খালি পেটে ঘুমের ওষুধ খেলেও বমি হয়। হালকা স্ন্যাকস জাতীয় কিছু খেয়ে নেবেন। সব ট্যাবলেট খাওয়ার পর গরম কফি খেতে পারেন। এতে Action ভালাে হয়।
Get out! | আমি ইমরুলকে নিয়ে ‘গেট আউট হয়ে গেলাম। হাবিবুর রহমান সাহেব ঘুমের ওষুধ খাবেন কি-না বুঝতে পারছি না। সম্ভাবনা যে একেবারে নেই তা ফিফটি ফিফটি চান্স। মজার ব্যাপার হলাে মানব জীবনের সব সম্ভাবনাই | ফিফটি ফিফটি। বিয়ে করে সুখী হবার সম্ভাবনা কতটুকু?
ফিফটি ফিফটি চান্স । বড় ছেলেটি মানুষ হবে সেই সম্ভাবনা কত পারসেন্ট ? ফিফটি পারসেন্ট।
ইমরুলকে নিয়ে রিকশায় চড়েছি। সে খুবই আনন্দিত। আমি বললাম, কেমন আছিসরে ব্যাটা।
ভালাে। কতটুকু ভালাে আছিস হাত মেলে দেখা।
সে হাত মেলছে। মেলেই যাচ্ছে…
বুঝতে পেরেছি খুব ভালাে আছিস। দেখি এখন একটা গান শােনা ভালােবাসার গান। ভালােবাসার গান জানিস?
জানি। ইমরুল তৎক্ষণাৎ গান ধরল—
তুমি ভালােবাস কিনা আমি তা জানি না… ভালােবাসার গান ইমরুল এই দুই লাইনই জানে। শিশুদের নিজস্ব বিচিত্র সুরে সে এই গান করছে। রিকশাওয়ালা গান শুনে খুব খুশি। সে ঘাড় ঘুরিয়ে হাসিমুখে বলল– মাশাল্লাহ্, এই বিচ্ছু দেহি বিরাট গাতক।
সে আসে ধীরে খন্ড-২০
আমি বললাম, এই বিচ্ছু, বল দেখি আমরা কোথায় যাচ্ছি। ইমরুল বলল, জানি না। বিশেষ কোথাও যেতে ইচ্ছা করে ? ইমরুল বলল, না। মাকে দেখতে যাবি?
আসমা হক নামের একজন মহিলা ছিলেন যিনি তােকে নতুন জুতা কিনে দিয়েছেন, তার কাছে যাবি?
রিকশায় চড়তে আমার সব সময়ই ভালাে লাগে। আজ যেন একটু বেশি। ভালাে লাগছে। শুনছি ঢাকা শহর রিকশামুক্ত হবে। আমরা পুরােপুরি মেট্রোপলিটন সিটির যুগে প্রবেশ করব। শনশন করে গাড়ি চলবে। আধুনিক গতির যুগ। শনশন ঝনঝন।
উল্টোটা হলে কেমন হতাে। কেউ যদি এমন ব্যবস্থা করতেন যেন এ শহরে কোনাে গাড়ি না চলে। শুধু রিকশা এবং সাইকেল চলবে। কোনাে গাড়ি থাকবে।
পৃথিবীর একমাত্র নগরী যেখানে কোনাে গাড়ি নেই। রাস্তায় কুৎসিত হর্ন বাজবে না। জলতরঙ্গের মতাে টুনটুন করে রিকশার ঘন্টি বাজবে। নগরীতে কোনাে কালাে ধােয়া থাকবে না। পর্যটনের বিজ্ঞাপনে লেখা হবে–
সে আসে ধীরে খন্ড-২০
DHAKA
CITY OF RICKSHAW প্রতিটি রিকশার পেছনে বাধ্যতামূলকভাবে চিত্রকর্ম থাকতে হবে। ভ্রাম্যমাণ | চিত্রশালা। আমরা পেইনটিং দেখতে দেখতে রিকশায় চড়ে ঘুরব। মন্ত্রীদের। জন্যে থাকবে ফ্ল্যাগবসানাে রিকশা । প্রধানমন্ত্রীও রিকশায় করেই যাবেন। তার আগে পেছনে থাকবে সাইকেল আরােহী নিরাপত্তা-কর্মীরা। রিকশার কারণে গতির দিক দিয়ে আমরা পিছিয়ে যাব। সবদিক দিয়েই তাে পিছিয়ে পড়ছি। গতির দিকে পিছিয়ে পড়লে ক্ষতি কী ?
ইমরুল বলল, পিপি করব।
আমাদের রিকশা রাস্তার মাঝামাঝিতে। জামে জট খেয়ে গেছে। জট খুলবে। এমন সম্ভাবনা নেই। বাধ্য হয়েই ইমরুলকে রিকশার পাটাতনে দাঁড় করিয়ে প্যান্টের জিপার খুলে দিলাম। সে মহানন্দে তার কর্ম করছে । আশপাশের সবাই মজা পাচ্ছে। কৌতূহলী হয়ে দেখছে। একজন আবার গাড়ির কাচ নামিয়ে ফট করে ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলল। ছবিটা ভালাে হবার কথা। সুন্দর কম্পােজিশন।
ইমরুল বলল, আমি ছান্তা খাব।
ছাত্তা হলাে ফান্টা। সে বাংলা ভাষার প্রতিটি শব্দ স্পষ্ট করে বলতে পারে, তারপরও কিছু কিছু অদ্ভুত শব্দ সে তার ঝুলিতে রেখে দিয়েছে। ফান্টাকে বলবে ছাত্তা। গাড়িকে বলবে রিরি। শিশুদের মধ্যে এই ব্যাপারটা আছে। প্রথম শৈশবের কিছু শব্দ সে অনেকদিন ধরে রাখে। একদিন হঠাৎ সে এই শব্দগুলি ছেড়ে দেয়। আর কোনােদিন ভুলেও উচ্চারণ করে না। যে বিশেষ দিনে এই। ঘটনাটি ঘটে সেই বিশেষ দিনেই তার শৈশবের সমাপ্তি।
ইমরুলকে ছান্তা খাইয়ে আমি মাজেদা খালাকে টেলিফোন করলাম। তিনি টেলিফোনে আর্তনাদের মতাে শব্দ করলেন– তুই কোথায়?
আমি চমকে উঠে বললাম, আবার কী হয়েছে।
সে আসে ধীরে খন্ড-২০
তুই ডুব মেরে কোথায় ছিলি? আমি কম করে হলেও দশ হাজারবার তাের খোজে লােক পাঠিয়েছি।
গুরুতর কিছু কি ঘটেছে খালা? খালু সাহেবের জবান খুলেছে ? উনি কথা বলা শুরু করেছেন।
ও যেমন ছিল তেমন আছে । তােকে খুঁজছি অন্য কারণে। আসমার মাথা খারাপের মতাে হয়ে গেছে।
কেন ?
তুই একবার ইমরুলকে দেখিয়ে এনেছিস, তারপর আর তাের কোনাে খােজ নেই। বেচারি ছেলেটার জন্যে অস্থির হয়ে আছে।
টাকা-পয়সা ক্লিয়ার করে মাল ডেলিভারি নিয়ে যাক। মাল আমার সঙ্গেই আছে।
হিমু শােন, এ ধরনের ফাজলামি কথা তুই আর কোনােদিন বলবি না। কোনােদিন না।
আচ্ছা, বলব না। ছেলেটাকে তুই এক্ষুণি ওদের কাছে দিয়ে আয়। এই মুহূর্তে। এই মুহূর্তে ডেলিভারি দিতে পারব না।
কেন ? শেষ সময়ে বাবা–মা ঝামেলা করছে ? জানি এরকম কিছু হবে। শেষ মুহূর্তে দরদ উথলে উঠবে।
এই মুহূর্তে ডেলিভারি দিতে পারছি না, কারণ মিসেস আসমা হকের স্বামী আমাকে বলেছেন, তার স্ত্রীর ত্রিসীমানায় যেন আমি না থাকি। তার সঙ্গে ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত মাল ডেলিভারি হবে না।
বলিস কী! আসমার স্বামী বিগড়ে গেল কেন ? আসমা তাে আমাকে কিছু বলে নি।
এখন আমি কী করব বলাে।
আসমা ইমরুলকে দেখতে চাচ্ছে। তুই আসমার কাছে ওকে দিয়ে কেটে পড়।
Read More