চেস ম্যানহাটনে যাবার পথে ডেনিস বেয়ার শান্ত স্বরে বললাে, মিস মালিশা আমি বুঝতে পারছি আপনার খুব বিরক্তি লাগছে। কিন্তু উপায় নেই।
চেস ম্যানহাটনে আজ না গেলে হয় না ? না। আমি সব ব্যবস্থা করে রেখেছি।
মালিশা চুপ করে গেল। জিম বললাে, চমক্কার ওয়েদার তাই না মিস্টার বেয়ার ? ডেনিস বেয়ার সে কথার জবাব না দিয়ে মালিশার দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বললাে, আমার মনে হয়, আইবিএম–এ তােমার যে শেয়ার আছে সেগুলি বিক্রি করে ফেলা উচিত। আইবিএম ফল করতে শুরু করেছে। তুমি কি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পড়?
এখন থেকে নিয়মিত পড়বে। আমি একজন অ্যানালিস্টও ঠিক করে রেখেছি। সে সপ্তাহে একদিন এসে তােমাকে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাপারগুলি এক্সপ্লেইন করবে।
মালিশা শুকনাে গলায় বললাে, গাড়িটা একটু রাখতে বল, আমার বমি আসছে। গাড়ি থামাবার আগেই মুখ ভর্তি করে বমি করলাে মালিশা । আই অ্যাম সরি। সরি হবার কিছুই নেই। এখন কি ভালাে লাগছে ? নাহ্ বড় খারাপ লাগছে। প্লিজ আমাকে হােটেলে নিয়ে চল ।
ইন্টারস্টেটে আসা মাত্র হাইওয়ে পেট্রল পুলিশ গাড়ি থামালো। ফার্গো মুরহেড এলাকায় তুষার ঝড় হবার সম্ভাবনা প্রচুর বরফ পড়ছে। হাইওয়ে ক্লোজ করে দেয়া হয়েছে। টম নেমে এলাে গাড়ি থেকে।
সবাই গেছে বনে-শেষ-পর্ব
অফিসার, আমাকে যেতেই হবে। এই মেয়েটির বাবা মারা যাচ্ছে। এই সময় মেয়েটির তার বাবার কাছে থাকা দরকার।
রাস্তা অত্যন্ত খারাপ। অনেক গাড়ি স্কিড করে পথের পাশে পড়ে আছে।
আমি খুব কেয়ারফুল ড্রাইভার। বিশ মাইলের উপর স্পিড তুলবাে না, প্লিজ অফিসার প্লিজ।
তুমি বুঝতে পারছ না দারুণ রিস্কি ব্যাপার।
অফিসার প্লিজ! এই মেয়েটিকে আমি যে করেই হােক তার বাবার কাছে নিয়ে যেতে চাই।
গাড়ি চলছে খুব ধীর গতিতে। টম সমস্ত ইন্দ্রিয় সজাগ করে স্টিয়ারিং হুইলের উপর ঝুঁকে আছে। সে এক সময় শান্ত স্বরে বললাে, ভাল মত কম্বল জড়িয়ে নাও রুন। হিটিং কাজ করছে না।
রুনকি পায়ের উপর কম্বল টেনে দিল। কোনাে কথা বললাে না। টম নিচু ভলমে একটি ক্যাসেট চালু করেছে। রাতের বেলা গাড়ি চালাতে হলে ঘুম তাড়াবার জন্যে এটা করতে হয়। মিষ্টি সুরে পােলকা বাজছে। রুনকি জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে বাইরে। মাইলের পর মাইল ফাঁকা মাঠ। বরফের চাদরে ঢাকা পড়েছে সব। কী ভয়ংকর সুন্দর!
আনিস এসেছে একা একা ।।
তুষারপাত হচ্ছে। রাস্তা জনমানবশূন্য। থার্মোমিটারের পারা নিচে নামতে শুরু করেছে। স্ট্রিট লাইটের আলাে অস্পষ্ট হয়ে আসছে। কে জানে তুষার ঝড় হবে কি না। উত্তর দিক থেকে বাতাস দিচ্ছে। লক্ষণ মােটেই ভাল নয়। আনিস এমিলি জোহানের ঘরের কড়া নাড়লাে।
এমিলি জোহান তুমি কি আমাকে চিনতে পারছাে ? মেমােরিয়াল ইউনিয়নে তােমার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিলাে।
হা চিনতে পারছি। খুব কম মানুষের সঙ্গে আজকাল আমার দেখা হয়। আমি সবাইকে মনে রাখি।
সবাই গেছে বনে-শেষ-পর্ব
আমি একটা মেয়ের খোঁজ করছিলাম মালিশা গিলবার্ট। ওকে আমার বিশেষ প্রয়ােজন।
এমিলি জোহান শান্ত স্বরে বললাে, তুমি কি ওর জন্যে গােলাপ ফুল এনেছিলে। ল্যান্ড লেডি আমাকে বলেছিল।
আনিস জবাব দিল না। এমিলি জোহান থেমে থেমে বললেন, আমরা আমেরিকানরা খুব অদ্ভুত জাত। যখন কোনাে কিছু চাই মন প্রাণ দিয়ে চাই। যখন সেই জিনিসটি পাওয়া যায় তখন জীবন অর্থহীন হয়ে যায়।
আনিস কিছু বুঝতে পারলাে না। এমিলি জোহান থেমে থেমে বললেন, মালিশা গিলবার্ট ঘুমের অসুধ খেয়ে ঘুমিয়েছে। দীর্ঘ বিরতিহীন ঘুম। আনিস, তুমি কি আমার ঘরে এসে বসবে? নক্ষত্র নিয়ে আমি একটি চমৎকার কবিতা লিখেছি।
আনিস বেরিয়ে আসলাে। বরফে বরফে চারদিক ঢাকা পড়ে গেছে। একটি পরাজিত শহর।
তুষার ঝড় হবে। নিশ্চয়ই তুষার ঝড় হবে । আনিস পায়ে হেঁটে বাড়ির পথ ধরলাে। ভূতে পাওয়া শহরের জনশূন্য পথ ঘাট। কী অদ্ভুত লাগে হাঁটতে। ব্রডওয়ের কাছে ছাতা মাথায় একটি রােগা মেয়েকে দেখা গেল। সিগারেটের আলােয় তার ক্লান্ত মুখ চোখে ভাসলাে ক্ষণিকের জন্যে। মেয়েটি ক্ষীণস্বরে বললাে, হ্যালাে মিস্টার, কী নেস্টি ওয়েদার।
আনিস জবাব দিল না। মেয়েটি থেমে থেমে বললাে, আজ রাতের জন্যে তােমার কোনাে ডেট লাগবে ?
সবাই গেছে বনে-শেষ-পর্ব
নাহু ধন্যবাদ। মেয়েটি এগিয়ে এলাে তবু। মুখের সিগারেট দূরে ছুঁড়ে ফেলে সরু গলায় বললাে, তুমি কি আমার জন্যে এক মগ বিয়ার কিনবে ? কী দুঃসহ শীত।
একদিন এই দুঃসহ শীত শেষ হবে। আসবে রােদ উজ্জ্বল সামার । ছুটি কাটানাের জন্যে আমেরিকানরা গাড়ি নিয়ে নেমে আসবে হাইওয়েতে। মন্টানা, সল্ট লেক, ইয়েলাে স্টোন পার্ক । কত কিছু আছে দেখবার। সামারের রাতগুলি এরা বনের ধারে তাঁবু খাটিয়ে কাটাবে। প্রচণ্ড জ্যোৎস্না হবে রাতে। যুবক যুবতীদের বড় বনে যেতে ইচ্ছা করবে।
সবাই গেছে বনের সমস্ত চরিত্র কাল্পনিক। পাত্র–পাত্রীদের কাউকেই আমি কোনােদিন দেখি নি।
Read more