হরতন ইশকাপন পর্ব – ১ হুমায়ূন আহমেদ

হরতন ইশকাপন পর্ব – ১

স্যার ম্যাজিক দেখবেন? মিসির আলি বিরক্ত মুখে প্রশ্ন কতাঁর দিকে তাকালেন। পঁচিশ-ছাব্বিশ বছরের যুবক। বোঝা যাচ্ছে অভাব-অনটনে আছে। গায়ের শার্ট মলিন। চেহারাও শার্টের মতোই মলিন। যদিও হাসি-খুশি ভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছে। সেই চেষ্টায় লাভ হচ্ছে না। যুবকের চোখেও মনে হয় সামান্য সমস্যা আছে। সারাক্ষণ চোখ পিটপিট করছে। চোখের অশ্রুগ্রন্থি ঠিকমতো কাজ না করলে চোখ পিটপিট রোগ হয়। এর কি তাই হয়েছে? সে ক্ষুধার্তও। তাকে পিরিচে করে বিস্কিট এবং চানাচুর দেয়া হয়েছিল। সে সবই খেয়েছে।

বিস্কিটের কিছু কণা পড়ে ছিল। তৰ্জনীর মাথায় সেই কণাগুলো মাখিয়ে সে জিভে ছোঁয়াল।যুবকের নাম তিনি জানেন না। নাম জানার কোনো আগ্রহও বোধ করছেন না। তাঁর কাছে যুবকটি কেন এসেছে তা-ও ধরতে পারছেন না। তিনি এমন কোনো মজার চরিত্র না যে তাঁর সঙ্গে কথা বলে কেউ মজা পাবে। যুবক আবার বলল, স্যার, ম্যাজিক দেখবেন? মিসির আলি বললেন, ম্যাজিক দেখব না। ম্যাজিক আমার পছন্দের বিষয় নয়।যুবক হাসি হাসি গলায় বলল, কেন পছন্দ না জানতে পারি?

মিসির আলি বললেন, ম্যাজিকের ভেতর প্রতারণার একটা ব্যাপার থাকে। এই প্রতারণার অংশটা আমার অপছন্দ। আমি প্রতারণা পছন্দ করি না।স্যার আমি যে ম্যাজিক দেখাব তার মধ্যে কোনো প্রতারণা নেই। মেন্টাল ম্যাজিক। আমার অনেক দিনের শখ আমি আমার মানসিক ক্ষমতার নমুনা আপনাকে দেখাই।

যুবকের মানসিক ক্ষমতা দেখার ব্যাপারেও মিসির আলি কোনো আগ্ৰহ বোধ করলেন না। তিনি নিজের উপর সামান্য বিরক্তও হলেন। তাঁর কৌতুহল এত দ্রুত কমছে কেন? বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের কৌতুহল কমতে থাকে? সেই কমার হারটা কেমন? মিসির আলি বললেন, তোমার নাম কী?

হরতন ইশকাপন পর্ব – ১

যুবক আগ্রহের সঙ্গে বলল, মনসুর। আপনার সঙ্গে আমার কিছু মিল আছে। আপনার নামের শুরু ম দিয়ে। আমার নামের শুরুও ম দিয়ে।যুবক আবারো বলল, আমি কি স্যার আমার মানসিক ক্ষমতার একটা ম্যাজিক আপনাকে দেখাব? দেখলে আপনি খুবই মজা পাবেন।

মিসির আলি হ্যাঁ বা না বলার আগেই মনসুর পকেটে হাত দিয়ে সিগারেটের প্যাকেট বের করল। হতদরিদ্র যুবকদের পকেটেও কেন জানি দামি সিগারেটের প্যাকেট থাকে। এর কাছে তা নেই। সমস্ত সিগারেটের প্যাকেটের ন্যাতন্যাতা ফিল্টারবিনীহ সিগারেট।আমি ম্যাঞ্জিকটা দেখাব সিগারেট দিয়ে।মনসুর একটা সিগারেট টেবিলের উপর রাখল। মেরুদণ্ড সোজা করে বসল। সিগারেটের দিকে এখন সে তাকিয়ে আছে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে। তার মাথা নিচু হয়ে আছে। চোখে পিটপিটানিও বন্ধ।

স্যার ভালো করে দেখুন। আমি সিগারেটটা হাত দিয়ে স্পর্শও করি নি। আমি শুধু তাকিয়ে আছি। দেখুন চোখের দৃষ্টিতে আমি কী করছি! মিসির আলি মোটামুটি বিস্মিত হলেন। সিগারেট নড়ছে। গড়িয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছে। বিস্মিত হবার মতোই ব্যাপার।যুবকের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। মুখের মাংসপেশি শক্ত হয়ে আছে। বোঝাই যাচ্ছে মানসিক ক্ষমতার এই ম্যাজিক দেখাতে তার রীতিমতো কষ্ট হচ্ছে। ঘন ঘন নিঃশ্বাস পড়ছে।

স্যার কেমন দেখলেন?

ভালো। ইমপ্রেসিভ।

এখন যা দেখলাম তার নাম টেলি-কাইনেটিক্স। মানসিক শক্তির সাহায্যে বস্তুকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরানো! আপনি কি টেলি-কাইনেটিক্সের কথা শুনেছেন? শুনেছি।মনসুর লম্বা নিঃশ্বাস ফেলল, ইসরায়েলের এক যুবক, তার নাম যুরি গেলার। সে মানসিক ক্ষমতা দিয়ে চামচ বাঁকা করে ফেলতে পারত। আমার এত ক্ষমতা নেই। তবে যা আছে তা-ও খারাপ না। চামচ বাঁকা করতে না পারলেও আমি পাতলা তার বাঁকা করতে পারি। ঠিক বলেছি না। স্যার?

হরতন ইশকাপন পর্ব – ১

মিসির আলি সামান্য নড়ে বসলেন। হ্যাঁ-না কিছু বললেন না। টেবিলের উপর থেকে সিগারেট নিয়ে ঠোঁটে দিল। দিয়াশলাই দিয়ে সিগারেট ধরাল। সিগারেট একবারে ধরল না। বেশ কয়েকটা কাঠি খরচ করতে হল। একজন বয়স্ক মানুষ সামনে বসে আছে তা নিয়ে তার মধ্যে কোনো সঙ্কোচ দেখা গেল না।সিগারেট থেকে তীব্ৰ গন্ধ আসছে। গাঁজার গন্ধ। মিসির আলির মন সামান্য খারাপ হল।

সিগারেট শেষ করে আমি আমার ক্ষমতার অন্য একটা ভার্সান আপনাকে দেখাব। আপনি মজা পাবেন।আচ্ছা।আপনার সামনে সিগারেট টানছি আপনি কিছু মনে করছেন না তো? সস্তা সিগারেট বলেই এমন কড়া গন্ধ আসছে। আপনি যা ভাবছেন তা কিন্তু না। গাঁজা না।মনে করছি না।এখন স্যার মোটা দেখে একটা বই আমার হাতে দিন। যতটা মোটা হয় তত ভালো।ডিকশনারি দিলে চলবে? চলবে।

মনসুরের সিগারেট শেষ হয় নি। সে আধা খাওয়া সিগারেট ফেলে দিয়ে বই নিয়ে বসল। তার ধানমগ্ন মূর্তি দেখতে ভালো লাগছে। মিসির আলি বেশ আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছেন। মনসুর তার দুই হাত দিয়ে কোমর ধরে আছে। একটু ঝুঁকে এসেছে বইয়ের দিকে। তার কপাল আবারো ঘামছে! ঘটনা যা ঘটছে তা বিস্ময়কর। বইয়ের পাতা একের পর এক উল্টে যাচ্ছে।স্যার কেমন দেখছেন?

ভালো। আমি হিপনেটিজমও পারি। যে কোনো মানুষের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে পারি।ও আচ্ছা।আজ অবশ্য পারব না। আজ আমার মন ভালো নেই। কোনো কিছুতেই কনসেনট্রেট করতে পারছি না। মন অসম্ভব খারাপ। এই মুহুর্তে আমার চেয়ে বেশি মন খারাপ মানুষ বাংলাদেশে আছে বলে মনে হয় না।

হরতন ইশকাপন পর্ব – ১

মিসির আলি ঘড়ির দিকে তাকালেন। ছটা দশ। সন্ধ্যা হয়-হয় করছে। সন্ধ্যাবেলাটা তাঁর একা থাকতেই ভালো লাগে! মানসিক ক্ষমতাওয়ালা কারো সামনে বসে থাকতে ইচ্ছা করে না। মনসুর এখনো বসে কেন তিনি বুঝতে পারছেন না। সে তার মেন্টাল ম্যাজিক দেখাতে চেয়েছিল দেখানো হয়েছে। আরো কিছু কি বাকি আছে? নাকি সে তার ঘুম পাড়ানো ক্ষমতাও দেখাবো! যাবার আগে তাকে ঘুম পাড়িয়ে চলে যাবে। সন্ধ্যাবেল তিনি চেয়ারে বাঁকা হয়ে বসে নাক ডাকিয়ে ঘুমাতে পারবেন।

মনসুর আরেকটা সিগারেট ধরাল। মিসির আলি লক্ষ করলেন, দিয়াশলাই জ্বালানোর সময় তার হাত সামান্য কাঁপছে! পারকিনসন্স ডিজিজ প্রাথমিক অবস্থায়  এরকম হয়। এই যুবকের পারকিনসন্স ডিজিজ আছে বলে মনে হচ্ছে না। তা হলে আঙুল কাঁপছে কেন? মানসিক অস্থিরতা? মনের প্রবল অস্থিরতা শরীরে ছায়া ফেলে। মনের প্রবল কাঁপুনি শরীরে চলে আসে।

মনসুর সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে মিসির আলির দিকে খানিকটা ঝুঁকে এসে বলল, এই জাতীয় ক্ষমতা সবচে বেশি দেখা যায় যোগী-সন্ন্যাসীদের মধ্যে। এদের অনেকেই লেভিটেশন করতে পারেন। লেভিটেশন হচ্ছে শূন্যে ভাসা। অসম্ভব কোনো ব্যাপার না। দীর্ঘ সাধনার প্রয়োজন। সাধনা এবং মনের কনসেনট্রেশন। সাধনা আমি করে যাচ্ছি-সমস্যা একটাই, মনের একাগ্রতাটা আসছে না। মন খুবই বিক্ষিপ্ত।ও আচ্ছা।লেভিটেশনের দিকে আমি অনেকটা এগিয়েছি! মাটি থেকে এক ইঞ্চির মতো উঠতে পারি।ও আচ্ছা।বেশিক্ষণ থাকতে পারি না। পাঁচ-দশ সেকেণ্ড পারি।

যুবক বিস্মিত চোখে তাকাল। তার বিস্মিত হবার কারণ আছে। মিসির আলি তাকিয়ে আছেন আগ্রহশূন্য চোখে। তার ভাবভঙ্গিতে এটা স্পষ্ট যে-মানসিক ক্ষমতাধর যুবকটি বিদায় হলে তিনি খুশি হবেন। তিনি যুবকের শূন্যে ভাসা দেখতে চান না।স্যার, আমি উঠি? আচ্ছা।আমার মেন্টাল ম্যাজিক মনে হয় আপনার ভালো লাগে নি? মিসির আলি জবাব দিলেন না। মনসুর বলল, আমার ক্ষমতার ব্যাপারটা কেমন লেগেছে একটু কি বলবেন?

হরতন ইশকাপন পর্ব – ১

মিসির আলি বললেন, মোটামুটি লেগেছে।যুবক চাপা গলায় বলল, মানুষের মনের ক্ষমতা অনুভবের ব্যাপার। মানসিক ক্ষমতার প্রত্যক্ষ প্রমাণ কখনোই পাওয়া যায় না। সেই প্ৰমাণ আমি দেখালাম তারপরেও আপনি বলছেন মোটামুটি? হ্যাঁ তা বলছি।আমি কি জানতে পারি এখন আপনি মোটামুটি না বলে বলবেন—চমৎকার?

মিসির আলি ছোট করে নিঃশ্বাস ফেললেন। অপ্রীতিকর একটা কথা এখন তাকে বলতে হবে। বলতে না পারলেই তিনি খুশি হতেন। কিন্তু উপায় নেই। এই যুবক অপ্রীতিকর কথা বলতে তাকে বাধ্য করছে।মানসুর।

জি।তুমি যদি সত্যি তোমার মানসিক ক্ষমতার কোনো প্ৰমাণ দেখাতে আমি খুশি হতাম। তুমি যা দেখিয়েছ তা হচ্ছে সাধারণ ম্যাজিকের কৌশল। সিগারেট টেবিলের উপর রেখেছ, তারপর মাথা নিচু করে খুব সাবধানে ফুঁ দিয়েছ। তুমি যা দেখিয়েছ তা মানসিক ক্ষমতা না, ফুসফুসের ক্ষমতা।মনসুর তাকিয়ে আছে। মিসির আলি লক্ষ করলেন, তার চোখ ধক করে জ্বলে উঠেই নিভে গেল। মিসির আলি বললেন, আমি কি ভুল বলেছি? না।তুমি তা হলে ওঠো।আপনার কি এখন কাজ আছে?

আমার এখন কোনো কাজ নেই। কাজ না থাকলেই আমি যে লোকজনের সঙ্গে গল্প করি তা না।আপনি আমাকে বাসা থেকে বের করে দিচ্ছেন? তা-ও না। আমি খুব অদ্রভাবে বলার চেষ্টা করছি যে আমি এখন একা থাকতে চাচ্ছি।আপনার ধারণা আমি একজন ফ্রড, ভাঁওতাবাজ?

তা-ও না। ম্যাজিশিয়ানরা ম্যাজিক দেখাতে গিয়ে যে ধরনের কথা বলেন তুমিও তাই বলেছ, এতে দোষ ধরার কিছু নেই।আমার কিন্তু সত্যি সত্যি মানসিক ক্ষমতা আছে। আজ দেখাতে পারলাম না। একদিন এসে দেখিয়ে যাব।সত্যি ক্ষমতাটা আজ দেখালে তো তোমাকে দ্বিতীয়বার দেখাতে হতো না।

হরতন ইশকাপন পর্ব – ১

মনসুর চাপা গলায় বলল, সত্যি ক্ষমতা আমি কাউকে দেখাই না। দেখাতে চাইলেও দেখাতে পারি না। বিশেষ বিশেষ সময়ে এই ক্ষমতা আমার মধ্যে আসে। যদি কখনো আসে আপনাকে দেখাব।ঠিক আছে।আপনাকে বিরক্ত করার জন্য এবং আপনার সঙ্গে যে মিথ্যা কথা বলেছি সে জন্য আমি দুঃখিত।আচ্ছা, ঠিক আছে।মোটেই ঠিক নেই। সবই বেঠিক। তবে আমি একদিন এসে সব ঠিক করে দিয়ে যাব।

যুবক মাটিতে ফেলে দেয়া তার আধ খাওয়া সিগারেট আবার হাতে নিয়ে ধরাল। তামাকের কটু গন্ধে মাথা ধরে যাবার মতো অবস্থা হল।মিসির আলি চোখ বন্ধ করে চেয়ারে গা এলিয়ে দিলেন। কথাবার্তা পর্ব শেষ হয়েছে এই সিগন্যাল দেয়া হল। এরপরও মানসিক ক্ষমতাসম্পন্ন যুবক নিশ্চয়ই দাড়িয়ে থাকবে না। তার সামান্য চক্ষুলজ্জা থাকলে সে চলে যাবে।স্যার যাই?

মিসির আলি চোখ খুললেন না। মাথা নাড়লেন। মনসুর চলে যাচ্ছে, চোখ বন্ধ করেও তা বোঝা যাচ্ছে। পায়ের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। জুতার শব্দ। মনসুর স্যান্ডেল পরে আসে নি, জুতা পরে এসেছে। কী রকম জুতা, কালো না ব্ৰাউন? কত দিনের পুরোনো জুতা? জুতার ফিতাগুলো কীভাবে বেঁধেছে? জুতার ফিতা বাধা থেকে একজন মানুষের চরিত্র খানিকটা বলে দেয়া যায়! কেউ খুব শক্ত করে ফিতা বাঁধে। কারো ফ্রিতা বাধায় টিলাঢালা ভাব থাকে। মিসির আলি লক্ষ করেন নি।

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বদলায়। তিনিও সম্ভবত বদলাচ্ছেন। আগের মতো খুঁটিয়ে কিছু লক্ষ করছেন না। মনসুর একটা চেকশার্ট পরে এসেছে। এটা মনে আছে! সাদা কাপড়ে নীল সবুজ চেক। শার্টের বুক পকেটে একটা ফাউন্টেন পেন ছিল। ফাউন্টেন পেনের কথা মনে আছে।–কারণ আজকাল ফাউন্টেন পেন কেউ ব্যবহার করে না। ফাউন্টেন পেন কেন, বিল পয়েন্ট কলামও কেউ সঙ্গে রাখে না।

হরতন ইশকাপন পর্ব – ১

বল পয়েন্ট কলম, যেখানে যাওয়া যাবে সেখানেই পাওয়া যাবে, কাজেই সঙ্গে রাখার দরকার কী।একটা সময় ছিল যখন কলম, ঘড়ি, চশমা এই তিনটি জিনিসকে সাজগোছের অংশ ধরা হতো। ইন্ত্রি করা শার্টের পকেটে থাকবে কািলম। চোখে জিরো পাওয়ারের চশমা, হাতে ঘড়ি। রেডিওতে যখন খবর পাঠ করা হবে তখন চট করে হাতঘড়ির সময় মিলিয়ে নেয়াও কালচারের অঙ্গ ছিল।

একে বলা হতো রেডিও টাইম। আজকাল কেউ বোধ হয় খবর শুনে ঘড়ির টাইম ঠিক করে না। রেডিও টাইম বলেও বোধ হয় কিছু নেই। রেডিওর পরে অনেক কিছু চলে এসেছে-টিভি টাইম, স্যাটেলাইট টাইম। আচ্ছা মনসুরের হাতে কি ঘড়ি ছিল? মিসির আলি মনে করতে পারলেন না। সম্ভবত ছিল না। থাকলে চোখে পড়ত। কিংবা হয়তো ছিল, তার চোখে পড়ে নি। চোখে পড়ার ক্ষমতা কমে গেছে। বাৰ্ধক্য গুণনাশিনী।

এই যুবকের মধ্যে বিশেষ কিছু কি আছে যা দিয়ে তাকে আলাদা করা যায়? identification Mark, পাসপোর্টে যেমন লেখা থাকে, অবশ্যই আছে। থাকতে হবে! পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই আলাদা। প্রতিটি মানুষের আঙুলের ছাপ আলাদা। একজন মানুষের আঙুলের ছাপ পৃথিবীর জীবিত বা মৃত কোনো মানুষের সঙ্গে মিলবে না! গায়ের গন্ধ দিয়েও মানুষকে আলাদা করা যায়। প্রতিটি মানুষের গায়ের গন্ধ আলাদা। কুকুর মানুষকে তার চেহারা বা কাপড়-চোপড় দিয়ে চেনে না, চেনে গায়ের গন্ধ দিয়ে।

 

Read more

হরতন ইশকাপন পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ

Leave a comment

Your email address will not be published.