বােকা মহিলাকে এইসব বুঝিয়ে লাভ নেই। সে সব আউলিয়ে ফেলবে। আপনি বরং আমার মেয়েকে বুঝিয়ে দিন ।
তাের মা সংসারের নানা কাজে ব্যস্ত থাকে— ওষুধপত্রের হিসাব মাথায় ঢুকবে না। এই ভেবে বলেছি।
এই ভেবে তুমি বলনি। তুমি মা’কে বােকা ভেবেই বলেছ। আমি ঠিক করেছি মা’র কাছে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত আমি তােমার ঘরে আসব না । কথা বলা তাে অনেক পরের ব্যাপার।
আফজল সাহেব বিস্মিত হয়ে বললেন, ক্ষমা চাওয়ার মত অপরাধ কি করলাম?
চিন্তা করে দেখ কি করেছ।
তুই এবং তার মা’র সমস্যা কি জানিস? তােরা একজন অসুস্থ মানুষকে যে চাপ দিতে পারিস পৃথিবীর আর কেউ তা পারে না। হার্ট এটাক হয়ে গেছে এমন একজন মানুষের সঙ্গে কথা কি করে বলতে হয় এটা তােরা জানিস না। আমার আসলে বাড়িতে আসাই উচিত হয় নাই। আমার উচিত ছিল হাসপাতালে পড়ে থাকা । তুই সামনে থেকে যা ।।
মীরু বাবার সামনে থেকে চলে এসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। বাবাকে আরাে কিছু কঠিন কথা শুনাতে পারলে তার ভাল লাগত। অসুস্থ মানুষ হিসেবে কিছু কনসেশন তাকে করা হল। ভয়ংকর কঠিন কথাগুলি শুনানাে
হল না।
রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৮)
পােশাক। তিনি মীরুকে বারান্দায় ডেকে নিয়ে গলা নিচু করে বললেন, মাগাে তােমার সঙ্গে কিছু কথা আছে।
মীরু বলল, বলুন কি কথা।
কথাগুলি তুমি দ্বিতীয় কোন ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করবে না। স্বপ্নের মাধ্যমে পাওয়া কথা। এইসব কথা বাতেনি পর্যায়ের। এইসব প্রকাশ হলে ক্ষতি হয়। আমারাে ক্ষতি হবে তােমারও ক্ষতি হবে।
বলুন কি কথা। আমি শুনছি।
ভদ্রলােক গলা নামিয়ে ফিসফিস করে বললেন, তােমার বাবা সম্পর্কে কথা। যে দিন ঘটনা ঘটবে সেই রাতে এশার নামাজের পর আমি শুয়েছি। শরীরটা খারাপ। রােজা করেছি এই জন্যেই শরীর খারাপ। তুমি শুনেছ নিশ্চয়ই আমি বছরে ছয় মাস রােজা রাখি। এই বয়সে এত কষ্ট করা উচিত
কিন্তু কি করব বল, এমন একজনের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়েছি। শরীরে না কুলালেও রােজা রাখতে হবে।
কার কাছ থেকে নির্দেশ পেয়েছেন? মাগাে সেটা বলা যাবে না। আমার গলা কেটে ফেললেও আমি বলতে পারব না। যাই হােক ঘটনা যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা শােন। বিছানায় যাওয়া মাত্র চোখ বন্ধ হয়ে গেল তখনি খােয়াবে উনাকে পেলাম। দেখামাত্রই চিনলাম। আগেও কয়েকবার দেখেছি।
কাকে দেখেছেন?
মাগাে তুমি শুধু ভেতরের কথা জানতে চাও। ভেতরের কথা তাে বলা যাবে না। আচ্ছা ঠিক আছে ইনার নামটা বলি— কথা একটাই কারাে কাছে প্রকাশ করবে না, খােয়াবে যাকে পেলাম তার নাম খােয়াজ খিজির রাজিআল্লাহুতালা আনহু। উনি দরিয়ার সম্রাট। দরিয়ায় দরিয়ায় থাকেন।
রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৮)
উনি কি বললেন?
তােমার বাবার কথা বলে আফসােস করলেন। বললেন, সামনে পরপর তিনটা বিপদ। প্রথমটা কাটান দেয়াই সমস্যা। প্রথমটা কাটান দেয়া গেলে বাকি দুটা কাটান দেয়া সহজ। আমি তখন স্বপ্নের মধ্যেই উনার পা চেপে ধরে বললাম, আপনাকে যখন পেয়েছি তখন দোয়া করে যান। উনিও দোয়া করবেন না আমিও ছাড়ব না এমন অবস্থা। রীতিমত ঝুলাঝুলি, যাই হােক শেষে উনার মন গলল। উনি বললেন, তাের কাছে আসাই ভুল হয়েছে ।
আফজল সাহেবের গ্রামের বাড়ির দূর সম্পর্কের আত্মীয়-স্বজনরা খুঁটি গাড়তে হবে এই চিন্তা-ভাবনা নিয়ে এসেছে বলে মনে হচ্ছে। প্রত্যেকের হাতে ব্যাগ, স্যুটকেস। বেশ কিছুদিন থাকার পরিকল্পনা। আশ্চর্যজনক ভাবে এদের অনেকেই আগে ভাগে স্বপ্নের মাধ্যমে এত বড় দুর্ঘটনা যে ঘটবে সেই বিষয়ে জেনে গেছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন আফজল সাহেবের চাচাতাে ভাই ইসমাইল হােসেন। তিনি ভাদরগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলের হেড মাস্টার। দেখে মনে হয় সুফি সাধক। মুখ ভর্তি চুল দাড়ি-গোঁফের জঙ্গল । চোখে সুরমা। গায়ে রবীন্দ্রনাথের আলখাল্লা টাইপ
হাত তােল দোয়া করি। দোয়া শেষ করলাম, আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। দেখি ঘরে খাটি মগনাভীর গন্ধ। এই হচ্ছে ঘটনা। তাকায়ে দেখ মা ঘটনার কথা বলতে গিয়ে হাতের লােম খাড়া হয়ে গেছে।
মীরু বলল, আমার বাবার মত ঘুষখাের একজন মানুষের জন্যে দোয়া করতে খােয়াজ খিজির এসে পড়বেন। এটা কি বিশ্বাসযােগ্য কথা?
রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-১৮)
ইসমাইল হােসেন অবাক চোখে বেশ কিছুক্ষণ মীরুর দিকে তাকিয়ে থাকলেন। নিজেকে সামলে নিয়ে হতভম্ব গলায় বললেন, মাগাে আমি কি মিথ্যা কথা বলছি? | মীরু বলল, অবশ্যই মিথ্যা কথা বলছেন। আমার বাবার মত বিরাট ঘুষখােরের জন্যে খােয়াজ খিজির আসবেন না। আমাদের বনানীতে একটা বাড়ি আছে। ঐ বাড়ি বানানাের প্রতিটি টাকা ঘুষের টাকা। বাড়ি বানানাে শেষ করার পর বাবা যখন বাড়ির নামের জন্যে আমার কাছে এলেন আমি বাবাকে বললাম– নাম দাও ঘুষ কুটির। সেই থেকে বাবার সঙ্গে আমার গণ্ডগােল ।
নিজের বাবা সম্পর্কে এইসব কি কথা বলছ মা?
সত্যি কথা সবার সম্পর্কেই বলা যায়। নিজের বাবা সম্পর্কে তাে আরাে বেশি বলা যায়। ভাল কথা, আপনি কি নাস্তা করেছেন?
চা-নাস্তা খেয়েছি।
তাহলে বাড়ি চলে যান। বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা কথা বলবেন না। মিথ্যা কথা আমার খুব অপছন্দ। আপনি একেবারে মৃগনাভীর গন্ধ পেয়ে গেলেন। মৃগনাভির গন্ধ কখনাে শুকেছেন?
Read more