সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২৪)

বুঝতে পারছিআপনার কি শরীর খারাপ ? এভাবে কথা বলছেন কেন? আমার শরীর ভাল নাআপনাকে একটি জরুরি ব্যাপারে টেলিফোন করছিবলুনআপনিতাে জানেন আমার এই বাড়ি এবং টাকা পয়সা সব আমি আমার মেয়ের নামে 

সবাই গেছে বনেউইল করে রেখেছিআপনি একজন উইটনেস। 

আমি জানিনিশানাথ বাবু নানান কারণে আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমার মনের মিল হয় নি। 

এই বয়সে সেটা তােলার কোনাে যুক্তি নেই আমিন সাহেব। 

আমিন সাহেব খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে থেমে থেমে বললেন, আমি আমার স্ত্রীর উপর একটা বড় অন্যায় করেছি নিশানাথ বাবুআজ আমি যদি মারা যাই সে পথের ভিখেরি হবে। 

আমিন সাহেব আপনার শরীর কি বেশি খারাপ? হ্যাআপনি কি একটু আসবেন আমি নতুন করে উইল করতে চাইআমি এক্ষুণি আসছিসব কাগজপত্র নিয়ে আসবনিশানাথ বাবু। 

বলুনআজ রুনকির জন্মদিনআমি জানিসকালেই মনে হয়েছে। 

আমিন সাহেব শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, আরেকটি কথা জিজ্ঞেস করি আপনাকে আনিস ছেলেটিকে কেমন মনে হয় আপনার

খুব ভাল ছেলেঅত্যন্ত রিলায়েবল। 

আমিন সাহেব টেলিফোন করলেন আনিসকেআনিস বেশ অবাক হলােআমিন সাহেব তাকে কখনাে টেলিফোন করেন নি আগে। 

সবাই গেছে বনে -পর্ব-২৪

আনিস তুমি আমাকে চিনতে পারছ ? আমি আমিনচিনতে পারছিকী ব্যাপার বলুনতাে? আমার মেয়েটির দিকে তুমি লক্ষ রাখবেআনিস অবাক হয়ে বললাে, আপনার কি শরীর খারাপ? হ্যাকী হয়েছে

আমি বুঝতে পারছি নাকিন্তু মনে হচ্ছে সময় শেষ হয়ে আসছেতুমি আমার মেয়েটির খোঁজ খবর রাখবেপ্লিজ

আমি আসছি এক্ষুণি। 

আমিন সাহেব দরজা খুলতেই দেখলেন রাহেলা দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছেরাহেলার চোখে মুখে স্পষ্ট ভয়ের ছাপরাহেলা বললেন, তােমার কী হয়েছে

আমিন সাহেব বললেন, রাহেলা, আমি মারা যাচ্ছিরাহেলা আমিন সাহেবের হাত ধরে ইজিচেয়ারে শুইয়ে দিলেনতােমার উপর খুব অবিচার করেছি রাহেলা । 

রাহেলা দ্রুত আমিন সাহেবের সার্টের বােতাম খুলে ফেললেনতার হাত কাঁপছেকী করবেন বুঝতে পারছেন নাআমিন সাহেব প্রচণ্ড ঘামছেন। 

রাহেলা, তুমি রাগ করাে নাএকটা বড় অন্যায় করা হয়েছে। 

রাহেলা দীর্ঘ দিন আগে মারা যাওয়া তার মাকে ডাক ছেড়ে ডাকতে লাগলেনআম্মা আম্মা। 

মালিশা গিলবার্ট তার মায়ের টাকা পেয়েছেটাকার পরিমাণ মালিশার ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেছেসলিসিটর যখন টেলিফোন করে বললাে, তােমার জন্যে দুটি খবর আছে, একটি ভাল একটি মন্দ কোনটি আগে শুনতে চাও

তখনাে মালিশা কিছু বুঝতে পারে নিসে বলেছে ভালটি আগে শুনতে চাইতােমার হার্টের অবস্থা ভালভাে? খবর শুনে ফেইন্ট হতে পার

সবাই গেছে বনে -পর্ব-২৪

খবর শুনে তার অবশ্যি তেমন কোনাে ভাবান্তর হয় নিবাড়িওয়ালীকে গিয়ে বলেছে, আমার মা মারা গেছেন, আমি ফ্লোরিডা যাচ্ছিতােমার রেন্ট আমি ফিরে এসে দেব| প্লেনে যাওয়ার মত টাকা নেই, গ্রে হাউন্ডের টিকিট কাটতে হলােপৌছতে লাগবে তেত্রিশ ঘণ্টাগ্রে হাউন্ডের বাস ছাড়বে রাত চারটায়

এমন লম্বা সময় কাটানােও এক সমস্যামালিশার বারবার মনে হচ্ছিল অ্যাটর্নি ভদ্রলােক হয়তাে ভুল করেছেমা হয়তাে নাম কামাবার জন্যে টাকা পয়সা সব দিয়ে গেছে ক্যানসার ইনস্টিটিউটে কিংবা কোনাে এতিমখানায়সেইসব কাগজপত্র হয়তাে অ্যাটর্নি ব্যাটা এখনাে দেখে নিনা দেখেই টেলিফোন করেছে। 

ফার্গো ফোরামেইতাে একবার রকম একটি খবর উঠলােকোটিপতি বাবা মারা গেছেখবর পেয়ে ছেলেরা মহানন্দে বাড়িঘর দখল করে বসেছেকারখানায় গিয়ে কর্মচারীদের ছাঁটাই করা শুরু করেছে এমন সময় অ্যাটর্নি অফিস থেকে চিঠি এসে হাজির এতদ্বারা জানান যাইতেছে যে, জনাব সােরেসেন জুনিয়র ভঁর যাবতীয় সম্পত্তি ইথিওপিয়ার ক্ষুধার্ত শিশুদের ক্ষুধা নিবারণের জন্যে দান করিয়াছেনঅতএব...। 

মালিশার মাব্যাপারেও সে রকম কিছু হয়েছে কিনা কে জানেযদি সে রকম হয় তাহলে ফার্গো ফিরে আসার ভাড়াটাও থাকবে না!

 

Read more

সবাই গেছে বনে- হুমায়ূন আহমেদ -(পর্ব-২৫)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *