হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-২৮)

আকাশ ঘন নীল । 

আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় চোখে নীল সানগ্লাস পরে আকাশ দেখা হচ্ছেমীরু বলল, আকাশ কী রকম নীল দেখেছেন? হালকা নীলকে আমরা বলি আকাশী নীলকিন্তু আসলে আকাশের নীল অনেক গাঢ়।

রোদনভরা এ বসন্ত 

নাসের কিছু বলল না। হাসল মীরু বলল, নীল দিয়ে শুরু হয়েছে এমন একটা গানের কলি বলুন 

কোন ব্রান্ডের সিমেন্টের কত দাম সেটা বলতে পারব রডের দাম বলতে পারব। 

মীরু বলল, বারসাত যেমন ইন্টারেস্টিং একজন মানুষআপনিও সে রকম ইন্টারেস্টিং একজন মানুষ। 

থ্যাংক ইউ। মীরু বলল, আপনার ঘড়িতে কটা বাজে একটু দেখবেন? নাসের বলল, একটা দশমীরু বলল, এতক্ষণে ওর চলে আসা উচিত না? রাস্তায় প্রচুর জ্যামএই জন্যেই আসতে দেরি হচ্ছে। 

মীরু বলল, কাজি অফিসে ছেলে মেয়ে দুজনকেই আসলে একসঙ্গে আসা উচিতএকজন যদি আগে এসে অপেক্ষা করে তাহলে তার খুব খারাপ লাগে। 

নাসের বলল, বারসাত সাহেব একবার সারাদিন আপনার জন্যে অপেক্ষা করেছেন। আপনিও না হয় কিছুক্ষণ করলেনআমি একটা কাজ করতে পারি। আমার গাড়িটা তাকে আনার জন্যে পাঠাতে পারিপাঠাব

আমার ক্ষিধে লেগেছে। আপনি বরং কিছু খাবার ব্যবস্থা করুনকী খাবেন? মিনি সিঙাড়াসেটা কী জিনিস

সবচেছােট সাইজের সিঙাড়া। যে কারিগর এই সিঙাড়া বানায় তার নাম নেকমর্দআমি দোকানটা চিনিয়ে দিচ্ছি। আপনি নিয়ে আসুনআমি বারসাতের জন্যে অপেক্ষা করি। 

নাসের মীরুকে চমকে দিয়ে আনন্দিত গলায় বলল, মনে পড়ছেমীরু বলল, কী মনে পড়েছে? 

নীল দিয়ে শুরু কবিতার লাইন“নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাই আর নাহিরে।| মীরু বলল, এই তাে পারলেননাসের বলল, আরেকটা মনে পড়েছেএইটা অবশ্যি গান– “নীল কবুতর লয়ে নবীর দুলালী মেয়েনজরুল গীতিগানটা শুনেছেন? 

রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-২৮)

নাসের বলল, বলতে পারব নাআমি আসলে এত মন দিয়ে গান শুনি না। 

গান না পারলে কবিতার লাইন বলুন যেটা শুরু হয়েছে নীল দিয়ে। 

আমি পারছি নাবারসাত সাহেব নিশ্চয়ই পারতেনতাই না? হা ও পারত। দুনিয়ার কবিতা ওর মুখস্ত । 

নাসের বলল, আমি টেকো মাথার এক ব্যবসায়ীপৃথিবীর সমস্ত ফাইনার ফিলিংস থেকে অনেক দূরে বাস করিএকেক জনের একেক লাইন। আমি যা বলতে পারব বারসাত সাহেব কিন্তু তা পারবেন নাহাজার চেষ্টা করলেও পারবেন না। 

আপনি কী বলতে পারবেন?  

সাহেব চলে আসবেনতিনি অবাক হয়ে দেখবেন আপনি একা একা হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছেনতাঁর কাছে অদ্ভুত লাগবেগল্পটা বলব

বলুন। 

না থাককেন জানি মনে হচ্ছে আপনাকে হাসাতে পারব নাআমি যাই সিঙাড়া নিয়ে আসি। আপনি কি লক্ষ্য করছেন— আকাশের নীল রঙটা কমে আসছে। মেঘ জমতে শুরু করেছেবিকাল চারটার দিকে দেখবেন বৃষ্টি নামবে। 

মীরু কিছু বলল না। আকাশের দিকে তাকাল। আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছেএই মেঘ দেখতে ভালাে লাগছে নামােটেও ভালাে লাগছে।

আরেকটা মনে পড়েছেএবারে রবীন্দ্র সংগীত । বলব? 

বলতে হবে না। আপনি প্রথমে বললেন, আপনি টেকো মাথার এক ব্যবসায়ী, ফাইনার ফিলিংস থেকে অনেক দূরে বাস করেনকিছুই বলতে পারবেন নাএখন একের পর এক বলে যাচ্ছেন। এর মানে কী

রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-২৮)

নাসের হাসল। 

মীরু রাগী গলায় বলল, হাসবেন নাশুরুতে আপনি মূখ সাজার ভান করেছিলেনআমার সঙ্গে ভান করবেন নাআমি ভান পছন্দ করি না। 

রাগ করছেন? সামান্য করেছি। 

রাগ করিয়ে দেই? হাসির কোনাে একটা গল্প বলে আপনাকে হাসিয়ে দেই

কোনাে দরকার নেই। 

আমি আপনাকে রাগিয়েছিরাগ কমানাের দায়িত্বও তাে আমারগল্পটা বলিএক ভদ্রমহিলা তার ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেনবৌ ফিজিক্সে M.Sc. ছেলের বৌকে নিয়ে শাশুড়ির অহংকারের শেষ নেইবাড়িতে যেই আসে তার সঙ্গেই বৌ-এর জ্ঞানের গল্প করেনএকদিন হয়েছে কী বাড়িতে অনেক মেহমান এসেছেশাশুড়ি যথারীতি বৌএর প্রশংসা করছেন; এমন সময় চায়ের ট্রে হাতে বউ ঢুকলশাশুড়ি দেখলেন চায়ে পিঁপড়া ভাসছেতিনি বললেন, একি বৌমা চায়ে তাে পিপড়া ভাসছে।

 

Read more

হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত শেষ পর্ব

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *