হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-৫)

যাই হােক ওষুধ কিনতে গিয়ে দেখে ফার্মেসির সামনে এক লােক মেঝেতে বসে ফটোগ্রাফ দেখে দেখে পেনসিলে ছবি আঁকছেওয়ান ফুট বাই ওয়ান ফুট ছবি এঁকে দেয়, একশকরে টাকা নেয়। বারসাত লােকটার পাশে বসে পড়লদু’ঘণ্টা ছবি আঁকা দেখলতারপর কাগজের দোকান থেকে কাগজ কিনল, পেনসিল কিনলমেসে ফিরে নিজের পাসপাের্টের ছবি দেখে একটা ছবি আঁকল। খুবই সুন্দর হল ছবিটাএই তার শুরু।

রোদনভরা এ বসন্তছেলের ধৈর্য আছে। 

এটা ধৈর্য না এর নাম ক্ষমতাকোনাে কিছু করতে হলে শুধু ধৈর্যে হয় নাক্ষমতা লাগে। বারসাত ছবি আঁকার ক্ষমতা নিয়ে এসেছেনিজে 

হুঁ। 

কী সর্বনাশ! তুই তওবা কর তওবা করার মতাে কোনাে পাপ করিনি ফুপু। 

বেগানা পুরুষের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছিস এটা পাপ না? আমার তাে এখন সন্দেহ হচ্ছে তােরা গা ঘেঁষাঘেঁষি করে রিকশায় বসেছিস। 

তােমার সন্দেহ ভুল না ফুপু আমরা প্রায়ই রিকশায় চড়িগায়ের সঙ্গে গা লাগে? 

বুঝতে পারেনিতবে সে পােট্রেট ছাড়া আর কিছু করে নাযে পােট্রেট এত ভালাে পারে সে সব কিছুই পারবে অথচ সে করবে না। তার না কি মানুষের মুখ ছাড়া অন্য কিছু আঁকতে ভালাে লাগে নাফুপু তাকে দিয়ে তােমার একটি ছবি আঁকাবে? বােরকা ছাড়া ছবি

রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-৫)

ফাজলামি করিস না তাে। 

আচ্ছা ঠিক আছে ছবি না আঁকালেতার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বল। কথা বলাতে তাে দোষ নেই। 

কথা বললে কী হবে

কিছুক্ষণ কথা বললেই তাকে আপন মনে হবে। মনে হবে সে বাইরের কেউ না, ঘরের মানুষ। সে তিনটা প্রাইভেট টিউশনি করেযে সব বাচ্চাদের সে পড়ায় তাদের মায়েদের সঙ্গে ওর খুবই খাতিরমায়েরা তাকে প্রায়ই খবর দিয়ে নিয়ে যায়। তাকে নিয়ে শপিং-এ যায়এটাওটা কাজ করায়যে কোনাে কাজ তাকে দাও সে নিখুঁতভাবে করবেতার এক ছাত্রীর নানির চোখ অপারেশন হবে মাদ্রাজেবারসাত একা তাঁকে নিয়ে মাদ্রাজ থেকে চোখ অপারেশন করে চলে এসেছেমানুষটাকে তােমার 

এখন কেমন লাগছে ফুপু

নাই কাজ খই ভাজ টাইপ লাগছে। এক ধরনের মানুষই আছে যাদের নিজের কোনাে কাজ থাকে না তারা কাজের জন্যে অন্যের ওপর লেপ্টে থাকে। 

ঠিক বলেছ ফুপু । বিয়ের পর আমি ওর এই অভ্যাস ঠিক করাব। 

বিয়ে মানে? বিয়ের কথা আসছে কেন? তুই কি গাধাটাকে বিয়ের কথা ভাবছিস

মীরু তুই বুঝতে পারছিস না, এরকম কিছু করলে কিন্তু বাসায় গজব হয়ে যাবে। 

গজব যাতে না হয় তুমি সেই চেষ্টা চালাবেতুমি কাজ করবে আমার হয়েতুমি হবে আমার স্পাই । ঘরের শত্রু বিভীষণ। 

আমি কেন তাের হয়ে কাজ করতে যাব? 

কারণ তুমি আমার অতি আদরের ফুপুআমি তােমাকে পছন্দ করিতুমিও আমাকে পছন্দ করফুপু দেখ তাে বিয়ের দিন আমি এই শাড়িটা পরব ঠিক আছে না

মােটেই ঠিক নেইবিয়ের দিন সাদা শাড়ি কেউ পরে? সাদা হল বিধবাদের রঙ। 

পশ্চিম দেশের সব মেয়েরা বিয়েতে সাদা পােশাক পরেতাছাড়া শাড়িটা পুরােপুরি সাদাও নামাঝে মধ্যে লালসবুজের খেলা আছে। 

রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-৫)

তুই তাে পশ্চিমা মেয়ে না তুই বাঙালি মেয়েবিয়ের দিন তুই পরবি টকটকে লাল রঙের শাড়ি। 

তুমি পাগল হয়েছ? লাল শাড়ি পরে আমি কাজির অফিসে যাব নাকি? এক কাজ কর, শাড়ির উপর বােরকা পরে ফেল। তাহলে কেউ বুঝবে এই বুদ্ধি খারাপ নাঘােমটার নিচে খেমটা নাচ। 

কাল্পনিক কথােপকথন আর ভাল লাগছে নাএখন সত্যি সত্যি কারাে সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করছেরুনির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলা যায়সে মনে হয় রাতে ঘুমায় নামীরু যত রাতেই টেলিফোন করুক দুটা রিং বাজার আগেই রুনি টেলিফোন ধরে সহজ গলায় বলবে- ‘হ্যালাে। টেলিফোনটা থাকে বড় খালার ড্রয়িং রুমেদুটা রিং হবার সঙ্গে সঙ্গে টেলিফোন ধরতে হলে ড্রয়িং রুমে বসে থাকতে হয়মীরার ধারণা তার বড় বােন রাত এগারােটার পর ড্রয়িং রুমেই চুপচাপ বসে থাকে। যার সঙ্গে ডিভাের্স হয়ে গেছে তার টেলিফোন কলের জন্যে অপেক্ষা। সেই কল আর আসে না। 

মীরা টেলিফোন করলএকবার রিং হবার পরই রুনি মিষ্টি গলায় বলল, হ্যালাে । 

হুঁ মানে? হুঁ মানে Yes. আমি ঐ লােকটাকে কাজির অফিসে বিয়ে করব। 

আমি তাের বিয়ে ঠিক করে রেখেছিছেলের নামজাহাঙ্গীর হীরের টুকরাে ছেলেতুই কাজি অফিসে কেন বিয়ে করবি। 

রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-৫)

কাজি অফিসে বিয়ে করব কারণ আমি জাহাঙ্গীর সাহেবকে বিয়ে করছি অন্য একজনকে বিয়ে করছিহীরা আমার পছন্দের পাথর নাআমার হন্দের পাথর হল রেললাইনের পাথর। 

আমি মীরাআপা তুমি জেগে আছ? 

লােকের কি টেলিফোন করার কথা

কারােরই টেলিফোন করার কথা নাঘুম আসছে না বলে জেগে আছিতুই জেগে আছিস কেন

আমি কেন জেগে আছি তা তােমাকে বলতে পারি কিন্তু তুমি সঙ্গে সঙ্গে সেটা চারদিকে রাষ্ট্র করে দেবে, আমার হবে অসুবিধা। 

মীরা বাসার খবর কি? বাসার খবর ভাল বাবা আমাকে ত্যাজ্য কন্যা করেছেন এটা কি সত্যি? হুঁ, সত্যি তার মানে আমি বাবার বিষয়-সম্পত্তি কিছুই পাব না

তুই এত সহজভাবে না বলতে পারলি? তাের একটুও খারাপ লাগল 

করবেন না। এমন একটা ভাব ধরবেন যেন এরকমই হবার কথা ।

Read more

হুমায়ন আহমেদ এর রোদনভরা এ বসন্ত (পর্ব-৬)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *