তোমাদের এই নগরে পর্ব:০৪ হুমায়ূন আহমেদ

তোমাদের এই নগরে পর্ব:০৪

আমি বললাম, আশা দৃশ্যটা তুমি কিন্তু ভালো করে দেখ নি। অর্থাৎ লাল রংটা তুমি আলাদা করতে পার নি। আমি তোমাকে যেটা দেখাতে চাচ্ছিলাম সেটা হচ্ছে–শশা অল্প কিছু লোক খাচ্ছে— কিন্তু তাদের ঘিরে আছে অনেক মানুষ। এদের কোনো কাজ কর্ম নেই। এরা গভীর আগ্রহে শশী খাওয়ার দৃশ্য দেখছে। কেউ বসে বসে দেখছে। কেউ দাঁড়িয়ে দেখছে। যেন এটা জগতের অতি আশ্চর্য একটা দৃশ্য।

আশা চারদিকে তাকাল। তারপর শান্ত গলায় বলল, আপনি ঠিকই বলেছেন।আমি বললাম, এমন না যে এদের খুব শশা খেতে ইচ্ছা করছে বলে এরা ভিড় করে আছে। টাকা নেই বলে খেতে পারছে না। এরা শশা খাওয়ার দৃশ্যটাই আনন্দ নিয়ে দেখছে।আমি যদি তাদের একটা ছবি তুলি তারা কি রাগ করবে?

মোটেই রাগ করবে না। খুবই আনন্দ পাবে। বাংলাদেশের মানুষ ছবি তুলতে খুব পছন্দ করে; মনে করো কোনো এক ভদ্রলোকের বাড়িঘর আগুনে পুড়ে যাচ্ছে, সে পাগলের মতো ছোটাছুটি করছে তারমধ্যেও পত্রিকার কোনো সাংবাদিক যদি তাঁর ছবি তুলতে চায় সে কিন্তু হাসি মুখে ছবি তুলবে।সত্যি বলছেন।

হ্যাঁ সত্যি বলছি, ১৯৭১ সনে পাকিস্তান আমী আমাদের দেশের অনেক মানষকে ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি কয়ে মারে। পাক আর্মীর ফটোগ্রাফার তখন কিছু কিছু ছবিও ক্যামেরায় তুলে। সেইসব ছবিতে অনেককে দেখা গেছে মুখে হাসি নিয়ে ছবির জন্যে পোজ দিয়েছে।আপনি নিশ্চয়ই বানিয়ে বানিয়ে বলছেন।আমি বানিয়ে বানিয়ে বলছি না।আপনার সব কথা যে আমি বিশ্বাস করছি তা না। এখন বলুন আমরা কোথায় যাব?

গর্ত দেখতে যাব।

গর্ত দেখতে যাব মানে?

টি এন্ড টি বোর্ড একটা গর্ত করছে। প্রায় দুশ লোক গোল হয়ে বসে গর্ত করা দেখছে। গভীর আগ্রহ এবং আনন্দ নিয়ে দেখছে। কেউ কেউ সকালে এসেছে, থাকবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। আশা হেসে ফেলল। আমি তার হাসি দেখে অবাক হলাম। এমন প্ৰাণময় হাসি অনেকদিন দেখি নি। সে হাসি থামিয়ে ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করতে করতে বলল, আপনি আমাকে ইমপ্রেস করার একটা সূক্ষ্ম চেষ্টা করছেন। ঠিক করে বলুন তো, করছেন না?

হ্যাঁ করছি। তুমি যদি আমার কর্মকাণ্ডে ইমপ্রেস না হও তা হলে আমার চাকরি থাকবে না। প্রতিদিন এক শ ডলার করে পাবার কথা সেটা পাব না; যে কোনো বুদ্ধিমান কর্মচারীর মূল কাজ মুনিবকে খুশি রাখা।আপনার যুক্তি মানলাম। গর্ত দেখতে ইচ্ছা করছে না। গর্ত দেখা ছাড়া আর কী করা যায় বলুন।

একজন ভিক্ষুকের ইন্টারভুক্ত নিলে কেমন হয়। এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে। ভিক্ষুকের ইন্টারভ্যু নেওয়া হবে। আবার আপনার ক্যাসেট প্লেয়ারও পরীক্ষা করা হবে।ক্যাসেট প্লেয়ার পরীক্ষার জন্যে ভিক্ষুকের ইন্টারভ্যু নিতে হবে কেন। আপনার ইন্টারভ্যু নিই।হ্যাঁ নিতে পোর। তবে যে ভিক্ষুকের কাছে নিয়ে যাব সে মানুষ হিসেবে খুবই ইন্টারেস্টিং। দার্শনিক।You mean philosopher?

হ্যাঁ। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ভিক্ষুক শ্রেণী মানুষই দার্শনিক। চলুন যাই।চলুন যাই।রিকশা নেব না হাঁটতে পারবো? হাঁটতে পারব। আমরা যার কাছে যাচ্ছি। তিনি কি আপনার পূর্ব পরিচিত?

হ্যাঁ। ইনার নাম বদরুদ্দিন। ইনি ভাড়া খাটেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর ভাড়া হচ্ছে পঞ্চাশ টাকা। তুমিও ইচ্ছা করলে পঞ্চাশ টাকা দিয়ে তাকে ভাড়া করতে পার।আমি আপনার কথা কিছুই বুঝতে পারছি না।পঞ্চাশ টাকা দিয়ে তুমি ডে শিফটের জন্যে তাঁকে ভাড়া করলে। তিনি নিজে হাঁটতে পারেন না। বিয়ারিং দেওয়া চাকা লাগানো একটা বক্সে আধশোয়া অবস্থায় থাকেন। বক্স টেনে টেনে তাকে নিয়ে ঘুরতে হয়।

বক্স যে টানবে তাকে খাওয়া খরচ বাদ দিয়ে বিশ টাকা দিতে হয়। সব দিয়ে বাকি যা থাকবে সবই, যে ভাড়া করবে তার। চল একটা কাজ করি আমরা বদরুদ্দিনকে এক সপ্তাহের জন্যে ভাড়া করে ফেলি। বৃষ্টি বাদলা না হলে এক সপ্তায় আমাদের মোটামুটি ভাল লাভ থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।আপনি ঠাট্টা করছেন? না সিরিয়াসলি বলছেন?

মোটেই ঠাট্টা করছি না।আমার তো মনে হচ্ছে আমি একটা খুবই অদ্ভুত এক দেশে উপস্থিত হয়েছি।তুমি মোটেও কোনো অদ্ভুত দেশে উপস্থিত হও নি। ভিক্ষাবৃত্তি অতি প্রাচীন প্রথা; এ দেশের সব বড় বড় সাধু সন্তরা ভিক্ষা করেছেন। এখনো এ দেশে একটা সম্প্রদায় আছে ভিক্ষাবৃত্তি যাদের ধর্মের অংশ। কাজেই এই দিকে ভিক্ষুকদের মধ্যে প্রফেশনালিজম তৈরি হয়েছে। তুমি এমন এক দেশ থেকে এসেছি যেখানে প্রফেশনালিজমকে সম্মানের চোখে দেখা হয়। কাজেই ভিক্ষুকদের প্রফেশনালিজকে তুমি তুচ্ছ করবে না এটা আশা করতে পারি।আশা বিড়বিড় করে বলল, I am so confused.

বদরুদ্দিনকে খুঁজে বের করতে খুবই সমস্যা হল। নিউ ইস্কাটনের যে বস্তিতে সে থাকত সেই বস্তি হঠাৎ উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে বস্তিবাসী চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। বদরুদিনের দুই স্ত্রীর একজন থাকে বাসাবোতে। তার কাছ থেকে সন্ধান নিয়ে সন্ধ্যার আগে আগে বদরুদ্দিনকে খুঁজে বের করলাম। আমি ভেবেছিলাম। আশার ধৈর্যচ্যুতি হবে। তা হল না। সে আমার সঙ্গে যথেষ্ট আগ্ৰহ নিয়ে লেগে রইল।

বদরুদ্দিন মুখ গোমড়া করে বসেছিল। তার মেজাজ অত্যন্ত খারাপ কারণ গত তিন দিন তার বুকিং হয় নি। পঞ্চাশ টাকা তার রেট। কোনো পার্টিই পঞ্চাশ দিতে চায় না। চল্লিশের উপর কেউ উঠছে না। বদরুদিন থু করে থুতু ফেলে বলল, একবার চল্লিশে নামলে উপায় আছে? ভাইজান আপনে বলেন? দাম একবার যদি পড়ে আর তারে উঠানো যায় না। বরং তিন দিন না খায়া থাকব। তাও ভালো। এই বিষয়ে আপনের কী বিবেচনা ভাইবা বলেন।

আমি মাথা চুলকে বললাম, বুঝতে পারছি না।বদরুদ্দিন বড় করে নিশ্বাস ফেলে বলল–আপনে লোকটা যে জ্ঞানী এইটা পরিষ্কার। জ্ঞানী না হইলে হুট কইরা একটা মত দিতেন। জ্ঞানী বইল্যাই সময় নিতাছেন। ভিক্ষা ব্যবসা বড় জটিল ব্যবসা। তার উপরে আমি হইছি। ঠিকানা হারা। পুরােনা পার্টির কেউ জানেও না। আমি কই থাকি?

আমি বললাম, বদরুদিন যাকে সঙ্গে নিয়ে তোমার কাছে এসেছি তার নাম আশা। উনি আমেরিকার নিউ জার্সিতে থাকেন। তোমার সঙ্গে কিছু কথা বলতে চান। যদি তোমার আপত্তি না থাকে।বদরুদ্দিন আশার দিকে তাকাল না। বিরক্ত মুখে বলল, মন মিজাজ অত্যধিক খারাপ। কী কথা বলব। কিন? তিন দিন হইয়া গেছে কোনো বুকিং নাই।আমি বললাম, আমরা বুকিং বিষয়েই আলাপ করতে চাই।

টানা এক সপ্তাহ বুকিং নিব—দর কমাতে হবে। ডেইলি পঞ্চাশ টাকা অসম্ভব ব্যাপার। ম্যাক্সিমাম চল্লিশ। খাওয়া খরচ নিজের।মাফ করেন। না খাইয়া মরব। কিন্তু পঞ্চাশের নিচে এক পয়সা নামক না। আমার একটা ইজ্জত তো আছে? নাকি ইজ্জত নাই? ইজ্জত তো অবশ্যই আছে। তবে পুরা সপ্তাহের জন্যে বুকিং এটা মনে রাখতে হবে। খুচরা রেট আর পাইকারীর রেট কখনো এক হয়?

বদরুদ্দিন ঝুকে এসে বলল, ভাইজান শুনেন পুরা ঢাকা শহরে দুই ঠ্যাং নাই ফকিরের সংখ্যা ছিল তের। এর মধ্যে দুই জন চলে গেছে নারায়ণগঞ্জ একজন গেছে ময়মনসিং সদরে এখন আমরা আছি মোট দশজন। দশজনের মধ্যে গান করতে পারে আমায়ে নিয়া চারজন। আমার রেইট বেশি হবে না? অবশ্যই বেশি হবে। তবে তোমার গানের গলা তো ভালো না।ফকিরের গানের গলা যেমন হয় আমারটাও তেমন— আমিতো আর হেমন্ত না।দেখি আমার গেস্টকে একটা গান শুনাও।

না।

না কেন?

ইচ্ছা করতেছে না।

আশা বলল, আমি কি আপনার একটা ছবি তুলতে পারি?

বদরুদিন বলল, না।

আশা বলল, সব কিছুতেই না বলছেন কেন?

বদরুদিন থু করে একদলা থুতু ফেলে বলল, দুই বেলা না খাইয়া থাকলে আপনের মুখ দিয়া কোনো শব্দ বাইর হইত না। আমি তো তাও না বলতেছি। অনেক বিরক্ত করেচেন। এখন যান সাংবাদিকের সাথে আমি কথা বলি না।সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন না কেন?

এরা উল্টা পাল্টা সংবাদ ছাপে। ছবি দিয়া একবার আমার সংবাদ ছেপেছে সেখানে লিখেছে আমার তিন বিবাহ। ভিক্ষার রোজগায়ে আমি নাকি তিন বউ পালি।আপনার বিয়ে কয়টি।দুই বিবাহ। তবে দুইটাই তালাক হয়ে গেছে। সংসার করতে যদি ইচ্ছা করে তা হলে করতে পারি। বর্তমানে সংসার ধর্মে মন নাই।বদরুদ্দিন অন্যদিকে ফিরে সিগারেট ধরাল তাকে দেখে মনে হচ্ছে বর্তমানে তার যে শুধু সংসার ধর্মে মন নেই তা না, কথাবার্তা বলতেও মন নেই। আমি আশার দিকে তাকিয়ে বললাম, আজকের দিনের মত বাংলাদেশ দেখা বন্ধ করলে কেমন হয়?

হিমু,

তোর ব্যাপারটা কি বলবি? প্রথম দিন এসে এই যে ডুব দিলি আর খোঁজ নেই। এদিকে আশা অস্থির হয়ে আছে। ওর ধারণা তোর অসুখবিসুখ করেছে। আমি তাকে বলার চেষ্টা করেছি। অসুখবিসুখ কিছু না— তোর স্বভাবই হল ডুব মারা। তুই তোর স্বভাব মতো ডুব মেরেছিস।

আশাও তোকে একটা চিঠি দিয়েছে। খামের মুখ বন্ধ বলে কী লিখেছে। আমি পড়তে পারি নি। তুই আসার সময় অবশ্যই চিঠিটা সঙ্গে নিয়ে আসবি। আমি পড়ব। মেয়েটা কেন এত বড় চিঠি লিখল জানা দরকার।তুই অবশ্যই অবশ্যই চিঠি পাওয়া মাত্র চলে আসবি। তোকে আল্লাহর দোহাই লাগে। আমার কথা না শুনলে তোর ওপর আল্লাহর গজব পড়বে।

ইতি

তোর খালা।

খালার চিঠি শেষ করে মুখবন্ধ খাম খুললাম। খামের উপর লেখা HEEMO, হিমু নামের ইংরেজি বানান কি HEEMO?

আশা চিঠিটা লিখেছে ইংরেজিতে। সম্ভোধন হল— Dear Sir. চিঠির ভঙ্গি এ রকম যেন স্কুলের ছাত্রী তার একজন শিক্ষককে লিখছে; চিঠিটা বাংলায় অনুবাদ করলে এরকম দাঁড়ায়—

প্রিয় মহোদয়,

ওই দিন আপনার সঙ্গে ঘুরে খুব আনন্দ পেয়েছি। বাড়িতে ফিরে অনেক চিন্তা করলাম–কেন আনন্দ পেয়েছি? কিছু বের করতে পারি নি। আপনি খুব মজা করে কথা বলেছেন এটা একটা আনন্দের ব্যাপার হতে পারে। কিন্তু মজা করে কথা তো অনেকেই বলে। একজন মজার মানুষের সঙ্গে কিছু সময় কাটিয়েছি এটাই কি আমার আনন্দের উৎস? নাকি এর বাইরেও কিছু আছে?

পরদিন খুব আগ্রহ নিয়ে আপনার জন্যে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু আপনি আসেন নি। দুপুরে আপনার খালা বললেন— আপনি আসবেন না। কিছু দিন পরপর কাউকে কিছু না বলে আপনি ডুব দেন। তখন নাকি আপনার ছায়াও বলতে পারে না। আপনি কোথায়। আপনার স্বভাবই নাকি এ রকম।আমি জানতে চাইলাম, স্বভাব এরকম মানে কী?

উনি বললেন, হিমু যেই বুঝে কেউ তার জন্যে অপেক্ষা করছে ওমি সে ডুব মারে। ও বুঝে ফেলেছে তুই তার জন্যে অপেক্ষা করছিস; কাজেই ডুব মেরেছে। আমি বললাম, প্রতিদিন উনি এক শ ডলার করে পাবেন এটা তার কাছে কোনো ব্যাপার না?

উনি বললেন, দৈনিক এক হাজার ডলারও তার কাছে কোনো ব্যাপার না। কারণ সে হল— হিমু।সে হিমু এটা বলে আপনার খালা এক ধরনের অহঙ্কার বোধ করলেন। আমি এতেই সবচে অবাক হয়েছি। মানুষ নিজেকে নিয়ে অহঙ্কার করে এটা স্বাভাবিক। প্রকৃতি জীব জগতের মধ্যে মানুষকে অহঙ্কারী করে পাঠিয়েছে। অস্বাভাবিক ব্যাপার হল একজন মানুষ যখন অন্য একজনকে নিয়ে অহঙ্কার করে। আপনি কি জানেন যে, আপনি সেই অসীম ভাগ্যবানদের একজন?

আপনি পরদিনও এলেন না। আপনার খালা হাসি মুখে বললেন— ও আর আসবে না। যেন আপনার না আসাটা আনন্দময় কোনো সংবাদ। আমি বললাম, উনি যদি না আসেন আমি যাব তাঁর কাছে। আপনার খালা বললেন, ও কোথায় থাকে না-থাকে তার কি কোনো ঠিক আছে নাকি।আমি বললাম, উনার কোনো ঠিকানা নেই? আপনার খালা খুবই আনন্দিত গলায় বললেন–ওর ঠিকানা থাকলে তো কাজই হত।উনি থাকেন কোথায়?

ও কোথাও স্থির হয়ে থাকে না। আজ এখানে কাল ওখানে। ভোজনং যত্র তত্ৰ শয়নং, হট্ট মন্দির।শুনে আমার খুবই ইন্টারেস্টিং লাগছে। আমেরিকায় Hobo সম্প্রদায় বলে একটা গোষ্ঠী আছে। এরাও ইচ্ছা করে সব ঠিকানা নষ্ট করে ঠিকানা বিহীন মানুষে পরিণত হয়েছে। আজ এখানে, কাল ওখানে সময় কাটাচ্ছে। ট্রেনে করে ঘুরেছে। ক্লিপিং ব্যাগ পেতে ফুটপাতের এক কোণায় ঘুমিয়ে পড়ছে। ওদের জীবনযাত্রা আমাকে খুব মুগ্ধ করেছিল। আমি ওদের প্রচুর ছবি তুলেছি। কিছু স্লাইড আমার কাছে আছে। আপনাকে আমি দেখাব।

কিন্তু তার জন্যে আপনার সঙ্গে আমার দেখা হওয়া প্রয়ােজন। আপনার স্ট্র উপর জোর খাটানোর কোনো ক্ষমতা আমার নেই। আমি শুধুই অনুরোধ করছি–টেলিফোনে হলেও আমার সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলার জন্যে। কারণটা স্পষ্ট 2 করি আমার ধারণা আপনি কোনো কারণে আমার উপর বিরক্ত হয়েছেন। কেউ ষ্ট্রে আমার উপর বিরক্ত এটা ভাবতেও আমার কাছে খারাপ লাগে।

আশপাশের মানুষদের মনে আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টির ক্ষমতা হয়তো আমার নেই, তাই বলে তাদের বিরক্ত করব কেন? কারণটা স্পষ্ট করলাম। নয়তো আপনি ভেবে বসতেন— আমি আপনার প্রমে পড়ে গেছি। পুরুষ জাতির অনেক দুর্বলতার এক দুর্বলতা হচ্ছে তারা মনে করে মেয়ে মাত্রই তার প্রেমে পড়ার জন্যে পাগল হয়ে আছে। আশা করি আপনি সেরকম নন। আপনার যেরকম স্বভাব টেলিফোন নাম্বার নিশ্চয়ই আপনার মনে নেই। কিংবা আপনি কোথাও লিখেও রাখেন নি।

বিনীতা

আশা।

 

Read more

তোমাদের এই নগরে পর্ব:০৫ হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published.