ফলের রাজা হলো আম। বড় ছোট এমন কেউ নেই যে আম পছন্দ করে না।
পাকা আমের স্বাদে তো সকলেই বিমোহিত। কাঁচা আমের প্রতিও মুগ্ধতা কম না মানুষের।বিশেষ করে নারীদের খুব পছন্দ কাঁচা আমের ভর্তা, আচার। গর্ভবতী নারীদের বিশেষ পছন্দের তালিকায় রয়েছে কাঁচা আম। কাঁচা আম দিয়ে বিভিন্ন রকমের টক, ঝাল ও মিষ্টি আচার তৈরি করা হয়।
আর এই আচারের চাহিদাও সবচেয়ে বেশি। গরমের মধ্যে কাঁচা আমের টক ডাল ও শরবত বেশ লোভনীয়।
কাঁচা আম দিয়ে মাছও রান্না করা যায়।

কাঁচা আমে রয়েছে – পটাশিয়াম, ভিটামিন, মিনারেল, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, আয়রন, প্রচুর ফাইবার সহ আরও অনেক পুষ্টি গুণ।
নিচে কাঁচা আমের গুনাগুন গুলো দেয়া হলো :
কাঁচা আমের ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেক্ট
১/ পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম প্রচুর পরিমানে রয়েছে কাঁচা আমে। ফলে পেশী সংকোচন, মানসিক চাপ সহ নানা রকম শরীরিক সমস্যা দূর করে।
২/ কাঁচা আমে রয়েছে প্রচুর আয়রন, যা আমাদের শরীরের রক্তস্বল্পতার সমস্যা দূর করতে খুবই উপকার।
৩/ ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে এবং প্রচন্ড গরমে অনেক সময় দেখা যায় সর্দি কাশি। আর এই সমস্যা খুবই উপকারী কাঁচা আম।
৪/ আম হলো প্রচুর ফাইবার সমৃদ্ধ।তাই কাঁচা আম খেলেও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়।
৫/ রক্ত ঘটিত এক প্রকার রোগ হচ্ছে স্কার্ভি। কাঁচা আম এই স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধে দারুণ কার্যকরী।কাঁচা আম শুকিয়ে গুড়া করে প্রতওদিন ১ চামচ খেলে স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ হয়।
৬/ ভিটামিন ও ক্যারটিন সমৃদ্ধ কাঁচা আম চোখের জন্য খুবই উপকারী।
৭/ কাঁচা আমে পাকা আমের চেয়ে বেশি ভিটামিন- সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে প্রচুর পরিমানে। তাই এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার এবং কার্ডিওভাসকূলার রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। এটা মর্নিং সিকনেস চিকিৎসার সহায়ক হিসাবে কাজ করে।
৮/ গ্রীষ্মকালীন ডায়ারিয়া, আমাশয়, পাইলস, দীর্ঘস্থায়ী এঁড়ে, বদহজম এবং কোষ্টকাঠিন্য রোগের জন্য ওষুধ হিসাবে খুব কার্যকর হিসাবে কাজ করে কাঁচা আম।
৯/ কাঁচা আমের সঙ্গে চিনি, জিরা এবং এক চিমটি লবন মিশিয়ে সিদ্ধ করে জুস বানিয়ে খেলে ঘামাচি রোধে সাহায্য করে এবং গ্রীষ্মকালে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে।
১০/ যকৃতের রোগ চিকিৎসায় সাহায্য করে এই কাঁচা আম ও পিত্ত অ্যাসিড কমায় এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে লিভারকে রক্ষা করে।
আরও অনেক অনেক উপকারিতা রয়েছে সুস্বাদু টক স্বাদের কাঁচা আমের।
তবে কিছু কিছু সমস্যায় এটি না খাওয়াই ভালো। যেমন –
★ অতিরিক্ত কাঁচা আম না খাওয়াই ভালো।এতে পেটের অসুখ যেমন ডায়রিয়া হবার সম্ভাবনা থাকে।
★ কাঁচা আমপর কষ মুখে লাগলে ঘাঁ হবার সম্ভাবনা থাকে এবং পেটে গেলে তা গলায় ও পেটেও সংক্রমিত হয়।
পুষ্টিবিদেরা মতে, কাঁচা আম বা পাকা আম দুই ধরনের আমই শরীরের জন্য ভালো ৷
আম কাঁচা বা পাকা যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন, শরীরের জন্য এর কোনো নেতিবাচক দিক নেই বললেই চলে।
তাই আমের মৌসুমে আমটাকে ইচ্ছা মত মজা করে কাঁচা বা পাকা খাওয়া শরীরে জন্য ভালো।
লিখেছেন –
ত্রোপা চক্রবর্তী
Read More