• Monday , 18 January 2021

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম

তিনি ছিলেন একজন কবি ও আইনজীবী। তাঁর প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে। হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন। তাঁর রচনায় নারীমুক্তির বিষয়টিও ব্যক্ত হয়েছে। লেখালেখির মাধ্যমে তিনি তৎকালে বিধবাদের প্রতি সমাজের নির্দয় নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আঘাত হেনেছিলেন। তাঁর রচনায় বাংলাদেশ হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মিলিত বাসভূমিরূপে চিত্রিত হয়েছে। তিনি সাহিত্যের মধ্য দিয়ে অখন্ড ভারতের স্বাধীন ও সংহতিপূর্ণ রূপ কামনা করেছিলেন।হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর জীবনী 

তাঁর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল,তিনি যেমন গুরুগম্ভীর আখ্যায়িকা কাব্য রচনা করেছিলেন তেমনি আবার সহজ সুরের খন্ডকবিতা, ওজস্বিনী স্বদেশসঙ্গীত এবং লঘু সাময়িকী কবিতাও রচনা করেছিলেন। শিল্প ও সাহিত্যসহ জ্ঞানের অন্যান্য অনেক বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন গুণী ব্যক্তি হিসেবে সমকালে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর শেষজীবন ছিল খুবই বেদনাময়। তিনি একসময় অন্ধ হয়ে যান এবং অর্থনৈতিক নানা প্রকার অসুবিধার মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন অতিবাহিত হয়।

  • বিশিষ্ট এই কবি জন্মগ্রহণ করেন – ১৭ এপ্রিল, ১৮৩৮ সালে।
  • তাঁর পৈত্রিক নিবাস – হুগলীর উত্তরপাড়া গ্রামে রাজবলহাটের নিকট গুলাটিয়া গ্রাম।
  • তাঁর পিতার নাম – কৈলাসচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • বিশিষ্ট এই কবির শিক্ষাজীবন – তিনি কলকাতার খিদিরপুর বাঙ্গালা স্কুলে পড়ালেখা শুরু করেন। কিন্তু মাহামহের মৃত্যুর পর কিছুদিন তাঁর পড়াশোনা বন্ধ থাকে। পরে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ প্রসন্নকৃমার সর্বাধিকারীর প্রচেষ্টায় তিনি ইংরেজি শেখেন এবং ১৮৫৩ সালে হিন্দু স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। এখান থেকে জুনিয়র ও সিনিয়র উভয় পরীক্ষায় তিনি বৃত্তি লাভ করেন। বৃত্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে অর্থাভাবে তাঁর লেখাপড়া পুনরায় বন্ধু হয়ে যায় এবং কিছুদিন তিনি চাকরি করতে বাধ্য হন। ১৮৫৯ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে তিনি বিএ পাস করেন।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর জীবনী

  • তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের গ্রাজুয়েটদের অন্যতম। ১৮৬১ সালে তিনি এলএল এবং ১৮৬৬ সালে বিএল ডিগ্রি লাভ করেন।
  • কর্মজীবন শুরু করেন – মিলিটারি অডিটর-জেনারেল অফিসে কেরানি পদে চাকরির মধ্য দিয়ে।
  • তিনি মুন্সেফ হন – ১৮৬২ সালে। 
  • সরকারি উকিল নিযুক্ত – ১৮৯০ সালে।
  • মধুসূদনের মেঘনাদবদ কাব্যের দ্বিতীয় সংস্করণ সম্পাদনা করতে গিয়ে মহাকাব্য লেখায় উদ্বুদ্ধ হন – হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • মধুসূদনের পরে সর্বাধিক খ্যাতিমান কবি – হেমচন্দ্র বন্যোপাধ্যায়।
  • তাঁর মহাকাব্য আমাদের মধ্যে সৃষ্টি করে – ‘স্বদেশপ্রেমের’।
  • ’বৃত্রসংহার’ কাব্যের জন্য হেমচন্দ্র পাশে অবস্থান নিয়েছেন – মধুসূদনের।
  • ’বৃত্রসংহার’ কোন জাতীয় রচনা – কাব্যগ্রন্থ।
  • হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়-’বৃত্রসংহার’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা – হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • তাঁর সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ রচনা – ’বৃত্রসংহার’ কাব্য।
  • ’বৃত্রসংহার’ কাব্য প্রকাশিত হয় দুই খন্ডে – ১৮৭৫-৭৭ সালে।
  • হিন্দু জাতীয়তাবোধ প্রকাশের লক্ষ্যে হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে তিনি রচনা করেন – ‘বৃত্রসাংহার’ 

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর জীবনী

  • ’বৃত্রসাংহার’ কাব্যের মূল বিষয়বস্তু – বৃত্র নামক অসুর স্বর্গবিজয় এবং দেবরাজ ইন্দ্র কর্তৃক স্বর্গের অধিকার পুনঃস্থাপন ও বৃত্রাসুরের নিধন।
  • তিনি সরকারে রোষানলে পড়েন – ‘ভারত সঙ্গীত’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে।
  • সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে হয় – তাঁর ‘ভারত সঙ্গীত’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে।
  • স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষাভাবে ভারতবাসীকে অধীনতার পাশ থেকে মুক্ত হবার আহ্বান জানানো হয় – ‘ভারত সঙ্গীত’ কবিতায়।
  • ’চিন্তা তরঙ্গিনী’ কোন জাতীয় রচনা – কাব্যগ্রন্থ।
  • ’চিন্তা তরঙ্গিনী’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা – হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • ১৮৬১ সালে- ’চিন্তা তরঙ্গিনী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় – ১৮৬১ সালে।
  • তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ – ‘চিন্তাতরঙ্গিনী’। 
  • ’বৃত্রসংহার’ একটি – মহাকাব্য।
  • ’বীরবাহু’ কোন জাতীয় রচনা – কাব্য।
  • ’বীরবাহু’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা – হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • ১৮৬৪ সালে।’বীরবাহু’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় – ১৮৬৪ সালে।
  • দেশপ্রেম ও গোত্রপ্রীতির পরিচয় সম্বলিত একখানা আখ্যানধর্মী রচনা – ‘বীরবাহু’ কাব্য।
  • তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো – ‘কবিতাবলী’ (১৮৭০), ‘আশাকানন’ (১৮৭৬), ‘ছায়াময়ী’ (১৮৮০), ‘দশমহাবিদ্যা’ (১৮৮২), ‘চিত্তবিকাশ’ (১৮৯৮), ইত্যাদি। 
  • তাঁর সাহিত্য সাধনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো খন্ড কবিতা – ’জীবন সঙ্গীত’, ’ভারত সঙ্গীত’, ’ভারতবিলাপ’, ‘সঙ্গার উৎপত্তি’, ‘পদ্মের মৃণালা’, ’ভারত-কাহিনী’, ‘অশোকতরু’, ’কুলীন কনাগনের আক্ষেপ’ প্রভৃতি তাঁর অভূতপূর্ব সৃষ্টি।
  • হেমচন্দ্র বেশ কিছু ইংরেজি গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ করেন সেসবের মধ্যে রয়েছে – শেক্সপীয়রের টেম্পেস্ট (নলিনী বসন্ত, ১৮৭০) ও রোমিও-জুলিয়েট (১৮৯৫) উল্লেখযোগ্য।
  • বিশিষ্ট এই কবি মৃত্যুবরণ করেন – ২৪ মে, ১৯০৩ সালে।

Related Posts

Leave A Comment