অমানুষ পর্ব – ১৩ হুমায়ূন আহমেদ

অমানুষ পর্ব – ১৩

প্রতিটি প্রভাতী সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় নিওরোর মৃত্যুসংবাদ চাপা হল। ছবি ছাপা হল অ্যানির। অ্যানির হত্যাকাণ্ড ও মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা কীভাবে সাজা পাচ্ছে সে-বিবরণ লেখা হল। শুধুমাত্র জামশেদের কোনো ছবি নেই। তার চেহারার কোনো বিবরণও নেই। একটি পত্রিকায় পোস্ট এডিটরিয়েল লেখা হল জামশেদকে নিয়ে। সম্পাদক লিখলেন–আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া কখনো সমর্থন করি না।

যারা আইন নিজের হাতে নেয় তারা আমাদের কাছে অপরাধী। কিন্তু যখন দেখি বিচারের বাণী নীরবে কাঁদে, আইন অপরাধীদের স্পর্শ করে না তখন ব্যথিত হই। সে সময় কোনো সাহসী মানুষ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয় তখন তাকে সমর্থন না করলেও একধরনের শ্রদ্ধা ও মমতা বোধ করি তার জন্যে।

সেও অপরাধী। কিন্তু অপরাধী হলেও তাকে ঘৃণা করতে আমাদের বিবেক সায় দেয় না। আমরা আশা করছি আমাদের জীর্ণ পুলিশবাহিনী জামশেদের ঘটনা থেকে একটা বড় শিক্ষা গ্রহণ করবে। তাদের ভবিষ্যৎ কর্মধারী এরকম হবে যেন আমাদের অপরাধীদের ওপর আস্থা স্থাপন করতে না হয়।

লা বেলে পত্রিকায় আরেকটি মজার খবর ছাপা হল। দুটি নাগরিক কমিটি বৈঠকে বসে ঠিক করেছে জামশেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে তারা সবরকম সাহায্য দেবে। বৈঠকের শেষে তার জামশেদের জন্যে বিশেষ প্রার্থনার ব্যবস্থা করেছে।শহরে এখন অনেক গাড়ি দেখা যেতে লাগল যেগুলোর গায়ে নতুন ধরনের সব স্টিকার, জামশেদ, আমরা আছি তোমার সাথে। তুমি চালিয়ে যাও, জামশেদ। এই গাড়িটিতে জামশেদের জন্যে একটি আসন আছে।

অমানুষ পর্ব – ১৩

সকাল থেকেই মেঘ করেছিল।দুপুরের দিকে ঝুপঝপ করে বৃষ্টি পড়তে শুরু করল। এতরা একবার ভাবল আজ আর মা’র কাছে যাবে না। টেলিফোনে খোঁজ নেবে। এই ভাবনা অবিশ্যি বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না। আজ মঙ্গলবার মা’র কাছে না গেলেই নয়। এতরা বিরক্তমুখে গাড়ি বের করতে বলল। দিনকাল এমন হয়েছে হুটহাট করে কোথাও যাওয়া যায় না। তিন চারজন দেহরক্ষী সঙ্গে রাখতে হয়। গাড়িতে বসতে হয় মাথা নিচু করে। সবসময় একটা আতঙ্ক। এরকম অবস্থায় মানুষ থাকতে পারে? সবচেয়ে ভালো হয় মাসখানেকের জন্যে অন্য কোথাও চলে গেলে।

এর মধ্যে নিশ্চয়ই সব ঝামেলা মিটে যাবে। একটিমাত্র মানুষ কী করে একরম একটা ঝামেলা সৃষ্টি করে কে জানে! খুবই বিরক্তিকর ব্যাপার। অবিশ্যি ক্যানটারেলা বলেছে তিন দিনের মাথায় লোকটিকে খুঁজে বের করা হবে। এবং জীবিত অবস্থায় চামড়া তুলে নিয়ে সমুদ্রের নোনা জলে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে রাখা হবে। ক্যানারের কথায় বিশ্বাস করা যায়, এতরা ফালতু কথা কম বলে এতরা বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই নিচে থেকে একজন চেঁচিয়ে বলল, স্যার, আমরা তিনজনই কি সঙ্গে যাব?

হ্যাঁ তা হলে কুকুর সামলাবার জন্যে কেউ থাকবে না। কুকুর দুটো কি চেইন দিয়ে আটকে রাখব।রাখো। সবকিছুই আমাকে জিজ্ঞেস করছ কেন? নিজের বুদ্ধি খাঁটিয়ে কাজ করবে।এতরা ভ্রূ কুঞ্চিত করল। যে-তিনজন দেহরক্ষী রাখা হয়েছে তাদের বুদ্ধিবৃত্তি নিম্নস্তরের বলেই এতরার ধারণা। সারাক্ষণ কথাবার্তা বলছে। ফুর্তিবাজের ভঙ্গি। কোথায়ও যখন বের হয় এমন ভাব করে যেন পিকনিকে যাচ্ছে। ইডিয়েটস। এতরা ভারী গলায় বলল, কুকুর বাধা হয়েছে? জি স্যার।ভালো করে বাঁধ। আর শোনো, দিনের বেলা এ যেন বাঁধা থাকে। এদের ছাড়বে সন্ধ্যা সাতটার পর। বুঝতে পারছ?

অমানুষ পর্ব – ১৩

খুব পারছি, স্যার।এতরা বিষণ্ণ ভঙ্গিতে নিচে নেমে এল। কুকুর দুটো তাকে দেখামাত্র গোঁগোঁ শব্দে একটা রাগী আওয়াজ করল। এতরার ভ্রূ দ্বিতীয়বার কুঞ্চিত হল। এই কুকুর দুটোকে সে পছন্দ করে না। এদের শীতল চোখের দিকে তাকালেই এতরার কেমন যেন দম বন্ধ হয়ে আসে। এরকম একটা ভয়াবহ জীবকে মানুষের বন্ধু নাম দেয়ার কী মানে? এতরা ছোট্ট একটা নিশ্বাস ফেলল। সময়টা তার খারাপ যাচ্ছে। যেসব জিনিস সে পছন্দ করে না তার চারপাশেই এখন সেসব জিনিস। অটোম্যাটিক অস্ত্র হাতে কয়েকন নির্বোধ অথচ ভয়াবহ মানুষ। দুটো হিংস্র কুকুর যারা মনিবকে দেখে গোঁগোঁ শব্দে গর্জন করে। কোনো মানে হয়?

এতরার মা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। তার মুখ হাসিহাসি, এর মানে ঘরে কেউ লুকিয়ে নেই। তবু একটা ক্ষীণ সন্দেহ থেকে যায়। হয়তো সাবমেশিনগান হাতে জামশেদ নামের কুকুরটা ঘাপটি মেরে বসে আছে রান্নাঘরে। বিচিত্র কিছুই নয়। ওই কুকুরটার পক্ষে সবই সম্ভব। এতরা ক্ষীণস্বরে বলল, তোমরা দুজন গিয়ে ভালো করে খুঁজে দেখবে, কেউ কোথাও লুকিয়ে আছে কি না। তারপর গাড়িতে বসে না থেকে বাড়ির চারপাশে ঘুরবে। চোখকান খোলা রাখবে।বৃষ্টি পড়ছে সিনোর।পড়ুক।

দুজন গম্ভীরমুখে নেমে গেল। কী বিরক্তিকর অবস্থা! স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা যায় না। সারাক্ষণ একটা দম-বন্ধ-করা আতঙ্ক। এরকম কিছুদিন চললে পাগল হয়ে যেতে হবে।এতরার মা ব্যাপারস্যাপার দেখে খুবই অবাক। হচ্ছে কী এসব? কিছুই হয়নি। একটু সাবধানে চলাফেরা করছি। এতে অবাক হবার কী আছে?হঠাৎ করে এত সাবধানতারই-বা কী আছে?

অমানুষ পর্ব – ১৩

এতরা জবাব দিল না। মুখ কালো করে বসে রইল।আমার মনে হয় তোমার ওজনও কমেছে। দশ পাউন্ড ওজন কমেছে।ওজন ঠিকই আছে।মোটেই ঠিক নেই। আমি ওজনের যন্ত্র আনছি, মেপে দ্যাখো।থাক, মাপতে হবে না।অবশ্যই হবে। কথার ওপর কথা বলবে না। যা বলছি করো।বুড়ি ওজনের যন্ত্র নিয়ে এল। দেখা গেল সত্যি আট পাউন্ড ওজন কম।সাত দিনে আট পাউন্ড ওজন কমেছে, এর মানে কী? কমেছে, আবার বাড়বে। এই নিয়ে এত হৈচৈ কেন? ইদানীং তোমার কোনো শত্রু তৈরি হয়েছে কি? নাহ্।ঠিক করে বল।দুএকজন হয়তো আছে, সে তো সবারই খাকে। দুষ্ট লোকের অভাব আছে নাকি পৃথিবীতে! তা ঠিক।

বুড়ি কফি তৈরি করতে লাগল। ক্রিম মেশাতে মেশাতে আড়চোখে দুএকবার তাকাল ছেলের দিকে। এতরার চোখে কেমন যেন দিশাহারা ভাব। বুড়ি কফির কাপ নামিয়ে রেখে বলল, পৃথিবীতে ভালো লোকও আছে।আছে নাকি? হ্যাঁ। ঐ বিদেশী লোকটার কথাই ধরো।কার কথা বলছ! ঐ যে জামশেদ না কী যেন নাম।এতরা তীক্ষ্ণকণ্ঠে বলল, ও ভালো লোক সে-ধারণা তোমার হল কোত্থেকে সবাই তো বলছে।

সবাই মানে পত্রিকাওয়ালার বলছে। ওরা দিনকে রাত করতে পারে। একটা খুনি বদমাশকে স্বর্গীয় দূত বানিয়ে দেয়।একটা বিদেশী লোক একা একা যুদ্ধ করছে এটা তোমার চোখে পড়ে না! এতরা কফির কাপে চুমুক দিয়ে মুখ বিকৃত করল।কী, কথা বলছ না যে? মানুষ মারাটা কোনো স্বর্গীয় দূতের কাজ না।যাদের মারছে তারা কি মানুষ? তারা তো পশুরও অধম।এতরা গম্ভীর হয়ে গেল। বাইরে বৃষ্টির বেপ বাড়ছে। বৃষ্টি দেখে মেজাজ আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বুড়ি বলল, আরেক কাপ কফি দেব?

অমানুষ পর্ব – ১৩

না চিলি দিয়ে বিন বেঁধেছি, দুপুরে আমার সঙ্গে লাঞ্চ করবে।উঁহু, আমার কাজ আছে।এইরকম আবহাওয়ায় আবার কিসের কাজ? দুর্যোগের দিনে কাজ থাকে শুধু দুষ্ট লোকের।স্বর্গীয় দূতদের কোনো কাজ থাকে না? তুমি মনে হয় কোনো কারণে লোকটার ওপর রেগে আছ? না, রাগব কেন? লোকটা স্বর্গীয় দূত হয়তো না, কিন্তু বিরল একজন মানুষ। চার্চে ওর জন্যে প্রার্থনা করা হয়েছে।প্রার্থনা করা হয়েছে? হ্যাঁ।এতরা সরু চোখে তাকিয়ে রইল।কী প্রার্থনা করা হয়েছে?

প্রার্থনা করা হয়েছে যাতে তার কোনো বিপদ-আপদ না হয়।একজন ভয়ংকর খুনির নিরাপত্তার জন্যে আজকাল তা হলে গির্জায় প্রার্থনাও হয়? পবিত্র খ্রিস্টান ধর্মের প্রচুর উন্নতি হয়েছে দেখি! বুড়ি কিছু বলল না। রান্নাঘরে চলে গেল। লাঞ্চ সেরে বাড়ি ফিরতে ফিরতে তিনটে বেজে গেল। মেঘ কেটে আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেছে। ঠাণ্ডা বাতাস দিচ্ছে। আরামদায়ক শীতলতা চারদিকে। এরকম দিনে ঘুমুতে ইচ্ছা করে। কিন্তু ঘুমানো যাবে না। অনেক কাজ আছে। দেশের বাইরে চলে যাবার একটা ব্যবস্থা না করলেই নয়। এরকম আতঙ্কের সঙ্গে সহবাস করা যায় না।

এর চেয়ে পাসপোর্ট নিয়ে এক্ষুনি কোনো ট্রাভেল এজেন্সিতে যাওয়া দরকার। যদি সম্ভব হয় তা হলে আজ বিকেলেই ইংল্যান্ড চলে যাওয়া যায়। এখানে আর কিছুদিন থাকলে সত্যি সত্যি পাগল হয়ে যেতে হবে।এতরা ঘরে ঢোকামাত্র তার সেক্রেটারি বলল, স্যার, আপনাকে এক্ষুনি মিঃ ভিকির বাড়িতে যেতে হবে। খুব জরুরি।ব্যাপার কী?

তা স্যার জানা যায়নি। মিসেস রুন দুবার টেলিফোন করেছেন। শুধু বলেছেন খুব জরুরি।এতরার প্রথমেই মনে হল এটা একটা ট্র্যাপ। কেউ রুনের মুখের ওপর পিস্তল ধরে টেলিফোন করিয়েছে। সস্তা ধরনের ট্র্যাপ বলাই বাহুল্য। অবিশি একটা কিন্তু থেকে যায়। দিনদুপুরে এরকম ফাঁদ পাতে না কেউ। ফাঁদ পাতা হয় অন্ধকারে।কীরকম জরুরি তার কোনো আভাসও দেয়নি কেউ?

অমানুষ পর্ব – ১৩

না স্যার।ঠিক আছে, গাড়ি বের করতে বলো।আরেকটি কথা স্যার।বলো।লয়েড ইনস্যুরেন্স থেকে দুজন লোক এসেছিলেন।কী ব্যাপারে? পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। তবে আমার অনুমান মিঃ ভিকির মেয়ে অ্যানির নিরাপত্তা ইনস্যুরেন্স প্রসঙ্গে কিছু বলতে চান। তারা আজ সন্ধ্যার পর আসবেন বলে গেছেন।

আমি সন্ধ্যার পর কারো সঙ্গে দেখা করি না। ওরা এলে ফিরে যেতে বলবে।ঠিক আছে স্যার।বেল টিপতেই রুন নিজে এসে দরজা খুলল। মনে হল সে এতক্ষণ এতরার জন্যেই অপেক্ষা করছিল। রুনের সাজসজ্জা সাধারণ তবু এতেই তাকে অপরূপ লাগছে। পারিবারিক চূড়ান্ত বিপর্যয়ের ছাপ কোথায়ও নেই। একটু রোগা হয়েছে তাতে তার বয়স যেন আরো কম লাগছে। এতরা হালকা গলায় বলল, কেমন আছ রুন?

ভালো।

একটু মনে হয় ওয়েট লুজ করেছ।

তা করেছি।

ভিকি কেমন আছে?

ও ভালো নেই। ওর জন্যেই তোমাকে ডেকেছি।

কী হয়েছে ভিকির?

চলো, নিজেই দেখবে।

ভিকি বারান্দায় একটি রকিংচেয়ারে দোল খাচ্ছিল। তার হাতে নেভানো একটা চুরুট। এতরা বলল, হ্যালো ভিকি। ভিকি তাকাল একবার তাকিয়েই দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল। এতরা বলল, শরীর ঠিক আছে তো, ভিকি? ভিকি কোনো উত্তর দিল না। তার দৃষ্টি অস্বাভাবিক স্থির। যেন এ-জগতের কোনোকিছুর সঙ্গে তার কোনো যোগ নেই।

অমানুষ পর্ব – ১৩

রুন বলল, অবস্থাটা বুঝতে পারছ?

পারছি। কবে থেকে এরকম হয়েছে?

গতরাত থেকে। হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক গম্ভীর হয়ে পড়েছে। কারো সঙ্গে কোনো কথাবার্তা নেই। কাল সারারাত ঘুমায়নি। যতবার আমার ঘুম ভেঙেছে আমি দেখেছি সে বারান্দায় রকিংচেয়ারে বসে আছে।ডাক্তার দেখিয়েছ?

না।

দেরি না করে ডাক্তার ঢাকা উচিত।

আমি বড় ভয় পাচ্ছি এতরা

ভয়ের কিছু নেই। ঠিক হয়ে যাবে।

রুন ক্লান্তস্বরে বলল, একটার পর একটা আঘাতে ওর এরকম হয়েছে। ওর ব্যবসাটা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে, জান বোধহয়? না, জানি না।সব জলে গেছে। লিও স্ট্রিটের বাড়িটাও বিক্রি করতে হয়েছে। বাড়ি মর্টগেজড ছিল, টাকাপয়সাও তেমন পাওয়া যায়নি।এতরা চুপ করে রইল।রুন বলল, এসো ভেতরে গিয়ে বসি। কফি খাবে? খেতে পারি।তোমার নিজের স্বাস্থ্যও খুব খারাপ হয়েছে।এতরা ক্ষীণস্বরে বলল, নানান ঝামেলা যাচ্ছে।তোমার আবার ঝামেলা কিসের?

এতরা চুপ করে গেল।রুন কফির কাপ নামিয়ে রেখে স্বাভাবিক স্বরে বলল, আমার ধারণা ছিল ভিকির প্রতি আমার প্রেমট্রেম কিছুই নেই। ধারণাটা সত্যি নয়। ওকে আমি ভালোবাসি।তাই নাকি? হ্যাঁ। অ্যানির মৃত্যুর পর ব্যাপারটা আমার কাছে পরিষ্কার হয়েছে। ঠিক এই মুহূর্তে দুটো লোককে আমি ভালোবাসি। একজন হচ্ছে ভিকি, অন্যজন হচ্ছে অ্যানির বিদেশী দেহরক্ষী।এতরা কিছু বলল না।

রুন থেমে থেমে বলল, ঐ বিদেশী মানুষটার প্রতি আমি খুব অবিচার করেছি। শেষের দিকে ওকে আমি মনেপ্রাণে ঘৃণা করেছি। বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছি ওকে চাকরি থেকে ছাড়িয়ে দিতে।তা-ই নাকি? হ্যাঁ।এতরা একটা সিগারেট ধরিয়ে সরু গলায় বলল, ঐ বিদেশীর সঙ্গে কি এখন তোমার কোনো যোগাযোগ আছে? না কখনো টেলিফোন করেও কিছু বলেনি তোমাকে?

অমানুষ পর্ব – ১৩

না। ওরা ভিন্ন ধরনের মানুষ এতরা। নিজের বিশ্বাসের জন্যে কাজ করে। কারো ধার ধারে না।এতরা উঠে দাঁড়াল। গম্ভীর গলায় বলল, আমাকে জরুরি কাজে ইংল্যান্ডে যেতে হচ্ছে রুন। হপ্তাখানেকের মধ্যে আসব।রুন কোনো জবাব দিল না। গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিতে এল ঠিকই। কিন্তু আগের মতো যাবার আগে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার কোনো আগ্রহ দেখাল না।রাত এগারোটা ত্রিশ মিনিটে থাই এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে এতরা ইতালি ছেড়ে গেল।

রাত বারোটার লেট নাইট বুলেটিনে জানানো হল, জামশেদ নামের বিদেশী দেহরক্ষীটিকে পুলিশ পোর্ট সিটির এক বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে। বাড়িটা শহর থেকে প্রায় দেড়শো মাইল দূরে। ফ্রান্স সীমান্তে। ইতালি থেকে সে পালাতে চেয়েছিল কি না কে জানে!

 

Read more

অমানুষ পর্ব – ১৪ হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published.