হলুদ হিমু কালো র‍্যাব পর্ব:০৪ হুমায়ূন আহমেদ

হলুদ হিমু কালো র‍্যাব পর্ব:০৪

মাজেদা খালা গলা নামিয়ে বললেন, তুই লক্ষ রাখবি তোর খালু সাহেব সেখানে যায় কি-না। আমাকে বলেছে যায় না। তবে আমি নিশ্চিত সে যায়। কীভাবে নিশ্চিত হলাম শোন। একদিন সে আমাকে বলল, ধানমণ্ডি লেকের পাড়ে হাঁটতে যাচ্ছি। আমি বললাম, যাও। সে ট্ৰেকসুট পরে বের হয়ে গেল। আমিও কিছুক্ষণ পরে উপস্থিত। তোর খালুর টিকির দেখাও পেলাম না।আমিও খালার মতো গলা নামিয়ে বললাম, খালু সাহেবের কি কোনো প্রেম ট্রেম হয়েছে না-কি? মাজেদা খালা বিরক্ত হয়ে বললেন, এই বয়সে প্রেম হবে কী? অন্য ব্যাপোর? অন্য কী ব্যাপার?

মেয়েদের সঙ্গে ছুকিছুকানি করার রোগ হয়েছে। বুড়ো বয়সে এই রোগ হয়। বাজে টাইপের একটা মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছে। মেয়েটার নাম ফ্লাওয়ার।মেয়ের নামও তুমি জানো? জানব না কেন? তোর খালু চলে ডালে ডালে, আমি চলি পাতায় পাতায়, আর তুই চলবি শিরায় শিরায়। তুই এই দুজনের ছবি তুলে নিয়ে আসবি।ছবি যে তুলব। ক্যামেরা পাব কোথায়?

ক্যামেরা লাগবে না, আমি তোকে নতুন একটা মোবাইল দিয়ে দিচ্ছি। এই মোবাইলে ছবি উঠে। কীভাবে ছবি উঠে তোকে দেখিয়ে দেব। কাজ শেষ হলে মোবাইল ফেরত দিবি। অনেক দামি মোবাইল। আর শোন, ছবি যে তুলবি জুম করে ক্লোজে চলে যাবি। চেহারা যেন বোঝা যায়।তুমি যা যা করতে বলবে সবই করব।

এখন থেকে সকাল আটটায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাব, রাত বারোটা পর্যন্ত ঘাপটি মেরে বসে থাকব।সাবধানে থাকবি তোকে যেন দেখে না ফেলে। দেখে ফেললে সাবধান হয়ে যাবে।তুমি নিশ্চিত থাক খালা। দেখলেও চিনবে না। আমি যাব ছদ্মবেশে। ফকিরের ছদ্মবেশ নেব। মুখভর্তি দাড়িগোঁফ, কাঁধে ঝোলা। ঝোলার ভেতর মোবাইল ক্যামেরা। কণ্ঠে গান।

কণ্ঠে গান মানে? গান গেয়ে ভিক্ষা করব,

দিনের নবি মোস্তফায়

রাস্তা দিয়া হাঁইটা

যায় দুম্বা একটা বান্ধা ছিল

গাছেরাও তলায়।

মাজেদা খালা বললেন, তুই পুরো ব্যাপারটা ফাজলামি হিসেবে নিয়েছিস, আমি কিন্তু সিরিয়াস।আমি বললাম, খালা, আমিও সিরিয়াস। সিরিয়াস বলেই ছদ্মবেশে যাচ্ছি। তুমি ফ্লাস্ক ভর্তি করে দাও, আমি এক্ষুনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলে যাচ্ছি। খালু সাহেব এবং ফ্লাওয়াকে ধরা হবে লাল হাতে।ধরা হবে লাল হাতে মানে কী?

ধরা হবে লাল হাতের মানে হলো–Caught red handed. খালা, আর দেরি করা যাবে না। এক্ষুনি রওনা হতে হবে।মাজেদা খালা বললেন, তাড়াহুড়ার কিছু নাই। তোর খালু সাহেব কখন জগিং করতে যায় আমি জানি। যখনই সে জগিং, ট্রেক গায়ে দিবে তখনই আমি তোকে মোবাইলে জানিয়ে দেব। তুই কি সত্যই দাড়িগোঁফ লাগিয়ে ফকির সাজবি?

অবশ্যই প্যাকেজ নাটকের একজন মেকাপম্যান আছেন আমার পরিচিত। রহমান মিয়া। আমি এক্ষুনি চলে যাচ্ছি তার কাছে। Action action, direct action. মেকাপ নেয়ার পর আমাকে দেখিয়ে যাবি না?

তোমার বাড়িতে আসা যাবে না। খালু সাহেব টের পেয়ে যাবেন।তাও ঠিক।তবে আমি নিজের ছবি তুলে রাখব! তুমি ছবি দেখে বুঝবে গেটাপ কেমন হয়েছে। এখন মোবাইলে ছবি কীভাবে উঠাতে হবে। আমাকে শিখিয়ে দাও।খালা মহাউৎসাহে শেখাতে শুরু করলেন। তাঁকে কিশোরীদের মতো উত্তেজিত এবং আনন্দিত মনে হলো। তাঁর জীবনে আনন্দিত এবং উত্তেজিত হবার ঘটনা বেশি ঘটে না। এইবার ঘটল। ভাগ্যিস ফ্লাওয়ারের সঙ্গে খালু সাহেবের দেখা হয়েছে।

রহমান মিয়া খুবই আগ্রহ নিয়ে দাড়িগোঁফ দিয়ে আমাকে সাজিয়ে দিলেন। একটা দাঁতে রঙ লাগিয়ে দিলেন। হা করলে মনে হয় একটা দাঁত নেই। তাঁর কাছে সব জিনিসপত্রই আছে। একটা ছেড়া ময়লা লুঙি পারলাম, কালো গেঞ্জি গায়ে দিয়ে একশ পারসেন্ট ভিখিরি হয়ে গেলাম।নিজের শিল্পকর্ম দেখে রহমান ভাই নিজেই মুগ্ধ। আনন্দিত গলায় বললেন, হিমু ভাই, কোনো শালার পুত আপনারে চিনবে না। যদি চিনতে পারে আমি মাটি খাব।

দুই হাতে দুই ফ্লাস্ক নিয়ে লেংচাতে লেংচাতে আমি মেসের সামনে এসে দাঁড়ালাম। নিমন্ত্রিত গায়ক ফকির এখনো আছেন। তবে তিনি গান গাইছেন না। আমাকে দেখে তিনি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলেন। যেন জগতের অষ্টম আশ্চর্য চোখের সামনে দেখছেন। আমি লেংচাতে লেংচাতে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে ভাঙা গলায় বললাম, আমারে চিনেছেন? গায়ক ফকির হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল।আমি বললাম, বলুন তো আমি কে?

গায়ক ফকির ছোট্ট একটা ভুল করে ফেলল। সে বলল, আপনি হিমু।আমি বললাম, আমার নাম তো আপনার জানার কথা না। নাম জানলেন কীভাবে? গায়ক নিচুপ।আমি বললাম, আপনি কি র‍্যাবের কেউ? ফকির সেজে মেসের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন?

গায়ক এখনো চুপচাপ।আমি বললাম, আপনি আমার নিমন্ত্ৰিত অতিথি, চলুন খেতে যাই।গায়ক নিঃশব্দে আমার পেছনে পেছনে আসছে। বেচারা আজ বড় ধরনের একটা ধাক্কা খেয়েছে।মেস ম্যানেজার জয়নাল অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। আমি তার কাছে এগিয়ে গলা নামিয়ে বললাম, চিনেছেন?

হিমু ভাই না?

হুঁ।

ঘটনা কী?

প্যাকেজ নাটকে একটা রোল পেয়েছি। ফেরিওয়ালা। সন্ধ্যার পর সুটিং।

নাটকের নাম কী?

নাটকের নাম ফ্লাওয়ার। ইংরেজি নাম।আপনার সাথের ঐ লোক কে? একটু আগে দেখেছি ভিক্ষা করছে।সেও একজন অভিনেতা। র‍্যাবের ভূমিকায় অভিনয় করছে। ভিক্ষুকের বেশে র‍্যাব।ও আচ্ছা।আমাদের খাবারটা আমার ঘরে পাঠিয়ে দেন। মেসের সবাইকে প্যাকেজ নাটকের খবর জানানোর দরকার নাই।জয়নাল বলল, আপনার আরেক গেস্ট কোথায়? নাটকের ডাইরেক্টর সাহেবের আসার কথা ছিল। কাজে আটকা পড়েছেন।হিমু ভাই, সু্যুটিং দেখতে পারব না?

সুটিং দেখবেন। আজ না।দুইজন গেস্টের জায়গায় আমার এখন একজন গেস্ট। গেস্টের খাবার গতি ও পরিমাণ দেখে আমি মুগ্ধ। নিমিষের মধ্যে সব নেমে গেল। ভদ্রলোক অতি তৃপ্তির সঙ্গে খাচ্ছেন। তৃপ্তির খাওয়া দেখতেও তৃপ্তি। আমি বললাম, ভাই পেট ভরেছে?

তিনি বললেন, খুবই আরাম করে খেয়েছি। শুকুর আলহামদুলিল্লাহ। আমি পরিমাণে বেশি খাই। এই নিয়ে লজ্জার মধ্যে থাকি! সব জায়গায় ঠিকমতো খেতেও পারি না। বিয়ে বাড়িতে গিয়ে আধাপেটা খেয়ে উঠে পড়ি। আপনার এখানে আরাম করে খেলাম।কোনো চক্ষুলজ্জা বোধ করেন নাই?

জি-না।

কারণ কী?

আপনার কাছে ধরা পড়ার পর সব লজ্জাটজা চলে গেল।এখন কী করবেন? চলে যাবেন, না-কি এখনো ফকির সেজে গান করবেন? বুঝতে পারছি না।আপনার গানের গলা ভালো। রেডিও টিভিতে অডিশন দিলে পাশ করবেন।আমি রেডিও অডিশনে পাশ করা।তাই না-কি?

গান বাজনার লাইনে থাকতে চেয়েছিলাম, পেটের দায়ে ঢুকলাম পুলিশে। সেখান থেকে র‍্যাব। একটা পান খেতে পারলে ভালো হতো।পান আনিয়ে দিচ্ছি। জর্দা লাগবে? জি লাগবে। জর্দা ছাড়া পান। আর নিকোটিন ছাড়া সিগারেট একই জিনিস।জর্দা দেয়া পান আনিয়ে দিলাম। তিনি যেরকম তৃপ্তির সঙ্গে খাবার খেয়েছেন সেরকম তৃপ্তির সঙ্গে জর্দা দেয়া পান চিবাতে লাগলেন। আমি বললাম, সিগারেট খাবেন?

ভদ্রলোক বললেন, সিগারেটের অভ্যাস নাই। তারপরেও একটা দিন, খাই। সমুদ্রে পেতেছি শয্যা শিশিরে কী ভয়! শয্যা যখন পেতেছেন ঠিকমতো পাতেন। শুয়ে একটা ঘুম দেন।ঘুম দিব মানে? ভালো খাওয়ার পর আরামের একটু ঘুমাও খাবারেরই অংশ। পাঁচ দশ মিনিট না ঘুমালো লাঞ্চ কমপ্লিট হবে না।সত্যি ঘুমাতে বলছেন? আপনার ইচ্ছ। আমি ঘর ছেড়ে দিলাম। আমার ঘরের দরজায় কখনো তালা দেয়া থাকে না। সবসময় খোলা। যখন চলে যেতে ইচ্ছা করবে চলে যাবেন।

আপনি যাচ্ছেন কোথায়?

আমি চা এবং কফি ফেরি করব।

ফিরবেন কখন?

বলতে পারছি না।

তাহলে কিছুক্ষণ শুয়েই থাকি?

থাকুন। আপনার নাম জানা হলো না।আমার নাম হারুন। হারুন-আল-রশিদ। বাগদাদের খলিফা।আমি বললাম, বাগদাদের খলিফা দুপুরবেলা খাওয়া দাওয়ার পর কিছুক্ষণের জন্য হলেও চোখ বন্ধ করে আরাম করবে না তা হয় না।হারুন-আল-রশিদ আনন্দিত গলায় বললেন, অতি সত্যি কথা। হিমু ভাই, আমি শুয়ে পড়লাম।আজ প্রথমদিনের মতো বিক্রি হচ্ছে না।

অনেকেই কাছে আসছে, তবে চাকফির জন্যে না, গলা নিচু করে বলছে–পুরিয়া আছে? পুরিয়া? শুরুতে ভেবেছিলাম পুরিয়া হলো গাঁজা। পরে বুঝলাম পুরিয়া বলতে হিরোইনের পুরিয়া বোঝাচ্ছে। ঢাকা শহরের পার্কগুলিতে প্ৰকাশ্যে পুরিয়া কেনাবেচা হয় এই তথ্য জানা ছিল না।

এর মধ্যে মাজেদা খালার টেলিফোন।

অ্যাই তুই কোথায়?

পার্কে?

দাড়িগোঁফ লাগিয়ে গিয়েছিস?

হুঁ।

সত্যি, না আমার সঙ্গে লাফাংগায়িং করছিস?

সত্যি পার্কে।তোর খালুর দেখা পেয়েছিস? না।সে তো কেডস ফেডস পরে সেজেগুজে বের হয়েছে। খুঁজে দেখা। মেয়েটার নাম মনে আছে, না ভুলে গেছিস?

নাম মনে আছে–সানফ্লাওয়ার। সূৰ্যমুখি।তোর মতো গাধাকে দিয়ে তো কোনো কাজই হবে না। সানফ্লাওয়ার না। শুধু ফ্লাওয়ার। পুষ্প।খালা এক মিনিট, খালু সাহেবের মতো একজনকে দেখা যাচ্ছে। আজ কি উনার মাথায় সবুজ ক্যাপ? হুঁ। তাড়াতাড়ি পিছনে লেগে যা। ছবি কীভাবে তুলতে হয় মনে আছে?

মনে আছে।দশ মিনিট পর আমি আবার টেলিফোন করব।তোমার করতে হবে না। আমিই করব।না না তোকে করতে হবে না। তুই ভুলে যাবি। আমিই টেলিফোন করব। দশ মিনিট পর করব।মাজেদা খালা পাঁচ মিনিটের মাথায় টেলিফোন করলেন। কথা বলছেন ফিসফিস করে।

হিমু। অ্যাই হিমু।

হুঁ।

তোর খালু কোথায়?

বাদাম খাচ্ছে।

বাদাম খাচ্ছে?

হুঁ।হেভি খাওয়া দাওয়ায় আছে। ঐ মেয়ে কোথায়? মনে হয় তার পাশে।তুই কি গুছিয়ে কথা বলা ভুলে গেছিস। তার পাশে মানে কী?

উনার পাশে একটা মেয়ে বসে আছে। সে সূর্যমুখি কি-না তা জানি না।তুই বারবার সূর্যমুখি বলছিস কেন? ঐ বদ মেয়েটার নাম ফ্লাওয়ার। শুধু ফ্লাওয়ার।এই মেয়েটাই ফ্লাওয়ার কি-না তা তো জানি না। আমি তো তাকে আগে দেখি নি।মেয়েটা দেখতে কেমন? দেখতে খুবই সুন্দর। পরী টাইপ।তোদের পুরুষদের চোখে পৃথিবীর সব মেয়েই খুবই সুন্দর। মেয়েটা করছে কী?

বাদাম খাচ্ছে।

সেও বাদাম খাচ্ছে?

হুঁ।

ছবি তুলেছিস?

না।

আরে গাধা এক্ষুনি ছবি তোল। আলো কমে গেলে ছবি উঠবে? এমনভাবে তুলিবি যেন মেয়েটার Face পুরোপুরি পাওয়া যায়। তারপর জুম করৰি। মেয়েটা কী পরেছে?

শাড়ি।

শাড়ির রঙ কী?

শাড়ির রঙ দিয়ে কী হবে?

দরকার আছে।

গোলাপি।ছবি তোল। ছবি তোলার পর আমাকে জানা। জুম করার কথা মনে আছে? আছে।আমি টেনশন আর নিতে পারছি না। তুই ছবি তোল।কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি খালাকে জানালাম যে ছবি তোলা হয়েছে এবং জুম করা হয়েছে।মাজেদা খালা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।আমি বললাম, খালু সাহেবকে কি আজই ধরা হবে?

মাজেদা খালা বললেন, ছয়-সাতদিন ধরে ক্রমাগত তার ছবি তোলা হবে। তারপর তাকে ধরব। কচ্ছপের কামড়। এই সাতদিনে তোর খালু সাহেব কিছুই বুঝতে পারবে না। আমি লক্ষ্মী বউয়ের মতো আচার আচরণ করব।আমি বললাম, গুড গার্ল।খালা ধমক দিয়ে বললেন, কী বললি? গুড গার্ল বলেছি।আমি তোর কাছে গুড গার্ল। সবসময় ইয়ারকি? সবসময়? সরি।হিমু শোন, নায়ক-নায়িকা এখন কী করছে?

এখন কী করছে তা তো জানি না। আমি তো আর ওখানে নাই।খালা হাহাকার করে উঠলেন, ওদেরকে এইভাবে রেখে চলে এসেছিস? তুই কি পাগল? তোর কি ব্রেইন পচে গু হয়ে গেছে? আমি সারাক্ষণ পিছনে লেগে থাকব?

অবশ্যই। ডিটেকটিভ বই-এ কী লেখা থাকে? টিকটিকি কী করে? ছায়ার মতো লেগে থাকে। এখন থেকে তুই আমার টিকটিকি! যা, আবার ফিরে যা। কী করছে দেখা। যদি দেখিস হাত ধরাধরি করে বসে আছে, ছবি তুলবি।

ছবি তুলব। কীভাবে! অন্ধকার হয়ে গেছে তো।অন্ধকার হোক আর যাই হোক, ছবি তুলবি।খালা, আমার দাড়ি খানিকটা লুজ হয়ে গেছে, যে-কোনো মুহুর্তে খুলে পড়তে পারে।খুলে পড়লে খুলে পড়বে। তুই তো দাড়ি দিয়ে ছবি তুলবি না। তুই ছবি তুলবি সেল ফোনে।ওকে ফাঁকে বাদ দে। ছবি তোল।

Leave a comment

Your email address will not be published.