বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:০৫ হুমায়ূন আহমেদ

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:০৫

ফতে ছোট্ট নিশ্বাস ফেলল। মিথ্যা চিঠি মানুষ বিশ্বাস করে না। মিথ্যা কখনো টেকে না। খুব বেশি হলে সাত দিন। মিথ্যার আয়ু অল্প। শাস্তি দিতে হলে সত্যি দিয়ে শাস্তি দিতে হবে। সেই ধরনের সত্য কিছু বিষয় ফতে জানে। অন্যভাবে জানে! এমনভাবে জানে যার সম্পর্কে ধারণা করা মানুষের জন্যে কঠিন। বেশ কঠিন। ফতে ক্ষমতাধর মানুষ। তার ক্ষমতা অন্য রকম ক্ষমতা।

ফতে সিগারেট ধরাল। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডাও বাড়ছে। গলা থেকে মাফলার খুলে সে কান ঢাকল। মিসির আলি সাহেবের ঘরে বাতি জ্বলছে। বুড়ো এখনো জেগে গুন্টুর গুটুর করে বই পড়ছে। একটা মানুষ দিনরাত বই পড়ে কীভাবে কে জানে? এত জ্ঞান নিয়ে কী হবে? মৃত্যুর পর সব জ্ঞান নিয়ে কবরে যেতে হবে। যে মাথায় গিজগিজ করত। জ্ঞান সেই মাথার মগজ পিঁপড়া খেয়ে ফেলবে। শরীরে ধরবে পোকা।

ফতে সব মানুষকে চট করে বুঝে ফেলে এই মানুষটাকে এখনো বোঝা যাচ্ছে না। কখনো মনে হয় মানুষটা বোকা। শুধু বোকা না-বোকাদের উজির-নাজির। আবার কখনো মনে হয় লোকটি মহাচালাক। সে আসলে চালাকদের উজির-নাজির। তার কাজের একটা ছেলে আছে তার সাথে যেভাবে কথা বলে মনে হয় নিজের ছেলের সঙ্গে কথা বলে। একদিন সে বাড়িতে উঁকি দিয়ে দেখেছে দুজন পাশাপাশি বসে ভাত খাচ্ছে। আরেক দিনের কথা ফতের স্পষ্ট মনে আছে।

সে গিয়েছে বাড়ি ভাড়া আনতে। মিসির আলি সাহেব তখন নিজেই চা বানাচ্ছিলেন। ফতেকে বলল, চা খাবে? ফতে বলল, না। এখন কাজের ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন, ইয়াসিন চা খাবি? ইয়াসিন গাভীর গলায় বলল, হা। চিনি বেশি দিয়েন। ফতে অবাক হয়ে দেখল মিসির আলি কাজের ছেলের জন্যে চা বানিয়ে আনছেন।লোকটা নাকি অনেক জটিল বিষয় জানে। কী জানে কতটুকু জানে তা ফতের দেখার ইচ্ছা। জটিল বিষয় ফতে নিজেও জানে।

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:০৫

তাকে কেউ চিনে না। কারণ সে বলতে গেলে–এক বাড়ির কাজের লোক, বেবিট্যাক্সির ড্রাইভার। তার কথা কে বিশ্বাস করবে? সে যদি বলে এই দুনিয়ার জটিল বিষয় আমি যত জানি আর কেউ এত জানে না। তা হলে কেউ কি তা বিশ্বাস করবে? কেউ বিশ্বাস করবে না। কারণ সে মিসির আলির মতো জ্ঞানী না। সে ইউনিভার্সিটিতে পড়ানো দূরে থাকুক-নিজে ইউনিভার্সিটির ধারেকাছে কোনোদিন যায় নাই। যাওয়ার ইচ্ছাও নাই। সে যা শিখেছে নিজে নিজে শিখেছে। সবার ওস্তাদ থাকে তার কোনো ওস্তাদ নেই।

ফতের ইচ্ছা করে মিসির আলিকেও শাস্তি দিতে। জ্ঞানী লোকের জন্য জ্ঞানী শাস্তি। মনে কষ্ট দেওয়া শান্তি। এই লোকটা কিসে কষ্ট পাবে তা আগে বের করতে হবে। মানুষ হল মাছধরা জালের মতো। মাছধরা জালে দুই একটা সুতা ছেড়া থাকে। মানুষের জালেও সেরকম ছেড়া সুতা আছে। সুতার ছেড়া জায়গাটা হল তার দুর্বল জায়গা। আক্রমণ করতে হয় দুর্বল জায়গায়। ফতের ধারণা মিসির আলির দুর্বল জায়গা তার জ্ঞান। ধাক্কাটা দিতে হবে জ্ঞানে।

প্রমাণ করে দিতে হবে এত আগ্রহ করে যে জ্ঞান অর্জন করা হচ্ছে সেই জ্ঞান ভুল। কাজটা কঠিন, তবে খুব কঠিন না।ফজলু মিয়াকেও শাস্তি দিতে হবে। আজ সে চোখের ইশারায় তার মেয়েকে সরে যেতে বলল। যেন ফতে কোনো দুষ্ট লোক! দুষ্ট লোকের হাত থেকে মেয়েকে রক্ষা করার চেষ্টা। ফজলু ঠিকই ভেবেছে ফতে মিয়া দুষ্ট লোক। কিন্তু কী রকম দুষ্ট লোক তা সে জানে না। জানার কথাও না। ফতে নিজেই জানে না, সে কীভাবে জানবে?

ফজলু ভেবেছে ফিতে তার চোখের ইশারা দেখতে পায় নি। ফতে ঠিকই দেখেছে। কাজেই ফজলু মিয়াও শাস্তি পাবে। তার শাস্তি আবার হবে অন্য রকম। শাস্তি হল জামার মতো। সাইজ হিসাবে জামা বানাতে হয়। কাঁধের পুট ঠিক থাকতে হয়, হাতার মুহুরি ঠিক থাকতে হয়, কলার ঠিক থাকতে হয়। যে কোনো শাস্তিই হতে হয় মাপমতো।ফতে সিগারেট ধরাল। শীত আরো বেড়েছে। কুয়াশা বাড়ছে। কুয়াশায় মাথার মাফলার ভিজে যাচ্ছে।

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:০৫

তার জেগে বসে থাকার কথা-সে নিজের ঘরে জেগে বসে। থাকতে পারে। তা না করে সে আগের জায়গাতেই বসে রইল। সে হালকা ভাবে শিষ দিচ্ছে এবং পা নাচাচ্ছে। তাকে আনন্দিত মনে হচ্ছে।লুনা কাঁদতে শুরু করেছে। কেঁদেই যাচ্ছে। কেঁদেই যাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফতের ডাক পড়বে। ফতে অপেক্ষা করতে লাগল। এখনো ডাক আসছে না। মেয়ের মা মেয়েকে শান্ত করার চেষ্টা করছে! লাভ হচ্ছে না। আচ্ছা এমন কি হবে যে বিরক্ত হয়ে লুনাকে কোলে নিয়ে তার মা বারান্দায় এল তারপর বিরক্ত হয়ে দোতলা থেকে মেয়েকে ফেলে দিল?

হওয়া বিচিত্র কিছু না। এই দুনিয়ায় অনেক বিচিত্র ব্যাপার ঘটে।বদরুল সাহেবের হাতে দাওয়াতের একটা কার্ড। দাওয়াতের কার্ডটা মিসির আলির। বদরুল সাহেবের ঠিকানায় এসেছে, তিনি নিজেই কার্ড দিতে এসেছেন। বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র। মিসির আলি বললেন, আপনার আসার প্রয়োজন ছিল না। কার্ডটা কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দিলেই হত।

বদরুল সাহেব বললেন, আপনার সঙ্গে তো কথা হয় না, ভাবলাম এই সুযোগে দুটা কথা বলে আসি। ঢাকা শহরে ভাড়াটে আর বাড়িওয়ালার মধ্যে সুসম্পর্ক হয় না। আমি চাই সুসম্পর্ক।মিসির আলি বললেন, আপনি বসুন।বদরুল সাহেব বললেন, বসব না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কথা বলে চলে যাব। নানান ব্যস্ততায় থাকি। বসে গল্পগুজব করার মতো সময় কোথায়? আমার বাড়িতে আপনার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তো? জি না।

অসুবিধা হলে সরাসরি আমাকে বলবেন। আগে ফতেকে বললেই হত। এখন আবার ফতে দোকান দিয়েছে। আলাদা বাসা নিবে।আমার কোনো সমস্যা হলে আমি আপনাকেই বলব।আপনার কাজের ছেলেটাকে এক কাপ চা দিতে বলুন। চা খেয়েই যাই। নিজের বাড়ির চায়ের চেয়ে অন্যের বাড়ির চা খেতে সব সময়ই ভালো লাগে।মিসির আলি খানিকটা শঙ্কিত বোধ করলেন।

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:০৫

খুব যারা কাজের মানুষ তারা মাঝে মাঝে গা এলিয়ে দেয়। এই ভদ্রলোক মনে হচ্ছে গা এলিয়ে দিতেই এসেছেন। মিসির আলির হাতে কোনো কাজকর্ম নেই–তারপরেও আজ তিনি সামান্য ব্যস্ত। ঢাকা মেডিকেল এসোসিয়েশনের একটা সেমিনারে যাবেন বলে ঠিক করেছেন। সবকিছু থেকে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। এই কাজটা ঠিক হচ্ছে না।বদরুল সাহেব চেয়ারে বসতে বসতে বললেন, আপনি কী করেন এটাই এখনো জানলাম না। আপনি করেন কী?

মিসির আলি বললেন, কিছু করি না।রিটায়ারও করি নি। মাস্টারি করতাম। চাকরি চলে গিয়েছিল।বলেন কি আপনার চলে কীভাবে? কয়েকটা বই লিখেছিলাম-সেখান থেকে রয়েলটি পাই। এতে কষ্টটষ্ট করে চলে যায়।বই বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলে কী করবেন?

তখন খুব সমস্যার পড়ব।ফতের কাছে শুনলাম, বিয়েও করেন নি।ঠিকই শুনেছেন। এতে একদিক দিয়ে সুবিধা হয়েছে–টাকা পয়সার সাপ্লাই বন্ধ হয়ে গেলে রাস্তায় নেমে পড়ব। একা মানুষের জন্যে বিরাট শহরে বাসস্থান ছাড়া বাস করা তেমন কঠিন না।বদরুল সাহেব বিস্মিত গলায় বললেন, রাতে ঘুমাবেন কোথায়? বাথরুম করবেন কোথায়?

মিসির আলি হাসিমুখে বললেন, একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।বদরুল সাহেব উঠে দাঁড়ালেন, ইতস্তত করে বললেন—বাড়ি ছাড়ার আগে আমাকে এক মাসের নোটিশ দিতে হবে।মিসির আলি বললেন, নোটিশ অবশ্যই দেব। আপনি চা না খেয়ে উঠে যাচ্ছেন।চা খাব না।

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:০৫

মিসির আলির মনে হল এই ভদ্রলোক তার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি এখন মিসির আলিকে ভাড়াটে হিসেবে দেখছেন না-একজন ছিন্নমূল মানুষ হিসেবে দেখছেন। ছিন্নমূল মানুষের সঙ্গে কোনো বাড়িওয়ালা কখনো গল্পগুজব করে সময় নষ্ট করবে না। মিসির আলির মনে হল—খুব শিগগিরই তিনি বাড়ি ছাড়ার নোটিশও পাবেন। যে ভাড়াটের টাকা পয়সার সাপ্লাইয়ের ঠিক নেই তাকে কোনো বাড়িওয়ালা রাখবে না।

বদরুল সাহেব চলে যাওয়ায় মিসির আলির জন্যে খানিকটা সুবিধা হল। সেমিনারে যাওয়া যাবে। শুধু সেমিনার না, তিনি ঠিক করলেন-বিয়ের যে নিমন্ত্রণটা পেয়েছেন, সেখানেও যাবেন। প্লেট ভূর্তি করে পোলাও নেবেন। হাতাহাতি করে রেজালা নেবেন। একগ্লাস বোরহানি থাকা সত্ত্বেও আরো একগ্লাস নিতে গিয়ে তাড়াহুড়া করে গ্লাস ফেলে পাশের জনের জামাকাপড় ভিজিয়ে দেবেন। নগরে বাস করতে হলে নাগরিক মানুষ হতে হয়। মিসির আলি ঠিক করলেন, তিনি পুরোপুরি নাগরিক মানুষ হবার একটা চেষ্টা চালাবেন।

সেমিনারের বিষয়বস্তু বয়ঃসন্ধিকালীন মানসিক জটিলতা। গেষ্ট স্পিকার অধ্যাপক স্ট্রাইনার এসেছেন আমেরিকা থেকে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদ্যার অধ্যাপক। তিনি সস্ত্রীক দশ দিনের জন্যে এসেছেন। বাংলাদেশে একদিন থেকে চলে যাবেন নেপালের পোখরায়। দুদিন ছুটি কাটয়ে যাবেন নয়াদিল্লি। নয়াদিল্লির আরেকটি সেমিনার শেষ করে ইজিপ্ট হয়ে দেশে ফিরবেন।

প্রফেসর স্টাইনারের মূল স্পনসর দিল্লির মেডিকেল এসোসিয়েশন। বাংলাদেশ ফাঁকতালে ঢুকে পড়েছে। যেহেতু নেপাল যাবার পথে বাংলাদেশের ঢাকায় একদিনের জন্যে ট্রানজিট নিতেই হবে কাজেই তাকে ধরা হল একটা দিন বাংলাদেশকে দিতে হবে। সেমিনারের গেষ্ট স্পিকার হবার বিনীত অনুরোধ। তাঁকে সামান্য সম্মানী দেওয়া হবে। ঢাকায় একরাত তাকে রাখা হবে। ফাইভ ষ্টার হোটেলে।

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:০৫

বিদেশী বিশেষজ্ঞরা এই জাতীয় প্রস্তাবে সহজেই রাজি হয়ে যান। প্রফেসর স্টাইনারও সানন্দে রাজি হলেন। আরেকটা দেশ দেখা হলে মন্দ কি? প্রফেসর রাজি হওয়া মাত্রই ঢাকা মেডিকেল এসোসিয়েশনের কর্তব্যক্তিরা ছোটাছুটি শুরু করলেন। বিদেশী বিশেষজ্ঞ এলেই হবে না, প্রধানমন্ত্রীকে আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মানেই পাবলিসিটি। টিভিতে বিরাট কিভারেজ।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনের কারণে মেডিকেল এসোসিয়েশনের কর্তাব্যক্তিদের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ঘোরাঘুরি বাড়তি সুযোগ। মোটামুটি নিরুজ্ঞাপ ডাক্তারদের জীবনে কিছু উত্তাপ। সেমিনার উপলক্ষে খাওয়াদাওয়া। যেহেতু বিদেশী বিশেষজ্ঞ গেষ্ট আসছেন তাঁর সম্মানে রাতে একটা এক্সকুসিভ ককটেল পার্টি। প্রধান বিষয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন। মানের ক্রম অনুসারে ককটেল পার্টি, সেমিনারের খাওয়াদাওয়া, বিদেশী বিশেষজ্ঞকে নিয়ে শহর পর্যটন। সেমিনারটা ফাও!

প্রায় এক সপ্তাহ কর্মকর্তারা ছোটাছুটি করলেন। তাঁরা পুরোপুরি হতাশ হয়ে গেলেন যখন জানা গেল। এই সময় প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। তিনি বিদেশে যাচ্ছেন। এই তারিখে প্রেসিডেন্টকেও পাওয়া যায় কি না সেই চেষ্টা চলতে থাকল। চারটা কমিটি করা হল। একটা হল এন্টারটেইনমেন্ট কমিটি।এই কমিটি সন্ধ্যাবেলায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

আরেকটি কমিটি হল ফুড কমিটি! এই কমিটির দায়িত্ব সেমিনারের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা। তৃতীয় কমিটি দেখছে ককটেল পার্টি।খুবই সেনসেটিভ বিষয়।কাকে দাওয়াত দিতে হবে কাকে দাওয়াত দিতে হবে না।এটা চিন্তাভাবনা করে ঠিক করতে হবে। নানান ধরনের ড্রিংকের ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে বোতলের সংখ্যা এবং বৈচিত্র্য দেখে অধ্যাপক এবং অধ্যাপকপত্নীর চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়।

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:০৫

মূল সেমিনার বিষয়ে কোনো কমিটি হল না। এটা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না। প্রফেসর স্টাইনারকে পাওয়া গেছে এটাই গুরুত্বপূর্ণ। সেমিনারে বাংলাদেশ থেকে দুটা পেপার পড়া হবে। পেপার দুটা তৈরি আছে-ব্যস। আর কি।সেমিনার শেষ হয়েছে। দু ঘণ্টার সেমিনার শেষে অতিথিদের জন্যে লাইট রিফ্লেসমেন্ট। সাংবাদিক এবং অতিথিরা খাবারের টেবিলে প্রায় ঝাপিয়ে পড়েছেন।

তাদের দেখে মনে হচ্ছে দীর্ঘদিন তারা অনশনে ছিলেন। আজ অনশন ভঙ্গ করেছেন। কে কার আগে প্লেট নেবেন তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি চলছে। খাবার ভালো। ফাইভ ষ্টার হোটেলের খাবার, পাঁচশ টাকা প্লেটের রিফ্লেসমেন্ট খারাপ হবার কারণ নেই।এ ধরনের সেমিনারে মিসির আলি প্ৰথমে এক কাপ কফি নিয়ে নেন। শুরুতে চা এবং কফির টেবিল খালি থাকে। কোনোরকম ধাক্কাধাক্কি  ছাড়াই চা-কফি নিয়ে নেওয়া যায়।

নাশতার টেবিলের ভিড় যখন কমে তখন সেখানে নাশতা থাকে না।আজ ঘটনা অন্য রকম হল। মিসির আলি কফি নিয়ে এক কোনায় বসে কফিতে চুমুক দিচ্ছেন! তাঁর সিগারেট খেতে ইচ্ছা করছে কিন্তু জায়গাটা স্মোক ফ্রি কি না বুঝতে পারছেন না। অ্যাশট্রে চোখে পড়ছে না। এই সময় মিসির আলির পেছনে প্রফেসর স্ট্রাইনার এসে উপস্থিত হলেন। বিশুদ্ধ বিস্ময় নিয়ে সাউথের উচ্চারণে ইংরেজিতে বললেন-প্রফেসর মিসির আলি না? আমার কথা মনে আছে?

মিসির আলি বললেন, হ্যাঁ মনে আছে।আপনি বাংলাদেশের তা ধারণা ছিল না। আমি জানতাম আপনি শ্ৰীলংকান।মিসির আলি বললেন, আপনি তেমনভাবে আমার খোঁজ নেবার চেষ্টা করেন নি। ভাসা ভাসা খোঁজ নিয়েছেন কাজেই ভাসা ভাসা তথ্য পেয়েছেন।

 

Read more

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:০৬ হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published.