অমানুষ পর্ব – ১০ হুমায়ূন আহমেদ

অমানুষ পর্ব – ১০

তোমার সঙ্গে কিছুদিন হয়তো আমার দেখা হবে না। আমি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে শরীর সারাবার জন্যে অনেক দূরে কোথাও যাব। তারপর আবার ফিরে আসব।ও।ফিরে আসব প্রতিশোধ নেবার জন্যে। আবার আমাদের দেখা হবে।ভিকির চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল। জামশেদ তাকিয়ে রইল। তার চোখ পাথরের চোখের মতো।

সে-চোখে ভালোবাসা, স্নেহ, মমতা এইজাতীয় অনভূতির কোনো ছায়া পড়ে না। সে মৃদুস্বরে দ্বিতীয়বার বলল, আমি আবার ফিরে আসব।রাত প্রায় দুটোর দিকে এতরার শোবার ঘরের টেলিফোন বেজে উঠল। এত রাতে অকাজে কেউ ফোন করে না, নিশ্চয়ই জরুরি কিছু। এতরা বিছানা ছেড়ে উঠে এল। সে প্রায় ঘুমিয়েই পড়েছিল। টেলিফোনের শব্দে জেগেছে।হ্যালো, আমি এতরা, কাকে চান?

আপনাকেই চাই।

আপনি কে বলছেন?

ওপাশ থেকে সাড়া পাওয়া গেল না। কিন্তু গলার আওয়াজ শুনে মনে হয় বিদেশী কেউ। ভাঙা-ভাঙা ইতালিয়ান বলছে।হ্যালো, কে আপনি? আমি কে সেটা জানা কি খুব প্রয়োজন তারচে বরং কীজন্যে টেলিফোন করেছি সেটা বলে ফেলি।আমাকে কিছু বলতে হলে আগে আপনার পরিচয় দিতে হবে। রাতদুপুরে এভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলা যায় না। কে আপনি? ওপাশের লোকটি সে-প্রশ্নের জবাব দিল না। অপ্রাসঙ্গিকভাবে বলল, বারো বছরের অ্যানি নামের কোনো মেয়েকে চেনেন?

আপনি কে? বারো বছরের ঐ মেয়েটির খুব রহস্যময়ভাবে মৃত্যু হয়েছে।কে আপনি? আমি ঐ মেয়েটির একজন বন্ধু। আমার নাম জামশেদ। চিনতে পারছেন? এতরা একবার ভাবল টেলিফোন নামিয়ে রাখে। কিন্তু তাতে লাভ হবে কি? লোকটি আবার টেলিফোন করবে।রহস্যময় কিছু তো আমি জানি না। মেয়েটি মারা পড়েছে কিডন্যাপারদের হাতে। এবং আমি যতদূর জানি ওর মৃত্যুর জন্যে তুমি বহুলাংশে দায়ী। তুমি ছিলে মেয়েটার দেহরক্ষী। তুমি তাকে রক্ষা করতে পারনি। ঠিক না?

অমানুষ পর্ব – ১০

ঠিক।আজ তার মৃত্যুর পর বন্ধু সেজেছ এবং রাতদুপুরে টেলিফোন করে আমাকে বিরক্ত করছ? তা অবিশ্যি করছি। এবং করার একটি কারণ আছে।কী কারণ? কারণ হচ্ছে–আমার ধারণা মেয়েটির মৃত্যুর সঙ্গে তোমার যোগ আছে। হ্যালো, টেলিফোন রেখে দিচ্ছ নাকি? না।আমি তোমাকে এর জন্যে খানিকটা শাস্তি দিতে চাই।তুমি কোত্থেকে টেলিফোন করছ?

কেন, পুলিশে খবর দিতে চাও? সেটা মনে হয় খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। শোনো এতরা–।এতরা টেলিফোন নামিয়ে রাখল। লোকটা নিশ্চয়ই আবার টেলিফোন করবে। পুলিশকে বলা দরকার যাতে পুলিশ কলটি কোত্থেকে করা হচ্ছে তা ধরতে পারে। পাবলিক বুথ থেকে করা হলে ধরা যাবে না। তবে জানা যাবে কলটি কোন এরিয়া থেকে আসছে।এতরা নাম্বার ডায়াল করল তবে পুলিশের কাছে নয়। হাসপাতালে। সিটি হসপিটাল।রিসিপশান, আমি একজন রুগি সম্পর্কে জানতে চাই। আমি খুবই উদ্বিগ্ন।

এক্ষুনি জেনে দিচ্ছি।

ওর নাম জামশেদ। বিদেশী।

বেড নাম্বার এবং কেবিন নাম্বার?

সেটি ঠিক বলতে পারছি না।

ঠিক আছে, ধরে রাখুন। ডিউটি রেজিস্টার দেখে বলছি।এতরা টেলিফোন কাঁধে নিয়েই নিজের জন্যে একটি মার্টিনি বানাল। ওদের নাম খুঁজে বের করতে সময় লাগবে।হ্যালো! বলুন শুনছি।আপনি যে-রুগির কথা জানতে চেয়েছেন সে তো ডিসচার্জ নিয়ে চলে গেছে।ও, তা-ই বুঝি? কবে? আজ সকালেই।ধন্যবাদ। যাবার সময় কোনো ফরওয়ার্ডিং অ্যাড্রেস রেখে গেছে কি? চিঠিপত্র এলে যাতে ঐ ঠিকানায় পাঠানো যায়?

না, এরকম কিছু নেই।আচ্ছা, ঠিক আছে। অসংখ্য ধন্যবাদ।এতরা টেলিফোন রেখে দিল। ব্যাপারটা ক্যানটারেলাকে জানানো উচিত। ক্যানটারেলা মাঝারি ধরনের বস। মাঝারি ধরনের হলেও তার যোগাযোগ ভালো।বিশেষ করে কিছুদিন ধরেই ভিকামডিয়ার সঙ্গে তার খুব ভালো সম্পর্ক যাচ্ছে।

অমানুষ পর্ব – ১০

প্ৰথম দিকে এটাকে সবাই গুজব বলেই মনে করত কারণ ভিকানডিয়া মাঝারি ধরনের কারো সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করে না। কিন্তু এটা গুজব নয়–সত্যি।এতরা ঘড়ি দেখল। দুটো ত্রিশ। রাত অনেক হয়েছে। তবু ক্যানটারেলাকে পাওয়া যাবে। রাত দুটো পর্যন্ত সে থাকে জুয়ার আড্ডায়। বাড়ি ফেরে তিনটায়, ঘুমুতে যায় চারটায়। ঘড়ি-ধরা কাজ। খানিক ইতস্তত করে টেলিফোন ডায়াল করল।হ্যালো, কে?

আমি এতরা।এতরা? এত রাতে কী ব্যাপার? একটা সমস্যা হয়েছে আমার।সমস্যা? কী সমস্যা? জামশেদ নামের ঐ লোকটি আমাকে টেলিফোনে ভয় দেখিয়েছে।একটা মেয়েকে তুমি রেপ করে মেরে ফেলবে আর কেউ তোমাকে ভয়ও দেখাতে পারবে না? এতরা শুকনো গলায় বলল, ব্যাপারটা সেরকম না।সেরকম না মানে? এটা একটা অ্যাকসিডেন্ট।তা-ই বুঝি?

ক্যানটারেলা উচ্চস্বরে হাসল। মদ খেয়ে টং হয়ে আছে নিশ্চয়ই। এতরা নিচুস্বরে বলল, ভিকানডিয়া বলেছেন তিনি ব্যাপারটা সামলে দেবেন।সামলানো তো হয়েছে। হয়নি? কোনো পুলিশ রিপোর্ট হয়নি। কেউ গ্রেফতার হয়নি। তোমার নাম পর্যন্ত কেউ জানে না। ঠিক কি না? হুঁ তা হলে চিন্তা করছ কেন? ঐ টেলিফোনটার জন্যে চিন্তা করছি।শোনো, এখন থেকে চলাফেরা করবার সময় বডিগার্ড নিয়ে চলাফেরা করবে, ব্যস। দু-তিনজন লোক সাথে থাকলেই নিশ্চিন্ত।

আচ্ছা, তা-ই করব।এতরা, একটা কথা।বলুন।বারো বছরের মেয়েটির সঙ্গে ঐ কর্ম করবার সময় তোমার কেমন লেগেছিল? অভিজ্ঞতাটা কি আনন্দদায়ক ছিল? ক্যানটারেলা টেলিফোন ফাটিয়ে হাসতে লাগল যেন খুব একটা মজার কথা। এতরার ইচ্ছা করছিল টেলিফোন নামিয়ে রাখতে, কিন্তু তা করা যাবে না। এমন কিছুই করা যাবে না যা ক্যানটারেলাকে রাগিয়ে দিতে পারে।হ্যালো, এতরা।বলুন।আমরা খারাপ লোক সবাই জানে। কিন্তু তুমি একটা নিম্নশ্রেণীর অপরাধী। কেঁচোজাতীয়। বুঝতে পারছ?

অমানুষ পর্ব – ১০

পারছি।একজন অপরাধী অন্য অপরাধীকে বাঁচিয়ে রাখে। এইজন্যই তোমাকে প্রোটেকশন দেয়া হয়েছে।এইসব কথা কি টেলিফোনে বলা ঠিক হচ্ছে? কেন, পুলিশ শুনে ফেলবে? টেলিফোন কানে নিয়ে বসে থাকা পুলিশের কাজ নয়। আর তা ছাড়া পুলিশের বড়কর্তা এবং ছোটকর্তাকে কী পরিমাণ টাকা আমরা দিই সে সম্পর্কে তোমার ধারণা আছে?

না।না থাকাই ভালো।ক্যানটারেলা টেলিফোন নামিয়ে রাখল খট করে। বাকি রাতটা এতরার কাটল না ঘুমিয়ে। পরপর চার গ্লাস রাম খেল এবং ভোরের দিকে বাথরুম বমি করে ভাসিয়ে দিল। দিনটি শুরু হচ্ছে খারাপভাবে।

মঙ্গলবার হচ্ছে এতরার মাদারস ডে। প্রতি মঙ্গলবার মায়ের কাছে তাকে ঘণ্টা তিনেক কাটাতে হয়। দুপুরের লাঞ্চ খেতে হয়। হাসিমুখে কথা বলতে হয়। এবং মায়ের কাছে প্রতিজ্ঞা করতে হয় এর পরের রোববার থেকে সে নিয়মিত চার্চে যাবে।এই মঙ্গলবারেও বুড়িকে দেখা গেল বাড়ির সামনে, বারান্দায় ছেলের জন্যে অপেক্ষা করছে। বুড়ির মুখ অত্যন্ত গম্ভীর।এতরা, এত দেরি কেন আজকে?

বেশি দেরি তো নয় মা। আধঘন্টা।আধঘন্টাও অনেক সময়। এগারোটার আগেই তোমার আসার কথা। এখন বাজে এগারোটা চল্লিশ।মা, আমি খুব দুঃখিত। আর দেরি হবে না।কফি বানিয়ে রেখেছিলাম। জুড়িয়ে পানি হয়ে গেছে বোধ করি। কফি খাব না মা। কেন? কফি খাবে না কেন? শরীর খারাপ নাকি? না, শরীর ঠিক নেই। কেমন শুকনো দেখাচ্ছে। দেখি, গায়ের টেম্পারেচার দেখি! এই তো জ্বরজ্বর মনে হচ্ছে।জ্বর নয়। রোদের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে এসেছি তাই গা-গরম লাগছে।

এতরা, তুমি মিথ্যা কথা বলে আমিকে ভোলাতে চেষ্টা করছ। এটা ঠিক না। চাদর দিচ্ছি শুয়ে পড়ো।মা, তুমি শুধুশুধু ব্যস্ত হচ্ছ! আমি মোটেই শুধুশুধু ব্যস্ত হচ্ছি না। তোমাকে যা করতে বলছি, করো। আমাকে রাগিও না।এতরাকে চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়তে হল। বুড়ি বড় এক পেয়ালা কফি হাতে নিয়ে তার সামনে চেয়ার টেনে বসল।তুমি চার্চে যাওয়া শুরু করেছ?

অমানুষ পর্ব – ১০

এতরা জবাব দিল না! এখনও শুরু করনি। ইদানীং তোমাকে নিয়ে একটা দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। আমার মনে হয় তোমার চার্চে যাওয়া শুরু করা উচিত।কী দুঃস্বপ্ন দেখেছ? দেখলাম তুমি রাস্তা দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছ। তোমার গায়ে কোনো কাপড় নেই। তোমাকে তাড়া করছে একজন মানুষ। ওর হাতে প্রকাণ্ড একটা ভোজালি।যে তাড়া করছে সে কেমন লোক?

স্বপ্নের ভেতর সবকিছু এত স্পষ্ট দেখা যায় না। আমি শুধু ভোজালিটা দেখলাম।লোকটা কি বিদেশী? গায়ের রং কেমন? বুড়ি ঠাণ্ডাস্বরে বলল, এত উত্তেজিত হচ্ছ কেন? তোমার কি কোনো বিদেশীর সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে? না, ঝামেলা হবে কেন? কফি দাও।বুড়ি কফি পারকুলেটর চালু করে তার ছেলেকে তীক্ষ্ণচোখে দেখতে লাগল। এতরা ঘামছে। চোখের দৃষ্টি অন্যরকম। নিশ্চয়ই কোনো ঝামেলায় জড়িয়েছে।

এঞ্জেল ফসিলো লোকটি খর্বাকৃতির। চোখের মণি ঈষৎ সবুজ। দলের কাছে সে বিড়াল ফসিলো নামে পরিচিত। বিড়ালের একটি গুণ তার আছে, সে অসম্ভব ধূর্ত! মাফিয়াদের মধ্যে নিম্নশ্রেণীর বুদ্ধিবৃত্তির লোকজনই বেশি। এরকম ধুর্তের সংখ্যা কম। বস ভিকানডিয়া তাকে একটু বিশেষ স্নেহের চোখে দেখেন এই একটিমাত্র কারণেই। ধূর্ত মানুষ সাধারণত সাহসী হয় না। ফসিলোও সাহসী নয়। তবে তার সাহসের একটা ভান আছে। অকারণে মা’রপিট শুরু করে। কথা বলে অত্যন্ত উদ্ধত ভঙ্গিতে। যে-কোনো বিপজ্জনক কাজে আগ বাড়িয়ে যাওয়ার উৎসাহ দেখায়। সাহসের অভাব গোপন রাখবার যথাসাধ্য চেষ্টা করে।

আজ এঞ্জেল ফসিলোকে খুব খুশি-খুশি দেখাচ্ছে। খুশির কারণ রহস্যাবৃত। বস। ভিকামডিয়ার সঙ্গে আজ বিকেলে কিছু কথাবার্তা হয়েছে। টেলিফোনে নয়, মুখোমুখি। এটি ফসিলোর খুশির কারণ হতে পারে। কারণ ভিকনিন্দ্রিয়া তার ভিলায় কাউকে ঢুকতে দেন না এবং মুখোমুখি কারো সঙ্গে কথা বলেন না। বসদের নানানরকম সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। নিজের লোকদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখতে হয়।

অমানুষ পর্ব – ১০

ভাগ্যবান কয়েকজনই শুধু অল্প সময়ের জন্যে তার দেখা পায়। ফসিলো সম্ভবত ভাগ্যবানদের দলে পড়তে শুরু করেছে। এটা খুশি হবার মতোই ঘটনা।এঞ্জেল ফসিলো শিস দিতে দিতে গাড়ি থেকে নামল। তার গাড়িটা ছোট। কালো রঙের টু-সিটার। অন্য সবার মতো দরজা লক করল না। কারণ গাড়িচুরির মতো অপরাধ যারা করে তারা সবাই ফসিলোর টু-সিটারটা ভালোভাবে চেনে। এতে তারা হাত দেবে না।

ফসিলো গম্ভীর ভঙ্গিতে এগিয়ে গেল। এটি একটি নতুন নাইট ক্লাব। মেক্সিকান এক ব্যবসায়ী এ-মাসেই চালু করেছেন এবং অল্পদিনের মধ্যেই জমিয়ে ফেলেছেন। প্রচুর ভিড় হচ্ছে। এত অল্প সময়ে নাইট ক্লাবটি জমে যাওয়ার মূলে আছে দুটি মেক্সিকান যুবতী। এতরা প্রত্যেকেই অসম্ভব রূপসী। প্রতি রাতেই তিনটে শো করে। নাচের শো। নাচের পোশকি বিচিত্র। সমস্ত গা ঢাকা থাকে কিন্তু সবার ব্য-সুনটি থাকে নগ্ন। এই বিচিত্র পোশাক সবার কাছে যথেষ্ট আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।

ফসিলোকে ঢুকতে দেখেই নাইট ক্লাবের মানেজার হাসিমুখে এগিয়ে এল।সিনোর ফসিলো যে! কী সৌভাগ্য! আসুন আসুন।ফসিলো ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে লাগল। স্টেজ অন্ধকার হয়ে আসছে। নাচ শুরু হবে এখনই ৷ ফসিলো মৃদুস্বরে বলল, এক লুক দেখিয়েই শুনলাম পুরুষদের পাগল করে দেয়া হচ্ছে।হ্যাঁ হ্যাঁ সিনোর, দুটো খুলে দিলে কি আর রহস্য থাকে?

সব রহস্যই হচ্ছে অর্ধেকে। এখন বলেন, কী দিয়ে আপনার সেবা করতে পারি।আমি কোথায় থাকি জানেন? জানি না, কী বলেন! ফমি ভিলায়। ঠিক বলেছি তো? ঠিক। ঐখানে আপনাদের নাচের মেয়েদের একজনকে আজ রাতে পাঠাবেন।কিন্তু সিনোর, ওরা ঠিক ঐ ধরণের কাজ করে না। ওরা আসলে নাচতেই এসেছে। ভদ্র পরিবারের মেয়ে, সিনোর।আপনার শো শেষ হয় কটায়?

অমানুষ পর্ব – ১০

এই ধরেন দু’টায়, কোনো কোনো রাতে তিনটে বেজে যায়।ঠিক আছে, তিনটের পরই পাঠাবেন।ফসিলো তার সবুজ চোখ দিয়ে অন্যরকম ভঙ্গিতে তাকাল ম্যানেজারের দিকে। ম্যানেজার সঙ্গে সঙ্গে বলল–ঠিক আছে, ঠিক আছে। নিয়ম থাকেই ভাঙার জন্য। এখন বলুন কোনটিকে পাঠাব। ভালোমতো দেখেশুনে বলুন।

দেখার সময় নেই আমার। যেটা সবচে রোগা সেটাকে পাঠাবেন। রোগা মেয়েই আমার পছন্দ।কিছু পান করবেন না? খুব ভালো শেরি আছে।নাহ।লক্ষ রাখবেন আমাদের দিকে, সিনোর, আপনাদের ভরসাতেই বিজনেস চালু করা। হে হে হে।

 

Read more

অমানুষ পর্ব – ১১ হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published.