অমানুষ পর্ব – ৬ হুমায়ূন আহমেদ

অমানুষ পর্ব – ৬

জামশেদ দ্রুত ভাবতে চেষ্টা করল। ছোকরা লেফট হ্যাল্ডার কি না তা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। অনেক সময় প্রতিপক্ষকে ধোকায় ফেলবার জন্যে এই কাণ্ডটি করা হয়। আক্রমণের ঠিক আগের মুহূর্তে ছোরা চলে আসে ডান হাতে।জামশেদ একদৃষ্টে মাতালটির দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল। অপেক্ষার মতো কষ্টকর কিছুই নেই। তা ছাড়া বয়সের জন্যে ইন্দ্রিয় আগের মতো সজাগ রাখা যায় না। জামশেদের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমল।

এগিয়ে আসছে, এখন ঝাঁপিয়ে পড়বে। যা ভাবা গিয়েছিল তা-ই, সে তার ডান হাতটিই ব্যবহার করবে। ধোঁকা দেবার উদ্দেশ্যেই বাঁ হাতে রেখেছে ছুরি। হাতবদল হবার আগমুহূর্তেই কিছু-একটা করতে হবে।মেয়েটি কুলকুল করে ঘামছিল। সে দেখল, ছুরি-হাতে বাঘের মতো বয়স্ক লোকটার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে মাতালটি। মেয়েটি চোখ বন্ধ করে ফেলল।

চোখ মেলে যে-দৃশ্য দেখল তার জন্যে সে প্রস্তুত ছিল না। দেখল বয়স্ক লোকটি নিজের জায়গায় ফিরে যাচ্ছে। চার-পাঁচ ফুট দূরে চিত হয়ে পড়ে আছে মাতালটি। খুব সম্ভব তার নাক ভেঙে গেছে। গলগল করে রক্ত পড়ছে। সে দারুণ অবাক হয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখছে বয়স্ক লোকটিকে।জামশেদ তার টেবিলে ফিরে আসতেই ছেলেটি দৌড়ে এল।

স্যার, ভালো কনিয়াক আছে, দেব?

না। টাকা লাগবে না।

না। আমি এখন উঠব।

স্যার, আপনি যদি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন তা হলে বেনের সঙ্গে দেখা হবে। বেন ওয়াটসন একটার দিকে আসবে।

জামশেদ উঠে দাঁড়াল।

স্যার, একটু যদি বসেন।

না, এখন আমি যাব।

বেন ওয়াটসনকে আপনার কথা কী বলব?

কিছু বলতে হবে না।

আপনার নাম?

আমার নাম বলার কোনো প্রয়োজন নেই।

আপনি কি আবার আসবেন?

হ্যাঁ, আসতে পারি। না-ও আসতে পারি।

অমানুষ পর্ব – ৬

জামশেদ রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়েই মেয়েটিকে দেখতে পেল। সে খুব সম্ভব জামশেদের জন্যে অপেক্ষা করছিল। জামশেদকে বের হতে দেখেই দ্রুতপায়ে এগিয়ে এল। আমি আপনাকে ধন্যবাদ দেবার জন্যে অপেক্ষা করছিলাম।

ধন্যবাদ দেবার কোনো প্রয়োজন নেই।

আমি কি আপনার নাম জানতে পারি?

জামশেদ সেকথার উত্তর না দিয়ে মৃদুস্বরে বলল, মেয়েদের এত রাতে এক একা বাইরে থাকাটা ঠিক না।আমি আমার এক বন্ধুর জন্যে অপেক্ষা করছিলাম। আমার বন্ধু একজন পুলিশ অফিসার।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। শুভ রাত্রি।

শুভ রাত্রি।

রুন কখনো সকালে উঠতে পারে না।নটার সময় বেড-টি খেয়ে সে খবরের কাগজ পড়তে বসে। খেলাধুলা এবং আইন আদালত এই দুটি অংশ পড়তে পড়তে দশটা বেজে যায়। রোজই সে দাঁত ব্রাশ করতে যায় দশটার পর।

আজ একটা বিচিত্র কারণে রুটিনের ব্যতিক্রম হল। শেষরাতের দিকে রুন একটি ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন দেখল। যেন সে এবং অ্যানি সমুদ্রের ধারে বেড়াতে গিয়েছে। কিন্তু অ্যানির গায়ে কোনো কাপড় নেই। সে খুব বিরক্ত হয়ে বলছে, এইসব কী অসভ্যতা, অ্যানি। ছি! ঠিক তখন অ্যানি ভয়-পাওয়া স্বরে বলল, মা, পালাও! ওরা আমাদের ধরতে আসছে।

রুন চমকে পিছনে ফিরে দেখল তিনটি বদ্ধ উন্মাদ ছুটে আসছে তাদের দিকে। ওদের গায়েও কোনো কাপড় নেই। রুন দৌড়াতে শুরু করল। কিন্তু অ্যানি সেরকম দৌড়াতে পারছে না। পাগলগুলো শেষ পর্যন্ত অ্যানিকে ধরে ফেলল। রুন শুনল, অ্যানি প্রাণপণে চেঁচাচ্ছে, জামশেদ আমাকে বাচাও।

রুন এই সময় জেগে উঠল। পরপর দুপেগ ব্রান্ডি খেয়ে বাইরে এসে দেখল ভোর হয়েছে। অ্যানি জগিং সুট পরে দৌড়াচ্ছে বাড়ির সামনের খোলা মাঠটায়। রুন একবার ভাবল অ্যানিকে ডাকে। কিন্তু ডাকল না। রেলিঙে ভর দিয়ে তাকিয়ে রইল, স্বপ্নের ঘোর তার তখনও কাটেনি। এখনও গা কাঁপছে।

অমানুষ পর্ব – ৬

রুন দেখল জামশেদ নিচে নেমে যাচ্ছে। হাত-ইশারা করে ডাকছে অ্যানিকে। কী যেন বলছে। উপর থেকে ঠিক শোনা যাচ্ছে না। রুন নিচে নেমে এল। জামশেদ ভারী গলায় উপদেশ দিচ্ছে অ্যানিকে।তুমি ভালোই দৌড়াচ্ছ, কিন্তু শুরুটা ভালো হচ্ছে না। দৌড়ে শুরুটাই আসল। ঠিক সময় শুরু করতে হবে। সমস্ত ইন্দ্রিয় সজাগ রাখতে হবে।অ্যানি বলল, তুমি কি আমাকে শেখাবে? আমি জানি আমি ভালো দৌড়াতে পারি, কিন্তু শুরুটা আমার সত্যি সত্যি খারাপ।রুন দেখল জামশেদ গম্ভীর হয়ে আছে। এই লোকটি কি সহজ হতে জানে না?

আমাকে তুমি শেখাবে? প্লিজ।

হ্যাঁ, শেখাব। এসো আমার সঙ্গে।

রুন লক্ষ করল অ্যানির সমস্ত চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এসব মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। মেয়েটি ক্রমে ক্রমেই অপরিচিত এই ভয়ংকর লোকটির দিকে ঝুঁকে পড়ছে।রুন ভিকিকে টেলিফোন করল দুপুরে। ভিকি টাকাপয়সার কী-একটা সুরাহা করবার জন্যে রোমে গিয়েছে। গতকালই ফেরার কথা ছিল, ফেরেনি।

হ্যালো, ভিকি?

হা। কী ব্যাপার?।

গতকাল রাতে আমি একটা দুঃস্বপ্ন দেখেছি।

তা-ই নাকি?

হ্যাঁ। শোনো কী দেখলাম…

ভিকি ভ্রূ কুঁচকে শুনতে লাগল। লং ডিসটেন্স কল। প্রচুর বিল উঠবে কিন্তু উপায় নেই, শুনতেই হবে। স্বপ্নের কথা ভিকিকে দশ মিনিট ধরে শুনতে হল। সবশেষে রুন বলল, আমার খুব ভয় লাগছে।

ভয়ের কিছু নেই। স্বপ্ন স্বপ্নই।

হোক স্বপ্ন। তুমি আজকেই চলে আসবে।

আমি আসতে পারছি না। টাকার কোনো ব্যবস্থা করতে পরিনি।

কবে আসবে?

দেখি।

টেলিফোন রেখে দেয়ার আগে ভিকি বলল, বড় ঝামেলায় পড়ে গেছি। তুমি কিছু টাকার ব্যবস্থা করতে পার নাকি, রুন?

আমি, আমি কোত্থেকে করব?

তোমার তো অনেক গয়নাটয়না আছে।

রুন জবাব না দিয়ে টেলিফোন রেখে দিল।

ভিকি ছোট্ট একটি নিশ্বাস ফেলল।

অমানুষ পর্ব – ৬

রুন আজ কিছু কেনাকাটা করবে বলে ভেবে রেখেছিল। কিন্তু মত বদলালো। দুঃস্বপ্ন দেখার পর তার আর কোথাও যেতে ইচ্ছে করছিল না। সে ঠিক করল আজ সারাদিন সে ঘরেই থাকবে। আজ রান্না করলে কেমন হয়? অনেক দিন কোনো রান্নাবান্না করা হয়নি। কিন্তু রান্না করার ইচ্ছাটা স্থায়ী হল না। রুন টিভি খুলে টিভির সামনে বসে রইল। কিছুক্ষণ পর টিভি দেখতেও ভালো লাগল না। সমস্ত দিন ঘরে বসে থাকাটা এমন ক্লান্তির ব্যাপার তা তার জানা ছিল না। দুপুরের দিকে অতিষ্ঠ হয়ে সে এতরাকে টেলিফোন করল, এতরী, তুমি কি সন্ধ্যার পর আসতে পার?

নিশ্চয়ই পারি। কী ব্যাপার?

ব্যাপার কিছু নয়, গল্পগুজব করা যাবে।

বাইরে কোথাও খেতে চাও? বনভিলে চমৎকার একটা রেস্টুরেন্ট আছে।

না, আজ আমি কোথাও বেরুব না ঠিক করেছি।

এতরা খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ভিকি ফেরেনি?

নাহ।

কবে ফিরবে জান?

আমি ঠিক জানি না। কাল ফিরতে পারে।

ভিকি তো শুনলাম দারুণ ঝামেলায় পড়েছে।

কী ঝামেলা?

ওর একটা সিল্ক কারখানা শুনলাম বন্ধ হয়ে গেছে।

রুন অবাক হয়ে বলল, কই, আমি তো কিছু জানি না!

তোমাকে কিছু বলেনি?

না। আচ্ছা আমি এসে বলব।

রুনের একটু মন-খারাপ হল। ভিকি তা হলে সত্যি সত্যি বড়রকমের ঝামেলায় পড়েছে। তাকে সাহায্য করা উচিত। রুন ইচ্ছা করলেই তা পারে। মোটা অঙ্কের টাকা রুনের আছে। তার নিজস্ব টাকা। এবং টাকা যে আছে তা ভিকি নিজেও জানে না। রুনের বাবা বলে দিয়েছিল, কিছু-কিছু জিনিস স্বামীদের জানাতে নেই। একটি হচ্ছে স্ত্রীদের ব্যাংক-ব্যালেন্স! তোমার টাকাটা হচ্ছে তোমার দুঃসময়ের জনো, ভিকির দুঃসময়ের জন্য নয়।রুন বলেছিল, কিন্তু বাবা, ধরো, ভিকি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়ল, তখন?

তখন তুমি ওকে ছেড়ে চলে আসবে।বাবার কথা এখন মনে না রাখলেও চলবে। বাবা মারা গেছে, কাজেই খবরদারি করবার জন্যে ছুটে আসবে না। রুন তার ব্যাংকে টেলিফোন করল, আমি মোটা অঙ্কের কিছু টাকা তুলতে চাই।

অমানুষ পর্ব – ৬

কতদিনের মধ্যে

এক সপ্তাহ।

ক্যাশ হলে পারা যাবে না।

ক্যাশ নয়, ক্রসড চেক করে দিলে হবে। পারা যাবে?

কোন কারেন্সি?

ইতালিয়ান হলেই হবে। পারা যাবে?

যাবে। তবে আপনার একটা চিঠি লাগবে।

বেশ। চেক রেডি করে রাখুন।

আপনার ঠিকানায় পাঠাব?

না, শুধু রেডি করে রাখুন।

রুন টাকার পরিমাণ এবং ক্রসড চেকের নাম বলল। ব্যাপারটা যে এত সহজে হবে তা তার ধারণা ছিল না। সুইস ব্যাংকগুলি খুব এফিসিয়েন্ট।এতরা এল রাত নটার দিকে। রুন হালকা গোলাপি একটা স্কার্ট পরে বসে ছিল লবিতে। এতরা হাসিমুখে বলল, আমরা যত বুড়ো হচ্ছি তুমি ততই রূপসী হচ্ছ।

রুন তরল গলায় হাসল। এতরা রুনের কাঁধে হাত রাখল। কাঁধে সে হাত স্থায়ী হল না, নিচের দিকে নেমে আসতে লাগল। রুম কিছু বলল না। লবি অন্ধকার, কেউ কিছু দেখছে না। এতরা হালকা গলায় বলল, ভিকি বেচারা মহাবিপদে পড়েছে।রুন বলল, ঠিক কত টাকা হলে সে বিপদ থেকে মুক্তি পায়? কেন জিজ্ঞেস করছ? জানবার জন্যে। সাময়িক মুক্তি না চিরকালের জন্যে মুক্তি?

চিরকালের জন্যে মুক্তি।অনেক টাকার ব্যাপার। ওয়ান মিলিয়ন ইউ এস ডলার।এত টাকা? হ্যাঁ। সে ঝামেলাটা পাকিয়েছে বড় করেই।এতরা রুনের জামার হুক খুলতে চেষ্টা করল। রুন তেমন বাধা দিল না। একবার শুধু অস্পষ্ট স্বরে বলল, আহ্ কী করছ?

অমানুষ পর্ব – ৬

কিছুই করছি না, রুন। এতরা আরো এগিয়ে এল।রুন বলল, ভিকি একটা অপদার্থ, তবু মনে হয় আমি ওকে পছন্দ করি।তা হয়তো করো।ইদানীং বেচারা ঘুমাতে পারছে না। আমি ওকে সাহায্য করতে চাই।এতরা রুনের কথা ঠিক শুনতে পায়নি। সে জামার হুকটি খুলে ফেলেছে। জলপরীর মতো একটা অর্ধনগ্ন নারী পাশে থাকলে কথাবার্তায় মন দেয়া যায় না। এতরা সে-রাতটা এখানেই কাটাল।

অ্যানিদের স্কুলে আজ বার্ষিক স্পোর্টস। অ্যানি তার বাবা এবং মা দুজনের জন্যে দুটি টিকিট এনেছে। ভিকি বলেছে সে যেতে পারবে না, তার প্রচুর ঝামেলা। রুন হ্যাঁ না কিছুই বলেনি। খুব সম্ভব সেও যাবে না। রোদে বসে থাকলে রুনের মাথা ধরে। তা ছাড়া যেদিন স্পোর্টস ঠিক সেদিনই হোটেল শেরাটনে গোলাপ ফুলের প্রদর্শনী হচ্ছে। এই প্রদর্শনীটি অন্য প্রদর্শনীগুলোর চেয়ে আলাদা।

চিত্রতারকাদের বাড়ির গোলাপ প্রদর্শনী। এতরা দুটি টিকিট জোগাড় করেছে। বাচ্চাকাচ্চাদের দৌড়-ঝাঁপ দেখার চেয়ে হোটেল শেরাটনে যাওয়া বহুগুণে শ্রেয়। কিন্তু সেন্টিমেন্টের ব্যাপার আছে। অ্যানির এই স্পোর্টস নিয়ে খুব আগ্রহ। দু-তিন মাস আগে থেকেই বলে রেখেছে, যেতেই হবে। এখন তাকে না বলাটাই এক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।কিন্তু রুন ঠিক করে ফেলল ব্যাপারটা ঝুলিয়ে না রেখে মিটিয়ে ফেলাই ভালো। রাতের খাবার টেবিলে রুন প্রসঙ্গটা তুলল, অ্যানি, তোমার স্পোর্টস কবে?

সতেরো তারিখ। তোমাকে তো বলেছি আগে।

তুমি কিসে কিসে আছ?

একশো মিটার দৌড়।

আর কিছুতে না?

না। তুমি যাচ্ছ তো মা?

রুন ইতস্তত করে বলল, খুব চেষ্টা করব আমি, কিন্তু …

অর্থাৎ যাচ্ছ না। আমি আগেই জানতাম যাবে না।

এর মানে কী? তুমি আগেই জানতে মানে?

অমানুষ পর্ব – ৬

মানে কিছু নেই। তোমরা কেউ যাবে না তা আমি আগেই জানতাম। অ্যানি থালা সরিয়ে উঠে দাঁড়াল।ডিনার শেষ করো অ্যানি।আমার খিদে নেই।অ্যানি, তোমার বয়স হচ্ছে। এখন তুমি আর ছেলেমানুষ নও। সবার সুবিধা অসুবিধা তোমার বুঝতে পারা উচিত।অ্যানি জবাব না দিয়ে ছুটে চলে গেল নিজের ঘরে। মারিয়া টেবিল থেকে খালা সরাতে সরাতে বলল, অ্যানি এবার একশো মিটার স্পোর্টসে প্রাইজ পাবে।

তা-ই বুঝি?

হ্যা, ম্যাডাম। ঐ লোকটি খুব ভালো শেখায়।

দৌড়ানোর মধ্যে আবার শেখানোর কী আছে?

তা জানি না, তবে লোকটি যত্ন করে শেখাচ্ছে।

রুন গম্ভীর হয়ে গেল।

মারিয়া হঠাৎ বলল, লোকটি খুব খারাপ না ম্যাডাম।

খারাপ হবে কেন?

না, মানে লোকটি অ্যানিকে পছন্দ করে।

রুন চোখ তুলে তাকাল।

মারিয়া কফি ঢালতে ঢালতে বলল, অ্যানির যে-রাতে জ্বর এল, সে-রাতে একবার সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছে জ্বর কত?

তা-ই বুঝি?

হুঁ। ওর কাছ থেকে তা আশা করা যায় না, ঠিক না ম্যাডাম?

 

Read more

অমানুষ পর্ব – ৭ হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published.