হিমুর নীল জোছনা পর্ব – ৮ হুমায়ূন আহমেদ

হিমুর নীল জোছনা পর্ব – ৮

সকাল দশটা পাঁচ।বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান কংকন ভাই তালা খুলে গবেষণা কেন্দ্ৰে ঢুকলেন। মেঝেতে অনেকগুলি পত্রিকা পড়ে আছে। তিনি পত্রিকার সংখ্যা গুনলেন। তার ভুরু খানিকটা কুঁচকাল। মাত্র চারটা পত্রিকা। গবেষণা কেন্দ্র থেকে সব পত্রিকা অফিসে চিঠি গেছে। নিয়মিত সৌজন্যসংখ্যা পাঠানোর জন্যে। গবেষণার জন্যে পত্রিকা প্রয়োজন। সবাই পাঠাচ্ছে না।

চিঠিতে কাজ হবে না। কিসলুকে পাঠাতে হবে। সোজা আঙুলে ঘি না। উঠলে কিসলুর আঙুলে যি আনতে হবে।কংকন ভাইয়ের পত্রিকা পড়ার অভ্যাস নেই (তার কোনোকিছু পড়ারই অভ্যাস নেই) তারপরেও একটা পত্রিকা হাতে নিলেন। নাম ভোর বাংলা। পত্রিকার প্রধান খবর–

রবীন্দ্ররহস্য ঘনীভূত

কংকন ভাই আগের কোনো খবর পড়েন নি, কাজেই রবীন্দ্ররহস্য বিষয়ে কিছুই জানেন না। রবীন্দ্ৰনাথ ঠাকুর ধরা পড়েছেন শুনে তিনি বিস্মিত হলেন। বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ থেকে গত মাসেই কবিগুরুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কাঙালিভোজ হয়েছে। ওয়ান আইটেম। গরুর মাংসের তেহারি। এখন দেখা যাচ্ছে, তিনি বেঁচে আছেন এবং পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন।

এমন একজন সম্মানিত মানুষকে পুলিশ উধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া গ্রেফতার করবে না। তাহলে কি বর্তমান সরকার রবীন্দ্ৰনাথবিরোধী অবস্থান নিয়েছে? যদি নিয়ে থাকে তাহলে বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্ৰকেও একশনে যেতে হবে। কবিগুরুর কুশপুত্তলিকা দাহের ব্যবস্থা করতে হবে। কুশপুত্তলিকার অভাব নেই। তিনটা বানানোই আছে। কংকন ভাই মনোযোগ দিয়ে দ্বিতীয়বার খবরটা পড়ে মোটামুটি বিভ্রান্ত হয়ে গেলেন।

একটা মেস থেকে রবীন্দ্রনাথকে গ্রেফতার করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি জনাব গফুর। যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট, গাত্রবর্ণ গৌর। সাংবাদিকরা তার ছবি তুলেছেন।কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রবীন্দ্ৰনাথ বদল হয়েছেন। দেখা গেছে হাজাতের রবীন্দ্রনাথের উচ্চতা তিন ফুট। গাত্ৰবৰ্ণ ঘন কৃষ্ণ! ভারপ্রাপ্ত ওসিকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

রহস্য সমাধানের জন্যে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে। দেশপ্রেমিক নাগরিকদের কাছে আবেদন করা হচ্ছে, রবীন্দ্ৰনাটকের মূল নায়ককে পুলিশে ধরিয়ে দিতে। মূল নায়কের নাম ছামাদ মিয়া। ছামাদ মিয়া সম্পর্কে যে-কোনো তথ্য র‍্যাব বা থানাকে জানাতে অনুরোধ করা হচ্ছে।কংকন ভাই খবর পড়ে কিছুক্ষণের জন্যে তব্দা মেরে রইলেন। দেশে এত কিছু ঘটে গেছে তিনি জানতেন না। ছামাদ মিয়া সম্পর্কে তথ্য তার কাছে আছে! এই বদমাইশ কাজী নজরুল ইসলাম সেজে বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্রে এসেছিল। থাপ্পড় খেয়ে বিদায় হয়েছে।

কংকন ভাই সিগারেট ধরালেন। চা ছাড়া সিগারেট টেনে সুখ পাওয়া যায় না। হাশেম এখনো আসে নি বলে চা খাওয়া যাচ্ছে না। গবেষণা কেন্দ্ৰে চা-কফির ব্যবস্থা আছে। সিগারেট টানতে টানতে কংকন ভাইয়ের মাথায় নতুন আইডিয়া চলে এল। তিনি খানিকটা উত্তেজিত বোধ করলেন। রবীন্দ্ৰ-ঝামেলা মিটে গেলেই এই আইডিয়া নিয়ে এগুতে হবে। দেরি করা যাবে না।

কংকন ভাই সিগারেট ধরালেন। চা ছাড়া সিগারেট টেনে সুখ পাওয়া যায় না। তার মোবাইল ফোন গত রাতে চুরি গেছে। মানুষ মোবাইল ফোন সেট পকেটে রাখে। কংকানও রাখত, আই ফোন কেনার পর পকেটে রাখা বন্ধ করেছে। আই ফোন হাতের মুঠোয় নিয়ে ঘোরার আনন্দই আলাদা। সবাই সারাক্ষণ দেখছে হাতের মুঠোয় কী জিনিস। মানুষকে দেখাতে গিয়েই দুর্ঘটনা। হাতের মুঠোর জিনিস ফসকে গেছে। এখন কংকন ভাই খানিকটা স্বস্তি বোধ করছেন।

মাথায় যে আইডিয়া এসেছে তার সফল বাস্তবায়ন হলে একটা নতুন আই ফোন কেনার পরেও হাতে কিছু ক্যাশ টাকা থাকবে।বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্রের নাম পাল্টে নজরুল পাঠচক্ৰ দেওয়া। এখানে লোকজন আসবে, জাতীয় কবির রচনা পাঠ করবে। তার সম্পর্কে জানবে।বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্ৰ নাম রাখার কিছু বিপদ আছে। সরকার বদল হলেই নাম বদল হবে। নতুন নাম জিয়া গবেষণা কেন্দ্র। বাড়ি ছাত্রদলের দখলে চলে যাবে। নজরুল পাঠচক্র-এ এই চক্কর থাকবে না।

নতুন নামকরণ উপলক্ষে কাঙালিভোজের আয়োজন করা হবে। আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পত্রপত্রিকা এবং টিভি চ্যানেলগুলোকে দাওয়াত দেওয়া হবে।এটা কংকন ভাইয়ের অপ্রধান আইডিয়া। প্রধান আইডিয়া হচ্ছে, যখন রান্নাবান্না শুরু হবে তখন একদল উছুঙ্খল মানুষ হামলা করবে। অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যাবে। কয়েকজন গুরুতর আহত হবে।

এতে লাভ দুটা। খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে না। ডেকোরেটরের কাছ থেকে রান্না করার হাঁড়িপাতিল ভাড়া করলেই হবে। জখমও হবে ডেকোরেটরের লোকজন। এদের জখম হওয়ার সময়ও হয়ে গেছে। ফ্রি সার্ভিস দিতে চায় না। ঘাড়ে ধরে আদায় করতে হয়। দেশের প্রতি মায়া নাই। আছে। টাকার ধান্দায়। বদমাইশের দল।দ্বিতীয় লাভ হলো প্রচার।কংকন ভাই কাঙালিভোজ উপলক্ষে চাঁদা সংগ্ৰহ কীভাবে করা যায় তা ভাবতে লাগলেন। আশেপাশের বাড়িতে যেতে হবে। সঙ্গে থাকবে কিসলু।

কিসলুর চেহারা দেখলেই বাড়িওয়ালার কলিজা পানি হয়ে যাবে। মুখ ফুটে চাঁদা চাওয়ার আগেই চাঁদা চলে আসবে। চা-নাশতা চলে আসবে। অনেকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হবে। অতি ভদ্র অতি বিনয়ী নারীকণ্ঠে টেলিফোন যাবে।নারীকণ্ঠ বলবে, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ থেকে বলছি। আমি রিনা। কেমন আছেন? শুভ দুপুর। (চাঁদা চাইতে হবে বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্রের নামে। নজরুল পাঠচক্রের নামে চাঁদা চাইলে দুই টাকার ছেড়া নোটও পাওয়া যাবে না।)

টেলিফোনে যে নারীকণ্ঠ চাঁদা চাইবে সে কংকন ভাইয়ের স্ত্রী, নাম সুমনা। মহিলা লীগের প্রচার সম্পাদিকা। সুমনা আদর্শ পত্নী। স্বামীর সব কাজে সাহায্য করতে প্ৰস্তৃত। সে বঙ্গবন্ধু গবেষণা কেন্দ্রের একজন গবেষক। মন্ত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের তার ভালো দক্ষতা আছে। গত মাসেই ত্ৰাণমন্ত্রীর কাছ থেকে পাঁচশ কম্বল, তিনশ সুয়েটার এবং আঠারো টিন অলিভ ওয়েল নিয়ে এসেছে। সব গবেষণা কেন্দ্রে জমা আছে।

কংকন ভাইয়ের গভীর চিন্তামগ্ন অবস্থায় যিনি ঢুকলেন তার গায়ে হলুদ পাঞ্জাবি। পা খালি। তার নাম হিমু। ভালো নাম হিমালয়। তিনি কংকন ভাইকে দেখে বিনয়ে গলে গিয়ে বললেন, কংকন ভাই, কেমন আছেন? শুভ দুপুর।

কংকন ভাই বললেন, আপনি কে?

আমাকে একজন পাঠিয়েছে।

কে পাঠিয়েছে?

তাঁর নাম তো বলতে পারছি না। নিষেধ আছে। তিনি আপনার কাছে সামান্য চাঁদা চান। খুবই অল্প।হতভম্ব কংকন ভাই অনেক কষ্টে নিজের হতভম্ব ভাব সামলালেন, তখন রাগ তাকে অভিভূত করল। তিনি রাগে তোতলাতে তোতলাতে বললেন, আমার কাছে চাঁদা চায়। বান্দির পুতটা কে?

কংকন ভাই, আপনি উনার বিষয়ে যে নোংরা কথা বলেছেন সেটা আমি শুনি নাই। মাঝে মাঝে আমি কানে কম শুনি। যাই হোক, আপনি তের তারিখ রাত আটটার মধ্যে টাকার ব্যবস্থা করবেন। বেশি না, তের লাখ। তের তারিখের সঙ্গে মিল রেখে তের লাখ; দশ তারিখ হলে বলতাম দশ লাখ। আপনার তিন লাখ টাকা বাঁচিত। কিন্তু উনি ডেট দিয়েছেন তের।তের লাখ টাকা চাঁদা চায়! আমার কাছে? আপনি কে? কী নাম?

আমার নাম হিমু। অনেকে ডাকে হিমালয়। হিমালয় ঠান্ডা তো কাজেই হিমালয়। আমি নিজেও ঠান্ডা। আবার কেউ কেউ ডাকে হিমবাহ। হিমবাহ বুঝেন তো? পানির উপরে সামান্য বের হয়ে থাকে। সবটাই থাকে নিচে। আপনি আমার পানির উপরের অংশ দেখছেন। নিচেরটা দেখছেন না।

তোমার পেটের ভূড়ি বের করতে আমার এক মিনিট লাগবে। আমারে চিনো না।আপনাকে কেন চিনব না! আপনি কংকন ভাইয়া। অন্যের বাড়ি দখল করে আসর জমিয়ে বসেছেন। আজ আপনি একা কেন? আপনার লোকজন কোথায়? মোবাইলে টেলিফোন করে লোকজন যে ডাকবেন তাও সম্ভব না। মোবাইল হারিয়ে ফেলেছেন, তাই না? আহারে, এমন দামি সেট! তুই জানস ক্যামনে? এই মোবাইলের খবর তুই ক্যামনে জানস?

হিমু বলল, শুরু করেছিলেন আপনি, তারপর তুমি, এখন তুই।আমি আপনি দিয়ে শুরু করেছি, শেষ পর্যন্ত আপনি বলব। ভদ্রতার খেলাফ হবে না; কষ্ট করে জানোলা দিয়ে একটু বাইরে তাকাবেন। কাউকে কি দেখা যায়? উনাকে চিনেন? উনার নাম জগলু। আঙুলকাটা জগলু। উনি নিজের আঙুল কাটেন না। অন্যের আঙুল কাটেন। এইজন্যেই নাম আঙুলকাটা জগলু। কংকন ভাই, আপনার এখানে চায়ের ব্যবস্থা আছে না? এক কাপ চা খাওয়া যাবে?

কংকন কিছু বলল না। অ্যাড়চোখে ঘড়ির দিকে তাকাল। কিসলুর আসার কথা। এখনো কেন আসছে না। জানোলা দিয়ে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। ভাওতাবাজি হতে পারে। আঙুলকাটা জগলুকে কংকন চিনে। আঙুলকাটা জগলু দিনেদুপুরে বের হবে না। তাছাড়া সে যতদূর জানে আঙুলকাটা জাগলু জেলে। তার কাছে মনে হচ্ছে পুরোটাই ভাওতাবাজি। দেশ চলছে ভাওতার উপরে।কংকন ভাই, চায়ের কথা বলেছিলাম।চা বানানোর লোক নাই।অপেক্ষা করি, আপনার লোকজন আসুক। চা খাই। আমি আপনার এখান থেকে চা না খেয়ে চলে যাব এটা কেমন কথা? আপনার ইজ্জত আছে না?

সাহস থাকলে বসে থাক।হিমু শান্ত গলায় বলল, সাহসের আমার অভাব নাই। সাহসের অভাব আপনার। আমি চায়ের জন্যে অপেক্ষা করব। আসুক আপনার লোকজন! শুনেছি আপনার এখানে ক্যারাম খেলা হয়, একদান ক্যারামও খেলব।কংকনের ঠোঁটের কোনায় এই প্রথম সামান্য হাসির আভাস দেখা গেল। কারণ কিসলু আসছে। দরজা দিয়ে তাকে দেখা যাচ্ছে। কিসলুর সঙ্গে হাশেমও আছে।

কংকন বলল, তুই বোস তোরে আমি চা খিলাব। একজন মুখ হা করায়ে ধরে রাখবে অন্যজন মুখে গরম চা ঢালবে। যত পারিস খাবি।হিমু বলল, ধন্যবাদ। চা মুখে ঢেলে দিবে, আমাকে কিছু করতে হবে না— এইজন্যে শুকরিয়া। কংকন ভাই, আপনি মহান।কথাবার্তার এই পর্যায়ে কিসলু ঢুকল। তার পেছনে পেছনে হাশেম। কিসলু ভূত দেখার মতো চমকে উঠে বলল, হিমু ভাই! আপনি এখানে। কী আশ্চর্য! আমাকে চিনেছেন? না।

আমি কিসলু। আপনার জন্যে জানে বাঁচলাম। ঐ রাতে আপনি না থাকলে জানে মারতাম। ওরে ব্যাপারে, কী বিপদ যে গেছে! আপনারে এইখানে দেখব। চিন্তাই করি নাই। যে রাতে আপনারে প্রথম দেখি আমি কিন্তু আপনারে মানুষ ভাবি নাই। ভাবছি ফেরেশতা। কিছু মনে নিয়েন না হিমু ভাই, আপনারে কদমবুসি করব।হিমু বলল, দ্রুত এক কাপ চা খাওয়াও তো কিসলু।চা এক কাপ কী জন্যে খাবেন? চা খাবেন হাজার কাপ।

কংকন ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেছে। সে তার এক জীবনে অনেক বিস্ময়কর ঘটনা দেখেছে, এরকম দেখে নি। তার শরীর ঝিমঝিম করছে। সিগারেট ধরাতে ইচ্ছা করছে। বিচিত্র কারণে সিগারেট ধরাতে ভয় লাগছে।কিসলু লোকটাকে কদম্বুসি করেছে এটা না হয় মানা গেল। তার দেখাদেখি হাশেমও কদমবুসি করে হাত কচলাচ্ছে—এর অর্থ কী? হিমু বলল, কিসলু। চা দুকাপ বানাবে! বাইরে আঙুলকাটা জগলু আছে। উনাকে এক কাপ চা দিবে।আঙুলকাটা জগলুর কাছে। এ না জেলে আছে?

হিমু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, জেলে নকল জগলু। আসলটা বাইরে। তুমি চা নিয়ে যাও। দেখলেই চিনবে। আমি দোতলায় যাচ্ছি। কংকন ভাইকে দোতলায় পাঠাও। তার সঙ্গে আমার প্রাইভেট কিছু কথা আছে।হিমু এবং কংকন ভাই মুখোমুখি বসা। হিমুর হাতে চায়ের কাপ। কংকন ভাইয়ের হাতে পানির গ্লাস। গ্লাসে কয়েক টুকরা বরফ। পানিতে ভদকা নামক ওষুধ খানিকটা দেওয়া হয়েছে। এই ওষুধ ভয় কমাতে সাহায্য করে। ওষুধের দুটা বোতল কংকন ভাইয়ের প্রাইভেট আলমারিতে সবসময় থাকে।হিমু বলল, ভয় পেয়েছেন?

কংকন জবাব দিল না। হিমু বলল, আমাকে শুধু শুধু ভয় পাচ্ছেন। আমি নির্বিষ। তের লাখ টাকা চাঁদার কথা যা বলেছি সেটাও ভুয়া। আপনাকে চাঁদা জোগাড় করতে হবে না।কংকন ভাইয়ের ফ্যাকশে মুখে কিছু রক্ত চলাচল শুরু হয়েছে। ফ্যাকাশেভাব কিছুটা দূর হয়েছে। তিনি ঘনঘন গ্লাসে কয়েকটা চুমুক দিলেন। হিমু বলল, চাঁদা না দিলেও তের তারিখ এই বাড়িটা ছেড়ে দেবেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা অন্য কোথাও করবেন। ভালো কথা, আপনি ছাত্রলীগ করেন। বঙ্গবন্ধু যখন সপরিবারে নিহত হলেন তখন কিন্তু আপনার ছাত্রলীগ টু শব্দ করে নাই। মিটিং মিছিল দূরের কথা।

Leave a comment

Your email address will not be published.