অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১১৭ রানে পরাজিত হলো দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকার আশা টিকিয়ে রেখেছিলেন কুইন্টন ডি কক। শেষ দিকে তিনিই একমাত্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। যদিও প্রোটিয়াদের হাতে বাকি ছিল মাত্র ১ উইকেট। শেষ দিনে মাত্র ২২ বল খেলে সেই ১ উইকেট পড়েছে ৫ রান করার পরই। অথ্যা, ২৯৩ থেকে প্রোটিয়াদের ইনিংস পঞ্চম দিন শেষ হয়েছে ২৯৮ রানে। প্রথম টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১১৭ রানে পরাজিত হলো দক্ষিণ আফ্রিকা।

ডারবানের কিংসমিডে টেস্টের পঞ্চম দিন জস হ্যাজলউডের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে গেলেন কুইন্টন ডি কক নিজেই। শেষ পর্যন্ত তার নামের পাশে লেখা হলো ৮৩ রান। ১৪৯ বলে ১১টি বাউন্ডারির সাহায্যে এই স্কোর করেন তিনি। ৩ রান করে অপরাজিতই থেকে গেলেন মরণে মর্কেল।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ৩৫১ রানের জবাবে মাত্র ১৬২ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৬২ রানে অলআউট না হয়ে অন্তত আড়াইশ’ রানও যদি করতে পারতো প্রোটিয়ারা, তাহলে নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা ছিল তাদের; কিন্তু ফ্যাফ ডু প্লেসির দলের সামনে সেই সম্ভাবনাও তৈরি হলো না।

দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য ছিল ৪১৭ রান। অসি পেসের সামনে নিঃসন্দেহে এটা অনেক বড় লক্ষ্য। এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এইডেন মারক্রাম যেভাবে প্রতিরোধ গড়েছিলেন, সঙ্গে তিনি যদি আর দু’একজন সঙ্গী পেতেন, তাহলেও জয় সম্ভব হতো।

পরাজিত হলো দক্ষিণ আফ্রিকা

সেটাও হলো না। ফলে মারক্রামের ১৪৩ রানের লড়াইও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে গেলো। চতুর্থ দিন শেষে কুইন্টন ডি কক ছিলেন ৮১ রানে অপরাজিত ৮১। শেষ দিন জয়ের জন্য বাকি ছিল ১২৪ রান। মাত্র ৫ রান করার পরই অলআউট প্রোটিয়ারা। অথ্যাৎ, ১১৭ রানের ব্যবধানে হারলো স্বাগতিকরা।

৪১৭ রানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে এক প্রান্তে মারক্রাম দাঁড়িয়ে থাকলেও অন্যরা ছিলেন শুধু আসা-যাওয়ার মিছিলে। ডিন এলগার (৯), হাশিম আমলা (৮), ডি ভিলিয়ার্স (০), ডু প্লেসিরা (৪) শুধু নামার জন্যই নেমেছিলেন। টেন্ডা ভাবুমা ৮৪ বল খেলে ৩৬ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন।

মারক্রামের সঙ্গে ভাবুমা গড়েন ৮৭ রানের জুটি। এই জুটিও যখন হ্যাজলউড ভেঙে দেন, তখন দাঁড়িয়ে যান কুইন্টন ডি কক। মারক্রামের সঙ্গে গড়েন ১৪৭ রানের বিশাল জুটি। দলীয় ২৮৩ রানের মাথায় মারক্রাম আউট হয়ে গেলে আবার অনিশ্চয়তায় ঢেকে যায় প্রোটিয়ারা। ভারনন ফিল্যান্ডার, কেশব মাহারাজ আর কাগিসো রাবাদারা ছিলেন শুধু আসা-যাওয়ার মিছিলে। ফিল্যান্ডারের অবদান মাত্র ৬ রান। বাকিদের খাতা শূন্য।

অসি পেসার মিচেল স্টার্কই ঝড় তুলেছেন বেশি। তিনি একাই নিয়েছেন ৪ উইকেট। ৩ উইকেট নেন হ্যাজলউড। ১টি করে উইকেট নেন প্যাট কামিন্স আর মিচেল মার্শ।

Leave a comment

Your email address will not be published.