• Wednesday , 25 November 2020

হুমায়ূন আহমেদ এর লেখা বাদশাহ নামদার পর্ব –২৬

আমাকে ধমকাবেন না । আমি হিন্দুস্থানের সম্রাট হুমায়ূনের মেয়ে । এখন বলুন আমার বাবা কোথায় ?

আমি জানি না ।

কেন জানেন না?

হরিশংকর ঘর থেকে বের হলেন । গঙ্গার তীরে কিছুক্ষণ বসে থাকবেন  । ডান পা গঙ্গার পানিতে ডুবিয়ে রাখবেন । যে পবিত্র গঙ্গা স্পর্শ করে থাকে, তার কাছে প্রেতযোনি আসতে পারে না ।

হরিশংকর গঙ্গায় ডান পা ডুবিয়ে ঘাটে বসে আছেন । গঙ্গার পানি গরম, কিন্তু তার গায়ের ওপর দিয়ে হিমশীতল বাতাস বইছে । তিনি একমনে শব্দ করে রাম নাম আবৃত্তি করছেন । প্রেতযোনি রাম নামে ভীত হয় ।

আমার বাবা সম্রাট হুমায়ূন কোথায় ?

হরিশংকর চমকে তাকালেন । তাঁর পেছনেই আকিকা বেগম । আকিকা বেগমের হাত ধরে আছে অম্বা । দু’জনের মুখেই হাসি হাসি ।

হুমায়ূন তুষারঝড়ে পড়েছেন । ঘোড়া চলতে পারছে না । চারটা ঘোড়াকে গোল করে দাঁড় করিয়ে হুমায়ূন তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন । ঘন হয়ে তুষার পড়ছে । এক হাত দূরের কিছুও দেখা যাচ্ছে না ।

হঠাৎ হুমায়ূনকে চমকে দিয়ে হামিদা বানু শব্দ করে হেসে ফেললেন  ।

হুমায়ূন বললেন, হাসছ কেন ?

আমার ছেলেটা তাঁবুর ভেতর গরমে আরাম করে আছে এই ভেবে শান্তি লাগছে । শান্তির আনন্দেই হাসছি । এখন আমাকে একটা শের শোনান । শের শুনতে ইচ্ছা করছে ।

তুমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছ ?

শের না শুনলে পাগল হয়ে যাব ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –২৬

কাছেই কোথায় যেন আগুন জ্বলছে । এটা কি চোখের কোনো ভুল ? মানুষ মরীচিকা দেখতে অভ্যস্ত । মরুভূমিতে পানির অভাব হলে চোখের সামনে নকল পানি দেখা যায় । শীতে পর্যুদস্ত হয়েছেন বলেই কি নকল আগুন!

জাহাঁপনা!

কে ?

আমি বৈরাম । জঙ্গলের ভেতর একটা ঘর পাওয়া গেছে । আমি আগুন জ্বালিয়েছি । আপনারা আসুন । খুব সাবধান । বরফ জমে সব পিচ্ছিল হয়ে আছে ।

হুমায়ূন স্ত্রীর হাত ধরে এগুচ্ছেন । যত দ্রুত সম্ভব আগুনের পাশে দাঁড়াতে হবে । ঝড়ের গতি আরও বাড়ছে ।

হুমায়ূন হতাশ গলায় বললেন, হামিদা বানু, আমি এই জীবন আর টানতে পারছি না । সিদ্ধান্ত নিয়েছি সব ছেড়েছুড়ে পবিত্র মক্কা শরীফে চলে যাব ।

হামিদা বানু বললেন, পরাজিত মানুষের মতো কথা বলছেন ?

আমি তো পরাজিত মানুষই । পারস্যের ভেতর দিয়ে আমি মক্কা চলে যাব । আমার সঙ্গে কাউকে যেতে হবে না । আমি একা যাব ।

জাহাঁপনা , আমি আপনার কথা শুনছি ।

পারস্য-সম্রাট কি তাঁর রাজ্যের ভেতর দিয়ে আমাকে মক্কা যেতে দেবেন ?

অবশ্যই দেবেন । তবে এই চিন্তা আপাতত বন্ধ রাখুন । আসুন আগুনের পাশে যাই ।

পারস্য-সম্রাট শাহ তামাম্প এবং রাজ্যহারা হুমায়ূন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন । পারস্য-সম্রাট তাঁর জাঁকজমক দেখিয়ে হুমায়ূনকে অভিভূত করতে চাইছেন । অপূর্ব বেশভূষার সজ্জিত খোজারা পুষ্পবৃষ্টি করল । সামরিক বাদ্যবাজনা হচ্ছে । ঘোড়সওয়ার বাহিনী সালাম জানিয়েছে । এগিয়ে আসছে হস্তীবাহিনী চারদিকের হইচইয়ের মধ্যে হুমায়ূনকে দীনহীন দেখাচ্ছে ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –২৬

শাহ তামাম্প বললেন, তৈমুরের বংশধর সম্রাট বাবরের পুত্র হিন্দুস্থানের অধিপতির এই দশা কেন ?

হুমায়ূন বললেন, আমার ভাইদের কারণে এই দশা ।

সিংহাসনে বসেই ভাইদের হত্যা করলেন না কেন ?

সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় না ।

শাহ তামাম্প বললেন, সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় না বলেই কেউ সম্রাট, কেউ পথের ভিক্ষুক । আপনি আমার কাছে কী চান ?

হুমায়ূন বললেন, আমি আপনার কাছে করুণা চাই না । আমি শুধু পারস্যের ভেতর দিয়ে মক্কা চয়ে যাওয়ার অনুমতি চাচ্ছি ।

আমি যতদূর জানি আপনি সুন্নী মতাবলম্বী ।

ঠিকই জানেন । আমার স্ত্রী হামিদা বানু শিয়া ।

আপনার স্ত্রী চাইলেই মক্কা যেতে পারবেন । আপনাকে মক্কা যেতে হলে শিয়া মতাবলম্বী হতে হবে । আপনি হয়তো জানেন না, আমি পারস্য সুন্নিমুক্ত করার পরিকল্পনা করেছি । যেসব সুন্নি শিয়া-মতবাদ গ্রহণ করছে না তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে ।

হুমায়ূন বললেন, আমাদের নবিজি (দঃ) বিদায় হজের ভাষণে ধর্মবিষয়ে সহনশীল হতে বলেছেন ।

তামাম্প বললেন, এই ধরনের কোনো কথা হযরত আলী বলেন নি । আমরা শিয়ারা হযরত আলীর মতামতকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকি । যাই হোক, এখন আমি ধর্মবিষয়ে আলোচনায় উৎসাহী না । পথশ্রমে আপনি ক্লান্ত । ক্লান্তি দূর করুন । সন্ধ্যাবেলা আপনার সম্মানে রাজকীয় ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছে । আপনার শিয়া-মতবাদ গ্রহণ বিষয়ের আলোচনা তখন হবে । আপনার পরিধেয় বস্ত্রের যে অবস্থা তা পরে রাজকীয় ভোজসভায় যেতে পারবেন না । আপনার জন্যে পোশাক সরবরাহ করা হবে ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –২৬

হুমায়ূন বিষণ্ন মনে তাঁর জন্যে খাটানো তাঁবুতে ঢুকলেন । হামিদা বানুর জন্যে আলাদা তাঁবু খাটানো হয়েছে । তামাস্প’র হেরেমের নারীরা তার দেখভাল করছে ।

শাহ তামাস্প নিজের তাঁবুতে বিশ্রাম নিচ্ছেন । তাঁর সামনে দমীহ্ নামের পারস্যের বিখ্যাত সুরা । মাঝে মাঝে তিনি সুরার পাত্রে চুমুক দিচ্ছেন । বৈরাম খাঁকে ডেকে আনা হয়েছে । বৈরাম খাঁ তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে। তাঁকে বসার অনুমতি দেওয়া হয় নি ।

আপনি হুমায়ূনের প্রধান সেনাপতি ?

জি আলামপনা ।

আপনাকে দেখে প্রধান সেনাপতি মনে হচ্ছে না । মনে হচ্ছে আপনি মেঘপালক ।

আপনার কথায় সম্মানিত বোধ করছি । আমাদের নবিদের সবাই কোনো-না-কোনো পর্যায়ে মেঘপালক ছিলেন ।

আপনি শিয়া মতাবলম্বী ?

জি জাহাঁপনা ।

আপনার মাথায় শিয়াদের লম্বা টুপি নেই কেন ? মাথার চুলও তো শিয়াদের মতো কাটা না । রাজকীয় ভোজসভায় আপনি উপস্থিত থাকবেন, তখন যেন মাথায় শিয়াদের টুপি থাকে ।

বৈরাম খাঁ বললেন, এই কাজটা আমি মহান সম্রাট হুমায়ূনের অনুমতি ছাড়া করতে পারব না ।

তামাস্প কঠিন গলায় বললেন, আপনার মহান সম্রাট হুমায়ূন নিজেই শিয়া টুপি পরে ভোজসভায় আসবেন । তাঁকে পরিধেয় বস্ত্রের সঙ্গে এই টুপিও পাঠানো হয়েছে ।

বৈরাম খাঁ বললেন, আমার সম্রাট ভোজসভাতে যদি মাথা ন্যাড়া করে আসেন, আমি মাথা ন্যাড়া করেই যাব।

বাদশাহ নামদার পর্ব –২৬

আপনার মতো এবং অনুগত সেনাপ্রধানের কারণেই হয়তো হুমায়ূন সব কয়টি যুদ্ধে হেরেছেন । শুনেছি প্রাণে বাঁচার জন্যে হুমায়ূনকে কয়েকবার পানিতেও ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়েছে । তখন আপনি নিশ্চয়ই তাঁর সঙ্গে সাঁতার কেটেছেন ?

বৈরাম খাঁ বলল, এই সৌভাগ্য আমার হয় নি ।

তামাস্প হাত ইশারায় বৈরাম খাঁকে চয়ে যেতে বলে পানপাত্রে মনোযোগ দিলেন । তাঁকে অত্যন্ত বিরক্ত দেখাচ্ছে ।

ভোজসভায় পারস্য সাম্রাজ্যের শানশওকত দেখানোর সব চেষ্টাই শাহ তামাস্প করেছেন ।

বিশাল তাঁবুতে ভোজসভা বসেছে । চারদিক আলো ঝলমল করছে । নর্তকী এবং বাদ্যযন্ত্রীরা প্রস্তুত । সম্রাটের ইশারা পেলেই গানবাজনা শুরু হবে ।

রান্না হচ্ছে দুটি আলাদা রন্ধনশালায় । একটিতে পারস্যের রান্না । অন্য রন্ধনশালায় হিন্দুস্থানি বাবুর্চি তৈরি করছে খোসকা পোলাও।

শাহ তামাস্প এবং হুমায়ূন মুখোমুখি বসেছেন । তামাস্পের সঙ্গে তাঁর আমীর এবং সেনাপতিরা । হুমায়ূনের সঙ্গে তাঁর চারজন আমীর এবং বৈরাম খাঁ । হুমায়ূন শাহের পাঠানো শিয়া টুপি পরেন নি । শাহ তাতে খুব অসন্তুষ্ট এমন মনে হচ্ছে না, বরং তাঁকে হাসিখুশি দেখাচ্ছে । শাহের নির্দেশে হুমায়ূনের সামনে একটি সোনার থালা রাখা হলো। থালায় মহামূল্যবান মণিরত্ন ।

শাহ বললেন, পারস্যের পক্ষ থেকে সামান্য উপহার । ভোজসভায় উপহার বিনিময়ের রেয়াজ আছে । তবে আপনার অবস্থা আমরা অনুমান করতে পারছি । আপনার কাছ থেকে উপহার হিসেবে শুভেচ্ছা পেলেই আমরা সন্তুষ্ট । শাহের উপস্থিত আমীররা এ কথায় হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়লেন । কারও কারও ঠোঁটে বিদ্রুপের হাসি দেখা গেল ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –২৬

হুমায়ূন বললেন, মহামান্য শাহ তামাস্পের জন্যে আমার পক্ষ থেকে সামান্য উপহার । এই উপহার গ্রহণ করলে আমি এবং আমার সঙ্গীরা আনন্দিত হব ।

হুমায়ূন সবুজ রেশমি রুমালে ঢাকা একটি পাথর এগিয়ে দিলেন । শাহ তামাস্প রুমাল খুলে তাকিয়ে রইলেন। কয়েক মুহূর্ত তাঁর মুখে কোনো কথা ফুটল না । শাহের আমীররা উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন । তাদের মধ্যে নিচুস্বরে ফিসফিস শুরু হলো ।

তামাস্প বললেন, এইটিই কি সেই বিখ্যাত কোহিনুর ?

বৈরাম খাঁ বললেন, আলমপনা, এইটি সেই কোহিনুর যা তরবারি দিয়ে পেতে হয় অথবা ভালোবাসার উপহার হিসেবে পেতে হয় ।

কোহিনুরের উপর আলো পড়েছে । মনে হচ্ছে সবুজ রেশমি রুমালের মাঝখানে আগুন ধরে গেছে ।

শাহ তামাস্পের নির্দেশে খাবার পরিবেশন শুরু হয়েছে । একই সঙ্গে নৃত্যগীতের আসর বসেছে । সাতজন নর্তকী নাচছে । তাদের সঙ্গে বাদ্যবাজনা । বাদ্যবাজনার সুর করুণ কিন্তু নাচের ভঙ্গি উচ্ছল । দুই বিপরীত ধারা চমৎকার মিল খেয়ে গেছে ।

হুমায়ূন মুগ্ধ হয়ে নাচ দেখছেন । শাহ তামাস্প বললেন, এইসব নর্তকীকে আমি উপহার হিসেবে আপনাকে দিলাম । আপনার তাঁবুর পাশেই এদের তাঁবু । আপনি ইচ্ছা করলেই নর্তকীদের ব্যবহার করতে পারেন । তবে মক্কায় গেলে এদের নিয়ে যেতে পারবেন না! হা হা হা ! শাহ নিজের রসিকতায় হাসতে হাসতে ভেঙে পড়ছেন । আমীররাও হাসছেন । সুরা তার প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে ।

নিশিরাত পর্যন্ত পান ভোজন চলল । শাহ তামাস্প পরদিন তার সঙ্গে বাঘ শিকারে যাওয়ার জন্যে হুমায়ূনকে আমন্ত্রণ জানালেন । ভোজসভায় শিয়া প্রসঙ্গ উঠল না ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –২৬

মীর্জা কামরান ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠেছেন । তাঁর শরীর ঘামে ভেজা । পিপাসায় বুক ফেটে যাচ্ছে । দুঃস্বপ্ন তিনি দেখলেন, তাঁকে ঢোকানো হয়েছে গাধার চামড়ায় । চামড়া সেলাই করে দেওয়া হয়েছে । এ্টা খোলা ঘোড়ার গাড়ির পাটাতনে তাঁকে শুইয়ে রাখা হয়েছে । ঘোড়ার গাড়ির চালক রুপার ঘণ্টা বাজাতে বাজাতে বলছে মহান মোঘল সম্রাট হুমায়ূনের নির্দেশে মীর্জা কামরানকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে । ঘোড়ার গাড়ির পেছনে শত শত শিশু । তাদের খিলখিল হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে ।

সুরাইভর্তি পানি খেলেন মীর্জা কামরান  । তাতেও তাঁর তৃষ্ণা মিটল না । তিনি তৎক্ষণাৎ চিঠি লিখতে বসলেন । এই চিঠি যাবে পারস্য-সম্রাট শাহ তামাস্প’র কাছে ।

পত্র  মীর্জা কামরানের

মহান পারস্য-সম্রাট

পৃথিবীর সূর্য, জগতের সৌন্দর্য, সর্বশক্তির আধার

শাহ তামাস্প,

আমার বড়ভাই, মোঘল সাম্রাজ্যের কলঙ্ক হুমায়ূন

বিষয়ক কিছু কথা ।

জাহাঁপনা, আমার এই ভীরু কাপুরুষ বিচার

বুদ্ধিহীন ভ্রাতার কারণে আমরা দিল্লীর সিংহাসন

হারিয়েছি । হাজার হাজার সাহসী মোঘল সেনার

প্রাণনাশ হয়েছে ।

তাঁর কাপুরুষতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ, তিনি

তাঁর শিশুসন্তানকে ফেলে পালিয়ে গেছেন পারস্যে ।

সেই শিশুসন্তাকে এখন আমরা আদর এবং

মমতায় প্রতিপালন করছি ।

রাজ্যশাসনে আমার এই ভ্রাতা সম্পূর্ণ

অনুপযুক্ত ।সবসময় আফিমের নেশায় আচ্ছন্ন

থাকেন বলে তাঁর জগৎ বাস্তবতার বাইরে জগৎ।

আপনি নিশ্চয়ই অবগত যে, আমার এই ভ্রাতা

আধাবেলার জন্যে একজন মিসকিন ভসতিওয়ালাকে

দিল্লীর সিংহাসনে বসিয়েছিলেন । এতে তিনি নিজে

হাস্যস্পদ হয়েছেন, মোঘলদের ছোট করেছেন ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –২৬

আপনার কাছে আমার অনুরোধ, আপনি

আমার এই অযোগ্য অকর্মণ্য ভ্রাতাকে আমার হাতে

তুলে দিন । বিনিময়ে আমি কান্দাহার আপনার হাতে

তুলে দেব ।

বর্তমানে দিল্লীর শাসনভার শের শাহ্ পুত্র

ইসলাম শাহ্’র হাতে । আমি নিশ্চিত আল্লাহপাকের

হুকুমে আমি তাকে পরাজিত করে হিন্দুস্থানে মোঘল

শাসন প্রতিষ্ঠিত করব । অর্কমণ্য নেশাগ্রস্ত হুমায়ূন

জীবিত থাকা অবস্থায় এটা সম্ভব হবে না ।

এই পত্র আমি আমার তিন ভাইয়ের সম্মতিতে

লিখছি । রাজমহিষীরা আমার সঙ্গে আছেন ।

ইতি

মীর্জা কামরান

ফজরের নামাজের পরপরই মীর্জা কামরানের দেহরক্ষী দলের প্রধান সুলতান মুহাম্মদকে পারস্য পাঠিয়ে দেওয়া হলো । গোপন এই চিঠির খবর মীর্জা আসকারিও জানল না ।

দুপুরে মীর্জা কামরান একটি দুঃসংবাদ পেলেন । কান্দাহার থেকে মীর্জা হিন্দাল পালিয়েছেন । তিনি হুমায়ূনের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্যে পারস্যের দিকে যাত্রা করেছেন । মীর্জা কামরান ফরমান জারি করলেন, যে হিন্দালকে জীবিত বা মৃত তাঁর কাছে নিয়ে আসতে পারবে তাকে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা পুরষ্কার দেওয়া হবে ।

বাদশাহ নামদার পর্ব –২৬

মীর্জা হিন্দাল যে দুজনের সাহায্যে পালিয়েছিলেন তারাই তাঁকে ধরে এনে সন্ধ্যার মধ্যে মীর্জা কামরানের কাছে হাজির করল । তারা এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা পরষ্কারের দাবিদার ।

মীর্জা কামরান দুজনের প্রত্যেককেই পাঁচ শ’ স্বণমুদ্রা দিতে খাজাঞ্চিকে হুকুম ‍দিলেন । পুরষ্কার পাওয়ার মতো কাজ তারা করেছে, তবে একজন শাহজাদার বিশ্বাসভঙ্গ করার মতো অপরাধও তারা করেছে ।

Related Posts

Leave A Comment