বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:১০ হুমায়ূন আহমেদ

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:১০

স্যার কেমন আছেন? প্রশ্নের জবাব দেবার আগে মিসির আলি দেয়ালঘড়ির দিকে তাকালেন। সকাল নটা। দেয়ালঘড়িটা আধুনিক ইলেকট্রিক্যাল ঘড়ি না হয়ে পুরোনো দিনের পেন্ডুলাম ঘড়ি হলে ঢং ঢেং করে নটা ঘণ্টা বাজাতে শুরু করত। মিসির আলি শুকনো গলায় বললেন, ভালো আছি। প্রতিমা তুমি কেমন আছ?

আমার নাম তা হলে মনে আছে। আমি ভাবলাম আবার বোধহয় প্রথম থেকে শুরু করতে হবে। আমার পরিচয় দিতে হবে। কেন আমার নাম প্ৰতিমা ব্যাখ্যা করতে হবে।মিসির আলি মনে মনে ভাবলেন-মেয়েটা আগে এত কথা বলত না। এখন বলছে কেন? প্রতিমা বলল, স্যার এখন বলুন আমাকে দেখে কি রাগ লাগছে?

না।

বিরক্তি লাগছে।

বুঝতে পারছি না।

প্রতিমা বলল, আমাকে দেখে আসলে আপনি খুশি হয়েছেন। আপনি বুঝানোর চেষ্টা করছেন যে বিরক্ত হয়েছেন–আসলে তা-না। স্যার ঠিক বলেছি? আনন্দে এবং উৎসাহে প্রতিমা ঝলমল করছে। আজ তাকে আরো সুন্দর লাগছে। মিসির আলি তাকিয়ে দেখলেন। বসার ঘরে দুটা বড় বড় সুটকেস। এই সুটকেস প্রতিমাই নিয়ে এসেছে। সুটকেস কেন এনেছে কে জানে। মিসির আলি বললেন, যেদিন আসার কথা ছিল সেদিন আস নি কেন?

প্রতিমা বলল, আপনি বলুন কেন আসি নি। আপনি হচ্ছেন্ন দ্য গ্রেট মিসির আলি। আমার দিকে তাকিয়েই আপনার বলে দেওয়া উচিত কেন আসি নি। বসার ঘরে দুটা সুটকেস, কেন এনেছি বলুন তো? দেখব। আপনি আগের মিসির আলি আছেন না বয়স হবার কারণে আপনার আগের ডিটেকটিভ ক্ষমতা কমে গেছে।মিসির আলি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন, তুমি ছটফট করছ, কেন? বস।প্রতিমা বলল, আপনি ই বা আমাকে দেখে এত অস্থির হচ্ছেন কেন? আপনিও বসুন।

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:১০

মিসির আলি বসলেন। প্ৰতিমা বলল-আমি বলেছিলাম নটার সময় আসব। আমি ঠিকই এসেছিলাম। নটা বাজার আগেই গেটের কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলাম। ঠিক নটার সময় ঢুকব এই হচ্ছে আমার প্ল্যান। নটা বাজতেই প্ল্যান বদলালাম। ঠিক করলাম আপনার কাছে যাব না, যাতে সারা দিন আপনি মনে মনে অপেক্ষা করেন। তাই করেছিলেন না?

হ্যাঁ।তার পরদিন এলাম না। তার পরদিনও না। এটা করলাম-যাতে অপেক্ষা করতে করতে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন। বলুন আপনি ক্লান্ত হয়েছেন না? খানিকটা হয়েছি।এবং একসময় আপনার নিশ্চয়ই মনে হওয়া শুরু হয়েছে–আচ্ছা মেয়েটা আসছে। না কেন-ওর কী হয়েছে। বলুন  এ রকম হয়েছে না?

হ্যাঁ হয়েছে।আমি এই অবস্থাটা আপনার ভেতর তৈরি করার চেষ্টা করেছি। সত্যি করে বলুন, পেরেছি কি না।হ্যাঁ পেরেছি।প্রতিমা হাসি হাসি মুখে বলল-ঐ দিন আমার ওপর আপনি খুবই বিরক্ত হচ্ছিলেন। আমি আপনাকে আমার বাড়িতে নিয়ে যাব এটা ভেবে আপনি আতঙ্কে অস্থির হয়েছিলেন। আমার খুবই খারাপ লেগেছিল। তখনই ঠিক করেছিলাম আমি এমন অবস্থা তৈরি করব যাতে আপনি খুব আগ্রহ নিয়েই আমার সঙ্গে থাকতে আসেন।

তোমার কি ধারণা সে রকম অবস্থা তৈরি করতে পেরেছ? না এখনো পারি নি। তবে এখন আর আপনি আমাকে আগের মতো অপছন্দ করছেন না।সুটকেসে কী? সুটকেসে কিছু না। খালি সুটকেস। আপনার বইগুলি আজ। আমি সুটকেসে ভরে সঙ্গে করে নিয়ে যাব। প্রথম দিন বই, তারপর জামাকাপড়, তারপর বাসনকোসন এইভাবে ঘর খালি করব। সব শেষের দিন। আপনি যাবেন! আমি আপনাকে নিয়ে যাব না, আপনি নিজ থেকে যাবেন।বল কী?

প্রতিমা খিলখিল করে হাসছে। মনে হচ্ছে সে খুবই মজা পাচ্ছে। মেয়েটার হাসি শুনে মিসির আলির বুক ধড়ফড় করতে লাগল। এই মেয়ে হাসি দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে সে যা করবে বলছে তা সে করবে।প্রতিমা গলা নামিয়ে ফিসফিস করে বলল, স্যার শুনুন–আপনার শোবার ঘরে যেখানে আপনার বিছানা করেছি। সেখানে বিশাল একটা জানালা আছে। আপনি সরক্ষণ অাকাশ দেখতে পারবেন।আমি সারাক্ষণ আকাশ দেখতে চাই এটা তোমাকে কে বলল?

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:১০

কেউ বলে নি। আমি জানি। আপনার একটা ইচ্ছা হল-মৃত্যুর সময় আপনি আকাশ দেখতে দেখতে মারা যাবেন।আমি আকাশ দেখে মরতে চাই তোমাকে কে বলল? কেউ বলে নি। আমি বুঝতে পেরেছি।মিসির আলি অবাক হয়ে বললেন, কীভাবে বুঝতে পেরেছ?

প্রতিমা হতাশ গলায় বলল, স্যার আপনার হয়েছে কী? আমি যে মনের কথা বুঝতে পারি আপনি তো সেটা জানেন। খুব ভালো করে জানেন। এই নিয়ে আপনি অনেক পরীক্ষা টরীক্ষাও করেছেন–এখন মনে করতে পারছেন না কেন?

বুঝতে পারছি না, কেন মনে করতে পারছি না।আপনার কি আলজেমিয়ারস ডিজিজ হয়েছে? আমার ধারণা তাই হয়েছে। নেপাল থেকে আমি আপনাকে পশমি চাদর এনে দিলাম। আপনাকে দিয়ে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়েছিলাম–সব সময় এই চাদর ব্যবহার করবেন। আপনি ঠিকই এই চাদর ব্যবহার করছেন। কিন্তু আমি যে চাদরটা দিয়েছি। এটা ভুল মেরে বসে আছেন। কেন স্যার?

মিসির আলি জবাব দিলেন না। মেয়েটা সত্যি কথাই বলছে-এর বিষয়ে তার কিছুই মনে নেই। মেয়েটি সম্পর্কে যাবতীয় স্মৃতি মস্তিষ্ক মুছে ফেলেছে। ব্যাপারটা রহস্যময়। প্রতিমা সম্পর্কে জানার জন্যে তিনি তাঁর পুরোনো ফাইল ঘেঁটেছেন। প্রতিটি কেইস হিস্ট্রির ফাইল তার আলাদা করা। সেখানে প্ৰতিমার কেইস হিস্ট্রি থাকার কথা—অথচ নেই। পাঁচটি পাতা ফাইল থেকে ছেঁড়া হয়েছে। যে ছিঁড়েছে সে যে খুব সাবধানে গুছিয়ে ছিঁড়েছে তাও না—টেনে ছিঁড়েছে।প্রতিমা বলল, স্যার এই মুহূর্তে আপনি কী ভাবছেন বলি? বল।এই মুহুর্তে আপনি ভাবছেন-পাতাগুলি কে ছিঁড়ল?

মিসির আলি চমকে উঠলেন। প্রতিমা হাসতে হাসতে বলল, আপনি এত চমকে গেলেন কেন? আমি যে মানের কথা ধরতে পারি। তার প্রমাণ অনেকবার আপনাকে দিয়েছি। অথচ আপনি এমনভাবে চমকেছেন যেন প্রথমবার দেখলেন।ইয়াসিন দু কাপ চা নিয়ে ঢুকেছে। প্রতিমা তার দিকে তাকিয়ে বিরক্ত গলায় বলল, তুমি চা বানিয়ে নিয়ে এসেছি কেন? আমি না তোমাকে বললাম তুমি পানি গরম করে আমাকে খবর দেবে আমি চা বানিয়ে দেব। কি বলি নি?

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:১০

বলছেন।আর কখনো এই ভুল করবে না।ইয়াসিন মুখ ভোঁতা করে দাঁড়িয়ে রইল। প্রতিমা কড়া গলায় বলল, যা হাঁদারামের মতো দাঁড়িয়ে থাকবি না।ইয়াসিন চলে গেল। প্রতিমা এমনভাবে কথা বলছে যেন সে এ বাড়ির কর্তী। বাড়ির দেখাশোনা, সংসার চালানোর সব দায়িত্ব তার একার। মিসির আলি চায়ে চুমুক দিলেন। প্রতিমা বলল, স্যার আপনি কি নিজের হাতের লেখা চিনতে পারবেন? নাকি নিজের হাতের লেখাও ভুলে গেছেন।

মিসির আলি বললেন, হাতের লেখা চিনব।পঞ্চাশ টাকার স্ট্যাম্পে আপনাকে দিয়ে কিছু কথা লিখিয়ে নিয়েছিলাম। মনে আছে? দলিল সঙ্গে নিয়ে এসেছি। চা শেষ করে দলিলটা দেখুন। চা খেতে খেতে দলিল দেখলে সমস্যা আছে।কী সমস্যা? আপনি বিষম খাবেন। চা শ্বাসনালি দিয়ে ঢুকে সমস্যা তৈরি করবে।ভয়ঙ্কর কিছু কি লিখেছি?

আপনার কাছে ভয়ঙ্কর মনে হতে পারে। নিন দেখুন। শুধু পড়ার সময় চায়ে চুমুক দেবেন না।মিসির আলি দলিল পড়ছেন। হাতের লেখা তার। কালির কলমে লেখা। লেখা দেখে কোন কলামটা ব্যবহার করেছেন সেটাও মনে পড়েছে। ওয়াটারম্যান কলম। ইয়াসিনের আগে যে ছেলেটা কাজ করত। সে অনেক জিনিসপত্রের সঙ্গে তার এই শখের কলামটাও চুরি করে নিয়ে যায়। দলিলে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা–

আমি মিসির অ্যালি

সজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে নিম্নলিখিত অঙ্গীকার করছি।

ক. আমার চিকিৎসাধীন রোগী প্রতিমার (ভালো নাম আফরোজা বানু) সঙ্গে জীবনের একটি অংশ কাটবে। সে যখন আমাকে তার সঙ্গে থাকতে ডাকবে তখনই আমি তাতে রাজি হব।

খ. প্রতিমার (আফরোজা বানু) সঙ্গে বিবাহ নামক সামাজিক প্রথার ভেতর দিয়ে যেতেও আমার কোনো আপত্তি নেই।

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:১০

অস্বীকারনামার শেষে ইংরেজি ও বাংলায় মিসির আলির দস্তখত। তারিখ দেওয়া আছে। ছ বছর আগের একটা তারিখ।প্রতিমা দলিলটা মিসির আলির হাত থেকে নিয়ে তার হ্যান্ডব্যাগে রাখতে রাখতে বলল-দলিল পড়ে আপনি কি চমকেছেন? মিসির আলি জবাব দিলেন না।প্ৰতিমা বলল, দলিলটা যে আপনার হাতেই লেখা, এ বিষয়ে কি আপনার কোনো সন্দেহ আছে?

মিসির আলি বললেন, সন্দেহ নেই।প্রতিমা মিটমিটি হাসতে হাসতে বলল, তা হলে কী দাঁড়াচ্ছে-আপনি আমার সঙ্গে যাচ্ছেন? এই মুহুর্তে আমি আপনাকে বিয়ের জন্যে চাপ দেব না! একসঙ্গে এতটা টেনশন আপনার সহ্য হবে না। আপাতত আমার সঙ্গে থাকলেই হবে।মিসির আলি চুপ করে রইলেন।প্রতিমা বলল-কথা বলুন। মুখ পুরোপুরি সিল করে রাখলে হবে কীভাবে? বইগুলি বের করে দিন, আমি ব্যাগে গুছাতে থাকি।মিসির আলি বললেন, আমাকে কিছু দিন সময় দাও।প্রতিমা শান্ত গলায় বলল, কতদিন সময় চান?

সাত দিন।

সাত দিন সময় চাচ্ছেন কী জন্যে?

চিন্তা করার জন্যে।

কী চিন্তা করবেন?

আমি আমার মতো করে চিন্তা করব।ঠিক আছে সাত দিন চিন্তা করুন। সাত দিন পর আমি এসে আপনাকে নিয়ে যাব!তোমাকে নিয়ে যেতে হবে না। তুমি তোমার ঠিকানা রেখে যাও। সাত দিন পর আমি নিজেই উপস্থিত হব।প্ৰতিমা শান্ত গলায় বলল, না। আমি আপনাকে নিয়ে যাব। ব্যাগ থাকল, আমি উঠলাম। ভুলে যাবেন না, আগামী সোমবার।

ইয়াসিন দরজা ধরে চোখ গোল করে তাকিয়ে আছে। তার দৃষ্টি মিসির আলির দিকে। মানুষটা ছটফট করছে। কেন ছটফট করছে সে বুঝতে পারছে না, তবে তার ধারণা একটু আগে যে মেয়েটা এসেছিল তার সঙ্গে এর কোনো যোগ আছে। ব্যাপারটা ইয়াসিনের ভালো লাগছে না। সে তার ছোট জীবনে লক্ষ করেছে। নিরিবিলি সংসারে কোনো একটা মেয়ে উপস্থিত হলেই সব লণ্ডভণ্ড হতে শুরু করে। তার নিজের বাবার সংসারেও একই ঘটনা ঘটেছে।

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:১০

সে এবং তার বাবা সুখেই ছিল। একসঙ্গে ভিক্ষা করত। রাতে ঘুমানোর জন্যে সুন্দর একটা জায়গাও তাদের ছিল। বাবাকে জড়িয়ে ধরে সে ঘুমাত। বাবা গুটুর গুটুর করে কত মজার গল্প করত। তার বাবার ভিক্ষুক জীবন বড়ই রোমাঞ্চকর। হঠাৎ তাদের সংসারে এক কমবয়সী ভিখারিনি উপস্থিত হল। সেও তাদের সঙ্গে ভিক্ষণ করা শুরু করল। এরপর থেকে বাবা আর তার ছেলেকে দেখতে পারে না। কারণে-অকারণে ধমক। একদিন তাকে এমন এক ধাক্কা দিল যে সে একটু হলেই ট্রাকের নিচে পড়ত।

এই সংসারেও একই ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। মেয়েটা ঢুকে পড়েছে। এখনই কেমন মাতিবরি শুরু করেছে–পানি গরম করে আমাকে ডাকবি। চা বানাবি না। চা আমি এসে বানাব। শখ কত। তুমি চা বানাবে কেন? আমি কি বানাতে পারি না? এই মেয়েকে শিক্ষা দেবার ক্ষমতা ইয়াসিনের আছে। মেয়েকে শিক্ষা দেবার জিনিস তার ব্যাগেই আছে।

শিক্ষা দেবার ভয়ঙ্কর জিনিসটা সে আসলে যোগাড় করেছিল তার বাবার সঙ্গে যে মেয়েটা ঘোরে তাকে শিক্ষা দেবার জন্যে। সেই সুযোগ তার খুব ভালোই আছে। বাবা মনে কষ্ট পাবে এমন কাজ ইয়াসিন কোনোদিন করবে না। আসমান থেকে ফেরেশতা নেমেও যদি বলে-ইয়াসিনরে কাজটা করা। তোর আখেরে মঙ্গল হবে। তবু সে কাজটা করবে না। তার বাবার মনে কষ্ট হয় এমন কিছু করা তার পক্ষে সম্ভব না।

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:১০

মিসির আলি নামের মানুষটার মনে কষ্ট হয় এমন কিছুও সে করতে পারবে না। এই মানুষটাও পেয়ারা মানুষ। তবে প্রতিমা নামের মেয়েটার কিছু হলে মিসির আলির যাবে আসবে না। কারণ উনি মেয়েটাকে পছন্দ করেন না। উনি যে ছটফট করছেন— মেয়েটার কারণেই ছটফট করছেন। মেয়েটা উনাকে নিয়ে চলে যেতে চাচ্ছে। উনি যেতে চাচ্ছেন না। মেয়েটার ক্ষতি হলে উনি খুশিই হবেন।

ইয়াসিনের ট্র্যাংকে একটা বোতল আছে। বোতলে ভয়ঙ্কর জিনিস আছে। ভয়ঙ্কর জিনিসটা দেখতে পানির মতো। গ্লাসে ঢাললে মনে হবে পানি ঢালা হয়েছে। সেই পানি মুখে দিলে জ্বলেপুড়ে সব ছারখার হয়ে যাবে। জিনিসটার নাম এসিড। এর আরেকটা নাম আছে-ভোম্বল। ভোম্বল নামটা ফিসফিস করে বললেই—যার বোঝার সে বুঝে নেবে।

ইয়াসিন বলল, স্যার চা খাইবেন?

মিসির আলি কিছু বললেন না। ইয়াসিন আবার বলল, স্যার চা খাইবেন?

 

Read more

বাঘবন্দি মিসির আলি পর্ব:১১ হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published.