• Wednesday , 21 October 2020

হুমায়ূন আহমেদ এর লেখা বাদশাহ নামদার পর্ব –২০

তোমার কতবড় সৌভাগ্য সেটা একটু চিন্তা করো ।

পরাজিত সম্রাটের সঙ্গে বিবাহ হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য । সম্রাটের মন্দ ভাগ্যের সঙ্গে আমার ভাগ্য জড়াতে চাই না ।

তুমি নিতান্তই বালিকার মতো তর্ক করছ ।

হামিদা বানু হাসতে হাসতে বলল, আমি তো বালিকাই । সারা রাত চেষ্টা করেও হামিদা বানুকে রাজি করানো গেল না । মীর্জা হিন্দাল ঘটনা শুনে ভাইয়ের ওপর প্রচণ্ড রাগ করলেন । যাকে শের শাহ্ তাড়া করছে যার পালানোর পথ প্রায় বন্ধ সে কী করে এইসময় বিয়ের জন্যে পাগল হবে ?

দিলদার বেগম হুমায়ূনের সম্মানে বিরাট ভোজের আয়োজন করেছিলেন । হুমায়ূন ঘোষণা করলেন, হামিদা বানুর সঙ্গে বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো খাদ্য গ্রহণ করবেন না । উপবাস থাকবেন ।

সম্রাট কোনো খাদ্য গ্রহণ করছেন না শুনে হামিদা বানু বিয়েতে রাজি হলেন ।

দিলদার বেগমের কাছ থেকে পাওয়া দুই লক্ষ রৌপ্যমুদ্রা সম্রাট বিবাহের ‘নিকাহানা’ হিসেবে হামিদা বানুর বাবা মীর আবুল বকাকে দিলেন । এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা দিলেন নবপরিণীতা স্ত্রীকে ।

বাসর রাতে হামিদা বলল, আমি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আপনার ভাগ্যের সঙ্গে নিজের ভাগ্য জড়িয়েছি । তবে আমি আপনাকে ওপর আসুক আমি আপনাকে ছেড়ে যাব না ।

সম্রাট বললেন, তোমাকে নিয়ে আমি একটি দীর্ঘ কবিতা রচনা করেছি । কবিতাটা শুনবে ?

হামিদা বললেন, না । আমি এখন ঘুমাব । আমার ঘুম পাচ্ছে ।

সম্রাট বললেন, আমি হুকুম না দেওয়া পর্যন্ত তুমি ঘুমাতে পারবে না । আমি হুকুম দিই নাই ।

হামিদা বানু চোখ বন্ধ করলেন এবং পাশ ফিরলেন ।

সম্রাট বললেন, তুমি কি ঘুমিয়ে পড়েছ ?

বাদশাহ নামদার পর্ব –২০

না ।

তোমাকে আমি একটা উপহার দেব । উঠে বসো । উপহারটা কী দেখো ।

কী উপহার ?

একটা হীরা । এর নাম কোহিনুর ।

কোহিনুরের আমার কোনো প্রয়োজন নেই । আপনি কপর্দকহীন

একজন মানুষ । এই হীরা আপনার প্রয়োজন ।

কোহিনুর তুমি নেবে না ?

না । এখন অনুমতি দিন, আমি ঘুমাব ।

যাও অনুমতি দিলাম ।

সম্রাট ঘুমন্ত স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে লেখা দীর্ঘ কবিতাটি আবৃত্তি করলেন ।

আবৃত্তি শেষ হওয়ামাত্র হামিদা বানু বললেন, আপনি দুর্বল সম্রাট কিন্তু অত্যন্ত সবল একজন কবি । কবিকে অভিনন্দন ।

হামিদা বানুর গর্ভেই পৃথিবীর সেরা নৃপতিদের একজন জন্মান ।

তিতি সম্রাট আকবর । আকবর দ্য গ্রেট ।

এই প্রসঙ্গ যথাসময়ে আসবে ।

ফজরের নামাজ শেষ করে সম্রাট হুমায়ূন কিছুক্ষণ ঘুমান । ‍দিনের কাজকর্ম শুরু হয় ঘুম থেকে ওঠার পর। আজ নিয়মের ব্যতিক্রম হয়েছে । সম্রাট নামাজ শেষ করে বাগানে গেছেন । তাঁর মন প্রফুল্ল । গত রাতের শেষ অংশে সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখেছেন । শেষরাতের স্বপ্ন অর্থবহ । একজন তফসিরকারীকে দিয়ে স্বপ্নের অর্থ করাতে হবে ।

স্বপ্নে তিনি তাঁর পিতা বাবরকে দেখেছেন । বাদশাহ বাবর ঘোড়ায়ে চড়ে যাচ্ছেন । পেছনে পেছনে যাচ্ছেন হুমায়ূন । জায়গাটা মনে হলো কাশ্মীরের কোনো বাগান । কাশ্মীর বাদশাহ বাবরের অতি প্রিয় স্থান । কাশ্মীরকে তিনি বলতেন, আমার ব্যক্তিগত বাগিচা ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –২০

ঘোড়ায় যেতে যেতে একটা জলা জায়গার কাছে বাবর থামলেন । ঘোড়া থেকে নামলেন না । হুমায়ূনকে বললেন, তাকিয়ে দেখো কী সুন্দর জলপদ্ম ! যাও এই পদ্মটি তুলে আনো । আমি এত সুন্দর জলপদ্ম কখনো দেখি নি ।

পিতার আদেশ শুনে হুমায়ূন ঘোড়া থেকে নামলেন । পদ্ম আনতে তাঁকে পানিতে পা ফেলতে হলো । পানি বরফশীতল । কাকের চোখের মতো স্বচ্ছ ।

স্বপ্নের এই পর্যায়ে সম্রাটের ঘুম ভাঙল । অনেকদিন তিনি পিতাকে স্বপ্নে দেখেন না । তাঁর চেহারাও হুমায়ূনের কাছে অস্পষ্ট হয়ে আসছিল ।

স্বপ্নে পিতাকে অতি স্পষ্ট দেখে হুমায়ূনের মন আনন্দে পূর্ণ হয়েছে । তিনি নিশ্চিত এটি একটি ভালো স্বপ্ন ।

লাহোরের এই বাগানে জলপুষ্প ফোটার জন্যে একটি জলাধার করা হয়েছে । সম্রাট হুমায়ূন জলাধারের দিকে যাচ্ছেন । তাঁর মন বলছে জলাধারে তিনি জলপদ্ম ফুটে আছে দেখবেন ।

খুব কাছ থেকে কেউ একজন বলল, আমি কি সম্রাটের সঙ্গে কিছুক্ষণ থাকতে পারি? অতি জরুরি কিছু কথা আমার সম্রাটকে বলা দরকার ।

সম্রাট ঘাড় ফিরিয়ে বৈরাম খাঁকে দেখলেন । বৈরাম খাঁকে চিন্তিত এবং বিষণ্ন দেখাচ্ছে । হুমায়ূন বললেন, আপনার সঙ্গ আমার সবসময় প্রিয় । আসুন আমরা দুজন জলপদ্মের সন্ধানে যাই । জরুরি আলাপের জন্যে সময় অনেক পাওয়া যাবে ।

বৈরাম খাঁ এগিয়ে এলেন । হুমায়ূন বললেন, আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে বিনিদ্র রজনী কেটেছে । বলুন জরুরি কথা ।

আমি একটি পত্র নিয়ে এসেছি ।

হুমায়ূন বললেন, পত্র কে পাঠিয়েছে? শের শাহ্ ?

না, পত্রটি লেখা হয়েছে শের শাহকে । লিখেছেন আপনার ভ্রাতা মীর্জা কামরান ।

হুমায়ূন জলাধারের দিকে যাচ্ছিলেন, বৈরাম খাঁর কথায় তাঁর থমকে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কথা । তিনি থমকে দাঁড়ালেন না । জলাধার পর্যন্ত গেলেন । সেখানেও জলপদ্ম ফুটেছে । স্বপ্নের মতো সুন্দর না হলেও সুন্দর । একসঙ্গে অনেকগুলি ফুটেছে বলেই সুন্দর । স্বপ্নে একটা জলপদ্মই ছিল । হুমায়ূন আনন্দিত গলায় বললেন, বাহ্ !

বৈরাম খাঁ বরলেন, পত্রটা কি এখন পড়বেন ?

বাদশাহ নামদার পর্ব –২০

হুমায়ূন বললেন, এই অপূর্ব দৃশ্য কিছুক্ষণ দেখতে দিন, তারপর পত্র পাঠ করব ।

দীর্ঘনিঃশ্বাস চাপতে চাপতে বৈরাম খাঁ বললেন, অবশ্যই । আপনি দৃশ্য দেখুন ।

শের শাহকে লেখা মীর্জা কামরানের পত্র-

দিল্লীর মহান সম্রাট, জগৎস্বীকৃত বীরপুরুষ মহানুভব শের শাহ্ ।

আমি দীর্ঘ পত্রালাপে যাচ্ছি না । আমার ভাই

হুমায়ূন মীর্জা এই বিষয়ে বিশেষ পারদর্শী । মূল

কথায় যাই । আমি  আমার ভাইকে বন্দি করে

আপনার হাতে তুলে দিতে রাজি আছি । বিনিময়ে

আমি কী পাব তা দূত মারফত জানালে খুশি হব ।

ইতি

আপনার অনুগত

মীর্জা কামরান

হুমায়ূন ছোট্ট করে নিঃশ্বাস ফেলে আবারও জলাধারভর্তি পদ্মের দিকে চোখ ফিরিয়ে বললেন, বৈরাম খাঁ, আপনি কি এই ফুলগুলির আয়ু জানেন ?

বৈরাম খাঁ বললেন, আমি সৈনিক মানুষ । আমার চিন্তা আমার মহান সম্রাটের এবং আমার সৈন্যদের আয়ু নিয়ে ।

হুমায়ূন বললেন, অপূর্ব এই ফুল মধ্যরাতে ফোটে এবং মধ্যদুপুরে বুজে যায় । সাত দিন এরকম চলে, তারপর এর আয়ু ফুরায় ।

সম্রাট, আমরা কি মূল বিষয়ে আসতে পারি?

মূল বিষয়ে যেতে মন চাচ্ছে না বলেই পুষ্প বিষয়ে কথা ।

অবস্থা যে গুরুতর তা কি বুঝতে পারছেন ?

পারছি ।

আপনার কি মনে হয় না এই মুহূর্তেই কামরান মীর্জাকে বন্দি করা প্রয়োজন ?

তা কি সম্ভব ?

বৈরাম খাঁ বললেন, গত রাতে শেষ প্রহরে আমি তাকে বন্দি করেছি । আপনার হুকুম পাওয়ামাত্র তাঁকে আপনার সামনে উপস্থিত করা হবে ।

সম্রাট বললেন, শাবাশ ।

বৈরাম খাঁ মাথা নিচু করে প্রশংসা গ্রহণ করলেন । হুমায়ূন বললেন, কেউ চমৎকার কোনো কাজ করলে আমরা বলি শাবাশ । কেন বলি জানেন ?

বাদশাহ নামদার পর্ব –২০

না ।

পারস্য-সম্রাট শাহ আব্বাসের কারণে বলি । শাহ আব্বাস সারা জীবন প্রশংসনীয় সব কাজকর্ম করে গেছেন। সেখান থেকেই শাবাশ শব্দটি এসেছে ।

বৈরাম খাঁ বললেন, আমি সৈনিক মানুষ । এত কিছু আমার জানার প্রয়োজন নাই । যুদ্ধবিদ্যা জানা প্রয়োজন । তারপরেও সম্রাটের কাছ থেকে শিক্ষামূলক প্রতিটি বিষয়ে আমি মনে রাখি । এখন অধীনের আপনার প্রতি দুটি বিশেষ অনুরোধ আছে ।

আপনার যে-কোনো অনুরোধ রাখা হবে । অন্যায় অনুরোধ হলেও আমি রাখব । বলুন কী অনুরোধ ?

আমার দুটি অনুরোধ-কামরান মীর্জাকে বিদ্রোহ এবং গোপন ষড়যন্ত্রের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেবেন । এবং এই দণ্ডাদেশ আজ সূর্যাস্তের আগেই কার্যকর করবেন ।

দ্বিতীয় অনুরোধ কী ?

যার কারণে আমরা এই ষড়যন্ত্রে বিষয়ে জানতে পারি তাকে পুরষ্কৃত করবেন ।

সে কে ?

তার নাম হরিশংকর ।

হরিশংকরকে পুরষ্কৃত করা হবে । তাঁকে আমার সামনে উপস্থিত করুন ।

কামরান মীর্জাকে কখন উপস্থিত করব ?

আসরের নামাজের পর ।

বৈরাম খাঁ বললেন, আমি কি আশা করতে পারি, মাগরেবের নামাজের আগেই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে ?

হুমায়ূন জবাব দিলেন না ।

বৈরাম খাঁ বললেন, হাতির পায়ের নিচে মস্তক পিষ্ট করে মৃত্যুই হলো এমন অপরাধীর নিম্নতম শাস্তি ।

হুমায়ূন এবারও কিছু বললেন না ।

আমি শাস্তির ব্যবস্থা সম্পূর্ণ করে রাখব । আপনার আদেশ পাওয়ামাত্র শাস্তি কার্যকর হবে ।

কামরান মীর্জাকে বন্দি করা হয়েছে-এই খবর অন্তঃপুরের রাজমহিষীরা জেনেছেন । কামরান মীর্জার মা গুলরুখ বেগম আতঙ্কে অস্থির । তিনি জানেন তাঁর ছেলেকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে । ষড়যন্ত্রকারীদের এই শাস্তির বিধান । মা হয়ে সন্তানের মৃত্যু তিনি নিতে পারছেন না । তিনি কিছুক্ষণ পরপর জ্ঞান হারাচ্ছেন । দুপুরের ‍দিকে খবর পাওয়া গের সম্রাট হুমায়ূন এসেছেন, গুলরুখ বেগমের সঙ্গে দেখা করতে । গুলরুখ বেগমের উঠে দাঁড়ানোর শক্তি ছিল না । দুজন দাসী তাঁকে ধরাধরি করে সম্রাটের সামনে উপস্থিত করল ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –২০

হুমায়ূন বললেন, মা! আপনি নিশ্চয়ই কামরান মীর্জার কর্মকাণ্ড বিষয়ে অবগত হয়েছেন ?

গুলরুখ বেগম হাঁ-সূচক মাথা নাড়লেন।

হুমায়ূন বললেন, আপনার কি কামরান মীর্জার বিষয়ে কিছু বলার আছে ? বাদ আসর তার বিচার বসবে ।

গুলরুখ বেগম বললেন, অপরাধী অপরাধের জন্য শাস্তি পাবে । আমার কিছু বলার নেই ।

আপনার করুণ অবস্থা দেখে আমি ব্যথিত । আমি দুপুরে আমার সঙ্গে খাবার গ্রহণের জন্য আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি । আপনি কি আমার সঙ্গে খাবার গ্রহণ করবেন ?

না ।

হুমায়ূন বললেন, আল্লাহ্ পাক আপনার মনের কষ্ট দূর করুক । আমিন ।

কামরান মীর্জাকে রাখা হয়েছে সাধারণ একটি তাঁবুর ভেতরে । তাঁর দুই হাত পেছনে দিকে শক্ত করে বাঁধা। তাঁকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে । তাঁবুর চারদিকে বৈরাম খাঁ’র অনুগত একদল ঘোড়সওয়ার সৈন্য ।এদের নেতৃত্বে আছে সাদ মুহম্মদ । সে কামরানের সঙ্গে তাঁবুর ভেতর আছে ।

কামরান মীর্জা বললেন, তোমার নাম কী ?

সাদ মুহম্মদ ।

কামরান বললেন, এটা আবার কেমন নাম! আমি তোমার নাম দিলাম বাদ মুহম্মদ ।

আপনার অভিরুচি ।

আমার বাঁধন খুলে দাও । আমি জোহরের নামাজ আদায় করব ।

বিশেষ বিশেষ অবস্থায় ইশারায় নামাজ পড়ার বিধান আছে ।

আপনার এখন সেই অবস্থা ।

আমি ক্ষুধার্ত । আমার জন্যে দুপুরের খাবারের কী ব্যবস্থা ?

সাদ মুহম্মদ জবাব দিল না । অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে রইল ।

কামরান বললেন, তুমি ব্যাঙাচির কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে আসো,

আমাকে দুপুরের খাবার দেওয়া হবে কি না ।

কাকে ব্যাঙাচি বলছেন ?

বৈরাম খাঁকে । ব্যাঙাচি তার যথার্থ পরিচয় ।

আপনাকে ছেড়ে যাওয়ার হুকুম নেই ।

সম্রাটের সামনে আমাকে কখন হাজির করা হবে ?

জানি না । শুনেছি আসরের পর ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –২০

আমি আমার ভাইকে চিনি । আমার ভাই যখন শুনবেন আমাকে না খাইয়ে রাখা হয়েছে তিনি রাগ করবেন। তুমি যাও, আমার খাবারের ব্যবস্থা করো ।

আপনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্যে হাতি এবং পাথর প্রস্তুত করা হয়েছে । আমার উপদেশ, আপনি আহারের কথা চিন্তা না করে আসন্ন মৃত্যুর কথা চিন্তা করুন । এবং আল্লাহ্ পাকের নাম নিতে থাকুন ।

আমি তৃষ্ণার্ত । পানি খাব ।

আপনার সামনে থেকে উঠে যাওয়ার হুকুম আমার নেই ।

বাদ মুহম্মদ, তোর ধৃষ্টতা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার মনে থাকবে ।

হুমায়ূন আচার্য হরিশংকরকে ডেকে পাঠিয়েছেন । তিনি তাঁর সঙ্গে দুপুরের খাদ্য গ্রহণ করবেন। হরিশংকর নিরামিশাষী । তাঁর জন্যে ত্রিশ পদের নিরামিষের ব্যবস্থা করা হয়েছে । তিনি ছোঁওয়া বাঁচিয়ে রেশমের আসনে আলাদা বসেছেন ।

সম্রাট বললেন, আম আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ ।

হরিশংকর বললেন, আমার জীবন আমি আপনাকে নিবেদন করেছি । কাজেই আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার কিছু নেই ।

আপনি কীভাবে জানলেন, কামরান মীর্জা শের শাহ্’র কাছে পত্র পাঠিয়েছে ?

সম্রাটের স্বার্থেই আমি কামরান মীর্জার আস্থাভাজন হয়েছি । আমি এই পত্রের বিষয়ে সরাসরি তাঁর কাছ থেকে জানতে পারি ।

আপনি একজনের বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন ।

আমি যা করেছি সম্রাটের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে করেছি । সম্রাটের জন্যে যদি আরও হাজারজনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে হয়, আমি করব ।

আপনি খাদ্য গ্রহণ করছেন না । খাবার নাড়াচাড়া করছেন । কারণ জানতে পারি  ?

আমি একটি বিষয় নিয়ে কঠিন উদ্বেগের মধ্যে আছি বলেই আমার

ক্ষুধা-তৃষ্ণা লোপ পেয়েছে ।

উদ্বেগের কারণ জানতে পারি ?

 

Read more

হুমায়ূন আহমেদ এর লেখা বাদশাহ নামদার পর্ব –২১

 

Related Posts

Leave A Comment