মুঘল সাম্রাজ্যের শাসকদের শাসন ইতিহাস বিস্তারিত দেখুন

মুঘল সাম্রাজ্যের শাসন ইতিহাস

ভারতীয় উপমহাদেশে ক্ষমতা, ঐশ্বর্য, প্রাচুর্যতা, স্থাপত্য ও ইতিহাস ঐতিহ্যের অপর নাম মুঘল/মোঘল সাম্রাজ্যেকে বোঝাবে যাথার্থই বলা চলে । মোঘল সম্রাটেরা পারস্য ও মধ্য এশিয়ার তুর্কো-মঙ্গোল বংশোদ্ভুত এবং তাদের আদি নিবাস মধ্য এশিয়ার ফরগনা অঞ্চল (বর্তমান উজবেকিস্তান) । বংশগত দিক থেকে মুঘলরা চাগতাই খান ও তৈমুর লঙ্গের মাধ্যেমে চেঙ্গিস খানের বংশধর ।

মুঘল সাম্রাজ্যের শাসকদের
মুঘল সাম্রাজ্যের শাসকদের শাসন ইতিহাস

ফরগনার তৎকালীন আমীর ওমর শেখ মির্জার পুত্র যুবরাজ জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর ভারতীয় উপমহাদেশে মোঘল সাম্রাজ্যের প্রদীপ প্রজ্বলিত করেন ।জহিরউদ্দিন মুহম্মদ জালাল উদ্দিন বাবর

  • মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর জন্মগ্রহণ করেন –  ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দের ২৩ ফেব্রুয়ারী (ফরগনার আনদিজান শহরে) ।
  • তিনি হিন্দুকুশ পর্বত অতিক্রম করে কাবুল দখল করে নিজেকে কাবুলের বাদশা ঘোষণা করেন – ১৫০৪ সালে ।
  • জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর দিল্লী আক্রমণ করেন – পাঞ্জাবের শাসনকর্তা দৌলত খান লোদীর আহবানে ।
  • দিল্লীর অদূরে পানি পথের প্রান্তরের যুদ্ধে বাবর পরাজিত করেন – দিল্লীর তৎকালীন শাসনকর্তা ইব্রাহীম লোদীকে ।
  • বাবর ও ইব্রাহীম লোদীর মধ্যে পানি পথের প্রথম যুদ্ধে সংঘটিত হয় – ১৫২৬ সালের ২১ এপ্রিল ।
  • উপমহাদেশের যে যুদ্ধে প্রথম কামান ব্যবহার করা হয়েছিল – পানি পথের প্রথম যুদ্ধে (যমুনা নদীর তীরে) ।
  • জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর নিজেকে সমগ্র হিন্দুস্তানের বাদশা ঘোষণা করেন – ১৫২৬ সালে ।
  • চাগতাই/ফার্সি ভাষায় রচিত বাবরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নাম – তুযক-ই-বাবর বা বাবরনামা ।
  • জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের পুত্রদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন – হুমায়ুন, কামরান, হিন্দাল, আসকারি, ফারুখ অন্যান্য ।
  • মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের রাজত্বকাল – ৩০ এপ্রিল, ১৫২৬-২৬ ডিসেম্বর, ১৫৩০ খ্রি: পর্যন্ত ।
  • মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বাবরের দাদা ও মায়ের নাম ছিল – দাদা উলুগ বেগ ও মাতা কুতলুক নিগার খানম ।
  • নির্ভীকতার প্রতীক ও সাহসি যোদ্ধা মুঘল সাম্রাজ্যের এই আদি পুরুষ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন – ৪৭ বছর বয়সে ১৫৩০ সালের ২৬ ডিসেম্বর ।

নাসিরুদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন

  • নাসিরুদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন ছিলেন – মোঘল মাম্রাজ্যের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী (সম্রাট বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র) ।
  • মোঘল সাম্রাজ্যের এই নৃপতি জন্মলাভ করেন – ১৫০৮ সালের ৬ মার্চ (বাবরের প্রথম স্ত্রী রুকাইয়া সুলতানা বেগমের গর্ভে) ।
  • সম্রাট হুমায়ুন দিল্লীর শাসনভার গ্রহণ করেন – ২৯ ডিসেম্বর, ১৫৩০ সালে (পিতার মৃত্যুর ৩ দিন পর) ।
  • মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের শাসনকাল – ২৬ ডিসেম্বর, ১৫৩০-১৭ মে, ১৫৪০ এবং ২২ ফেব্রুয়ারী, ১৫৫৫-১৭ জানুয়ারী, ১৫৫৬ সাল পর্যন্ত (সর্বমোট ১১ বছর দিল্লী শাসন করেন) ।
  • সম্রাট হুমায়ুন সিংহাসনচ্যুত হন – সুরি সম্রাট শের শাহের নিকট চৌসারের যুদ্ধে এবং কনৌজের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে (দুইবার) ।
  • নাসিরুদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন বাংলাকে আখ্যায়িত করেছিলেন – ‘জান্নাতুল সুবাহ’ (স্বর্গীয় প্রদেশ/জান্নাতাবাদ) ।
  • সম্রাট হুমায়ুন গোয়ালিয় রাজপরিবারের নিকট থেকে পাওয়া কোহিনুর হীরাটি উপহার হিসাবে প্রদান করেন – পারস্যের সম্রাট শাহ তামাস্পকে ।
  • হুমায়ুন ১৫৫৫ সালে পুনরায় দিল্লী ও কনৌজ রাজ্য ফিরে পায় – পারস্যের সম্রাট শাহ তামাস্পর সহযোগিতায় ।
  • “একজন প্রেমিকের কাছে চন্দ্র হলো তাঁর প্রেমিকার মুখ, আর জোছনা হলো প্রেমিকার দীর্ঘশ্বাস” উক্তিটি করেছেন – সম্রাট হুমায়ুন ।
  • মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সেনা প্রধান ছিলেন – বিখ্যাত যোদ্ধা ‘বৈরাম খান’ (হুমায়ুন পুত্র আকবর দায়িত্ব গ্রহণ পূর্ব পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন) ।
  • ধর্মপ্রাণ বাদশা হুমায়ুন মৃত্যুবরণ করেন – ১৫৫৬ সালের ২৪ জানুয়ারি (মাগরিবের নামাজ আদায়ের জন্য দ্রুত নামতে গিয়ে লাইব্রেরির সিড়ি থেকে পড়ে) ।
  • ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম উদ্যান-সমাধিক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত – সম্রাট হুমায়ুনের সমাধি সৌধ (বাগ-ই-বাবর নামে পরিচিত যা ১৯৯৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে) ।

মুঘল সাম্রাজ্যের শাসকদের শাসন ইতিহাস

জালাল উদ্দিন মুহম্মদ আকবর

  • মুঘল সাম্রাজ্যের তথা ভারতবর্ষের সর্বশেষ্ঠ শাসক হিসেবে বিবেচনা করা হয় – মুঘল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট মহামতি আকবরকে ।
  • পিতা হুমায়ুন ও মাতা হামিদা বানুর গর্ভে সম্রাট আকবর জন্ম গ্রহণ করেন – ১৫৪২ সালের ১৪ অক্টোবর ।
  • বৈরাম খানের তত্ত্বাবধানে বেড়া ওঠা বীরযোদ্ধা মহামতি আকবর ক্ষমতা গ্রহণ করেন – মাত্র ১৩ বছর বয়সে (১৫৫৬ সালে) ।
  • জালালউদ্দিন মুহম্মদ আকবরের শাসনামল – ২৭ জানুয়ারী, ১৫৫৬-২৭ অক্টোবর, ১৬০৫ খ্রি: পর্যন্ত ।
  • মুঘল সম্রাজ্ঞী ‘যোধাবাঈ’ ছিলেন – অম্বরের রাজা ভর মল্লের কন্যা এবং মহামতি আকবরের স্ত্রী ।
  • সম্রাট আকবর বীর হিমুর নিকট থেকে দিল্লী ও আগ্রা পূর্ণ্ অধিকার করেন – পানি পথের দ্বিতীয় যুদ্ধে (১৫৫৬ সালে) ।
  • সম্রাট আকবর রাজপুত ও হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সাথে বন্ধুত্ব অর্জন করার জন্য যে পদ্ধতি অবলম্বন করেন – অমুসলিমদের উপর ধার্য, ‘জিজিয়া কর’ রহিত করেন ।
  • সনাতন ধর্মাবলম্বী ও মুসলিমদের মধ্যে একক যে ধর্ম প্রচলন করেন – ‘দীন-ই-ইলাহী’ (১৫৮২ সালে) ।
  • সমগ্র ভারতবর্ষে রাজ্য বিস্তারকারী মহামতি সম্রাট আকবরের প্রধান সেনাপতি ছিলেন – ভগবান দাসের পুত্র রাজা মান সিংহ ।

মুহম্মদ আকবর

 

  • তাঁর এই বিশাল রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অর্থমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয় – রাজা টোডর মলকে ।
  • সম্রাট আকবরের রাজ্য সভায় নবরত্নের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন – রাজা ভগবন দাস, রাজা টোডর মল, বীরবল, মানসিংহ , আবুল ফজল, ফৈজী, তানসেন প্রভৃতি ।
  • মুঘল সম্রাট আকবরের রাজসভার প্রধান গায়ক ছিলেন –তানসেন (তাঁর উপাধি বুলবুল-ই-হিন্দ) ।
  • বাংলা সন প্রবর্তনের জন্য সম্রাট আকবর কাকে নিযুক্ত করেন – ইরানী বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদ ওমর ফতুল্লাহ শিরাজী ।
  • সম্রাট আকবর বাংলা সৌর বর্ষপঞ্জী প্রবর্তন করেন – ৯৯২ হিজরী (১৫৬৪ খ্রি:) তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হয় সম্রাটের সিংহাসনে আরোহণেরি দিন থেকে অর্থাৎ – ৯৬৩ হিজরী থেকে ।
  • সম্রাট আকবর বাংলার শাসনভার গ্রহণ করেন – ১৫৭৬ খ্রি: (দাউদ খান কররানীকে পরাজিত করেন) ।
  • বাংলা নববর্ষ পহেল বৈশাখ চালু করেন – সম্রাট আকবর ।
  • মহামতি সম্রাট আকবরের জীবনী নিয়ে রচিত বিখ্যাত ‘আইন-ই-আকবরী’ রচনা করেন – সম্রাটের রাজকবি আবুল ফজল ।
  • সম্রাট বাংলার রাজধানী স্থাপন করেছিলেন – রাজমহল (যার নামকরণ করা হয় ‘আকবর নগর’) ।
  • ভারতের বিখ্যাত ‘অমৃতসর স্বর্ণ মন্দির’ নির্মিত হয় – সম্রাট আকবরের শাসনামলে (১৫৮৮-১৬০৪ খ্রি: মধ্যে) ।
  • সম্রাট আকবরের শাসনামলে সমগ্র বাংলাকে যে নামে অভিহিত করা হতো – সুবই-ই-বাঙ্গালাহ ।
  • মুঘল সাম্রাজ্যের সর্বাপেক্ষা রাজ্য বিস্তারকারী এই নৃপতি পরলোক গমন করেন – ১৬০৫ সালে (তাঁর সমাধি ভারতের সেকেন্দায় অবস্থিত)।

নুরউদ্দিন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর (সেলিম)

  • মুঘল সাম্রাজ্যের চতুর্থ সম্রাট ছিলেন – সম্রাট আকবর ও মারিয়ম উজ-জামানি বেগমের (হীরাকুমারী) সন্তান, শাহজাদা সেলিম/জাহাঙ্গীর ।
  • নুরউদ্দিন মুহম্মদ সেলিম/জাহাঙ্গীর জন্মগ্রহণ করেন – ১৫৬৯ সালের ৩০ আগস্ট ।
  • সম্রাট জাহাঙ্গীর রাজ্যভার গ্রহণ করেন – পিতা আকবরের মৃত্যুর পর (১৬০৫ সালের ১৫ অক্টোবর) ।
  • এই মুঘল সম্রাটের রাজত্বকাল – ১৬০৫ খ্রি: – ১৬২৭ খ্রি: পর্যন্ত ।
  • সমগ্র বাংলাতে স্থায়ীভাবে মুঘল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেন – সম্রাট জাহাঙ্গীর (১৬১২ সালে) ।
  • সম্রাট জাহাঙ্গীর বাংলা অধিকারের পর কাকে বাংলার প্রথম ‍সুবেদার নিযুক্ত করেন – ইসলাম খান চিশতীতকে ।
  • বাংলার রাজধানী বিহারের রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন – সম্রাট জাহাঙ্গীরের সুবেদার ইসলাম খান (১৬১০ সালে) ।
  • সুবেদার ইসলাম খান রাজধানী স্থানান্তর করে ঢাকাকে যে নামে অভিহিত করেন – জাহাঙ্গীরনগর ।
  • ঢাকার দোলাই খাল খনন করেন – সুবেদার ইসলাম খান ।
  • বাংলাতে সরকারি কাজে বাংলার পাশাপাশি ফারসি ভাষা চালু করেন – মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ।
  • সম্রাট জাহাঙ্গীরের ২০ জন পত্নীর মধ্যে বিশেষ স্থন অধিকার করে ছিলেন – মেহের-উন-নেসা (নুরজাহান) ।
  • সম্রাট জাহাঙ্গীর ও নুরজাহান বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন – ১৬১১ খ্রি: ২৫ মে ।
  • যে ইংরেজ জাহাঙ্গীরের রাজসভার প্রথম রাষ্টীয় দূত হিসেবে আগমন করেন – ক্যাপ্টেন হকিন্স (১৬০৮ সালে) ।
  • মুঘল সম্রাজ্যের চতুর্থ এই সম্রাট পরলোক গমন করেন – ১৬২৭ সালের নভেম্বরে (তাঁকে লাহোরে সমাহিত করা হয়) ।
  • সমাট জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নাম – তুজুক-ই-জাহাঙ্গীর ।

আবুল মুজাফ্ফর শিহাবুদ্দীন শাহজাহান

  • শিহাবুদ্দীন শাহজাহান (খুররম) জন্মগ্রহণ করেন – সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী বিলকিস মাকানির গর্ভে ১৫৯২ খ্রি: ৫ জানুয়ারী ।
  • ‘আহমদ নগর ও মোবার’ অভিজানে বিশেষ সাফল্যের জন্য জাহাঙ্গীর তাঁকে যে উপাধি প্রদান করেন – শাহজাহান (পৃথিবীর রাজা) ।
  • সম্রাট শাহজাহান দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন – পিতার মৃত্যুর পর (১৬২৮ খ্রি:) ।
  • মোঘল সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ এই শাসকের শাসন আমলকে বলা হতো – মুঘল শাসনামলের স্বর্ণযুগ ।
  • সম্রাট শাহজাহানের ঐতিহ্যবাহী শাসনামল – নভেম্বর, ১৬২৮-২ আগস্ট, ১৬৫৮ সাল পর্যন্ত ।
  • সম্রাট শাহজাহান মুঘল সাম্রাজ্যের – পঞ্চম শাসক ।
  • সমগ্র ভারতবর্ষে স্থাপত্য শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটানোর কারণে তাঁকে অভিহিত করা হতো – Prince of Builders নামে ।
  • সম্রাট শাহজানের সন্তানদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন – দারা, সুজা, আওরঙ্গজেব, মুরাদ, জাহান আরা, রওশন আরা প্রভৃতি ।
  • সম্রাট শাহজাহানের প্রাণপ্রিয় স্ত্রী আর্জুসন্দ বানু বেগম (মমতাজ) মৃত্যু বরণ করেন – ১৬৩১ সালে (চর্তুদশতম সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে) ।
  • প্রাণাধিক প্রিয় স্ত্রীর স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য তিনি নির্মাণ করেন – আগ্রার যমুনা নদীর তীরে ‘তাজমহল’ (ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত) ।

আবুল মুজাফ্ফর শিহাবুদ্দীন শাহজাহান

  • পত্নীপ্রেমের এই অক্ষয়কীর্তি নির্মিত হয় – ১৬৩২ খ্রি: শুরু হয়ে ১৬৫৩ খ্রি: শেষ হয় (উচ্চতা ১৭১ মি/৫৬১ ফুট) ।
  • মুঘল আমলের স্থপত্যশৈলীর অপরূপ এই নিদর্শনটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ঘোষণা করেন – ১৯৮৩ সালে (যা সপ্তম আশ্চার্যের অন্যতম) ।
  • শাহজাহানের মুকটটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণ ছিল – মুকুটে বিশ্ববিখ্যাত ‘কোহিনুর হীরা’ শোভা বর্ধনের কারণে (বর্তমানে এটি ইংল্যান্ডের রানির মুকুট) ।
  • সম্রাট শাহজাহানের অন্য সাপত্য নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে – দিল্লীর লাল কেল্লা, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, বিখ্যাত মতি মসজিদ, লাহোরে অবস্থিত সালিমার উদ্যান, আগ্রাঁর দুর্গ প্রভৃতি ।
  • তাঁর অমর সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম – মণি-মুক্তা খচিত ও স্বর্ণমন্ডিত ‘ময়ূর সিংহাসন’ (যা পারস্যের নাদির শাহ ১৭৩৯ সালে লুন্ঠন করে) ।
  • সম্রাট শাহজাহানের কর্তৃক নির্মিত ‘তাজমহল’ প্রধান স্থপতি ছিলেন – ইস্তাম্বুলের অধিবাসী ওস্তাদ ঈসা ।
  • সম্রাট শাহজাহানের যে পুত্র বাংলার শাসনকর্তা নিযুক্ত ছিলেন – শাহ সুজা ।
  • বাংলার রাজধানী জাহাঙ্গীর নগর হতে পুনরায় রাজমহলে স্থানান্তরিত করেন – শাহ সুজা (১৬৪২ খ্রি:) ।
  • সম্রাট সাহাবুদ্দিন মুহম্মদ শাহজাহান মৃত্যুবরণ করেন – ১৬৬ খ্রি: আগ্রার দুর্গে পুত্র আওরঙ্গজেব কর্তৃক বন্দী থাকা অবস্থায় (তাঁকেও স্ত্রী মমতাজর পাশেই সমাহিত করা হয়) ।

মহিউদ্দিন মুহম্মদ আওরঙ্গজেব (আলমগীর)

  • মহিউদ্দিন মুহম্মদ আওরঙ্গজেব জন্মগ্রহণ করেন – সম্রাট শাহজাহানের সম্রাজ্ঞী মমতাজ বেগমের গর্ভে ১৬৫৮ সালের ৩১ জুলাই ।
  • তিনি দিল্লীর সিংহাসনে উত্তরাধিকার যুদ্ধে জয়লাভের পর কোন উপাধি গ্রহণ করেছিলেন – আলমগীর ও বাদশা গাজী ।
  • বাহাদুর আলমগীর উপাধিতে ভূষিত সম্রাট আওরঙ্গজেব মুঘল সাম্রাজ্যের কততম সম্রাট ছিলেন – ষষ্ঠ মুঘল সম্রাট ।
  • পুনরায় ‘জিজিয়া কর’ চালু করেন –সম্রাট আওরঙ্গজেব ।
  • চট্টগ্রাম দখল করে তিনি যে নামে অভিহিত করেন – ইসলামাবাদ ।
  • মুঘল সাম্রাজ্যের যে সম্রাট টুপি সেলাই ও আল-কুরআন কপি করে লিখে জীবনধারণ করতেন – বাদশা আলমগীর ।
  • অত্যন্ত অনাড়ম্বর জীবন যাপন এবং ইসলামী শরীয়া ভিত্তিক জীবন পরিচালনার জন্য সম্রাট আওরঙ্গজেব যে খ্যাতি লাভ করেন – ‘জিন্দাপীর’ নামে ।
  • সম্রাট আওরঙ্গজেব মুঘল সাম্রাজ্যের দ্বীপ প্রজ্জ্বলিত করে রেখিছিলেন – সুদর্ঘি ৪৯ বছর ।
  • যে মুঘল সম্রাটের শাসনামলে ঢাকার লালবাগ দুর্গ নির্মাণ হয়েছেল –সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে (১৬৭৮-১৬৮৪ সালে নির্মিত) ।
  • সম্রাট আওরঙ্গজেব বাংলার সুবেদার নিযুক্ত করেছিলেন – তৃতীয় পুত্র যুবরাজ মুহম্মদ আজমকে ।
  • বাংলার যে সুবেদার আওরঙ্গজেবের নির্দেশে বাংলা থেকে পর্তুগিজ জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন – সুবিদার শায়েস্তা খান ।
  • বাদশা আলমগীর/আওরঙ্গজেব ইসলামী বিধি-বিধান সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য যে প্রকাশ করেন – ‘ফতওয়া-ই-আলমগীর’ নামক গ্রন্থ ।
  • ১৬৬১ সালে সুবেদার মীর জুমলা কুচবিহার দখলের পর যে নামে নামকরণ করেন – আলমগীর নগর ।

মহিউদ্দিন মুহম্মদ আওরঙ্গজেব

  • যার শাসনামলে লালবাগের শাহী মসজিদটি নির্মিত হয় – আওরঙ্গজেবের শাসনামলে (যুবরাজ মুহম্মদ আজম কর্তৃক ১৬৭৮ সালে) ।
  • সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে বাংলার দেওয়ান নিযুক্ত হয়েছিলেন – নবাব মুর্শিদকুলী খান
  • ঢাকা শহরের শিয়া সম্পদায়র বিখ্যাত হোসেনী দালান নির্মাণ করেন – মীর মুরাদ ।
  • বিখ্যাত ‘ঢাকাগেট’ নির্মাণ করেন – আওরঙ্গজেবের প্রধান সেনাপতি মীর জুমলা ।
  • পুরান ঢাকায় অবস্থিত বিখ্যাত ‘বড় কাটরা’ নির্মাণ করেন – সুবেদার ইসলাম খান (১৬৪৪ সালে) ।
  • সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামল ছিল – ৩১ জুলাই, ১৬৫৮ খ্রি:- ১৭০৭ খ্রি: ৩ মার্চ পর্যন্ত ।
  • বিখ্যাত এই মুঘল সম্রাট শেষ নিঃশ্বস ত্যাগ করেন – ১৭০৭ সালের ৩ মার্চ (৮৮ বছর বয়সে) ।
  • যে সম্রাটের শাসনামলে পারস্যের নাদির শাহ কোহিনুর হীরা ও ময়ূর সিংহাসন লুণ্ঠন করে – মুঘল সম্রাট মুহম্মদ শাহের রাজত্বকালে (১৭৩৯ খ্রি:) ।

আবু জাফর সিরাজউদ্দিন মুহম্মদ বাহাদুর শাহ

  • মুঘল মাম্রাজ্যের সর্বশেষ প্রদীপ দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জন্মগ্রহণ করেন – সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহের স্ত্রী লালবাঈ এর গর্ভে (২৪ অক্টোবর, ১৭৭৫ সালে) ।
  • উর্ধ্বক্ম্র অনুসারে বাহাদুর শাহ যততম মুঘল সম্রাট ছিরেন – বিশতম ।
  • দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন – ১৮৩৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ।
  • শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের শাসন আমল – (১৮৩৭-১৮৫৭) খ্রি: পর্যন্ত ।
  • ১৮৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরাজয়ের ফলে যা ঘটে – দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে বন্দী অবস্থায় রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয় ।
  • সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন -১৮৬২ সালের ৭ নভেম্বর (রেঙ্গুনে বন্দী অবস্থায় ৮৭ বছর বয়সে) ।
  • দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরের কবর আবিষ্কৃত হয় – ১৯৯১ সালে ।
  • মুঘল আমলে নির্মিত ঢাকা শহরের প্রাচীনতম মসজিদ – আওলাদ হোসেন লেনের জামে মসজিদ (১৬৩২-১৬৪০ খ্রি: মধ্যে ইসলাম খান নির্মাণ করেন) ।
  • যে সময়ে ঢাকাতে বিশ্ব বিখ্যাত মসলিন বস্ত্র তৈরি করা হতো – মুঘল আমলে ।

 

Read More

রোমান সভ্যতার ইতিহাস জেনে নিন

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *