেন নি আগে।
সবাই গেছে বনে -পর্ব-২৪
আনিস তুমি আমাকে চিনতে পারছ ? আমি আমিন। চিনতে পারছি। কী ব্যাপার বলুনতাে? আমার মেয়েটির দিকে তুমি লক্ষ রাখবে। আনিস অবাক হয়ে বললাে, আপনার কি শরীর খারাপ? হ্যা। কী হয়েছে ?
আমি বুঝতে পারছি না। কিন্তু মনে হচ্ছে সময় শেষ হয়ে আসছে। তুমি আমার মেয়েটির খোঁজ খবর রাখবে। প্লিজ!
আমি আসছি এক্ষুণি।।
আমিন সাহেব দরজা খুলতেই দেখলেন রাহেলা দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে। রাহেলার চোখে মুখে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ। রাহেলা বললেন, তােমার কী হয়েছে ?
আমিন সাহেব বললেন, রাহেলা, আমি মারা যাচ্ছি। রাহেলা আমিন সাহেবের হাত ধরে ইজিচেয়ারে শুইয়ে দিলেন। তােমার উপর খুব অবিচার করেছি রাহেলা ।
রাহেলা দ্রুত আমিন সাহেবের সার্টের বােতাম খুলে ফেললেন। তার হাত কাঁপছে। কী করবেন বুঝতে পারছেন না। আমিন সাহেব প্রচণ্ড ঘামছেন।
রাহেলা, তুমি রাগ করাে না। একটা বড় অন্যায় করা হয়েছে।
রাহেলা দীর্ঘ দিন আগে মারা যাওয়া তার মাকে ডাক ছেড়ে ডাকতে লাগলেন— আম্মা ও আম্মা।
মালিশা গিলবার্ট তার মায়ের টাকা পেয়েছে। টাকার পরিমাণ মালিশার ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সলিসিটর যখন টেলিফোন করে বললাে, তােমার জন্যে দুটি খবর আছে, একটি ভাল একটি মন্দ কোনটি আগে শুনতে চাও?
তখনাে মালিশা কিছু বুঝতে পারে নি। সে বলেছে ভালটি আগে শুনতে চাই। তােমার হার্টের অবস্থা ভালভাে? খবর শুনে ফেইন্ট হতে পার।
সবাই গেছে বনে -পর্ব-২৪
খবর শুনে তার অবশ্যি তেমন কোনাে ভাবান্তর হয় নি। বাড়িওয়ালীকে গিয়ে বলেছে, আমার মা মারা গেছেন, আমি ফ্লোরিডা যাচ্ছি। তােমার রেন্ট আমি ফিরে এসে দেব। | প্লেনে যাওয়ার মত টাকা নেই, গ্রে হাউন্ডের টিকিট কাটতে হলাে। পৌছতে লাগবে তেত্রিশ ঘণ্টা। গ্রে হাউন্ডের বাস ছাড়বে রাত চারটায়।
এমন লম্বা সময় কাটানােও এক সমস্যা। মালিশার বারবার মনে হচ্ছিল অ্যাটর্নি ভদ্রলােক হয়তাে ভুল করেছে। মা হয়তাে নাম কামাবার জন্যে টাকা পয়সা সব দিয়ে গেছে ক্যানসার ইনস্টিটিউটে কিংবা কোনাে এতিমখানায়। সেইসব কাগজপত্র হয়তাে অ্যাটর্নি ব্যাটা এখনাে দেখে নি। না দেখেই টেলিফোন করেছে।
ফার্গো ফোরামেইতাে একবার এ রকম একটি খবর উঠলাে। কোটিপতি বাবা মারা গেছে। খবর পেয়ে ছেলেরা মহানন্দে বাড়ি–ঘর দখল করে বসেছে। কারখানায় গিয়ে কর্মচারীদের ছাঁটাই করা শুরু করেছে এমন সময় অ্যাটর্নি অফিস থেকে চিঠি এসে হাজির এতদ্বারা জানান যাইতেছে যে, জনাব সােরেসেন জুনিয়র ভঁর যাবতীয় সম্পত্তি ইথিওপিয়ার ক্ষুধার্ত শিশুদের ক্ষুধা নিবারণের জন্যে দান করিয়াছেন। অতএব...।
মালিশার মা’র ব্যাপারেও সে রকম কিছু হয়েছে কিনা কে জানে। যদি সে রকম হয় তাহলে ফার্গো ফিরে আসার ভাড়াটাও থাকবে না!
Read more