চিঠি#পত্র -(মনিকা শকুন্তলা)

চিঠি#পত্র -(মনিকা শকুন্তলা)
চিঠি#পত্র
✏✏(মনিকা শকুন্তলা)

প্রিয় রাখাল,
অনেক বছর হয় তোমাকে দেখিনা।
ঠিক বাস্তবে দেখিনা তবে কল্পনার চোখে তো নিশিদিন দেখি তোমাকে।
সেই যে সে বছর গ্রাম ছেড়ে শহরে আসলাম আর তো সামনা সামনি দেখা হয়নি আমাদের।
আমি ও তো সুযোগ পাইনি নিজ গাঁয়ে আসার।

এখন আমি অনেক অনেক দূরে তোমার থেকে,তোমাদের থেকে।সূদুর রাজধানীতে বসে এই চিঠি লিখে চলেছি তোমাকে।
তুমি ই তো বলেছিলে চিঠি লেখা,সাহিত‍্য চর্চা এসব জেনো ধরে রাখি।তোমাকে ভুলে গেলেও এসবের মাঝে যেন সুখ খুঁজে পাই।

তাই লেখালেখির অভ‍্যাস টা ছাড়িনি আজো।এখনো ইচ্ছে হলেই চিঠি লিখতে বসে যাই।
সেটা হোক গভীর রাতে কিংবা খুব ভোরে।
সব চিঠি হয়তো তোমাকে পাঠানো হয় না।তবু যখন লিখি তখন মনে হয় আমার লেখা সব কথা তুমি পড়ে নিয়েছ।

অথবা লেখার আগেই বুঝে ফেলেছো কি লিখতে চাই আজ আমি….কারণ লেখা গুলো প্রকৃতির সাথে পরিবেশের সাথে মিলে যায়।এই ধরো খুব বৃষ্টি হচ্ছে তখন ওই ধান ক্ষেতের আল ধরে হেঁটে ভিজতে মন চায়।সঙ্গে থাকলে কচুপাতা অথবা পদ্মপাতার ছাউনি ধরতে তুমি।

এখনো বৃষ্টি হয় আর বৃষ্টি হলেই তুমি বুঝে নাও আমি কি ভাবছি…আর কি বা চাইছি…
মনে আছে খা খা দুপুরের রোদ্দুরে নদীতে কলাগাছের ভেলা ভাসিয়েছিলাম…
তারপর দাড় টানতে তুমি।জলে পা ভিজিয়ে বসে বসে আমপাতার ভেঁপু বাজাতাম আমি।

জানি তোমার সব মনে আছে।সেই যে গরমকালে ডাব পেড়ে সবাই মিলে খাওয়া।তারপর গাছ থেকে পড়ে গিয়ে তোমার ব‍্যথা পাওয়া।শেষ পযর্ন্ত হাসপাতালে শুয়ে থাকা।

সব আজ অতীত।তবু আমার চোখে জ্বলজ্বলে ছবি হয়ে ভাসে।আচ্ছা ভেঁপু বাজানো ছেড়ে দিয়েছো কি তুমি?
বাঁশের বাঁশি আর বাজাও না করুণ সুরে?
নাকি বাঁশিতে বিরহী সুর তোলো দিনে কিংবা রাত দুপুরে….

জানো খুব ইচ্ছে আমার আবার গ্রামে ফিরে যাবো।
ততদিন তুমি কি অপেক্ষা করবে?
নাকি তোমার জীবন নতুন করে নতুন সুরে সাজিয়ে নেবে??

তবু আমি আসবো।ওই মনোহর পুর গ্রামেই ফিরে আসব।ওটা যে আমার পূর্বপুরুষের ভিটে।তাছাড়া শৈশব কৈশোর আর নব যৌবন ওখানেই তো কেটেছে।নারীর টানে গ্রামেই ফিরব আমি।

ততদিন তুমি কি অপেক্ষা করবে রাখাল?
তোমার বাঁশরীকে মনে রেখে পারবে কি কাল কাটাতে?
আজ চিঠি লেখায় ইতি টানতে হচ্ছে তবে অন‍্যদিন লিখব সময় করে।ভালো থেকো।চিঠি লিখ।

ইতি
বাঁশরী।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *