হিমুর নীল জোছনা পর্ব – ৬ হুমায়ূন আহমেদ

হিমুর নীল জোছনা পর্ব – ৬

হিমুর গল্প সবসময় উত্তমপুরুষে লেখা হয়। এই চ্যাপ্টার থেকে হিমু উত্তমপুরুষে লেখা হচ্ছে না। হিমু-পাঠে অভ্যস্ত পাঠকদের সাময়িক সমস্যা হতে পারে। আমি দুঃখিত, কিছু করার নেই। চতুর্থ অধ্যায়ের শুরুতেই পাত্র-পাত্রী কে কোথায় কী করছে জানিয়ে দেই।

কেয়া-খেয়া এরা দুজন কমলকুটিরে মহাসুখে আছে। বৃদ্ধ ধমকা-ধমকি করেও কিছু করতে পারছেন না। তাদের জন্যে জামা, জুতা কেনা হয়েছে। দুজনই বার্বিডল উপহার পেয়েছে। কেয়া তার বার্বিডলের নাম দিয়েছে ফুরফুন, খেয়া তারটার নাম দিয়েছে কুনকুন। তাদের আলাদা রুম দেওয়া হয়েছে। এই রুমে তারা থাকছে না। বৃদ্ধবৃদ্ধার শোবার ঘরে থাকছে। রাতে শোওয়ার সময় একপাশে বৃদ্ধি, অন্যপাশে বৃদ্ধা, মাঝখানে দুই কন্যা।

বৃদ্ধ ঘনঘন বলছেন, একী বিপদে পড়লাম! কিন্তু তিনি যে অত্যন্ত আনন্দ আছেন তা বোঝা যাচ্ছে। বার্বিডল তিনিই কিনে এনেছেন। মাঝে মাঝে এই দুবোন জিভ বের করে কেন বসে থাকে এটা নিয়ে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা চিন্তিত। এদেরকে সাইকিয়াট্রিক্ট দেখানোর পরিকল্পনা তাদের আছে।বাচ্চা দুটি বৃদ্ধ-বৃদ্ধার স্থবির জগতে কী আলোড়ন এনেছে তা বোঝানোর জন্যে টেলিফোন কথাবার্তার কিছু অংশ দেওয়া হলো। বৃদ্ধা তার মেয়ের সঙ্গে কথা বলছেন। এই মেয়ে অষ্ট্রেলিয়া-প্রবাসী।

বৃদ্ধা : বেশিক্ষণ কথা বলতে পারব না রে মা। কেয়ার স্যান্ডেলের ফিতা ছিঁড়ে গেছে। স্যান্ডেল। কিনতে যেতে হবে।

মেয়ে : কেয়া কে?

বৃদ্ধা : আমাদের সঙ্গে থাকে। দুই বোন কেয়া-খেয়া। কী যে দুষ্ট!

মেয়ে : আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। এরা কারা?

বৃদ্ধ : ওদের যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে কাল বলেছি—আমি তোদের সঙ্গে থাকব না। জঙ্গলে চলে যাব। তারপর দুই বোন শুরু করুল কান্না।

মেয়ে : মা, তুমি বাবাকে দাও তো। বাবার সঙ্গে কথা বলি।

বৃদ্ধা : তোর বাবা খেয়াকে নিয়ে গেছে আইসক্রিম কিনতে। তোর বাবা আদর দিয়ে দুই বিচ্ছুকে মাথায় তুলেছে। কাল কী দেখলাম শোন। তোর বাবা ঘোড়া সেজেছে। দুই বোন ঘোড়ার পিঠে উঠে বসে আছে। আমাকে দেখে কেয়া বলল, নানু, তুমি আসো। ঘোড়ায় ওঠে। তিনজনের জায়গা হবে। কী যে যন্ত্রণায় আছি।

ওসি, ধানমণ্ডি

নাজমুল হুদ

তাকে ধানমণ্ডি থানা থেকে ক্লোজ করে তেজগন্ন থানায় ওপেন করা হয়েছে! আবার তাকে ধানমণ্ডি থানায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে আপাতত কোনো ডিউটি দেওয়া হয় নি। তিনি থানায় হাজিরা দিয়ে তার শালা হিরন্ময় কারিগরের কাছে গেছেন। হিরন্ময় কারিগর একটা ডকুমেন্টারি বানাচ্ছেন। ডকুমেন্টারির নাম একজন গার্মেন্টকর্মীর একদিন। গামেন্টকর্মীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন চিত্রনায়িকা মিস রিনকি। যার সাম্প্রতিক ছবি প্রেম দে, না দিলে থাপ্পড় খাবি সুপারহিট হয়েছে। মিস রিনকি নানান নখড়া করছেন। হিরন্ময় কারিগর নখড়া সামলাতে পারছে না।

ছামাদ মিয়া

ছামাদ মিয়া রবীন্দ্রনাথ সেজে হিমুর মেসের ঘরে বসে আছে। হিমু মেসে নেই তাতে কোনো সমস্য হয় নি। হিমুর ঘরের দরজা সবসময় খেলাই থাকে। তাকে নিয়ে যে খবরের কাগজে বিরাট হৈচৈ হচ্ছে এটা সে জানে বলেই আবারও রবীন্দ্ৰনাথ সাজা। এবারের সাজ আগেরবারের চেয়েও ভালো হয়েছে। মেসের অনেকেই উঁকি মেরে তাকে দেখে যাচ্ছে। একজন এসে তার মেয়ের জন্যে অটোগ্রাফ নিয়েছে। ছামাদ ইংরেজিতে অটোগ্রাফ দিয়েছে। সেখানে লেখা—Be Hapy, দুটা P র জায়গায় একটি P, ইংরেজি বানানে ছামাদ সামান্য দুর্বল।

মেসের ম্যানেজার ভোর বাংলা নামের পত্রিকার সম্পাদককে জানিয়েছে— যে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এত হৈচৈ তাদের কাগজে হয়েছে তিনি বাংলা মেসে উপস্থিত আছেন। ভোর বাংলার সিনিয়র সাংবাদিক ফজলু মোটরসাইকেল নিয়ে রওনা হয়েছেন। তার সঙ্গে সিনিয়ার ফটো সাংবাদিক ময়না ভাই আছেন। তারা মালিবাগের কাছে জামে আটকা পড়েছেন। ভয়ঙ্কর জাম। আজ সারা দিনে ছুটবে এরকম মনে হয় না।

জনাব গফু

ইনি এখন ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি। তিনি যে কাজেকর্মে আগের ওসির চেয়েও দক্ষ তা প্রমাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হিমুর মেসের ঠিকানায় অভিযান চালাবার জন্যে ফোর্স নিয়ে জিপে উঠে বসে আছেন। জিপ ছাড়ছে না, কারণ জনাব গফু র‍্যাবকেও খবর দিয়েছেন। তিনি চোখের সামনে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছেন পত্রিকার হেডলাইন–

কথিত রবীন্দ্ৰনাথের ডানহাত হিমু গ্রেফতার

(স্টাফ রিপোর্টার)

পুলিশ-র‍্যাবের যৌথ অভিযানে অবশেষে কথিত রবীন্দ্রনাথ নাটকের হোতা হিমু গ্রেফতার। অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন চৌকশ পুলিশ অফিসার জনাব গফুর। হিমু মুখ খুলতে শুরু করেছে। সে ইতোমধ্যেই অনেক রাঘববোয়ালের নাম বলেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা হিমুকে চার দিনের রিমান্ডে নিতে চায়। রিমান্ডে না নেওয়া হলে অনেক অজানা তথ্য অজানাই থেকে যাবে। চৌকশ অফিসার হিমুকে গ্রেফতারের নাটকের যে রোমহর্ষক বৰ্ণনা দেন তা উনার জবানিতেই পত্ৰস্থ করা হলো। ইত্যাদি…

হিমু

হিমু নিখোঁজ। সে কোথায় আছে, কী করছে জানা যাচ্ছে না। মাঝে মাঝেই হিমু। ড়ুব দেয়, মনে হয় এবারও ড়ুব দিয়েছে। আমরা হিমুর ভেসে ওঠার প্রতীক্ষায় আছি।ভোর বাংলার সিনিয়ার সাংবাদিক জনাব ফজলু কিছুক্ষণ হলো ছামাদের সঙ্গে কথাবার্তা শেষ করেছেন। এখন তিনি পুরোপুরি হতাশ। ছামাদ মিয়া শখের বশে রবীন্দ্রনাথ সাজে। এই নিউজের কোনো ভেল্যু আছে?

পাবলিক চায় একসাইটমেন্ট। একজন শখে রবীন্দ্ৰনাথ সাজে, এর মধ্যে একসাইটমেন্ট কোথায়?ফজলু বিরসমুখে বললেন, আপনি মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে টকশো করলেন কেন?ছামাদ বলল, আমি কিছু জানি না স্যার। ভুলে ঢুকেছি। আর যাব না। যদি যাই মাটি খাই। ঘাউ।ঘাউ বললেন কেন? মাঝে মধ্যে নিজের অজান্তেই বলি। আর বলক না।আপনার চুল-দাড়ি সবই নকল? জি। তবে টাইট ফিটিং। টান দিয়া দেখেন।

ফজলু দাড়ি টানাটানির কোনো আগ্রহ বোধ করলেন না। সংবাদের হেডলাইন কী দেবেন। এই নিয়েই তার চিন্তা। পৰ্বতের মুষিক প্রসব এই হেডলাইন হতে পারে। তাতে এক সংখ্যাতেই শেষ। দুই-তিন সংখ্যা চালানোর মতো কিছু থাকবে না। প্রথম দিন একটু আভাস দিয়ে পরের দুই দিনে যবনিকা অপসারণ করা দরকার। পাবলিক একটু একটু করে জানবে, পুরোটা জানবে না।

রবীন্দ্রনাথের লাইন দিয়ে নিউজ হতে পারে–শিরোনাম হবে আজি হতে শতবর্ষ পরে। শতবর্ষ পরে ছামাদ মিয়া নামের একজনের ইচ্ছা হলো রবীন্দ্ৰনাথ সাজবে। এই নিয়ে গল্প। প্রথম দিন রবীন্দ্ৰনাথ হিসেবে তার ছবি। দ্বিতীয় দিনে আসল ছামাদের ছবি। শিরোনাম-কে এই ছামাদ?

ফারুক বললেন, দাড়ি গোঁফ খোলেন; আলখাল্লা খোলেন। নরমাল ছবি তোলা হবে। লুঙ্গি গেঞ্জি।ছামাদ দ্রুত আদেশ পালন করল। ময়না ভাই ছবি তুলতে তুলতে বললেন, স্যার আপনি পোশাকটা পরেন। আপনার একটা ছবি তুলে দেই। রবীন্দ্রনাথ সাজলে আপনাকে কেমন লাগে দেখি।ফারুক বললেন, এইসব ফাজলামির কি আর বয়স আছে?

ছামাদ বিনীত গলায় বলল, পরেন না। স্যার। গরিবের একটা রিকোয়েস্ট।ময়না ভাই বললেন, সুন্দর করে তুলে দেই, বাঁধিয়ে বাড়িতে রাখবেন। ভাবি মজা পাবেন।ফারুক বললেন, তোমার ভাবি মজা পাবে কথাটা ঠিক বলেছ। যে-কোনো ফালতু জিনিসেই সে মজা পায়। দেখি দাঁড়িগোঁফ পরাও! কুটকুট করবে না তো?

ফারুক রবীন্দ্রনাথ সেজে তিনটা ছবি তুললেন। ঘরের ভেতরে আলো কম থাকায় বারান্দায় এলেন ছবি তুলতে। থিমেটেক ছবি। বারান্দার রেলিং-এ ঝুঁকে উদাস চোখে আকাশের মেঘমালা দেখতে দেখতে ছবি! ময়না ভাই একইসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ এবং আকাশ ধরার চেষ্টা করছেন। এইসময় অফিসার গফুর র‍্যাব নিয়ে বারান্দায় ঢুকলেন। অত্যন্ত ক্ষিপ্ৰতায় কবিগুরুর হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দেওয়া হলো।

তিনি ওয়াকিটকিতে তৎক্ষনাৎ ডিআইজি সাহেবকে জানালেন, কবিগুরু আন্ডার অ্যারেস্ট স্যার। ওভার।সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার এবং সিনিয়র ফটোগ্রাফার দু’জনই থানা হাজতে। ভয়ঙ্কর অপরাধী ছাড়া কাউকে থাকা হাজতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে রাখার নিয়ম নেই। কিন্তু সিনিয়র কিন্তু সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার জনাব ফারুককে অতিরিক্ত নিরাপত্তার কারণে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে রাখা হয়েছে।

হাত বন্ধ থাকায় তিনি মুখ থেকে নকল চুল দাড়ি খুলতে পারেন নি। আলখাল্লাও খুলতে পারেন নি। তাঁকে ভয়ঙ্কর চিন্তিত এবং বিমর্ষ দেখা যাচ্ছে। সেই তুলনায় সিনিয়র ফটোগ্রাফার ময়না ভাইকে বেশ স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তিনি বেশ আয়েশ করেই সিগারেট টানছেন।ফারুক বললেন, হ্যান্ডকাফ খোলার ব্যবস্থা করুন। গলা চুলকাচ্ছে, চুলকাতে পারছি না।ময়না ভাই বললেন, আমি কীভাবে হ্যান্ডকাফ খুলব? চাবি তো আমার কাছে না।

কোথায় চুলকাতে হবে ঠিকমতো বলুন আমি চুলকিয়ে দিচ্ছি। গলা? সামনের দিকে না পেছনের দিকে? আরেকটা কথা স্যার বিপদে অস্থির হতে নাই। আপনি বেশি অস্থির।থানার সামনে ক্যামেরা হাতে বিভিন্ন চ্যানেলের লোকজন। এদের মধ্যে দু’জন সাহেবও আছেন। তারা CNN থেকে কাভার করতে এসেছেন। তাদের কাউকেই হাজতিদের সঙ্গে দেখা করতে হচ্ছে না।

তবে শোনা যাচ্ছে পুরো ঘটনা জানিয়ে একটা প্রেস বিফ্রিং করা হবে। ব্রিফিং করবেন। ভারপ্রাপ্ত ওসি জনাব গফু। তিনি এখন বাথরুমে বসে আছেন। বাথরুমে নাপিত এসেছে, সে তাকে শেভ করে দিচ্ছে। সকালে তাড়াহুড়োর কারণে শেভ করা হয় নি। এতগুলো ক্যামেরার সামনে মুখভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়ি নিয়ে যাওয়া যায় না। দ্রুত শেভ করতে গিয়ে ঝামেলা হয়েছে। নাপিতের ক্ষুরের টানে গালের কোনো ভেইন কেটেছে।

রক্ত পড়ছে, তুলা চেপেও রক্ত বন্ধ হচ্ছে না। নাপিত একটা পাকিস্তানি থাপ্পড় খেয়ে তবদা মেরে গেছে।প্রেস ব্রিফিং শুরু হয়েছে। গফু গালে তুলা চেপে ধরেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন।দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আমার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি। কথিত রবীন্দ্রনাথ একটা মেসবাড়ির কক্ষে মিটিং করছে তার পরবতী কার্যক্রম ঠিক করার জন্যে।

কালবিলম্ব না করে আমি থানার ফোর্স, চারজন র‍্যাব ভাই এৰং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুটি কুকুর নিয়ে অকুস্থলে হানা দেই। গোপন সূত্রের খবর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুল প্রমাণিত হয়। আল্লাপাক রাব্ববুল আলামিনের অনুগ্রহে এইবার ভুল প্রমাণিত হয় নাই। আমি সশব্দে বুটের এক ধাক্কায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে শিকারি হায়েনার মতো লাফ দিয়ে আসামির উপর পড়েই তাকে ঝাপটে ধরি।

ধস্তাধস্তিতে আমার যে গাল কেটে গেছে তা বুঝতেও পারি নাই।ভারপ্রাপ্ত ওসি সাহেব গাল থেকে তুলা সরালেন। দর্শকসারি থেকে উফ্‌ শব্দ উঠল। দর্শকদের মধ্যে নাপিতও ছিল। সে পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে গেল।এখন আপনাদের যদি কোনো প্রশ্ন থাকে করতে পারেন। একজন একটির বেশি প্রশ্ন করতে পারবেন না। বলুন আপনার কী প্রশ্ন? গ্রেফতারের পর কথিত রবীন্দ্ৰনাথ কী বলছেন?

দুঃখের বিষয় তিনি কিছুই বলছেন না। কিছু জিজ্ঞেস করলে বিড়বিড় করছেন।তিনি কি একই ধরা পড়েছেন, না সদলবলে ধরা পড়েছেন? আমরা তার একজন সহযোগীকে ধরতে সমর্থ হয়েছি। তার অন্য সহযোগী একফাঁকে জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়।এরা কি কোনো জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত?

আসামির লম্বা দাড়ি দেখে সে রকমই মনে হচ্ছে। দেশজুড়ে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। আমরা শিঘ্রই এই বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারব। তবে আপনাদের অবগতির জন্যে জানাচ্ছি–আরো তিনজন কথিত রবীন্দ্রনাথকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজন শান্তাহার রেলস্টেশনের চাবিক্ৰেতা। সে নিজেকে নির্দোষ দাবি করছে। তার চেহারাই এরকম। অন্যজনকে সীমান্ত অতিক্রমের সময় ধরা হয়। সে চাদরের নিচে লুকিয়ে ভারত থেকে ফেনসিডিল আনে।

লম্বা চুল-দাড়ির কারণে তাকে সুফি মানুষের মতো লাগে বলে বিডিআর ধরে না। তৃতীয়জন বলছেন তিনি কাহালুর ছাত্রলীগের সংস্কৃতি সম্পাদক। তাঁর বয়স একষট্টি তবে তিনি তাঁর ছাত্ৰত্ব সম্পর্কে গ্যারান্টি দিচ্ছেন। তিনি তার দীর্ঘ জীবনে সবসময় কোনো না কোন বিষয়ে অধ্যয়ন করেছেন। বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল হোমিওপ্যাথি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। এখন আমি আর একটি প্রশ্ন নেব। হ্যাঁ আপনি প্রশ্ন করুন। এখন আপনার টার্ন।

Leave a comment

Your email address will not be published.