জহির রায়হান এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম জেনে নিন

জহির রায়হান

জহির রায়হান

আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ ছিলেন (জহির রায়হান) বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক এবং গল্পকার । কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক  মওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ও সৈয়দা সুফিয়া খাতুনের সন্তান ছিলেন তিনি । বাংলা সাহিত্য রচনার মধ্য দিয়ে তাঁর পথচলা শুরু হলেও জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত অসামান্য অবদান রেখে গেছেন বাংলা চলচ্চিত্রে । বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তি সংগ্রাম-সকল বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন তাঁর লেখনি ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ।

  • মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন – ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে, ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট ।
  • আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ নাম পরিবর্তন করে জহির রায়হান নামে অভিহিত করেন – কমরেড মণি সিংহ ।
  • বিশিষ্ট এই চলচ্চিত্র পরিচালকের ডাক নাম ছিল – জাফর ।
  • জহির রায়হান যে প্রতিষ্ঠান হতে উচ্চতর ড্রিগ্রি অর্জন করেন – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে (১৯৫৮ সালে) ।
  • তাঁর বৈবাহিক জীবন – ১৯৬১ সালে বিবাহ করেন অভিনেত্রী সুমিতা দেবীকে পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে অভিনেত্রী সুচন্দাকে বিবাহ করেন ।
  • ছাত্র জীবনে জহির রায়হান যে রাজনৈতিক পার্টির মতাদর্শে আকৃষ্ট হন – কমিউনিস্ট পার্টির ।
  • জহির রায়হান প্রথম কবে কারারুদ্ধ হন – সালের ২১ ফেব্রুয়ারী (১৪৪ ধারা ভঙ্গের অপরাধে) ।
  • জহির রায়হানের প্রথম প্রকাশিত গল্প গ্রন্থের নাম – ‘সূর্যগ্রহণ’ (১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয় ’প্রবাহ’ নামক পত্রিকায়) ।
  • তাঁর চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ ঘটে – ১৯৫৭ সালে, ‘জাগো হুয়া সাবেরা’ চলচ্চিত্রটির সহকারী পরিচালক হিসেবে ।
  • বিশিষ্ট সাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সারের সাথে জহির রায়হানের সম্পর্ক – শহীদুল্লাহ কায়সার তাঁর আপন বড় ভাই ।
  • জহির রায়হানের প্রথম প্রকাশিত ‍উপন্যাস – ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’ (১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়) ।
  • তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে বিবেচনা করা হয় – ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটিকে (১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়) ।

জহির রায়হান এর জীবনী

  • আবহমান গ্রাম বাংলার জীবন ও জনপদের এক উজ্জ্বল নিদর্শন ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাস এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো – মন্ত, টুনি, মকবুল, আবুল, হিরণ, আম্বিয়া, আমেনা, ফাতেমা প্রভৃতি ।
  • জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটি চ্লচ্চিত্রায়িত করেন – তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী কোহিনূর আকতার সুচন্দা (২০০৫ সালে) ।
  • ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটির জন্য জহির রায়হান যে সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন – আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৪ সালে) ।
  • জহির রায়হান ‘হাজার বছর ধরে’ চলচ্চিত্রটির জন্য যে চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন – শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন (মরণোত্তর) ।
  • বাংলাদেশের বায়ান্নর রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত প্রথম উপন্যাস – জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’ ।

জহির রায়হান এর জীবনী

  • মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা চরিত্রগুলো জহির রায়াহানের যে উপন্যাসের – ‘আরেক ফাল্গুন’ ।
  • “আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো” এই উচ্চস্বিত আকাঙ্কার প্রকাশ ঘটেছে – জহির রায়াহানের ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাসে ।
  • বায়ান্নর অন্যতম ভাষা সৈনিক জহির রায়হানের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ মূলক ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় – ১৯৬৮ সালে ।
  • বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত ‘তসলিম’ নামক যুবকের পরিবারের মর্মবিদারক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে – জহির রায়হানের ‘সূর্যগ্রহণ’ গল্পে ।
  • বেকার যুবক শওকত, এক বিবাহিতা নারী মার্থার সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে হত্যা-খুরের মত ঘটনা ঘটতে থাকে যা জীবনকে করে বিভীষিকাময় প্রভৃতি বিষয়ের উল্লেখ আছে – জহির রায়হানের ‘তৃষ্ণা’ উপন্যাসে ।
  • জহির রায়হানের ‘তৃষ্ণা’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় -১৯৬২ সালে ।

জহির রায়হান এর জীবনী

  •  উপন্যাসগুলোর মধ্যে বৃহত্তম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত – ‘বরফ গলা নদী‘ উপন্যাসটি (১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়) ।
  • নিম্নবিত্ত অসচ্ছল হাসমত আলী ও স্ত্রী সালেহার ৪ সন্তানের বড় পরিবারের দৈনন্দিন সংগ্রামী জীবন যাত্রার কাহিনী ফটে উঠেছে – জহির রায়হানের ‘বরপ গলা নদী’ উপন্যাসে ।
  • জহির রায়হানের ‘বরফ গলা নদী’ উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে – মাহমুদ, মরিয়ম, হাসিনা, খোকন, ছোট মেয়ে দুলু প্রভৃতি ।
  • তপু নামের একটি যুবকের মৃত্যুকে অবলম্বন করে, যুগে যুগে মানুষের মধ্যে এই হানাহানি, হত্যা, খুন, ধর্ষণ, বিশ্বব্যাপি মানুষের অশান্তির পূর্ণ প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন – জহির রায়হান ‘আর কত দিন’ উপন্যাসের মাধ্যমে । ‍ূ

জহির রায়হান এর জীবনী

  • জহির রায়হান ‘আর কত দিন’ উপন্যাসের মাধ্যমে প্রতীকিভাবে যে যে দেশের নির্যাতনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন – জাপানের হিরোশিমা, জেরুজালেম, আফ্রিকা, ভিয়েতনাম প্রভৃতি স্থানের ।
  • – ১৯৭০ সালে -জহির রায়হানের ‘আর কত দিন’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ।
  • চার সন্তান ও ছেলেদের বউ এবং স্ত্রীকে নিয়ে আহমদ আলীর সংসার, একদা স্বপ্নে তাঁর পূর্ব পুরুষেরা তাকে বলছে ‘তোমাকে নিতে এসেছি’ স্বপ্ন থেকে জাগায় পর তাদের সকলের জীবনটা এলোমেলো হয়ে যায় কেননা একই ভাবে তাঁর পূর্ব পুরুষগণেরও মৃত্যু হয়েছিল । এক পর্যায়ে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে – জহির রায়হানের ‘কয়েকটি মৃত্যু’ উপন্যাসে ।
  • জহির রায়হানের ‘কয়েকটি মৃত্যু’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় – ১৯৭১ সালে ।
  • বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ এই চলচ্চিত্র পরিচালকের প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্রটি হলো – ‘কখনও আসেনি’ ।
  • সমগ্র পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম রঙ্গিন চলচ্চিত্রের নাম – জহির রায়হানের ‘সংগম’ (১৯৭০ সালে নির্মিত হয়) ।
  • জহির রায়হান তাঁর যে চলচ্চিত্রের জন্য নিগার চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন – ‘কাঁচের দেওয়াল’ ।

জহির রায়হান এর জীবনী

  • পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে নির্মিত প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র – জহির রায়হানের ‘বাহানা’ চলচ্চিত্রটি ।
  • বাংলাদেশের যে চলচ্চিত্রে প্রথম জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় – জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেওয়া’ চলচ্চিত্রে (ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক চলচ্চিত্র) ।
  • ‘Stop genocide ও Let there be light’ জহির রায়হানের যে শ্রেণীর সৃষ্টি কর্ম – পাকহানাদার বাহিনীর গণহত্যার উপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র ।
  • ‘একুশের গল্প’ জহির রায়হানের যে শ্রেণির রচনা – ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত গল্প ।
  • ‘তপুকে আবার ফিরে পাবো, একথা ভুলেও ভাবিনি একদিন’ – উক্তিটি জহির রায়হানের যে রচনার – ‘ একুশের গল্প’ নামক ছোট গল্পের ।
  • “দোহারা গড়ন, ছিপছিপে কটি, আপেল রঙ্গের মেয়েটা প্রায়ই ওর সাথে দেখা করতে আসতো” এখানে কার সম্পর্কে উক্তিটি করা হয়েছে – ‘একুশের গল্প’ নায়িকা রেণু সম্পর্কে ।

জহির রায়হান এর জীবনী

  • ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহিদ হলে পুলিশ তার লাশ গুম করে এবং চার বছর পর তাঁরই কঙ্কাল মেডিকেল কলেজ পড়ুয়া সহপাঠিরা চিনতে পারে, উক্ত বিষয়গুলো যে গল্পের – ‘একুশের গল্পে’র ।
  • জহির রায়হানের পরিচালনা, প্রযোজনা ও চিত্রনাট্যে পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলো মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য – সোনার কাজল, কাচের দেয়াল, বেহুলা, আনোয়ারা , কুচবরণ কন্যা, জুলেখা, সুয়োরাণী-দুয়োরানী, সংসার, মনের মত বউ, প্রতিশোধ, ধীরে বহে মেঘলা, চিলড্রেন অব বাংলাদেশ প্রভৃতি ।
  • বিশিষ্ট এই সাহিত্যিক যে যে পদকে ভূষিত হন – বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৭১), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯২) প্রভৃতি ।
  • প্রখ্যাত এই ঔপন্যাসিক, চলচ্চিত্র পরিচালক ও ভাষা সৈনিকের জীবনাবসান ঘটে – ১৯৭১ সালের ৩০ জানুয়ারী টেলিফোনে বার্তার মাধ্যমে জানতে পারে মিরপুরে বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সার রয়েছে, তাকে খুঁজতে গিয়ে তিনিও নিখোঁজ হন ।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *